বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর দিল্লির প্রতিক্রিয়া ছিল পরিমিত উষ্ণতার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় দেওয়া এক বার্তায় বিএনপির নেতা ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে তাঁর দলের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি একটি ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ প্রতিবেশী দেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের অঙ্গীকার করেন।
মোদি আরও বলেন, দুই দেশের ‘বহুমুখী সম্পর্ক’ জোরদার করতে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।
নরেন্দ্র মোদির বার্তার সুর ছিল ভবিষ্যৎমুখী ও সতর্ক। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জেনারেশন-জেড (জেন–জি) নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং উভয় পক্ষেই অবিশ্বাস জোরালো হয়। দেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি।
অনেক বাংলাদেশি মনে করেন, (ক্ষমতায় থাকাকালে) ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা হাসিনাকে দিল্লির সমর্থন দেওয়ার কারণেই সম্পর্ক এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সীমান্ত হত্যা, পানি বিরোধ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার মতো পুরোনো অভিযোগ। বর্তমানে ভিসা পরিষেবা অনেকাংশে স্থগিত এবং আন্তসীমান্ত ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকা-দিল্লি ফ্লাইটও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
দিল্লির জন্য এখন প্রশ্নটি বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে নয়; বরং প্রশ্ন হলো—কীভাবে রাখা হবে সেটি নিয়ে। বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রবাদ দমনের মতো নিজেদের ‘রেড লাইন’ বা স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সুরক্ষিত রেখে কীভাবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশকে আলোচনার বিষয়বস্তু করা থেকে দূরে থাকা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্কের এ শীতলতা দূর করা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন সংযম ও পারস্পরিক সদিচ্ছা।
লন্ডনের সোয়াস (এসওএএস) ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক অবিনাশ পালিওয়াল বলেন, ‘বিএনপি এ লড়াইয়ে (নির্বাচনী) থাকা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও মধ্যপন্থী। ভারতের জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে নিরাপদ বাজি। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, তারেক রহমান কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন? তিনি স্পষ্টতই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছেন। তবে এটি বলা যত সহজ, করা ততটা নয়।’
দিল্লির কাছে বিএনপি কোনো অজানা শক্তি নয়।
২০০১ সালে তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি যখন ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল; তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। (দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে) বিএনপি-জামায়াত আমল ছিল অস্থিরতা ও গভীর পারস্পরিক অবিশ্বাসে ভরা।
প্রাথমিক সৌজন্য হিসেবে ভারতের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্র প্রথম বিদেশি প্রতিনিধি হিসেবে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানালেও আস্থা ছিল নড়বড়ে। বিএনপি যেভাবে ওয়াশিংটন, বেইজিং ও ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছিল, তা দিল্লির মনে এমন সন্দেহের জন্ম দিয়েছিল যে ঢাকা কৌশলগতভাবে ভারত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
ভারতের দুটি স্পর্শকাতর বিষয় তখন দ্রুত পরীক্ষার মুখে পড়ে। এর একটি, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন বন্ধ করা এবং অন্যটি, হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে ভোলা ও যশোরের মতো জেলাগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনায় দিল্লি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তবে আরও বেশি ক্ষতি হয় ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায়। বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম অস্ত্র চালান ছিল এটি; যা ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে কথিত রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্কও খুব একটা ভালো ছিল না। টাটা গ্রুপের প্রস্তাবিত ৩০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ গ্যাসের দাম নির্ধারণ নিয়ে জটিলতায় আটকে যায় এবং ২০০৮ সালে তা পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
সম্পর্কের অবনতি অব্যাহত থাকে। ২০১৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন; যা দিল্লির প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা হিসেবে দেখা হয়। এ অস্বস্তিকর ইতিহাসই ব্যাখ্যা করে, কেন ভারত পরে শেখ হাসিনার ওপর এত বেশি বিনিয়োগ।
ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৫ বছরে শেখ হাসিনা দিল্লির সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত চাহিদাগুলো পূরণ করেছিলেন—বিদ্রোহীদের দমনে নিরাপত্তা সহযোগিতা, উন্নত কানেক্টিভিটি এবং চীনের বদলে ভারতের অনুকূলে থাকা সরকার। এ অংশীদারত্ব দিল্লির জন্য কৌশলগতভাবে যতটা ছিল মূল্যবান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হাসিনাকে তার জন্য দিতে হয়েছে ততটাই চড়া মূল্য।
বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাসিত হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের দমন-পীড়নের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি। জাতিসংঘের মতে, ওই সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁকে প্রত্যর্পণ করতে ভারতের অস্বীকৃতি ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ার চেষ্টাকে আরও জটিল করেছে।
গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা সফর করেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাম্প্রতিক এক সমাবেশে বিএনপি নেতা ঘোষণা করেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়—বাংলাদেশ সবার আগে।’ এর মাধ্যমে তিনি দিল্লি ও পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির সামরিক সদর দপ্তর থেকে স্বাধীন থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান (ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী) এ সমীকরণে একটি কেন্দ্রীয় কিন্তু সংবেদনশীল বিষয়।
হাসিনার পতনের পর ঢাকা ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে একদমই সময় নষ্ট করেনি। দীর্ঘ ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর গত মাসে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়েছে। এর আগে গত ১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা সফর বিনিময় করেছেন, দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে এবং ২০২৪-২৫ সালে বাণিজ্য ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট। একসময়ের শীতল সম্পর্ক (পাকিস্তানের সঙ্গে) এখন উষ্ণ হতে শুরু করেছে।
দিল্লিভিত্তিক ‘ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসেস’-এর স্মৃতি পট্টনায়েক বিবিসিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ নেই। একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে তাদের সেই অধিকার আছে। অস্বাভাবিক ছিল, হাসিনার আমলে প্রায় কোনো যোগাযোগ না থাকা। তখন পেন্ডুলাম একদিকে বেশি হেলে পড়েছিল। এখন ঝুঁকি হচ্ছে, এটি অন্যদিকে খুব বেশি হেলে পড়ে কি না।’
হাসিনার নির্বাসিত জীবনই সম্ভবত যেকোনো নতুন সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় অন্তরায়।
স্মৃতি পট্টনায়েক আরও বলেন, ‘বিএনপিকে এ বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম। একই সময়, ঢাকার বিরোধী দলগুলো হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টা করবে। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো এটিই তাদের হাতে থাকা অন্যতম বড় হাতিয়ার।’
এ পরিস্থিতি সামলানো (বিএনপির জন্য) সহজ হবে না। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা–কর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘দিল্লি যদি ভারতের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করতে চায়, তবে তা বিপজ্জনক হবে। নির্বাসনে থেকে হাসিনার নির্বাচন-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনগুলো ছিল বিস্ময়কর। তিনি যদি দুঃখ প্রকাশ না করেন কিংবা নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ না দিয়ে নিজেই সব নিয়ন্ত্রণ করতে চান; তবে তা সম্পর্ককে (দুদেশের) আরও জটিল করে তুলবে।’
এরপর আসে আন্তসীমান্ত বাগাড়ম্বরের বিষয়—ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর উসকানিমূলক মন্তব্য। এগুলো বাংলাদেশে এ বিশ্বাসকে পোক্ত করেছে, দিল্লি বাংলাদেশকে নিজেদের সমান সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে না দেখে বরং তাদের অনুগত ‘ব্যাকইয়ার্ড’ (নিজ প্রভাবাধীন এলাকা) হিসেবে বিবেচনা করে।
অধ্যাপক পালিওয়াল যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এই ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতি নির্ভর করবে ঢাকার নতুন নেতৃত্ব ভারতবিরোধী মনোভাব কতটুকু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং দিল্লি তাদের উসকানিমূলক বার্তাগুলো কতটা কমাতে পারে তার ওপর। সম্প্রতি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএল থেকে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলোও এর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পালিওয়াল বলেন, ‘যদি তারা ব্যর্থ হয়, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে; তবে পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার” মধ্যেই আটকে থাকবে।’
তবে সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ও ভারত বার্ষিক সামরিক মহড়া, সমন্বিত নৌ-টহল ও বার্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপ আয়োজন করে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ভারতের ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলারের লাইন অব ক্রেডিট রয়েছে।
স্মৃতি পট্টনায়েক বলেন, ‘আমি মনে করি না, বিএনপি এ সহযোগিতা থেকে পিছিয়ে আসবে। এটি একজন নতুন নেতা, নতুন জোট এবং ১৭ বছর পর ক্ষমতায় আসা একটি দল।’
এত অস্থিরতা সত্ত্বেও ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনীতি দুই দেশকে বেঁধে রেখেছে। এর মধ্যে আছে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটারের (২ হাজার ৫৪৫ মাইল) সীমান্ত, গভীর নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বন্ধন। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং ভারত এশিয়ায় বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার।
