পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি,

  • প্রকাশ : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬, সময় : ১:১৬ পিএম

এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির জয়ের ফলাফলে, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইস্যুটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়লাভের পর বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে।


প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ক্ষমতায় যখন বিজেপি এসেছে, তখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা? বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। নির্বাচনের সময়ের ভোটের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিকে পরিবর্তন করে না বা প্রভাব ফেলে না বলে তারা মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা হলেও সেটি পার্শ্ববর্তী দেশকে প্রভাবিত করে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারকে সচেতন থাকতে হবে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, এটা ঠিক, যারা রাষ্ট্র গঠন করে সাম্প্রদায়িক ইনসিডেন্টের ক্ষেত্রে তাদের একটা প্রচ্ছন্ন সাপোর্ট বা ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, পররাষ্ট্র নীতি অনেকটাই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হয়। আমার মনে হয় না, কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন আসবে।


‌‌কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন না আসার কারণ হিসেবে লাইলুফার ইয়াসমিন জানান, শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে যদি আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকে, তাহলে ফরেন পলিসির ক্ষেত্রে আমূল কোনো পরিবর্তন আসবে না।


সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমদ অবশ্য মনে করছেন, দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে ভারতের সরকারের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দুইপক্ষ থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে সুসম্পর্কের। কিন্তু এটার জন্য দুই দেশের মাঝে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হলে বুঝতে পারবো সেই অঙ্গীকারটা আছে এবং তারপরে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতির চিন্তা তখন করা যাবে।


তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি, যেটি অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে৷ভারতের নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার এই চুক্তিতে রাজী হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর রাজ্য সরকার রাজী ছিল না বলে বরাবরই সেই রাজ্য সরকারের দোহাই দিয়ে আসছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে এখন রাজ্যেও ক্ষমতায় এসেছে দলটি। কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার দুই ক্ষেত্রেই ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসছে৷


ফলে এই ক্ষেত্রে দুই দেশের রাজনীতির একটি ইস্যু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন দুই বিশ্লেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মিজ ইয়াসমিন মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ছাড়া কোনো চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়।


অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, মমতা ব্যানার্জীর ওপর তখন সুযোগ বুঝে দোষা চাপানো হয়। কারণ তিস্তার সাথে শুধু রাজ্য সরকার নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বার্থও কিন্তু এটার সাথে জড়িত। কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কোন চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু এটা বিজেপি নিয়ন্ত্রিত সরকার ছিল না, তাই মমতাকে এটার জন্য দায়ী করা বিজেপির পক্ষে সহজ ছিল। কিন্তু "মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তির ব্যর্থতার জন্য এককভাবে দায়ী নন বরং পুরো স্ট্রাকচার দায়ী" বলে মনে করেন মিজ ইয়াসমিন।


সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ অবশ্য মনে করেন, এখন তিস্তা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখতে পাওয়া যাবে। আগে বিজেপির সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীর ঘাড়ে দোষারোপ চাপিয়েছিল। "এখনতো কেন্দ্র এবং প্রদেশে একই রকমের সরকার। সুতরাং সমস্যাটা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরং আমি মনে করি, ইতিবাচক অগ্রগতি আমরা দেখতেও পারি" বলেন তিনি। তবে এই অগ্রগতি মূলত দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে বলেও মনে করেন তিনি।


সীমান্ত নিরাপত্তা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরে ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।এর প্রভাব পড়েছিল সীমান্তে নিরাপত্তসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে নতুন নির্বাচিত বিএনপি সরকার সীমান্ত নিরাপত্তাসহ সকল ক্ষেত্রেই ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে ইতিবাচক বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।


বিশ্লেষকেরা বলেন, একটি রাজ্যসভার নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ওই রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি নির্ভর করে না। "একটা রাষ্ট্রের ফরেন পলিসি একটা গ্র্যান্ড ডিজাইন। সেই কারনে আমরা দেখি যে, তার ফরেন পলিসির জন্য যদি মনে হয় যে, সীমান্ত সেনসেটাইজ করলে তার সুবিধা হয় তাহলে করবে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার তার পক্ষে হলে সেটা সহজ হয়" বলেন অধ্যাপক মিজ ইয়াসমিন।


