ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ পিএম

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে সংসদে আনা বিরোধী দলের নোটিস ঘিরে বিতর্ক হয়েছে।নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের এক পর্যায়ে হট্টগোলও হয়।


ঈদের ছুটির পর রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান নোটিসটি উত্থাপন করলে এর বৈধতা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে বলে রুলিং দেন।


জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।


জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে, নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিরা একই দিনে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি রেখেছিল সংসদ সচিবালয়।


জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।


রোববার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন।


তিনি বলেছেন, বিষয়টি তিনি ১৫ মার্চ সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। তখন স্পিকার আনুষ্ঠানিক নোটিস দিতে বলেছিলেন।


শফিকুর রহমানের নোটিসে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।


নোটিসে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়ায় ‘জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি’ হয়েছে।


আদেশের ১০ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংসদের মতো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিধানটি স্মরণ করিয়ে দেন বিরোধী দলের নেতা।


পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোটিস উত্থাপন ও আলোচনার দাবি তোলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ মার্চ তিনি একই বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কথা বলেছিলেন। স্পিকার তাকে নোটিস দিতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী নোটিস দিয়ে তিনি আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন।


তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আগে প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১ এর নোটিসের ওপর আলোচনা শেষ করতে হবে। এরপর অন্য বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।


জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রশ্নোত্তরের পরই এ আলোচনা হওয়ার কথা। সে অনুযায়ীই তিনি দাঁড়িয়েছেন।


এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কথা বলতে চাইলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি তোলেন। তবে তাকে ফ্লোর দেওয়া হয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। সরকারি দল বিধি মোতাবেক আলোচনার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে।”


তিনি বলেন, রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধির নোটিসের পর মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনা হতে পারে। স্পিকারকে বিধি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংসদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে কীভাবে এই সংসদ গঠিত হয়েছে, তা সবাই ভুলে যাচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হয়েছিল। কিন্তু এখন কার্যক্রম দেখলে মনে হয় এ ধরনের কিছুই হয়নি।”


তিনি বলেন, এটি ‘সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় এবং নিয়মিত কার্যক্রমের আগে এটির সুরাহা হওয়া ‘উচিত’।


চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার চাইলে অনুমতি দিতে পারেন, তবে প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধির বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ এবং সংসদ সদস্যদের অধিকার। এ দুই কার্যসূচির জন্য দুই ঘণ্টা বরাদ্দ রয়েছে।


পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, তিনি বিরোধী দলের নোটিস পেয়েছেন এবং সংসদের রীতি মেনে বিধি-৭১ এর নোটিসগুলোর ওপর আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।


নোটিস উত্থাপনের পর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী একটি প্রস্তাব মনে করছি। এ বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে, ওনাদের পক্ষ থেকেও আলোচনা হবে, আমাদের পক্ষ থেকেও আলোচনা হবে। আমরা আলোচনা করতে চাই, তবে আলোচনার আগে একটু সময় প্রয়োজন।”


তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে সংসদ সদস্যদের সামনে বাংলাদেশের সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদ, বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের কপি থাকা দরকার।


আইনমন্ত্রীর ভাষায়, “আমরাও চাই, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হোক এবং আমরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ ধরে হেঁটে চলেছি।”


তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরে বিধিগত আপত্তি তুলে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ৬২ বিধিতে নোটিস দিলেও এটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নোটিস দেওয়ার ক্ষেত্রে ৬৮ বিধিতে যাওয়ার বিষয় আছে।


তিনি বলেন, “প্রস্তাবটি নিয়ে আমি আপত্তিও তুলছি না, অনাপত্তিও তুলছি না। কিন্তু আলোচনা হবে, নোটিসটাই তো বৈধ হয় নাই। বৈধভাবে আগে নোটিস হলে তারপরে আলোচনা হবে।”


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং সংসদে হট্টগোল তৈরি হয়। এক পর্যায়ে তিনি ডেপুটি স্পিকারের কাছে ‘প্রোটেকশন’ চান।