(দুই দেশের পক্ষে) বিচ্ছিন্ন থাকা অসম্ভব। তবে ফাটল ধরা সম্পর্কের জন্য একটি নতুন শুরুর প্রয়োজন।
পালিওয়াল বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে ভারতের অতীতের সম্পর্ক ছিল জটিল এবং বোঝাপড়ার চেয়ে অবিশ্বাসে ভরা। কিন্তু আজকের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক পরিপক্বতা দেখিয়েছেন, অতীতকে ভবিষ্যতের শত্রু না বানানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং দিল্লি যে বাস্তবসম্মত আলোচনার জন্য প্রস্তুত; সেসব ইতিবাচক লক্ষণ।’
এখন প্রশ্ন হলো, প্রথম পদক্ষেপ কে নেবে।
শ্রীরাধা দত্তের মতে, ‘বড় প্রতিবেশী হিসেবে ভারতেরই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ভারতেরই উচিত এগিয়ে আসা। বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী নির্বাচন করেছে। এখন তাদের সঙ্গে যুক্ত হোন, দেখুন, কোথায় আমরা সাহায্য করতে পারি। আমি আশাবাদী যে বিএনপি অতীতের শিক্ষা থেকে শিখেছে।’
অন্য কথায়, নতুন করে সম্পর্ক গড়ার সাফল্য নির্ভর করতে পারে যে বিষয়টির ওপর তা হলো—বাগাড়ম্বর কম করে বৃহত্তর প্রতিবেশী সতর্কতার বদলে আত্মবিশ্বাস বেছে নেয় কি না, তার ওপর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই নির্দেশনায় হামলা চালানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচির উল্লেখ ছিল না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এবং সম্ভবত ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই এ হামলা চালানো হতে পারে।
আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে- সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দ্বিতীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই, তবে আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’
পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ কথা না হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা’ নিয়ে কথা বলেছেন।
প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে আলাপ হয়।
যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
ইরানে যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে করবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এতে অংশ নেবে।
দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশ ও আতঙ্কে রয়েছে, যার ফলে তারা আগে হামলা চালিয়ে বসতে পারে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানিরা ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে। তারা তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।
যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দেশটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কিংবা কেবল টান টান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যেতে পারে।
জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট
ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে অধিকাংশ কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাজ্য বলেছে, ভবনটি ‘বন্ধ করা হবে না’ এবং এটি ‘যুক্তরাজ্যের মিশন’ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা চাইনি, পরিস্থিতি এ পর্যায়ে গড়াক।’
গিডিয়ন সার আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের ২০ জন কূটনীতিক ও কনসাল জেনারেল ইসরায়েল ছাড়বেন। তবে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স ভবনটিতে থেকে যেতে পারে। তাদের কার্যক্রমের পরিধি হবে ‘খুবই সীমিত’।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, নিরাপত্তার কারণে কিছু কর্মীকে ‘সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মিশনটি ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’
গত মাসে ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।
সে সময় ইসরায়েল সরকার বলেছিল, যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তারা কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসরায়েলকে ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ না করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এসব বসতি অবৈধ।
১৮৩৮ সালে জেরুজালেমে প্রথম ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক দেখভাল করা হতো।
তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস থেকে এটি আলাদা। তেল আবিবের ওই দূতাবাসই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধান কূটনৈতিক কেন্দ্র।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেওয়া যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে দেশটি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিডিয়ন সার লেখেন, ‘জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট আজ থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে। সে অনুযায়ী, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
যদিও আজ সকালেও কনস্যুলেটের বাইরে ব্রিটিশ পতাকা দেখা গেছে। এমন কি, কয়েকজন কর্মীকে ভেতরে ঢুকতেও দেখা গেছে।
সার বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কনসাল জেনারেল ও ২০ জন কূটনীতিক তাঁদের দায়িত্ব শেষ করে ইসরায়েল ছাড়বেন।
তবে সার স্বীকার করেন, ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের সম্পত্তি। তিনি বলেন, ‘ভবনটিতে খুবই সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাত্র সাতজন কূটনীতিকের একটি টাস্কফোর্সকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। তবে এ বছর পুরস্কারটি পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আগামীকাল শুক্রবার চলতি বছরের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নোবেল কমিটি।
