মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের নিয়োগের আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের কার্যকর প্রয়োগ ও দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘লিভড এক্সপেরিয়েন্সেস টু মিনিংফুল চেঞ্জ: প্রমোটিং ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক প্র্যাকটিস ইন মেন্টাল হেলথ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSWAB) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমান সমাজে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সংকট দেখা যাচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ, চিকিৎসা কিংবা তাৎক্ষণিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে। এই জনবলকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। নোবিপ্রবি উপাচার্য আরও বলেন, সমাজকর্ম বিষয়ে পেশাগত শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ পেশার মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
এ সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, সমাজসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সমাজকর্ম বিষয়ে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজসেবা কর্মকর্তাদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পদগুলোকে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSWAB)-এর সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম শাহীন খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মানসিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সমস্যার গভীরে গিয়ে তার কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার, চিকিৎসা বা তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটির পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়, তা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রয়োগ, হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যার মধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক পুনর্বাসন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের মতো পেশাগত ক্ষেত্রকে কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্তব্যরত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত 'ইবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন'-এর নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত তিন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।
সাক্ষাৎকালে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ শিপন ও সাধারণ সম্পাদক ড. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অর্ধ-শতাধিক অ্যালামনাই প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পাশে থেকে আন্তরিক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সবসময় পাশে থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ শিপন বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন একটাই হবে। আমরা আমাদের সাথে সব দলমতের অ্যালামনাই রেখেছি ও কমিটিতে পদও দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে ৫ আগস্টের পরে রাতারাতি শিবিরের লোকজন নিয়ে আরেকটা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠে। এটা শিবির অ্যাসোসিয়েশন হতে পারে, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সবার সাথে বসতে এবং আলোচনা করতে রাজি আছি।
এসময় তিনি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে পুনর্গঠন ও ফান্ডরেইজিং করে বিশ্বিবদ্যালয়ের সব বিভাগে আর্থিক অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া একাউন্টিং বিভাগে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থী সালিমার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা বৃত্তির ঘোষণা দেন তিনি।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কর্মকর্তা সমিতি, জিয়া পরিষদের কর্মকর্তা ইউনিট, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম এবং সহায়ক, সাধারণ ও টেকনিক্যাল সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাব, জিয়া পরিষদের শিক্ষক ইউনিট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
জবিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাতিল হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার প্রতিবাদে এবং চাকরিপ্রার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।এসময় প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান প্রশ্নফাঁসের মাস্টার প্ল্যান;প্রশ্নফাঁস না মেধা,মেধা মেধা সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
এসময় জকসু শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন,২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তির পর ভেবেছিলাম আর প্রশ্ন ফাঁস বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে না। কিন্তু বর্তমান সরকার সাত মাস পেরোনোর আগেই দেশে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং একের পর এক শিক্ষার্থী-বিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,২০০১-২০০৫ সালের মতো দলকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করার পুরনো পথে আবারো হাঁটা হচ্ছে; জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। চরম অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তা স্থগিতের ঘোষণা ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক।
জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন,ক্যাম্পাসগুলোতে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখলদারিত্ব ও গুন্ডামি চলছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী শিক্ষককে শাস্তি না দিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। চাকরির নিয়োগে জালিয়াতি, ভাইবায় পক্ষপাতিত্ব, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অযোগ্যদের সুযোগ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,মেধাবীদের মুখ অতীতেও বন্ধ রাখা যায়নি, এখনও যাবে না। যদি সরকার এসব চক্রান্ত বন্ধ না করে এবং সোজা পথে না হাঁটে, তবে জুলাই বিপ্লবের মতো শিক্ষার্থীরা আবারো বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে।"
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) “পর্যটন পুনর্গঠনে ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা” বিষয়ক বিশেষ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলি, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস শহীদ মিয়া, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (TOAB) পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সেলিম, দিশা টাওয়ার কুষ্টিয়ার ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. রবিউল ইসলাম এবং গোয়িং ফ্লাই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা কনসালটেন্সি ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহকারী পরিচালক তারিন তৌহিদা এবং রহিমআফরোজ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়াজ রহিম।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের সিইও এবং বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড রুরাল বেসড অ্যাসোসিয়েশনের (BIRBA) নির্বাহী পরিচালক ইরফান আহমেদ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “পর্যটন এখন আর কেবল বিনোদন বা ভ্রমণের মাধ্যম নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি।”
