• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এইদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা যে গণভোটে ভোট দেবেন সেখানে সুনির্দিষ্ট করে খুব অল্প করে মাত্র চারটি বিষয় লেখা থাকবে। এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কিনা, সেই প্রশ্নে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দিবেন ভোটাররা।

গত বেশ কয়েকদিন ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে গণভোট নিয়ে প্রচারণা শুরু করে সরকার। প্রথমে সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র গণভোট নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রচারণা শুরু করে। পরে অবশ্য সেই অবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা শুরু করে। কয়েকদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ নিয়ে রেডিও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য একটি ভিডিও বার্তাও দেন। যেখানে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "হ্যাঁ' ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে"।


সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট, দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথাও জানিয়েছে সরকার। গণভোটের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও এর মধ্যে কোন কোনটিতে বিএনপি, কোনটিতে জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। প্রথমে প্রস্তাবনা ছিল যে যে সব প্রশ্নে যে রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে না। তবে, শেষ পর্যন্ত এই নিয়ে সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদে এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি না জয় পায় তাহলে জুলাই সনদই কার্যকর হবে না।


গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিন বা ৯ মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারে বাধ্য থাকবে। না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংবিধান সংশোধনের বিল পাস বলে গণ্য করা হবে। সরকার গণভোটের ব্যালটে যে চারটি বিষয় যুক্ত করেছে, তাতে ভোটারদের অনেকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব নয় আসনে গণভোট 'হ্যাঁ' দিলে কি কি পরিবর্তন পাবেন আর না দিলে কোন কোন পরিবর্তন আসবে না। তাই গণভোটে হ্যাঁ অথবা না জিতলে কি কি বিষয়ে পরিবর্তন আসবে কিংবা আসবে না, সেটি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।


ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা- ৮,৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে। বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল, জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।


বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে – সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি। বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদ যুক্ত হবে- সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।


রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতা ও ভারসাম্য

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে- জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। যদিও এই প্রস্তাবে ভিন্নমত ছিল বিএনপির।


রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্মকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোন অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।


২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদে বাস্তবায়ন হলে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত জানিয়েছিল বিএনপিসহ পাঁচটি দল।


সংসদ, নির্বাচন ও সরকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে বলেও জুলাই সনদে বলা হয়েছে।


দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোন কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে। সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। গণভোটে সনদ কার্যকর হলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে- বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে।


এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোন চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদ পাশ হলে একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। তখন ইসির সাথে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে নানা নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।


কী পরিবর্তন আসবে আইন ও বিচার ব্যবস্থায়  

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।


আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।


এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে। একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে। যদিও এগুলো নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়েছে বিএনপিসহ সাতটি দল। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।


আইন সংশোধনে সংস্কার হবে ৩৭টি

৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে আর যে ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে সেগুলো সংশোধন করা যাবে 'আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণের অঙ্গীকার থাকছে জুলাই সনদে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমানা পুন:নির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা, আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয় রাখা হয়েছে 'আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য।


এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে। অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুইটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করার কথাও বলা হয়েছে জুলাই সনদে। ১২ই ফেব্রুয়ারির গণভোটের প্রশ্নের এসবের কিছুই উল্লেখ থাকবে না। সেখানে মাত্র ছোট ছোট চারটি পয়েন্টের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের কাছ থেকে হ্যাঁ অথবা না ভোট গ্রহণ করা হবে।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম


ঈদে-মিলাদুন্নবী

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে সরকার। গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। 


ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।


বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।


এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলারও আয়োজন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।


শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।


এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।


তিনি জানান, আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দীপু মনির মেয়ে তানি দিপাবলি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রবেশ করেন। পরে কারাগার থেকে বের হয়ে মায়ের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন তিনি।


আইনজীবী গাজী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা চার দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলাম। তবে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’


উল্লেখ্য, ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ডা. দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।


বর্তমানে ডা. দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৮টি শিশু। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮২৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে এই সময়ে মোট ৯২২টি শিশু মারা গেছে।


এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৩১। এই সময়ে ৭৮৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯২৫টি শিশু।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০২ পিএম


