অনেক কারণেই ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায় হয়ে উঠেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দলের অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে যৌথভাবে তিন আয়োজক দেশ ৩৯ দিনের এ টুর্নামেন্টকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো আসর করে তুলেছে। তবে কেবল জাঁকজমকই নয়, মাঠে দর্শকদের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য ও খেলোয়াড়দের জন্য খেলাকে আধুনিক করতে এবার প্রযুক্তির অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপে প্রযুক্তি নতুন চমকগুলো নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। সেখানে একটু নজর বুলানো যাক-
১. সেন্সরওয়ালা অফিশিয়াল বল
এ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রায়োন্ডা’। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ ‘তিন তরঙ্গ’। অ্যাডিডাসের তৈরি এ বলটির বিশেষত্ব হচ্ছে এ বলের ভেতরে বসানো হয়েছে নিখুঁত ও ক্ষুদ্র ‘ইনারশিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট’ বা আইএমইউ সেন্সর চিপ।
চিপটি বলের প্রতিটি নড়াচড়ার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তথ্য সরবরাহ করে। সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে, যা ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি অবস্থানে বলের গতি ও সূক্ষ্ম বিভিন্ন ঘূর্ণনকে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে।
এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, “প্রযুক্তিটি রিয়াল-টাইম বা লাইভে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর সিস্টেমে একদম সঠিক ডেটা পাঠাবে। ফলে অফসাইডের মতো জটিল বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।”
ফিফার ‘হেড অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস’ নিকোলাস এভান্স বলেছেন, সেন্সরটি জানাবে ‘থ্রিডি অবস্থানে বলটি ঠিক এই মুহূর্তে কী করছে’।
২. এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার
প্রযুক্তির ছোঁয়া কেবল ম্যাচ বলেই আটকে নেই, এর বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন খোদ খেলোয়াড়রাও। পার্সোনাল কম্পিউটার নির্মাণে বিশ্বে বৃহত্তম কোম্পানি ‘লেনোভো’র সঙ্গে ফিফার অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বছরের শুরুতে এআইচালিত বেশ কিছু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এসেছে, যার মধ্যে অন্যতম এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার।
এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রত্যেক খেলোয়াড়ের দেহ ডিজিটালি স্ক্যান করে নিখুঁত এক থ্রিডি মডেল বা অ্যাভাটার তৈরি হবে। প্রতিটি স্ক্যান সম্পন্ন করতে সময় লাগবে কেবল এক সেকেন্ডের মতো।
ফিফার ভাষ্য অনুসারে, এ স্ক্যান খেলোয়াড়দের দেহের প্রতিটি অংশের নিখুঁত পরিমাপ ধারণ করবে। ফলে মাঠে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলা বা অন্য খেলোয়াড়দের আড়ালে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তেও সিস্টেমটি খেলোয়াড়দের অবস্থান নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে পারবে।
জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা বলেছিল, “সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ এআইচালিত থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার এক যুগান্তকারী উন্নয়ন।
“ভিএআর সিস্টেমের মাধ্যমে নেওয়া অফসাইডের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক ও বিশ্বজুড়ে থাকা টেলিভিশন দর্শকদের সামনে আরও বাস্তবসম্মত উপায়ে দেখাতে এসব থ্রিডি মডেল ব্রডকাস্ট বা সরাসরি সম্প্রচারে যোগ হবে।”
বিশ্বের বড় বড় ফুটবল লিগগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের পর এবার বিশ্বকাপের সবকটি (১০৪টি) ম্যাচেই রেফারিদের দেহে বিশেষ ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দর্শকরা একদম মাঠের ভেতরে থাকা রেফারির চোখ দিয়ে খেলা দেখার মতো এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।
৩. রোবট কুকুর
বিশ্বকাপের সময় যে কোনো ধরনের অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মেক্সিকান পুলিশ এবার কুকুরের ওপর ভরসা রাখছে। তবে তা কোনো সাধারণ চারপেয় জীব নয়, বরং যান্ত্রিক বা রোবট কুকুর!
