তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই বিজয় থালাপতি ঘোষণা করেছেন, তামিলনাড়ুবাসী ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাবেন বিনামূল্যে। রোববার শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার ভাষণ দেন বিজয়। তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বরের দূত নই। সাধারণ মানুষ। ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়ের নতুন অধ্যায় এখন থেকে শুরু হলো।’
মাদক রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন বিজয়। মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় ঘোষণা দেন। বিজয় এবং মন্ত্রীর শপথগ্রহণের পরে বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
কালো ট্রাউজার, শাদা শার্ট, কালো ব্লেজার গায়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আসেন বিজয়। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকরকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান স্থলে স্বাগত জানান বিজয়। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে শপথ নেন তিনি। সেখানে জড়ো হন বিজয়ের দলের কর্মী-সমর্থক থেকে ভক্তরা।
আমি রাজবংশীয় নই, সাধারণ মানুষ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে বিজয় নিজেকে একজন ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দিলেন। স্পষ্ট জানালেন, কোনও রাজপরিবার বা রাজনৈতিক বংশপরম্পরা থেকে তিনি আসেননি, আর এই সাধারণ শিকড়ই মানুষের তাঁকে গ্রহণ করার প্রধান কারণ। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর চিরচেনা আবেগঘন সম্বোধন ‘এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম’ (আমার হৃদয়ে বসবাসকারী মানুষরা) দিয়ে বক্তৃতা শুরু করে বিজয় বলেন, “আমি কোনও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করব না। আমার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগ সূচনা করা।”
যে তিন ফাইলে প্রথম স্বাক্ষর করলেন
মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর বিজয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে প্রথম স্বাক্ষর করেন, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা, ড্রাগ বা মাদক বিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ। দ্রাবিড় আদর্শকে পাথেয় করলেও চিরাচরিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিকল্প হিসেবেই তিনি নিজেকে তুলে ধরেছেন। বিজয়ের এই জয় কেবল তামিলনাড়ু নয়, ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল। এখন দেখার, রূপালি পর্দার ম্যাজিক তিনি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কতটা ফুটিয়ে তুলতে পারেন।
মন্ত্রীর তালিকায় যারা
বিজয়ের সঙ্গেই শপথ নেন আরও ৯ জন। তাঁরা মন্ত্রী হচ্ছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান। নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি।
শপথ নিচ্ছেন বিজয়ের ভোটককুশলী আধব অর্জুন। তামিলাগা ভেত্রি কাজাখাম (টিভিকে)-র জয়ের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। তিনি লটারি ব্যবসায়ী সান্টিয়াগো মার্টিনের জামাই।
শপথ নেওয়ার তালিকায় রয়েছেন নির্মল কুমার। তিনি বিজেপি ছেড়ে টিভিকে-তে যোগ দিয়েছেন। মাদুরাইয়ের তিরুপারানকুন্দ্রম আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
টিভিকে-র সাধারণ সম্পাদক আনন্দও শপথ নেবেন। দলের সংগঠনের রাশ ছিল অনেকটাই তাঁর হাতে। চেন্নাইয়ের টিনগর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
বিজয়ের পরেই শপথ নেন আধব অর্জুন। বিজয়ের সরকারে কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হলেন কীর্তনা। ২৮ বছর বয়সী কীর্তনা শপথ নিয়েছেন। শপথ নিয়েছেন নির্মলকুমার যিনি তিনি বিজেপি ছেড়ে টিভিকে-তে যোগ দিয়েছিলেন। শপথ নিয়েছেন টিভিকের মুখ্য সমন্বয়ক সেঙ্গোত্তাইয়ান।
সম্ভাব্য মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক টিকে প্রভু। শপথ নেবেন অরুণ রাজ। তিনি পেশায় চিকিৎসক। আইআরএসের চাকরি ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজয়ের দলে।
চেন্নাইয়ের মায়লাপুরের নতুন বিধায়ক পি ভেঙ্কটারামনন বিজয়ের সরকারের ‘ব্রাহ্মণ মুখ’ হতে চলেছেন। যাঁরা শপথ নিলেন আজ রোববার, তাঁদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হলেন কীর্তনা। বিরুধুনগর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি।
হাততালিতে ফেটে পড়লো স্টেডিয়াম
বিজয় যখন ‘আমি শ্রী জোসেফ বিজয়’ বলে তামিল ভাষায় শপথ নেন তখন হাততালিতে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। মঞ্চে বিজয়ের পাশেই বসেছেন রাহুল গান্ধী। চেন্নাইয়ের স্টেডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ শুরু হয়। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন অভিনেত্রী তৃষাও।
কংগ্রেসের সমর্থন ও তামিলনাড়ুতে রাহুল
কংগ্রেস সমর্থন করেছে বিজয়কে। তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেন্নাইয়ে পৌঁছোলেন রাহুল গান্ধী। বিজয়কে সমর্থন করতে রাজি হয় কংগ্রেস। তামিলনাড়ুতে পাঁচটি আসনে তারা জিতেছে। পাঁচ কংগ্রেসি বিধায়কের সমর্থনে টিভিকে-র বিধায়ক সংখ্যা পৌঁছোয় ১১৩-তে। সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের দলের দরকার ছিল আরও ছ’জন বিধায়কের সমর্থন।
পরে বিজয়ের দলকে সমর্থন করতে রাজি হয় বাম দলগুলি। সিপিআই এবং সিপিএম তামিলনাড়ুতে দু’টি করে আসন পেয়েছে। মোট চারটি আসন নিয়ে তারা টিভিকে-কে সমর্থনে এগিয়ে আসে। বিজয়ের সমর্থনকারী বিধায়কসংখ্যা এ বার পৌঁছোয় ১১৭-তে।