পরে তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী-বিধির ৬৩ অনুযায়ী এমন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে না, ‘যার প্রতিকার কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে হতে পারে’।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে সংসদীয় ভাষায় সংবিধান ‘প্রণীত হবে অথবা রহিত হবে অথবা স্থগিত হবে অথবা সংশোধিত হবে’ এবং বিলের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পথেই এগোনো উচিত।


রাষ্ট্র সংস্কার আলোচনায় বিএনপির পরিচিত মুখ সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংশোধনে একটি ‘কনস্টিটিউশন রিফর্ম কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবও দেন। যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল, স্বতন্ত্র সদস্যসহ সবার মতামত নেওয়া যেতে পারে বলেছেন তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে এমন একটি সংবিধান সংশোধন করতে চাই—যেই দলিলটা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারে।”


এরপর আবার ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি চান আগে সংসদ মূলতবি করে আলোচনা হোক, তারপর বিষয়টি নিয়ে কথা হবে।


সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডেপুটি স্পিকার রুলিং দেন, কার্যপ্রণালী-বিধির ৬৫(২) অনুযায়ী ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার দিনের কার্যসূচি শেষ করে এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।


রুলিংয়ের পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোটিস সংশোধনের বিষয়টি তুলে ধরতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে বসতে বলেন। এক পর্যায়ে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।


ডেপুটি স্পিকার বলেন, তিনি তার সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছেন এবং মঙ্গলবার আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় থাকবে।


এরপরও কিছু সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যকে মাইক ছাড়া কথা বলতে দেখা যায়।


পরে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধকেন্দ্রিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান আরেকটি মুলতবি আলোচনার নোটিস দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।


পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরে ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য সরকারদলীয় সদস্য খন্দকার আবু আশফাককে আহ্বান করেন।


এরপর চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে বিষয়টি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়।



সর্বশেষ সব খবর

রাখাইনে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৮ এএম

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আবারও 'বাঙালি' দাবি করে নতুন একটি বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদেরই ফেরত নেওয়া হবে বলে এতে বলা হয়েছে।


মিয়ানমারের দেওয়া ওই বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যের "নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে" বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা তিন লাখের কিছু বেশি 'বাস্তুচ্যুত' মানুষকে ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক হওয়ার কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে- তা নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছে দেশটি। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে 'বাঙালি' হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমার দাবি করেছে, যে জাতিগত নামে (রোহিঙ্গা) তাদেরকে পরিচয় করানো হচ্ছে সেই নামে কোনো গোষ্ঠী দেশটিতে নেই।


মিয়ানমারের এই বিবৃতি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। তবে বিবৃতিটিকে পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিবৃতিতে যে-সব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তার মাধ্যমে কেবল নিজস্ব ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার। একইসঙ্গে, এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আবারও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হলো বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।


বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, এই ইস্যুতে গণমাধ্যমে "একপেশে, ভুল তথ্য ও অপতথ্য" প্রচার করা হচ্ছে। তাদের জাতিগত পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি দেশটির।


তারা বলছে, অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের "মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয়" দিয়ে পরিচিত করা হচ্ছে। "বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সবাইকে মিয়ানমারের বলে প্রচার করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের- মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয় দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে," বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে মিয়ানমার। এছাড়া বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে সমাধানের বিষয় হলেও এটিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


মিয়ানমারের দাবি, ২০১৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আরসা "সন্ত্রাসী গোষ্ঠী" পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্যাটালিয়নে সমন্বিত হামলা চালায়। যার "প্রতিরক্ষামূলক জবাব" হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনী। আরসার হুমকির কারণে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অন্য শহর ও গ্রামে চলে যায়, আর "বিপুল সংখ্যক বাঙালি" বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।


মিয়ানমারের দাবি, আরসার হামলার আগে বুথিদং, মংডু ও রাথিডং টাউনশিপে সাত লাখ ৪০ হাজারের বেশি "বাঙালি" বসবাস করত। ঘটনার পর সেখানে দুই লাখের বেশি থেকে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশে চলে যায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে মিয়ানমারের দাবি, "রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত" — এই তথ্যটি সঠিক নয়।