চার পায়ের এসব রোবটকে যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে তা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পাঠাবে এসব রোবট, যা দেখে মাঠের পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
মেক্সিকোর মন্তেরেই মেট্রো অঞ্চলের গুয়াদালুপে সিটি কাউন্সিল প্রায় ২৫ লাখ পেসো বা ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ব্যয়ে এসব অ্যানিম্যালয়েড বা প্রাণীর মতো দেখতে রোবট সংগ্রহ করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় মেয়র হেক্টর গার্সিয়া বলেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাঠে ‘যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে’ এগুলো মোতায়েন হবে।
“এসব রোবট কুকুরের মূল উদ্দেশ্য হল, প্রাথমিক হস্তক্ষেপে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তা ও মাঠকর্মীদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪. উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি
লাইন্সম্যানের দেরিতে অফসাইড ফ্ল্যাগ তোলার কারণে যারা বিরক্ত হন তাদের সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ফিফা এবার আরও উন্নত ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি’ চালু করেছে, যা মাঠের অফিশিয়ালদের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।
আগের সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিটি রিয়াল-টাইমে অফসাইড শনাক্তের জন্য ডিজাইন করা হলেও কোনো খেলোয়াড় কেবল ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইডে থাকলেই তা অফিশিয়ালদের সতর্ক করত।
তবে এর নতুন ও পরিমার্জিত সংস্করণে কেবল ১০ সেন্টিমিটার বা তার কাছাকাছি অফসাইড হলেও সিস্টেমটি সংকেত দেয়, যা ম্যাচ অফিশিয়ালদের আরও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।
এ ছাড়া, ভিএআর রুম থেকে যোগাযোগের অপেক্ষা না করে এবার মাঠের রেফারিরা সরাসরি তাদের ইয়ারপিস বা হেডফোনে রিয়াল-টাইম অডিও অ্যালার্ট পেয়ে যাবেন।
তবে এ প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রযুক্তিটি কেবল খেলোয়াড়ের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে অফসাইড ধরতে পারবে, কোনো সাবজেক্টিভ বা পরিস্থিতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
পাশাপাশি একদম কাছাকাছি থাকা সূক্ষ্মতম বিভিন্ন কলও আলাদা করতে পারবে না। কোনো খেলোয়াড় মাঠের খেলায় বাধা বা হস্তক্ষেপ করছিলেন কি না তা এ প্রযুক্তি বিচার করতে পারবে না। খেলোয়াড়রা মাটিতে পড়ে থাকলে বা একাধিক শরীর খুব কাছাকাছি ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকলেও প্রযুক্তিটি অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হতে পারে।
এরপরও ফিফার দাবি, নতুন প্রযুক্তি দর্শক ও খেলোয়াড়দের বিরক্তি কমানোর পাশাপাশি অফসাইড থাকার পরও অপ্রয়োজনে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের চোট বা ইনজুরির ঝুঁকিও অনেকখানি কমিয়ে আনছে।
৫. ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি
খেলোয়াড়দের দেহের সুস্থতা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ফিফা এবার বিশ্বকাপের প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের নির্ধারিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি চালু করেছে।
এর জন্য আবহাওয়া বা তাপমাত্রার কোনো বাধ্যবাধকতা বা শর্ত থাকবে না। প্রতি অর্দ্ধের মাঝামাঝি সময়ে বা ২২তম মিনিটের কাছাকাছি এই বিরতি দেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইউএসএ’র চিফ টুর্নামেন্ট অফিসার মানোলো জুবিবিয়া বলেছেন, “যে কোনো ম্যাচের জন্যই এটা প্রযোজ্য। খেলা যেখানেই হোক না কেন, স্টেডিয়ামে ছাদ থাকুক বা না থাকুক বা তাপমাত্রা যেমনই হোক উভয় অর্ধে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক থাকবে। রেফারির বাঁশি বাজার পর থেকে আবার খেলা শুরু হওয়া পর্যন্ত পুরো তিন মিনিট সময় দেওয়া হবে।
“অবশ্যই, যদি ২০ বা ২১তম মিনিটে মাঠে কোনো খেলোয়াড় চোট পান ও তার চিকিৎসা চলতে থাকে তবে রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই অনুসোর বিরতির সময় সমন্বয় করবেন।”