শনিবার ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) বিজয়ের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয়। অবশেষে সরকার গঠনের জাদুসংখ্যা ছুঁতে পারেন বিজয়। এই দুই দলের সম্মিলিত বিধায়ক সংখ্যাও চার। ফলে টিভিকে-র সমর্থনে চলে আসেন ১২০ জন বিধায়ক।
ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে দেশটির ইস্ট নুসা তেনগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন ফুট উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বহু মানুষ নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন রাজধানী নয়া দিল্লির হাই কোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে বোমা হামলার হুমকি এসেছে। ‘খালিস্তান’ নামে পাঠানো হুমকিমূলক এক ইমেইলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
“ব্লাস্ট দিল্লি হাইকোর্ট @২:১১ পিএম” শিরোনামে পাঠানো ওই ইমেইল বার্তায় হুমকি দেওয়া হয় যে, দিল্লিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র ‘খালিস্তান’-এ পরিণত করা হবে।
বার্তায় বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্টে বোমা বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর ঠিক এক ঘণ্টা পর বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।
দিল্লির আদালতগুলোতে হওয়া মামলার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার পরিকল্পনা বলে ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়, “দিল্লির আদালতগুলোতে কেবল শিখদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হয়।”
ইমেইলে আরও দাবি করা হয়, স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘খালিস্তান’-এর সদস্যরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছেন।
দিল্লি হাইকোর্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ছাড়াও আরও ছয়টি স্থানে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জামনগর হাউজ, ঝাণ্ডেওয়ালান ভবন, সাকেত কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের (ডিএম) কার্যালয় এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কার্যালয়।
এর পাশাপাশি দিল্লি মেট্রো এবং আমবালাগামী ট্রেনগুলোতেও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
খবর পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত স্থানগুলোতে দমকল বাহিনীর গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।
বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক
ভারতের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লাদাখের এই অধিকারকর্মী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভুল পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হয়। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নিজ নিজ এলাকার সৎ ও মেধাবী মানুষদের নাম প্রস্তাব করে স্বাধীনতা দিবসের উপহার হিসেবে তা পাঠাতেও অনুরোধ করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনা টানেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো ভারতের চেয়ে পিছিয়ে বা সমপর্যায়ে ছিল, তারা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না।
আইনপ্রণেতাদের যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারে না।
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এককভাবে দায়ী না করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসা প্রতিটি দলই কম-বেশি একইভাবে দুর্নীতি চালিয়েছে ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করেছে। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এক দশক পর দুর্নীতি আরও তিন গুণ বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাও দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিস্থিতি উত্তরণে ভারতের শীর্ষ চিন্তাশীল, মেধাবী ও সৎ মানুষদের নিয়ে এক বৃহৎ আলোচনার পরিকল্পনা করছেন ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এই আন্দোলনকারী।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে তিনি আর আদিয়ালা কারাগারে যাবেন না।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পেলে ওই দিন ২০ লাখ লোকের সমাবেশ করা হবে।
আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, এগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
আদিয়ালা কারাগারের বাইরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কারাগারের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তাঁকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার নিজে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।’
উল্লেখ্য গতকাল ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আফ্রিদি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বৈঠকের অনুমতি দেওয়া না হলে দলের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (গতকাল) রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ করবেন পিটিআইয়ের কর্মীরা।
জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার জন্য দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে পিটিআইদলীয় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিবাদ এই বার্তা দেবে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’
পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মীরা মোড়ে মোড়ে গিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।
আফ্রিদি অভিযোগ করেন, এমনকি সরকারি মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন, দেশ ও দেশের শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান চায় এবং কেবল ইমরান খানই তা নিশ্চিত করতে পারেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করবেন।