পুরস্কারটি পাবেন কি না- এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে। আমার মতো মানুষদের পুরস্কার না দেওয়ার একটা সুনাম তাদের আছে।’
গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তাঁর পাওয়া উচিত। বুধবার ওভাল অফিসে বলেন, ‘এখনই সময়।’ এ সময় গতবারের পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থেকে পরোক্ষভাবে সম্মান পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলার নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তাঁর শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে দেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার কথা বলে তিনি এ পদক ট্রাম্পকে দেন।
ট্রাম্পের দাবি কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করছেন, সেগুলোর কয়েকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। এসব অঞ্চলের কয়েকটিতে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
সাহসী ও উদ্ভাবনী সাতিহ্যকর্মের জন্য এ বছর নোবেলে পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। ‘ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ তাঁকে পুরস্কারটি নেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার ঘোষণা করে দ্য সুইডিশ একাডেমি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো কর্মজীবনে অ্যান কারসন কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
১৯০১ সালের পর থেকে ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অ্যান কারসনসহ এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেলেন।
২০২৫ সালে যিনি পেয়েছিলেন
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পান হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। অ্যাপোক্যালিপ্টিক আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে এমন এক গভীর ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।
ক্রাসনাহোরকাই এর জার্মান ভাষার উপন্যাস ‘হার্শট ০৭৭৬৯’ সম্পর্কে নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এটি জার্মান সমাজের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এতে জার্মানির একটি ছোট্ট শহরে সামাজিক অস্থিরতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপর্যস্ত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
কবে কোন পুরস্কার
আগামীকাল শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।
মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
পাকিস্তানে বিদ্যুতের ঘাটতি
পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে বিদ্যুতের ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। খবর এএনআইয়ের।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহও কমেছে।
দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে লাহোরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। লাহোর ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (এলইএসসিও) এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট।
এলইএসসিও সূত্র বলছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে লাহোরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর পরের এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকানপাট, কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় বিকল্প উৎস থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো না গেলে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: এএনআই
ছবি : সংগৃহীত
জাপানের পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (8 অক্টোবর) ভোরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে চিবা ও ইবারাকি প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো ভূমিকম্পের পরই সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) বরাত দিয়ে কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে (বুধবার ১৯টা ১৩ মিনিট জিএমটি) উত্তর-পূর্ব চিবা প্রিফেকচারে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। জাপানের সাত মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে আসাহি শহরে এর তীব্রতা ছিল ৪। পাশের ইবারাকি প্রিফেকচারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর ইবারাকি প্রিফেকচারে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জেএমএ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে (বুধবার ২২টা ১৪ মিনিট জিএমটি) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ০। হিতাচিওমিয়া শহরে এর তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ৩।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের কোনোটিই সুনামির সৃষ্টি করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত ১ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব চিবা এলাকায় ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব জাপানে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
এ ছাড়া গত ২৩ আগস্ট ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে টোকিওতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।