তবে পানি পানের বিরতি বা হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে খুব।
ছবি : সংগৃহীত
প্রতি বছরই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নতুন নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনে। নতুন মডেলে থাকে আকর্ষণীয় ডিজাইন, আগের চেয়ে ভালো ক্যামেরা, প্রসেসর বা অন্য কিছু ফিচার। এসব দেখে অনেকেরই মনে হয়, পুরোনো ফোনটি বদলে নতুন একটি ফোন কেনা দরকার। কিন্তু আপনার বর্তমান ফোনটি যদি ঠিকঠাক কাজ করে, তাহলে প্রতি বছর, এমনকি দুই বছর পরপরও ফোন বদলানোর প্রয়োজন নেই।
সঠিকভাবে যত্ন নিলে একটি স্মার্টফোন অনেক বছর ব্যবহার করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কমবে ইলেকট্রনিক বর্জ্যও। তাই বারবার নতুন ফোন কেনার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে নিচের ছয়টি বিষয়ে গুরুত্ব দিন।
১. ব্যাটারির স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন
ফোনের আয়ু বাড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ব্যাটারির যত্ন নেয়া। এর জন্য মূলত দুটি বিষয়ে নজর দিতে হবে; অতিরিক্ত তাপমাত্রা এড়িয়ে চলা এবং সঠিকভাবে ফোন চার্জ করা।
অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাংয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, ফোন ব্যবহারের জন্য প্রায় ৬২ থেকে ৭২ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা উপযোগী। ৩২ ডিগ্রির নিচে বা ৯৫ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা ব্যাটারির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
শুধু তাপমাত্রাই নয়, চার্জ দেয়ার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফোনের ব্যাটারি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ না করাই ভালো। ব্যাটারির আয়ু অনেকটাই নির্ভর করে এটি কতবার চার্জিং সাইকেলের মধ্য দিয়ে যায় তার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভব হলে ব্যাটারির চার্জ প্রায় ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা ভালো। তবে প্রতিবার নিজে হাতে চার্জার খুলে নেয়ার প্রয়োজন নেই। আধুনিক অনেক ফোনেই এমন ফিচার রয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করলে স্বাভাবিকভাবেই ফোনের ব্যাটারি তুলনামূলক দ্রুত শেষ হবে। ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ চালাতে ডার্ক মোড, অটো বা অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস এবং কম স্ক্রিন টাইমআউট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে জিপিএস-নির্ভর অ্যাপও কম ব্যবহার করা ভালো। ব্যাটারি দ্রুত শেষ হলে লো পাওয়ার মোড ব্যবহার করাও কার্যকর।
২. ফোনকে বাহ্যিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখুন
আধুনিক বেশিরভাগ স্মার্টফোনই আগের তুলনায় পানি ও ধুলার বিরুদ্ধে বেশি সুরক্ষিত। স্ক্রিনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। তারপরও দুর্ঘটনা এড়াতে একটি ভালো কভার ও স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করা উচিত।
এগুলো ফোনকে পড়ে গিয়ে স্ক্রিন ভেঙে যাওয়া, আঁচড় পড়া কিংবা ফাটল তৈরি হওয়া থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারে। আর ফোনটি ভালো অবস্থায় থাকলে ভবিষ্যতে সেটি বিক্রি বা ট্রেড-ইন করার সময়ও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩. ফোন নিয়মিত পরিষ্কার করুন
শুধু স্ক্রিন পরিষ্কার রাখলেই হবে না। ফোনের চার্জিং পোর্ট এবং স্পিকার গ্রিলেও ধুলা ও ময়লা জমতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এসব জায়গায় ময়লা জমে থাকলে চার্জিংয়ে সমস্যা হতে পারে। ফোন পরিষ্কার করার সময় একটি মাইক্রোফাইবার কাপড়, অল্প ডিশ সোপ, কাঠের টুথপিক এবং ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল বা উপযুক্ত জীবাণুনাশক ওয়াইপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার করার সময় ফোনের পোর্টে অতিরিক্ত তরল ঢোকানো বা ধাতব কোনো বস্তু দিয়ে খোঁচানো উচিত নয়।
৪. সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন
পুরোনো ফোনকে নতুনের মতো অনুভব করানোর অন্যতম সহজ উপায় হলো সফটওয়্যার আপডেট রাখা। নতুন অপারেটিং সিস্টেমে অনেক সময় নতুন ফিচার যুক্ত হয়, ফলে পুরোনো ফোনেও নতুন মডেলের কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপত্তা।
নতুন সফটওয়্যার ও প্রাইভেসি আপডেট সাধারণত কমন প্রাইভেসি দুর্বলতা দূর করে। কোনো ফোন আর প্রাইভেসি আপডেট না পেলে সেটি নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই কারণে পুরোনো ফোনে অনেক অ্যাপের নতুন ও নিরাপদ সংস্করণও পাওয়া যায় না। তাই ফোনে নতুন সফটওয়্যার বা সিকিউরিটি আপডেট এলে সম্ভব হলে দ্রুত ইনস্টল করা উচিত।
৫. ফোনের স্টোরেজ খালি রাখুন
ফোনের স্টোরেজ পুরোপুরি ভর্তি হয়ে গেলে এর কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ছবি, ভিডিও, গান, গেম এবং মেসেজে থাকা বিভিন্ন ফাইল ধীরে ধীরে স্টোরেজ দখল করে। বিশেষ করে বড় গেমগুলো বিপুল পরিমাণ জায়গা নিতে পারে। যেমন, কল অব ডিউটি’র মতো একটি গেমের ফাইলের আকার ১২ জিবি পর্যন্ত হতে পারে এবং অতিরিক্ত ম্যাপ ও রিসোর্স যোগ করলে সেটি আরও বড় হতে পারে।
তাই নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলুন; পুরোনো ডাউনলোড সরিয়ে ফেলুন; ব্যবহার করেন না এমন অ্যাপ ও গেম আনইনস্টল করুন; বড় ফাইল ক্লাউড স্টোরেজে সরিয়ে রাখুন এবং মেসেজে থাকা অপ্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলুন।
ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের জন্য আইক্লাউড বা গুগল ড্রাইভের মতো ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করা যেতে পারে। স্পটিফাই বা অ্যাপল মিউজিকের মতো স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার করলে ফোনে বিপুল পরিমাণ গানও জমিয়ে রাখতে হয় না। মাঝেমধ্যে ক্যামেরা রোলও গুছিয়ে নেয়া ভালো। একই ছবির একাধিক কপি, ঝাপসা ছবি বা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট মুছে ফেললে অনেক স্টোরেজ খালি করা যায়।
৬. নতুন ফোন কেনার আগে পুরোনো ফোনটি মেরামত করুন
ফোনের কোনো একটি অংশ নষ্ট হলেই পুরো ফোন বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত বা প্রতিস্থাপন করলেই ফোন আরও কয়েক বছর ব্যবহার করা সম্ভব। পুরোনো ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে গেলে নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে ব্যাটারি পরিবর্তন করাও একটি বিকল্প।
ছবি : সংগৃহীত
স্মার্টফোন এখন দিনের বড় একটা সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে। ফোন ব্যবহার না করার সময় কখনো টেবিলে, কখনো বিছানায়, আবার কখনো ডেস্কের ওপর রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু ফোনটি কোন দিক করে রাখা হচ্ছে, সেদিকে খুব কম মানুষই নজর দেন। বিশেষ করে ক্যামেরা মডিউল বাইরে বেরিয়ে থাকা ফোনের ক্ষেত্রে ভুলভাবে রাখার কারণে ক্যামেরার গ্লাসে আঁচড় পড়তে পারে। তাই ফোন ব্যবহারের পাশাপাশি সেটি রাখার অভ্যাসের দিকেও একটু নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ক্যামেরা নিচে রেখে ফোন রাখলে কী সমস্যা?
বর্তমান সময়ের অনেক স্মার্টফোনে একাধিক ক্যামেরা ও সেন্সর নিয়ে তৈরি মডিউল ফোনের পেছনের অংশ থেকে কিছুটা উঁচু হয়ে থাকে। ফলে ফোনটি ক্যামেরার দিক নিচে রেখে কোনো শক্ত জায়গায় রাখলে মডিউলের একটি অংশ সরাসরি সেই পৃষ্ঠের সংস্পর্শে আসতে পারে।
টেবিল বা ডেস্ক দেখতে পরিষ্কার হলেও সেখানে থাকা অতিক্ষুদ্র ধুলোকণা কিংবা বালুকণার মতো কণা ক্যামেরা গ্লাসের সঙ্গে ঘষা খেতে পারে। বারবার এমন হলে সূক্ষ্ম দাগ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অবশ্য একবার ক্যামেরা নিচে করে ফোন রাখলেই সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা নষ্ট হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। তবে দীর্ঘদিন একইভাবে রাখলে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্ক্রিন উপরে রাখাই তুলনামূলক নিরাপদ