আফ্রিদি ২৭ সেপ্টেম্বরের ওপর জোর দেওয়ার জন্য পিটিআইয়ের কর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এই তারিখটি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে বলে তিনি বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মানুষ দারুণ উৎসাহী এবং বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের আন্দোলন শুরু করা হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের এই গণজাগরণে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে। তিনি বলেন, আগামী রোববার বান্নুতে রাজপথে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
আফ্রিদি বলেন, যিনিই পাকিস্তান ও পিটিআইয়ের পতাকা বহন করবেন, তাঁকেই ইমরান খানের সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হবে।
পিটিআইয়ের অব্যাহত প্রতিবাদ এবং কারাবন্দী দলের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি এল। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী এবং গতকাল দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
পরে রাতের বেলায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আফ্রিদি বলেন, তিনজন বিচারকের আদেশ রয়েছে যাতে সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু আদালত অসহায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানোর সব অধিকার আমাদের রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো যদি অকার্যকরই হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, এগুলো জনগণের অর্থ অপচয় করছে। সাধারণ মানুষ কর দেয়, আর সেই টাকা এদের পেছনে খরচ হয়।’
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমনকি মন্ত্রীরাও বলছেন যে ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ইংল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত
ইংল্যান্ডের ইস্ট সাসেক্সে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর। দুর্ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সাউদার্নের ট্রেনটি লুইস রেলওয়ে স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে ইস্টবোর্নগামী ছিল।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। ট্রেনে থাকা প্রায় ১৫০ যাত্রীকে পরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলের ছবিতে উল্টে যাওয়া বগির ওপর যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কয়েকজন যাত্রী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডমিনিক আইওনু সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়; কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যাত্রী র্যাচেল হিথ জানান, দুর্ঘটনার আগে ট্রেনটি প্রচণ্ডভাবে দুলতে শুরু করে। এরপর বিকট শব্দ ও চিৎকার শুরু হয় এবং একটি বগি কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায় বলে তিনি জানান।
দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার কয়েকটি রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
বড় বিপাকে ইউক্রেনের কৃষকরা
রাশিয়া ২০২২ সালে আক্রমণের শুরুতে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। এ কারণে নিজের জমির দুই-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন দেশটির কৃষক সেরহি রিবালকো। এবার তিনি পড়েছেন অন্য ধরনের বিপাকে।
ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ফলে সেই ফসল নিয়েই অনিশ্চয়তায় রিবালকোর মতো হাজার হাজার কৃষক।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদনকারী দেশ। এসব কৃষিপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ইউক্রেনে গম কাটার মৌসুম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী মাসে শুরু হবে ভুট্টা কাটার মৌসুম। নিজের শস্য সংরক্ষণাগারের পাশে দাঁড়িয়ে ৫৭ বছর বয়সী রিবালকো বলেন, ‘এই শস্য পাঠানোর কোনো জায়গা নেই। কৃষকদের জন্য এটি পুরোপুরি একটি বিপর্যয়।’
ইউক্রেনের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কৃষিখাত থেকে। ফলে এই অবরোধ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে একে অপরের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রুশ জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও জাহাজে হামলা জোরদার করেছে।
দুই বড় শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই হামলায় কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় নৌ ঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাতভর চালানো হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৪ জন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় রাশিয়ার চারটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্রিগেট রয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি
গত বুধবার রাতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া দরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া হলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।
বিতর্কিত দ্বীপে পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো জাপানের দাবিকৃত বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইতুরুপ দ্বীপে যান। সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন।
পুতিনের সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ‘পুতিনের এই সফর একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে। এরপর থেকেই এগুলো মস্কো ও টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে আছে।
খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও বিবিসির