ছবি : সংগৃহীত
ফেনীর মহিপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামিকে যুবদলের কমিটিতে সংযুক্ত করার পর সাংগঠনিক ইউনিটের সঠিক তদারকিতে ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ৪নং ওয়ার্ডের ঘোষিত কমিটিতে ২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। এছাড়া যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়।
এ ছাড়া অভিযুক্তকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার এবং ঘোষিত ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
গত রোববার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়। এতে পৌর ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যের কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
পরবর্তী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সুজনকে কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার (২ মে) ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ৬ জন পদত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকেও বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত ও ঘোষিত সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী জেলা যুবদলসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।
একই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিতে পদ পাওয়া অভিযুক্ত গাজী এনামুল হক সুজনকে তথ্য গোপন করে দলের পদ গ্রহণ করায় প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল দেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮ জন আসামির তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পিবিআইকে ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দেড় বছর পার হতে চলেছে এখনও আদালতে প্রতিবেদন জমা না দিয়ে বার বার সময় নিয়ে কালক্ষেপণ করছে বলে বাদী জানিয়েছেন।
একটি সূত্র জানায়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার সম্নানিত লোকজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পিবিআইয়ের কিছু অসাধু তদন্তকারীর বিরুদ্ধে।
এদিকে ঘোষিত ওই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন বলেন, কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরাও ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ৫ আগস্টের পর সে বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। কমিটিতে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলাম।
কিন্তু কমিটিতে এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন বলেন, পুরো ঘটনাটি মূলত পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন আমার জেঠাতো ভাই এবং এই কমিটির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ৫ আগস্টের পরপর আমার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।
ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ৫ আগস্টের পর শ্রমিক নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করেন, যেখানে সুজনকে আসামি করা হয়েছে। তখন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত আছে। এ ঘটনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ব্যাপারে ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) মো. আল ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঘোষিত ফেনী পৌর যুবদলেরর ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
পদমর্যাদায় দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, অথচ বেতন পাচ্ছিলেন ১১ ও ১২তম গ্রেডে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ১৩ বছর ধরে চলা এই বৈষম্যের অবসান হতে যাচ্ছে। প্রায় ১০ মাস আগে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে পদমর্যাদা অনুযায়ী দশম গ্রেডে বেতনভাতা উন্নীত হয়েছে। তবে এতদিন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি ঠিক না হওয়ায় সেই অনুযায়ী বেতন পাননি তারা। অবশেষে দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
গত মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। তবে বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।
আদালতের রায়ে মিলল স্বীকৃতি
প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ফল। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করা এবং গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন–উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত। পরে হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে আদালতে রিট করা ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ। তিনি সমকালকে জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরে রায় দেন।
পদমর্যাদা বাড়লেও বেতন বাড়েনি
২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার। একই দিন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও বেতন নির্ধারণে তার প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম গ্রেডে রাখা হয়।
বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী দশম গ্রেডে মূল বেতন শুরু ৩২ হাজার টাকা থেকে। এ গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭,৩০০ টাকা। এর আগে দশম গ্রেডের পুরোনো বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।
সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাবও আটকে
প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চাইবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়।
পানি বণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে। দুই দেশের পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন।
এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব। কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।
পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থানও বাংলাদেশের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ছবি : সংগৃহীত
ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে আজ ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা, বেচা-কেনা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের প্রত্যেককে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের পাশাপাশি মাছ পরিবহন, বিক্রি ও মজুতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্য আইনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা
বাণিজ্য বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই বৈঠক আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পথে থাকা বিভিন্ন বাধা, পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক এবং স্থলবন্দর-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিতে গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতীয় বাজারে ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারত বাংলাদেশে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে।
চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস। দেশের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামালের পাশাপাশি কাপড়, সুতা ও তুলা আমদানি করে থাকেন।
একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক (ছবি-পিআইডি)
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্পও রয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দু’টি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে। সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
রামপাল প্রকল্প
২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রামপাল প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (এমডব্লিউপি) সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, দেশের প্রাথমিক জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এতে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে। পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের ঋণের সুদের হার হবে ২ শতাংশ। ঋণের এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৬ বছরে তা পরিশোধ করতে হবে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।’ পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি প্রাথমিক জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাবে।
প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রামপালের ব্লক-বি এলাকায় বিপিডিবির ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ করা ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে। বিপিডিবির নিজস্ব জমি ব্যবহার করায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না এবং এতে প্রকল্প ব্যয় কমবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রামপালের নিকটবর্তী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যমান সঞ্চালন অবকাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হবে। প্রকল্পের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, এতে তুলনামূলক দ্রুত ও কম ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিপিডিবি ২০১২ সালে রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে। জমিটি ৯১৫ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-এ এবং ৯১৮ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-বিতে ভাগ করা হয়। ব্লক-এতে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। আর ব্লক-বি বিপিডিবির আওতায় রয়েছে। প্রকল্প দলিল অনুযায়ী, ব্লক-বিতে ভূমি উন্নয়ন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৭ প্রকল্প
আজকের একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রকল্প।
তিন জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন
এছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির ৩৫ বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্যারিসে চ্যান্সারি ভবন আধুনিকায়ন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
দুই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।
সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ‘জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন
‘শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের মূল অগ্রাধিকার। সরকার শ্রমিকদের অধিকার ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব।’ এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্স (আইওই)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতায় স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার জন্য সার্বজনীন আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বর্তমান সরকার শ্রমিকের অধিকার সুসংহত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সুচিন্তিত পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার একসাথে এগিয়ে যেতে চায়।
মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হলো শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা। আর প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, এই সফর এবং সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আমাদের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথনকশা অনুধাবনে বিশেষ সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার শ্রমিক কল্যাণ, মানসম্মত কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, দায়িত্বভার গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করেছে নবনির্বাচিত সরকার। একই সঙ্গে শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ এবং ১৮৯ অনুমোদন করেছে। শ্রম প্রশাসনকে দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকারকে শ্রমজীবীদের জীবনের বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর নিশ্চিত করা হবে।’
মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দুটি বিষয়ই পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে। শিল্পভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং কার্যকর সামাজিক অংশীদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই।
বৈঠকে আইটিইউসি এবং আইওইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রমখাতে গৃহীত সাম্প্রতিক সংস্কারমুখী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির মেম্বার জেস ভোগট এবং আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো, আবদুর রহিম খান এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।