তিনি বলেন, “প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনাময় হলেও অবকাঠামোগত ঘাটতি, সঠিক প্রচারের অভাব ও নিম্নমানের সেবার কারণে আমরা এর পূর্ণ সুযোগ নিতে পারছি না।”
পর্যটনে প্রযুক্তির (AI) ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন প্রযুক্তির যুগে। স্মার্ট প্ল্যানিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ডেটাভিত্তিক পর্যটন সেবার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে আধুনিক, আন্তর্জাতিক ও পর্যটকবান্ধব করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার অপরিহার্য। প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো এবং মানবিক সহানুভূতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে AI, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা বিশ্লেষণ এবং স্মার্ট হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে যুক্ত করে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা যায়, সেই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।”
স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের (ক্যাপ) ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রা শেষে বাংলা মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান।
শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশেষ বক্তা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার টিএমএসএস ক্যান্সার সেন্টারের অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তৌসিফুর রহমান।
র্যালীর উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে, তা ক্যান্সারের মতো একটি ভয়াবহ রোগ থেকে আমাদেরকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।”
তিনি আরও বলেন, “সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি শুধু এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আমি এই কমিটিকে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি এবং এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের জন্য তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।”
প্রধান বক্তা সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তৌসিফুর রহমান ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি ক্যান্সারের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বলেন, “স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এজন্য নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব।”
কৃষি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (বিআইই) ডিগ্রি প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বিআইই কার্নিভাল’-এর প্রথম দিনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের কম্পিউটার ল্যাবে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগ এ কার্নিভালের আয়োজন করে। এতে বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তাগীজ বিল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় তিন সদস্যের ১৩টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলকে সমাধানের জন্য দেওয়া হয় নয়টি সমস্যা। সমাধান করা সমস্যার সংখ্যার ভিত্তিতে সেরা তিনটি দল নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বর্ষ থেকে একজন করে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।
প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে প্রোগ্রামিংয়ের কার্যকর সমন্বয় ঘটানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে এটিই প্রথম প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যতে এর পরিসর বাড়িয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের কম্পিউটার বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত করে জাতীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানের কিছু সমস্যা রাখা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা আরও বিকশিত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
দুই দিনব্যাপী এ কার্নিভালের দ্বিতীয় দিনে শ্রবণ প্রতিযোগিতা, ইন্টিগ্রেশন বি, দাবা, ধাঁধা সমাধান, পিলো পাসিং ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিনি কনফারেন্স কক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে কার্নিভালের সমাপ্তি হবে।
সভাপতি সিয়াম মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুশফিক আহমেদ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ক্রীড়া সংগঠন ‘সোশিওলজি স্পোর্টস ক্লাব’-এর ২০২৫-২৬ মেয়াদের তৃতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সিয়াম মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুশফিক আহমেদ মনোনীত হয়েছেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, সহকারী অধ্যাপক শাহানাজ আক্তার, প্রভাষক মহিবুল ইসলাম ও প্রভাষক মনির হোসেনের স্বাক্ষরে কমিটিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সহ-সভাপতি মো. সায়েম হোসেন সাব্বির, আরমান মিয়া ও তানভীর আহমেদ রাফে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, মেফতাহুল জান্নাত উষা, তাজকীর আহসান তামিম, মো. রেদওয়ান মিয়া ও লাবণী আক্তার।
সাংগঠনিক সম্পাদক তাওফিক মারুফ। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারহানুন আদনান, রাকিব হোসেন ও নাসিফ ইকবাল তন্ময়। কোষাধ্যক্ষ মাহতাব চৌধুরী এবং সহ-কোষাধ্যক্ষ একখাঁন রুদ্র ও শান্তা আক্তার সিমা।
ডিজাইন ও ডকুমেন্টেশন সম্পাদক আমরিণ আক্তার মুনা এবং সহ-ডিজাইন ও ডকুমেন্টেশন সম্পাদক মো. রাফি ভূঁইয়া ও জুয়েল। মিডিয়া ও পাবলিকেশন সম্পাদক ইমতিয়াজ কাওসার এবং সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান ও সাইমুন ইসলাম।
দপ্তর সম্পাদক আশিকুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান নাহিদ ও ইউশা মোবিন। জনসংযোগ সম্পাদক প্রীতম দে এবং সহ-জনসংযোগ সম্পাদক মো. রুবেল ও ফারজানা ইয়াসমিন।
স্পন্সরশিপ ও লজিস্টিকস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আকরাম হোসেন। এ বিভাগের সহ-সম্পাদক হয়েছেন মো. রবিউল হোসেন ও মো. মিনারুল ইসলাম।
এ ছাড়া নারী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফাইজা কাদের চৌধুরী, নাজিফা নাওয়ার, সাহিদা সুলতানা বিথী, আবৃতা গুপ্তা ও সুমাইয়া বিনতে আজাম।
নবগঠিত কমিটির সদস্যরা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দলগত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।