প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ১০ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতে আমাদের মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আজ বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। 


তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।


কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিল না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।


শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।


তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।


সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।


তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।


তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিল সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।


বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের  ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।


বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। 


তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।  


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।


প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত পরিবেশন, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


এ ছাড়া, সরকারি কর্মসূচির আওতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয় এবং ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হবে। এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষ্যে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কলেরা ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় প্রায় ৫২ লাখ মানুষকে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা দেয়ার কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে এ টিকা দেয়া হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির আওতায় ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দফায় তাদের টিকা দিতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ।


কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শের-ই-বাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সীগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর।


সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব এলাকা কোনো অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি। বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলোকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, অতীতে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্ক থাকা জরুরি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত জীবনহানি ঘটতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধে টিকাও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।


তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় ভবিষ্যতে ১৪৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় এ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিটির ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব হাবিবুর রহমান খান এবং আইসিডিডিআর,বির গবেষক ফিরদউসী কাদরী।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।


ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশী নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 


সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান যেন ভারত সফরে যান এ বিষয়টি অবগত করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।


আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের নয়া দিল্লিতে যাবেন কিনা, কিংবা এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে কিনা? এ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা চলছে, এমন প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।


প্রায় এক ঘন্টার বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুজন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল এটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতের সফরের বিষয় নিয়ে কি কথা, এ বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


ভারতীয় হাইকমিশনার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানান। কথা বলেন, সম্প্রতি কলকাতায় আগুনে পুড়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও।


বাংলাদেশ তার ভালো লাগার একটি জায়গা বলেও জানান ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০০ এএম

সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে। তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুলই যে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন– সেটা এক রকম নিশ্চিত। এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোটের লড়াইয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে।   


প্রায় তিন যুগ পর ভোট হওয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ঘাটতি থাকলেও একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও ‘নির্বাচন কর্তা’ 


এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবারই ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রপতির নাম জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।        


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে এই আসনটি শূন্য রয়েছে।      


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে নৈতিকস্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁকে আজকের বৈঠকে ডাকা হয়নি। এ ছাড়া তিনজন বিরোধীদলীয় এমপি এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে।  


এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। গত ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত অলি আহমদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ হয়। 


এটি ঐতিহাসিক নির্বাচন: সিইসি 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের দিন গতকাল এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা আমাদের সীমিত। তারপরও সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি যেন না থাকে, সেই ব্যবস্থাও করেছি। 


সিইসি বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও এই সরাসরি সম্প্রচার চালু থাকবে। তবে ফলাফল ঘোষণাকালে কোন সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না। ব্যালটের ওপর ভোটারের নাম এবং প্রার্থীর নাম থাকবে। 


২০ সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ ইসির  

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় ২০ সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে ইসি। নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের নামও রয়েছে। গতকাল ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 


এতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচন পরিচালনায় দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানসহ সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য এসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়েছে।  


শপথ গ্রহণে প্রস্তুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হবে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, মর্যাদাপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে ছয়টি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১২০০ অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে। 


সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার। রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। শপথ নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব নেবেন এবং নতুন মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে অবস্থান করবেন।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতে নিষেধ করা হয়েছিল


শেখ হাসিনা, মানবতা, বিরোধী অপরাধ, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আওয়ামী লীগ, গুলি


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

এলএনজি কার্গোর অভাবে অবশেষে মজুত ফুরিয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ)। 


আজ বুধবার দুপুরে টার্মিনালটি পুরোপুরি গ্যাসশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এখন সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হবে।


এদিকে এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহও এক দফা কমেছে। 


আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুই টার্মিনাল থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ ছিল প্রায় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। ফলে সন্ধ্যায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস প্রবাহ ছিল ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।


পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬২ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ কমেছে ১০ কোটি ঘনফুট।


আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, আজ বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত এলএনজি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দেওয়া হচ্ছে।


এভাবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পেছনে কার্গো সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে টার্মিনালের বয়লার মেরামত নিয়েও তথ্যের বিভ্রাট ছিল বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। 


তার ভাষ্য, এক্সিলারেটের পক্ষ থেকে বয়লার সচল করতে ৭২ ঘণ্টা বিরতির কথা জানানো হয়েছিল। পরে বয়লার ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হলেও ততক্ষণে কার্গোর সংকট তৈরি হয়ে যায়। ফলে টার্মিনাল সচল রাখার মতো এলএনজি মজুত ছিল না।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো সময়মতো না আসায় টার্মিনাল সচল থাকার পরও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরিভিত্তিতে বেশি দামে কার্গো কিনতে হচ্ছে। নতুন কার্গো ২৩ আগস্ট সময়মতো দেশে না এলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।