  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০২ পিএম

মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোসা. রাবেয়া খাতুন। তাঁর এমন সিদ্ধান্তে পরিবারের অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, উচ্চশিক্ষিত একজন নারী কেন বাসচালক হিসেবে পেশা বেছে নেবেন? তবে এসব প্রশ্নকে বাধা হিসেবে না দেখে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছেন রাবেয়া।


তাঁর কাছে বাস চালানো কেবল জীবিকার একটি মাধ্যম নয়, বরং প্রচলিত ধারণা ভেঙে নতুন কিছু করার এবং দেশের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার একটি সুযোগ।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে নারীদের জন্য বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’-এর উদ্বোধন করা হয়। এর আগে রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বাসচালক হওয়ার সিদ্ধান্ত, পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে জানা যায়।


পিংক বাস চালক রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘এই কাজটাকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। পরিবার তো আসলে কখনোই এর পক্ষে না। তারা বলছেন, আমি মাস্টার্স পাস। ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধীনে তিতুমীর কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছি। সেহেতু তাদের ধারণা, বাংলাদেশ আসলে এটা ডিজার্ভ করে না যে একজন মাস্টার্স পাস মেয়ে একজন চালক হিসেবে কাজ করবে।’


তবে রাবেয়া বাসচালক হিসেবে নিজের পরিচয়টাকে অন্যভাবে দেখতে চান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এটাকে চালক না ভেবে যদি আমি নিজেকে পাইলট ভাবি, তাহলে আমার অপরাধটা কী? কোনও অপরাধ নাই। আমি তো এটাই ভেবে কাজ করতে পারি।’


নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ব্র্যাকে জব করতাম, তখন আমার সামনে, আমার হাত দিয়ে অনেক ভালো ভালো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং বড় বড় ফ্যামিলির সন্তানরা, যারা ব্র্যাকে ড্রাইভিং শিখে গিয়েছে বা বিআরটিসি ড্রাইভিংয়ের যে প্রশিক্ষণ সেন্টার, সেখানে ড্রাইভিং শিখে বাইরের কান্ট্রিতে তারা পার্টটাইম হিসেবে কাজ করে।’


রাবেয়ার ভাষ্য, বিদেশে গিয়ে অনেকেই ড্রাইভিং করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ চালান। বাংলাদেশ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে পড়াশোনা করতে গেছেন, এমন লোক খুবই কম। সেখানে তারা নিজেরাই রোজগার করে চলার চেষ্টা করেন।


রাবেয়া প্রশ্ন রাখে বলেন, ‘তো এটা যদি বহির্বিশ্বে গিয়ে আমরা করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে এটা কেন করতে পারবো না?’


তার উত্তরও স্পষ্ট। বলেন, ‘আমরাই নতুন করে সৃষ্টি করবো, আমরা আমাদের দেশটাকে চেঞ্জ করার চেষ্টা করবো, যদি নতুন কিছু করা যায়। আমি সেটার লক্ষ্যেই আছি।’


পিংক বাসের আরেক চালক সুপ্রিয়া কুন্ডুর কাছেও এটি নতুন কিছু শেখার সুযোগ। নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই তো ড্রাইভিং করে। দেশের বাইরে যাক বা দেশের মধ্যে থাক, সবাই ড্রাইভিং করে। কিন্তু আমার শেখার ইচ্ছা ছিল। তারপর যখন আমার এখানে জয়েনিং হলো, আমি এখানে আসলাম। এরপর আমাদের বাস সার্ভিসের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হলো। তো অনেক ভালো লাগলো যে নতুন একটা জিনিস শিখবো।’


সুপ্রিয়া বলেন, যেকোনও কিছু শেখার প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। পিংক বাসে নারী চালক ও কন্ডাক্টর থাকায় নারীদের জন্য এটি বেশি ভালো হবে বলেও মনে করেন তিনি।


তার মতে, বর্তমানে অনেক ছোট ছোট মেয়েকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এ কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে মায়েদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। নির্দিষ্ট রুটে পিংক বাস চললে সন্তানদের নিরাপদে যাতায়াত নিয়ে মায়েরা নিশ্চিন্ত হতে পারবেন।