বিবৃতি অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী তিন দফায় তাদেরকে ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও "একজনও" ফেরত যায়নি বলে দাবি করেছে নেপিদো। বাংলাদেশের দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে। যার মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত, চার হাজার ২৪১ জন "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত" বলে চিহ্নিত এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। যাচাই হওয়া বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত ফেরত নিতে "আন্তরিক সদিচ্ছা" নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।


তারা বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই হওয়া রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দাদের গ্রহণ করা হবে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।


পুরোনো কৌশল

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। গত ২৮শে এপ্রিল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।


রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের তৎকালিন বেসামরিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্যস্থতা করেছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০১৯ সালে অগাস্টে চীনের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়নি।


২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আট লাখ রোহিঙ্গার একটি তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলেও বাস্তব রূপ পায়নি। এবার যে বিবৃতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছে, সেটিকে সময়ক্ষেপণের পুরোনো কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ যে অবস্থান তৈরি করেছে, তার বিপরীতে নিজেদের একটি পাল্টা অবস্থান এই বিবৃতির মাধ্যমে তৈরির চেষ্টা মিয়ানমার করেছে বলেও মত অনেকের। মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলছেন, অতীতে নানাভাবে সময়ক্ষেপণের যে চেষ্টা মিয়ানমারের ছিল, এবারও সেই পথেই হেটেছে তারা।


তিনি বলছেন, অতীতেও বাংলাদেশ যখন আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা পাঠিয়েছিল, তখনও সেটি নিয়ে যাচাইবাছাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল মিয়ানমার। "অতীতে যখন তারা প্রত্যাবাসনে রাজি হলো তখনও এমন একটি সংখ্যা তারা উল্লেখ করেছিল। যেখানে একই পরিবারের দুইজনকে হয়ত বৈধ বলেছে, আর একজনকে বলেছে অবৈধ। অর্থাৎ বাবাকে নিচ্ছে, মা বাদ; আবার মা-বাবা বৈধ, কিন্তু সন্তান বাদ। এরকম একটা দুষ্টু বুদ্ধির কারণে পরে আর রিপাট্রিয়েশন হয়নি," বলেন তিনি।


এবারও মিয়ানমার সেই কৌশল নিয়েছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে নিজেদের অবস্থানও মিয়ানমার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে বলে মনে করেন শরণার্থী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। তিনি বলছেন, "আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সমাধান নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তার কাউন্টার হিসেবে মূলত এই ন্যারেটিভটা তারা সামনে এনেছে।"


রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই, এই বিষয়টিও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করারও একটি চেষ্টা এই বিবৃতিতে রয়েছে বলে মনে করেন মুনীর। ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। তারা রোহিঙ্গাদের বারবরই 'বাঙালি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। "এটা তাদের এক ধরনের ছক, যেটা আমরা আগেও দেখেছি। এটা বিশ্বাস করার আসলে তেমন কারণ নেই যে তারা সত্যিকার অর্থেই ফেরত নেবে," বলেন তিনি।


এছাড়া এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, তারা বাঙালি না রোহিঙ্গা এসব নিয়ে এই বিবৃতিতে নানা বক্তব্য থাকলেও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রস্তুতি বা নিরাপত্তার বিষয়গুলো রয়েছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। মুনীর বলছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ইতিবাচক অবস্থান দেখানোর একটি চেষ্টা হতে পারে।


"মিয়ানমারে কদিন আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন হয়েছে। যদিও অভিযোগ রয়েছে যে, এটি তাদের যে মিলিটারি গভর্নমেন্ট তাদেরই স্বীকৃতি দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। এই গণতান্ত্রিক রূপটিকেও তারা এই বিবৃতির মাধ্যমে জায়েজ করার চেষ্টা করেছে," বলেন তিনি। অবশ্য মিয়ানমারের এই বিবৃতি দেওয়ায় দীর্ঘদিন পরে হলেও এই ইস্যুতে আলোচনার একটি সুযোগ আবারও তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সর্বশেষ সব খবর

এসএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৭ পিএম

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সময়সূচি পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়েই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সরকারের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এসএসসির টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষা আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরীক্ষার ফলাফল ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ফলে টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এসএসসির প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই মাস সময় পাবে। 


তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতির সময় কিছুটা কমে আসছে। সাধারণত নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা আড়াই থেকে তিন মাস সময় পেয়ে থাকে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠ্যসূচি শেষ করে অক্টোবরের মাঝামাঝি টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন পরিকল্পনা করছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সরকারি শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 


ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অক্টোবরের শেষ দিকে বা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচনী পরীক্ষা হতে পারে। এতে এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দুই মাসেরও কম সময় পেতে পারে।


এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী পরীক্ষার পর প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে।


আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


অন্যদিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পাঠ্যসূচি শেষ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। বিশেষ করে শহরের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এসএসসি


দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর থেকে সেই সূচি আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই।


অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নানা কারণে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে কয়েক মাস করে সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও সেশনজটের কারণে সমস্যায় পড়ছে।


তিনি বলেন, শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে আনতে পরীক্ষার সময়সূচিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে হবে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শুরুতে নেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। 


তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২২ পিএম

জনগণকে বিভ্রান্ত না করে দেশের উন্নয়নে বিরোধীদলকে সঠিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে, তাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে। কিন্তু কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার ছড়ালে, জনগণের কাছেই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।


দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 


আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।


তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা একজন রাজনীতিবিদের কাজ বা দায়িত্ব না। বরং জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানো তার দায়িত্ব।


দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই, হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন।


তিনি বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই। জনগণ আর সেই রাজনীতি সমর্থনও করে না।


তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ না; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তারা এখনই মাঠে নামুন। মানুষ এবং দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন। দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন।


তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।


তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ৭১ সালে ভুল করেছে, ৮৬ সালে ভুল করেছে, ৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বলবো, এসব উস্কানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন। জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবো।


প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৬ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৯৮ শিশু। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮০৩ শিশুর।


আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯০২ শিশু মারা গেছে।


এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭২৮। এই সময়ে ৭০০ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৪৯ শিশু।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮০০।


এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ রোগী, যাদের মধ্যে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হলে কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন। সেই শিক্ষকদেরই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ করে।


তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ এই দুটি তহবিলে জমানো টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।


তিনি বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চালু করা ‘শিক্ষা উপবৃত্তি’ এবং ‘নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ’ শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মডেল’ হিসেবে অনুসরণ করছে। মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমা খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দেয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।


তারেক রহমান বলেন, অবসরকালীন সুবিধার টাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি অত সহজ ছিল না।


তিনি বলেন, পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত উল্লেখিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাল ইনডেক্স তৈরি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে এই দুটি তহবিলকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে হয়তো যেতে হবে না। কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতও হবে না। শনিবার সকালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই কম-বেশি জানা আছে, স্নায়ুবিক জটিলতা যেমন স্ট্রোক, খিঁচুনি, পারকিনসন ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরনের আধুনিক ও বিশেষিত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।’


আজ হাসপাতাল সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে এ ধরনের রোগের চিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনোসিস সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয় গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগীভর্তির ধারণ ক্ষমতাকেই বাড়াবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’


‘শুধু প্রযুক্তি থাকলে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। এ কথা আমরা সকলেই উপলব্ধি করি। রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে আমাদের এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্ভীক করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়। বরং আমি মনে করি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতি সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।


তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যের অধিকার কেবল মৌলিক অধিকারী নয়, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির চাবিকাঠি বলে মনে করে। আমি মনে করি, স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া অত্যন্ত জরুরি। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বৃত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যাবে না।’


‘সুতরাং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়। এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি, চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে,’ বলেন তিনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


আজকে শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে। একইভাবে শিশু স্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করার কাজ শুরু করেছে।’ আগামী অক্টোবরে একযোগে এই পাঁচটি বিশেষিত শিশু হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


‘জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবতকালে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে, সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং সরকার দেশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। যাতে করে মানুষ দেশের ভেতরে সকল রকমের স্বাস্থ্য সেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে সরকার যতই উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার সাফল্য নির্ভর করছে,’ যোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর