স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে। জোট শরিকদের মধ্যে নির্বাচনি কৌশল নিয়ে মতের অমিল ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জোটের একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধরন নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও জোটের বেশিরভাগ শরিক সংসদ নির্বাচনের মতো সমঝোতার ভিত্তিতে ভোটের মাঠে নামার পক্ষে। এমন প্রেক্ষাপটে জোটের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে দুই-একটি দল নিজেদের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। জোটের দায়িত্বশীল কয়েকটি
সূত্রের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে দলীয় পরিচয়ে এককভাবে প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত। জোটগত সমঝোতার পরিবর্তে নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষেই দলটির নীতিনির্ধারকদের অবস্থান।
অন্যদিকে, জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ (এলডিপি) অন্য দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিচ্ছে, যদিও এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও তারা রাখছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও আলোচনার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করেনি বলেও দাবি সূত্রগুলোর।
জানা গেছে, চলতি বছরের দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে অক্টোবর-নভেম্বরে। এরই মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের আচারণবিধি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতায় না যাওয়ার পক্ষে দলের হাইকমান্ড।
তবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে স্থানীয় নেতারা পরিস্থিতি বিবেচনায় সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী দিলে সে বিষয়ে কেন্দ্রের আপত্তি থাকবে না।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীতে জাতীয় নির্বাচনে জোট থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সব দলই আলাদাভাবে অংশ নিয়েছে। তাই সিটি করপোরশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরাও এবার এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেন্দ্রীয়ভাবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না। উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে স্থানীয় নেতারা সমঝোতা করে নির্বাচন করতে পারে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শরিকদের মতামতকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না জামায়াত। দলটির ‘বড় ভাইসুলভ’ আচরণও অনেক শরিকের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হয়, তাহলে জোটের অন্য শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এমন একটি আলোচনা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কৌশলগত ভিন্নতা এখনই জোটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মূলত ১১ দলীয় জোট গড়ে উঠেছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সীমিত পরিসরে সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে এনসিপি ঢাকার একটি সিটিসহ আরও দু-একটি সিটিতে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে সমঝোতার চেষ্টা করতে পারে।
একাধিক শরিক দলের নেতা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করলে ভোটের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একাধিক শরিক দল একই এলাকায় আলাদা প্রার্থী দিলে ভোট বিভক্ত হয়ে যাবে। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি সুবিধা পাবে। এ কারণে তারা জোটগত সমঝোতা ও আসনভিত্তিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা আপাতত এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার প্রস্তুতি শুরু করেছি। দেশের অনেক এলাকার প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। অন্য এলাকাগুলোতে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচনের সময় যদি জোটগত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে তৃণমূলের বাস্তবতা জয়-পরাজয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই জোটগত ও একক- দুই ধরনের প্রস্তুতিই আমরা রাখছি। নির্বাচনের সময় একেক জায়গায় একেক রকম সিচুয়েশন তৈরি হবে, সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ওই এলাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষা বলেন, আমরা সারা দেশে প্রার্থী ঘোষণা করছি। জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতেও দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে দলীয় প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন না করলে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী সুবিধা পাবে। জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে। কেউ যদি এককভাবে নির্বাচন করতে চায়, জোটে না থাকতে চায়- এটা সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। কাউকে জোর করিয়ে জোট করাতে পারব না। নির্বাচনের সময় এলে এটা আরও স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি দল আলাদাভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রত্যেক দলের প্রার্থী বাছাই-যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জোট নাকি এককভাবে অংশ নেব।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু নির্দলীয় ফরম্যাটে হচ্ছে, সেহেতু এই নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ে জোট হওয়ার সম্ভাবনা কম। স্থানীয়ভাবে কোনো কোনো অঞ্চল, জেলা বা উপজেলায় সেটা হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণেরই বিপক্ষে। আমাদের কোনো নেতাকর্মী যদি স্বেচ্ছায় নির্বাচনে অংশ নিতে চান, আমরা তাদের উৎসাহ প্রদান করছি এবং সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দিচ্ছি।
নিষ্ক্রিয় খেলাফত মজলিস, ছাড়তে পারে জোট: প্রায় এক মাস ধরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় রয়েছে বাছিত আজাদের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস।
সূত্র জানায়, জোটের বর্তমান কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের একক প্রার্থী ঘোষণা ও নেতাদের চাওয়াকে গুরুত্ব না দেওয়ায় দলটি দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ছাড় আদায়ে তৃণমূলের চাপও রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। এ ছাড়া জোটে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং এনসিপির তরুণ নেতাদের তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সহজভাবে নিতে পারছেন না খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা। এসব কারণে খেলাফত আন্দোলনের পর কওমিভিত্তিক আরেকটি দল হিসেবে খেলাফত মজলিসও জোট ছাড়তে পারে-এমন আলোচনা রয়েছে খেলাফত মজলিসের ভেতরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ জুন ময়মনসিংহে ও ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ বর্জন করেছে খেলাফত মজলিস। ১৮ জুলাই বরিশাল ও ২৫ জুলাই সিলেটের জনমসমাবেশেও অংশ নিচ্ছে না দলটি। পরবর্তী বৈঠকে বসে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর খেলাফত মজলিস জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা মনে করেন, সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার সময়ে তাদের ন্যায্য আসন দেওয়া হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ অন্যান্য জাতীয় সংকট নিয়ে আন্দোলন চলমান রয়েছে। কিন্তু এর ফাঁকে জামায়াত কৌশলে তাদের নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করছে। তাই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জোটের মূল্যায়ন হওয়া জরুরি।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আমরা আছি। দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু বিশেষ কারণে আপাতত কোনো কর্মসূচিতে আর অংশ নিচ্ছি না। আগামী ২৫ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শূরার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, খেলাফত মজলিসের কিছু মান-অভিমান থাকতে পারে। একসঙ্গে পথ চলতে গেলে না চাইলেও অনেক সময় কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে, আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। হেফাজতের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা ঘরানার ৭ দলের বৈঠক: অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার কওমি মাদ্রাসা ঘরানার সাতটি দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন। দলগুলো হলো-ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি। এদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের দুই অংশ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ১১ দলীয় জোটের অংশ।
বৈঠক সূত্র জানায়, সাতটি দলকে নিজেদের মধ্যে ভুলক্রটি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় হেফাজত। প্রতিটি দলই একসঙ্গে পথচলার জন্য একমত পোষণ করেছে। আগামী দিনে একসঙ্গে পথচলার রূপরেখা প্রতিটি দল তৈরি করে হেফাজতের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে জমা দেবে। রূপরেখা জমা দেওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ঐক্যের কাঠামো তৈরি হতে পারে।
বিএনপির লোগো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক পর্যায়ে বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ঘোষিত এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব সদস্যকে যথা সময়ে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেবিলে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে ‘রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটের’ কমিটি দেওয়া রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির অধ্যায় শেষ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠকে সংগঠনের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সাক্ষাৎকালে বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান তাদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
শীর্ষপদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষপদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহ-সভাপতি - ইজ্জাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইশরাক।
নতুন কমিটি ঘোষণা হলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
দুই বছরের মেয়াদ শেষ
২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই সময় আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদকাল দুই বছরের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা লবিং, তদবির ও সিনিয়র নেতাদের মন জোগাতে সময় দিচ্ছেন।
নতুন কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও নারী নেতৃত্বে জোর
পদপ্রত্যাশীরা বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ছাত্রদলকে সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যথাযথ মূল্যায়ন করে বড় দায়িত্ব দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলো। এই পদে কে আসছেন- তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সে পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই দলের এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেন। অবশ্য এ বছরে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে নতুন কোনো মুখ দেখা যেতে পারে। সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই মনে করছেন- আগামীতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে।
দলের মহাসচিব পদ ছাড়াও নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও অনেক রদবদল আসতে পারে। এর মধ্যে যেমন শূন্য পদগুলোয় নতুন মুখ দেখা যাবে; তেমনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদেরও নতুন জায়গায় দেখা যেতে পারে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির পদসংখ্যা ১৯। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করায় মোট শূন্য পদ রয়েছে ৭টি। এর বাইরে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। রাজনীতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পুনর্গঠনে বেশ কিছু নেতার নাম নতুন মুখ হিসেবে বা পদ পূরণের জন্য আলোচনায় রয়েছে। এসব পদে রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এরপর ১০ বছরের বেশি সময় নানা কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করাসহ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।
নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের নেতারা।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “শুনছি বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছেন। এখনও কাকে প্রার্থী দেবেন আমরা বা জাতি জানতে পারি নাই। কারণ উনাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি। সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে, কর্নেল অলি সাহেব যোগ্য। উনি সবার সামনে জাতির সামনে এসেছেন।”
সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের বৈঠক আয়োজনের সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হল একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীতে রেকর্ড আমাদের জানা নাই। তো এই কাজটি উনারা করছেন, তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? ‘আমার দলের মত হলে গণতন্ত্র, নাইলে আমি স্বৈরতন্ত্র’।”
সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “পাঁচ মাস বা ছয় মাসের কার্যক্রম অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই, উনাদের মহাসচিব বলে দিয়েছেন। তো আমাদের আর নতুন করে বক্তব্য দেওয়ার দরকার নেই। ফখরুল সাহেব যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, মন্ত্রী, দলের মহাসচিব, এটা জাতি জেনে গেছে। তো বোঝা যাচ্ছে যে উনারা আসলে পরিবর্তন চান না বলেই পরিবর্তন হচ্ছে না।”
অলি আহমদকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের জোটের প্রার্থী জয়ী হতেন।”
রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক চলার মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি প্রার্থী হওয়ার সাথে সাথে বিএনপির মহাসচিব পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য থেকে পদত্যাগ করেছেন।”
মহাসচিবের দায়িত্বে কে আসছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তার কাছে দায়িত্ব দেওয়া আছে; তিনি যেটি যে প্রক্রিয়ায় যেভাবে হোক, তিনি সেটা মতামত নিয়ে জানাবেন। সেটি আপনারা পরে জানতে পারবেন। এখন শুধু দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার কথা আমরা জানালাম।”
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠকে বসেছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান। এর পরই বর্তমান দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এর আগে গত ১ অগাস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্বভার পেয়ে দলের চেয়ারম্যান এ কয়েকদিন ফোনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করা প্রার্থীর নাম জানাতে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেন। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে জমা দেওয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, এদিনই মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এবার বিরোধী জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী করছে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য। ২০ অগাস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলই তাতে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।
বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন বিএনপির
রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই বেছে নিল বিএনপি। আজ দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।
২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থিতা যাচাই–বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝের সময়ে সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।