ফোন কিছুক্ষণের জন্য টেবিল বা অন্য কোনো সমতল জায়গায় রাখার ক্ষেত্রে স্ক্রিন উপরের দিকে রাখলে ক্যামেরা মডিউল সরাসরি পৃষ্ঠের সঙ্গে ঘষা খায় না। ফলে ক্যামেরা গ্লাসে আঁচড় পড়ার আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে ফোনের স্ক্রিন নিয়ে যাদের দুশ্চিন্তা রয়েছে, তারা ভালো মানের স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করতে পারেন। একই সঙ্গে ফোন রাখার জায়গাটিও পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ ধুলো বা শক্ত কোনো কণা ফোনের যে অংশই হোক, তার সঙ্গে বারবার ঘর্ষণ তৈরি করলে ক্ষতি হতে পারে।
নোটিফিকেশন এড়াতে অনেকে স্ক্রিন নিচে রাখেন
অনেক ব্যবহারকারী ফোনের স্ক্রিন উল্টে রাখেন যাতে বারবার নোটিফিকেশন দেখে মনোযোগ নষ্ট না হয়। এই অভ্যাসের সুবিধা থাকলেও ক্যামেরা মডিউল যদি ফোনের পেছন থেকে বেশি উঁচু হয়ে থাকে, তাহলে সরাসরি শক্ত পৃষ্ঠের ওপর রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। এক্ষেত্রে এমন ফোন কভার ব্যবহার করা যেতে পারে, যার ক্যামেরা অংশের চারপাশে সামান্য উঁচু বর্ডার রয়েছে। এতে ফোনটি স্ক্রিন নিচে করে রাখলেও ক্যামেরা গ্লাস সরাসরি টেবিলের সঙ্গে ঠেকে থাকার সম্ভাবনা কমে।
শুধু ফোনের দিক নয়, জায়গাটাও গুরুত্বপূর্ণ
ফোন কীভাবে রাখা হচ্ছে, তার পাশাপাশি কোথায় রাখা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ধুলোময়, বালিযুক্ত বা খসখসে জায়গায় ফোন রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে ক্যামেরা মডিউল পরিষ্কার করার সময় শক্ত কাপড় বা কোনো ধারালো বস্তু ব্যবহার না করে নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা উচিত।
সব মিলিয়ে, ফোন টেবিলে রাখার ক্ষেত্রে স্ক্রিন ওপরে রাখা ক্যামেরা মডিউলের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ অভ্যাস। আর স্ক্রিন নিচে রাখার প্রয়োজন হলে ক্যামেরা সুরক্ষিত রাখে এমন কভার ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ছবি : সংগৃহীত
সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের বিজ্ঞানীরা নতুন এক গবেষণায় শনি গ্রহের বরফাবৃত উপগ্রহ এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরে অতি ক্ষুদ্র জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং ভবিষ্যতে ভিনগ্রহের অনুসন্ধানকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এ গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে শনি গ্রহের বরফাবৃত উপগ্রহ এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করেন। এরপর সমুদ্রের তলদেশের হাইড্রোথার্মাল ভেন্টে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া নিয়ে পরীক্ষা করেন তারা।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াগুলো অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে এবং হাইড্রোজেন ও কার্বন ডাই–অক্সাইড ব্যবহার করে তাদের বিপাক ক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো শনি গ্রহের অত্যন্ত কঠিন পরিবেশেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালোভাবে টিকে রয়েছে।
ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের বিজ্ঞানী নোজাইর খাওয়াজা জানান, এই ফলাফল অবাক করার মতো। ৫০০ কিলোমিটার ব্যাসবিশিষ্ট এনসেলাডাসের উপরিভাগের তাপমাত্রা মাইনাস ২০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। তা সত্ত্বেও এর পাথুরে কেন্দ্রের ভূতাপীয় প্রক্রিয়ার কারণে বরফের নিচে বিশাল তরল জলের মহাসাগর রয়েছে।
শনি গ্রহের বরফাবৃত উপগ্রহ এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরুতে ফাটল রয়েছে। সেই ফাটল দিয়ে ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের পানি এবং বরফের কণা শত শত মাইল উঁচুতে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান অতীতে এই বরফের কণাগুলোর মধ্য দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করেছিল।
এ বিষয়ে বিজ্ঞানী ফ্রাংক পোস্টবার্গ জানিয়েছেন, প্রাচীন পৃথিবীতেও কোনো অক্সিজেন ছিল না এবং এই জীবাণুগুলো সেই পরিবেশেই বিবর্তিত হয়েছে। যদিও এনসেলাডাসে আসলেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, এখনো তা নিশ্চিত নয়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করে সেখানে প্রাণের টিকে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।