তিনি বলেন, ‘তারা যদি দেখে যে তাদের রুটের ভেতর তাদের গাড়িটা চলে, তাহলে তারা নিশ্চিন্তে থাকবে যে এই গাড়ি এই টাইমিংয়ে আসে বা এই সময়ে যায়, ওই বাসগুলোতেও উঠছে। তার মানে আমার মেয়েটা সেফলিভাবে বাসায় আসতে পারবে।’


সড়কে চলাচলকারী অন্য যানবাহন চালকদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন না সুপ্রিয়া। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় যারা ড্রাইভার থাকবেন, তারা আমাদের প্রতিযোগী না। তারা আমাদের সহযোগী।’


সিএনজি, রিকশা বা অটোরিকশার চালকদের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যাই চালান না কেন, তারা আমাদের কোনও প্রতিযোগী না। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তো আমরা নামিনি। আমরা এসেছি মহিলাদের একটা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য।’


আরেক চালক রিমাও পিংক বাসের অংশ হতে পেরে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘আমি একজন নারী চালক। এই পিঙ্ক বাস যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে, আমি এই পিঙ্ক বাস পরিচালনার একটি অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।’


নারীদের পেশা নিয়ে প্রচলিত ধারণার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রিমা বলেন, ‘আমরা নারী বলতে খুবই নরম স্বভাবের হয়ে থাকি। আমরা শুধু নারী সেক্টরকে বোঝাই, গার্মেন্টস সেক্টর, বিভিন্ন নরমাল যে আমরা বেসরকারি বা সরকারি খুব ছোট প্রফেশন, আমরা বোঝাই। তো সেখানে আমরা যে এত বড় পিঙ্ক বাস সার্ভিস পরিচালনা করবো, আমি একজন নারী হিসেবে এখানে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত।’


প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে রিমা বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় কর্মকর্তাদের। আমাদের নারীদের শুধু এখানে কর্মসংস্থান নয়, মহিলা যে যাত্রীদের আমরা নিয়ে যাবো এবং সঠিকভাবে গন্তব্যস্থলে নিয়ে আসবো, এটার আমাদের সাহস প্রদান করার জন্যও ধন্যবাদ।’

বিষয় : পিংক বাস

সর্বশেষ সব খবর

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ এএম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে স্মরণীয় ও অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। 


তিনি বলেছেন, এ সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘স্বর্ণালী অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানাতে তাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আর এই সফরের সুফল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছেই পৌঁছাবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় সফররত ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য মহাসংঘের (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


হাইকমিশনার বলেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রথম অভিনন্দন জানান এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।


তিনি বলেন, ‘আমি দিল্লির পক্ষ থেকে আপনাদের নিশ্চিত করছি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করবেন, তিনি সেখানে তাঁর প্রাপ্য সর্বোচ্চ সম্মানজনক সংবর্ধনা পাবেন। এই সফর হবে অত্যন্ত স্মরণীয়।’


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে নিঃশর্ত বিশ্বাসের ওপর গুরুত্বারোপ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত বিষয় থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান সম্ভব। পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ শুধু ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত নয়; দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নও অভিন্ন। আমরা শুধু পানি ভাগ করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগ করি।


ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এই বার্তা দিয়েই বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করারও আহ্বান জানান তিনি।


ভারতীয় হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধরনের সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিআইআইয়ের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ পিএম

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল বা আলাদা বেতন কাঠামো তৈরির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের অনন্য ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বেতন অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।


স্বতন্ত্র পে-স্কেল ও শিক্ষকদের মর্যাদা


শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক চিন্তা রয়েছে। তবে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নানা ধরনের প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের পে স্কেল অন্যদের সঙ্গে তুলনীয় না হওয়ার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, বেতন কম হোক কিংবা বেশি হোক—শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য কারও পেশার তুলনা চলে না।


জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের করা বেতনের তুলনামূলক সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন তুলনা শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে পুরোপুরি অসমাঞ্জস্যপূর্ণ। শিক্ষকদের শুধু আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নয়, বরং তাঁদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।


শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপে জোর


প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যমান শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণে ২০১৭ সাল থেকে মামলা ও নানা প্রশাসনিক জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


কারিগরি শিক্ষার বিস্তার


অনুষ্ঠানে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

সর্বশেষ সব খবর