তবে, ফয়েজ আহমদ মনে করেন, সাময়িকভাবে উত্তেজনা এখন হলেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরে পরবর্তীতে সীমান্তের এপাশে-ওপাশে বড় রকমের আর কোনো ঝামেলা বা উত্তেজনা হবে না।


বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম বর্ডার বা সীমানা ভোগকারী দেশ। অর্থাৎ, একইসাথে সীমানা রয়েছে সবচেয়ে বড় এমন দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম ই দেশ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত একাধিক রাজ্যেই মুসলিমদের ওপর নিপীড়ণ হতে দেখা গেছে। এমনকি বাংলাদেশও বিভিন্ন সময়ে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, "এটার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, দুটি দেশ যেহেতু ওয়ার্ল্ডের ফিফথ লার্জেস্ট বর্ডার শেয়ার করে সেহেতু তাদের ভিতরে ডোমেস্টিক অ্যাফেয়ার্স কী হচ্ছে সেটার প্রভাব আরেকটি দেশে পড়ে।" সম্প্রতি জয়লাভের পর একটি মাংসের দোকান বিজেপির সমর্থকরা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই কারণে মিজ ইয়াসমিন ইতিবাচকভাবে দেখতে চান উল্লেখ করে বলেন, "দ্রুত পদক্ষেপগুলো একটা আশ্বাস দিতে পারে।"


আলোচনায় পুশ-ইন

নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। আর এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে। এরইমধ্যে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুশ-ইন ইস্যুতে সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।


বুধবার ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওই কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজেপির জয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বাড়তে পারে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মি. আহমদ বলেন, "আমরা (সোমবার) গতকালকেই বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে সীমান্তে তারা একটু সতর্ক থাকে। কারণ সেরকম কোনো সম্ভাবনা দেখি না, যদি হয় যাতে তারা এড্রেস করতে পারে। আমার ধারণা সে রকম কিছু ঘটবে না।"


সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে করা কোন মন্তব্য পরবর্তীতে সে দেশের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধীতা করবে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার।


বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। ওই সময়ে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলা ও পতাকা পোড়ানো, ভারতের ভিসা বন্ধ হওয়াসহ নানা ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করে। কিন্তু গত ১২ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার ভারত সরকার. দুপক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের করা বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা ধরনের মন্তব্য এই সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি করে।


পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় নিশ্চিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়টি বাংলাদেশের সরকার কীভাবে দেখছে, সেটি নিয়েও আলোচনা ওঠে। এরই মধ্যে, সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের সম্পর্ক সংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি ওই কথা বলেন বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।


"বিজেপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হোক, আমাদের দিক থেকে আমাদের ওদের সাথে পানির ইস্যু আছে, পুশব্যাকের যে ইস্যুটা বললেন, ওটা আছে। আরও অনেক ইস্যু আছে। সেই ইস্যুগুলোতো আমাদের রয়ে যাচ্ছে। সেগুলো যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে" বলেন শামা ওবায়েদ।


পরদিন মঙ্গলবার ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আরেকটি অনুষ্ঠানের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' এই ফরেন পলিসি অনুযায়ী বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেবে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রথম বা ফার্স্ট নীতিতে আমাদের ফরেন পলিসি, যেই সরকারই আসুক না কেন সেই ইস্যুতে আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আগাবো। 



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত পরিবেশন, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


এ ছাড়া, সরকারি কর্মসূচির আওতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয় এবং ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হবে। এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষ্যে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কলেরা ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় প্রায় ৫২ লাখ মানুষকে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা দেয়ার কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে এ টিকা দেয়া হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির আওতায় ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দফায় তাদের টিকা দিতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ।


কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শের-ই-বাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সীগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর।


সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব এলাকা কোনো অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি। বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলোকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, অতীতে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্ক থাকা জরুরি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত জীবনহানি ঘটতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধে টিকাও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।


তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় ভবিষ্যতে ১৪৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় এ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিটির ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব হাবিবুর রহমান খান এবং আইসিডিডিআর,বির গবেষক ফিরদউসী কাদরী।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।


ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশী নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 


সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান যেন ভারত সফরে যান এ বিষয়টি অবগত করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।


আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের নয়া দিল্লিতে যাবেন কিনা, কিংবা এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে কিনা? এ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা চলছে, এমন প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।


প্রায় এক ঘন্টার বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুজন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল এটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতের সফরের বিষয় নিয়ে কি কথা, এ বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


ভারতীয় হাইকমিশনার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানান। কথা বলেন, সম্প্রতি কলকাতায় আগুনে পুড়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও।


বাংলাদেশ তার ভালো লাগার একটি জায়গা বলেও জানান ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০০ এএম

সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে। তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুলই যে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন– সেটা এক রকম নিশ্চিত। এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোটের লড়াইয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে।   


প্রায় তিন যুগ পর ভোট হওয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ঘাটতি থাকলেও একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও ‘নির্বাচন কর্তা’ 


এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবারই ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রপতির নাম জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।        


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে এই আসনটি শূন্য রয়েছে।      


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে নৈতিকস্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁকে আজকের বৈঠকে ডাকা হয়নি। এ ছাড়া তিনজন বিরোধীদলীয় এমপি এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে।  


এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। গত ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত অলি আহমদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ হয়। 


এটি ঐতিহাসিক নির্বাচন: সিইসি 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের দিন গতকাল এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা আমাদের সীমিত। তারপরও সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি যেন না থাকে, সেই ব্যবস্থাও করেছি। 


সিইসি বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও এই সরাসরি সম্প্রচার চালু থাকবে। তবে ফলাফল ঘোষণাকালে কোন সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না। ব্যালটের ওপর ভোটারের নাম এবং প্রার্থীর নাম থাকবে। 


২০ সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ ইসির  

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় ২০ সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে ইসি। নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের নামও রয়েছে। গতকাল ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 


এতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচন পরিচালনায় দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানসহ সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য এসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়েছে।  


শপথ গ্রহণে প্রস্তুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হবে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, মর্যাদাপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে ছয়টি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১২০০ অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে। 


সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার। রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। শপথ নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব নেবেন এবং নতুন মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে অবস্থান করবেন।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতে নিষেধ করা হয়েছিল


শেখ হাসিনা, মানবতা, বিরোধী অপরাধ, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আওয়ামী লীগ, গুলি


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

এলএনজি কার্গোর অভাবে অবশেষে মজুত ফুরিয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ)। 


আজ বুধবার দুপুরে টার্মিনালটি পুরোপুরি গ্যাসশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এখন সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হবে।


এদিকে এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহও এক দফা কমেছে। 


আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুই টার্মিনাল থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ ছিল প্রায় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। ফলে সন্ধ্যায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস প্রবাহ ছিল ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।


পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬২ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ কমেছে ১০ কোটি ঘনফুট।


আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, আজ বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত এলএনজি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দেওয়া হচ্ছে।


এভাবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পেছনে কার্গো সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে টার্মিনালের বয়লার মেরামত নিয়েও তথ্যের বিভ্রাট ছিল বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। 


তার ভাষ্য, এক্সিলারেটের পক্ষ থেকে বয়লার সচল করতে ৭২ ঘণ্টা বিরতির কথা জানানো হয়েছিল। পরে বয়লার ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হলেও ততক্ষণে কার্গোর সংকট তৈরি হয়ে যায়। ফলে টার্মিনাল সচল রাখার মতো এলএনজি মজুত ছিল না।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো সময়মতো না আসায় টার্মিনাল সচল থাকার পরও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরিভিত্তিতে বেশি দামে কার্গো কিনতে হচ্ছে। নতুন কার্গো ২৩ আগস্ট সময়মতো দেশে না এলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।