গ্রাহক সেবা ও বিক্রয় সহায়তার অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবসম্মত করতে এআই মডেলে রিয়াল-টাইম ভিজুয়াল অ্যাভাটার যোগ করেছে গুগল, যা কথা বলার পাশাপাশি মুখের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলবে বলে দাবি নির্মাতার। গেল সপ্তাহে নিজেদের সবচেয়ে উন্নত লাইভ ডায়লগ মডেল হিসেবে ‘জেমিনাই ৩.৮ লাইভ’ ও ‘লাইভ এক্সটেন্ডেড থিংকিং’ মডেল উন্মোচন করেছে গুগল।
কোম্পানিটি বলেছে, এর মূল উদ্দেশ্য ‘ডেভেলপার ও এন্টারপ্রাইজগুলোকে নির্ভরযোগ্য ও উৎপাদনমুখী ভয়েস এজেন্ট তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করা’।
পাশাপাশি, জেমিনাইয়ের সঙ্গে কথা বলার প্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিক করেছে গুগল, যাতে ব্যবহারকারীরা ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমেই জটিল বিভিন্ন কাজ সহজে করতে পারেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এবার এ প্রযুক্তিটির সঙ্গে ভিডিও যোগ করে গুগল এনেছে ‘জেমিনাই ৩.৮ লাইভ উইথ লাইভ অ্যাভাটার’, যা লাইভ ডায়লগ মডেলগুলোর সঙ্গে প্রায় রিয়াল-টাইম ভিজুয়াল উপস্থিতি যোগ করেছে।
প্রযুক্তিটি ‘এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করে, যা গতিশীল ভিজুয়াল পার্সোনার মাধ্যমে শোনে, দেখে ও কথা বলে’।
সহজভাবে বললে, এসব অ্যাভাটার সেলস সাপোর্ট ও কাস্টমার সার্ভিসের মতো কাজ করার জন্য তৈরি হয়েছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতেও হয়ত ব্যবহারকারীদের এগুলোর সঙ্গে আলাপ করতে হতে পারে।
ব্লগে প্রকাশ পাওয়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে গুগল বাস্তবসম্মত ও কার্টুনধর্মী উভয় ধরনের অ্যাভাটারই দেখিয়েছে। এগুলো নিখুঁত লিপ-সিঙ্কিং, স্বাভাবিক অভিব্যক্তি ও ‘সাবলীলভাবে কথা বলার’ মতো কাজ করতে পারে।
গুগল বলেছে, এসব অ্যাভাটার ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক ও মাল্টিমোডাল আলাপ আরও সহজ হবে। কারণ এগুলো দেখার, শোনার ও কথা বলার পাশাপাশি মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে পারবে।
জেমিনাইর উন্নত রিজনিং বা যুক্তি দেখানোর সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এসব অ্যাভাটার তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে লাইভ অ্যভাটারগুলো চলমান আলাপ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে টুল কল ট্রিগার ও ডেটা সংগ্রহ করতে পারে।
গুগল বিভিন্ন ধরনের ‘প্রিসেট অ্যাভাটারের’ বড় লাইব্রেরি অফার করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি চাইলে তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড স্টাইলিং বা চরিত্রের পরিচয় ধরে রাখতে উচ্চমানের রেফারেন্স ছবি ব্যবহার করে নিজেদের পছন্দমতো অ্যাভাটার কাস্টমাইজ করে নিতে পারবে।
কোম্পানিটি বলেছে, এসব সুবিধা কেবল এন্টারপ্রাইজ অ্যালাওলিস্টিংয়ের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। লাইভ অ্যাভাটারগুলো ‘পরিচয়কে সম্মান জানাতে ও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট স্বচ্ছ রাখতে কঠোর সুরক্ষাব্যবস্থার’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং প্রতিটিতে গুগলের ‘সিন্থআইডি’ ওয়াটারমার্ক ব্যবহৃত হয়েছে।
লাইভ অ্যাভাটারটি বিশেষভাবে গুগলের জেমিনাই এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য ডিজাইন করা হলেও খুব শিগগিরই ব্যবহারকারীরা নিজেদের কম্পিউটার বা ফোনের স্ক্রিনে কাস্টমার সার্ভিস বা সেলস অ্যাভাটার হিসেবে এর কার্যকারিতা দেখতে পাবেন।
এ পর্যন্ত গুগল যা দেখিয়েছে ও এআই দিয়ে তৈরি অপ্রয়োজনীয় কনটেন্টের প্রতি মানুষের অনীহা বিবেচনা করলে এগুলো হয়ত সবার কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় নাও হতে পারে।
নতুন সিম
নতুন সিম কেনার প্রয়োজন হতে পারে নানা কারণে নতুন নম্বর নেওয়া, ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য আলাদা সংযোগ রাখা কিংবা পুরোনো সিমের সমস্যা।
তবে নতুন সিম কেনার সময় শুধু পছন্দের নম্বর বা সস্তা ইন্টারনেট প্যাক দেখলেই হবে না। নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই, অপারেটরের নেটওয়ার্ক এবং ব্যবহারের প্রয়োজন সবকিছু বিবেচনা করে সিম কেনা উচিত।
নিজের নামে সিম নিবন্ধন করুন
নতুন সিম কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেটি নিজের পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করা।
অন্য কারো নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করা ভবিষ্যতে নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সিম কেনার সময় নিবন্ধনের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
সিম কেনার পর সেটি সত্যিই আপনার নামে নিবন্ধিত হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া ভালো। আপনার পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কোনো নম্বর নিবন্ধিত আছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত খোঁজ রাখা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কিনুন
রাস্তায় বা অনলাইনে অচেনা ব্যক্তির কাছ থেকে সিম কেনার বদলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের অনুমোদিত কাস্টমার কেয়ার বা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সিম নেওয়া নিরাপদ। এতে পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
সিম কেনার সময় অযথা নিজের এনআইডির ছবি, আঙুলের ছাপ বা ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না। প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের বাইরে কেউ অতিরিক্ত তথ্য চাইলে সতর্ক থাকুন।
আপনার এলাকায় কোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ভালো?
নতুন সিম কেনার আগে শুধু অফার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আপনি যেখানে বেশি সময় থাকেন বাড়ি, অফিস কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেখানে কোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ভালো, তা আগে জেনে নিন।
কোনো অপারেটরের নেটওয়ার্ক আপনার এলাকায় দুর্বল হলে সস্তা ডাটা প্যাক থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসবে না। প্রয়োজনে পরিবারের সদস্য বা পরিচিতদের অভিজ্ঞতা জেনে নিতে পারেন।
কল বেশি, নাকি ইন্টারনেট?
সিম কেনার আগে নিজের ব্যবহারের ধরন বুঝে নিন। নিয়মিত কল করলে ভয়েস কলের সুবিধা ও সংশ্লিষ্ট প্যাকেজ দেখুন। আর ইন্টারনেটই যদি প্রধান প্রয়োজন হয়, তাহলে ডাটা প্যাকের মেয়াদ, পরিমাণ এবং দাম তুলনা করুন।
শুধু বড় ডাটা অফার দেখবেন না। প্যাকটির মেয়াদ কতদিন, নির্দিষ্ট অ্যাপের জন্য ডাটা কি না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী হবে এসব শর্তও দেখে নিন।
নম্বরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট যুক্ত করবেন?
নতুন নম্বরটি যদি ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করতে চান, তাহলে নম্বরটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরিকল্পনা করুন। কারণ ভবিষ্যতে সিম হারানো বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে এসব অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সিম কেনার পরও সতর্ক থাকুন
নতুন সিম হাতে পাওয়ার পর সেটি সক্রিয় হয়েছে কি না এবং নিবন্ধনের তথ্য ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন। সিম হারিয়ে গেলে দ্রুত অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেটি বন্ধ বা রিপ্লেস করার ব্যবস্থা করুন।
সবশেষে মনে রাখুন, নতুন সিম কেনা শুধু একটি নম্বর নেওয়ার বিষয় নয়। নিজের নামে সঠিক নিবন্ধন, নিরাপদ বিক্রয়কেন্দ্র, ভালো নেটওয়ার্ক, উপযুক্ত প্যাকেজ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা এই কয়েকটি বিষয় যাচাই করেই সিম কিনলে পরে ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে।
ছবি : সংগৃহীত
জিমেইল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই স্তরের নিরাপত্তা–সুবিধা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) ব্যবহার করেন অনেকেই। এ প্রক্রিয়ায় ই-মেইলে আসা ভেরিফিকেশন কোড বা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করছে গুগল। ‘কপি কোড’ নামের এ সুবিধার মাধ্যমে ই-মেইল না খুলেই জিমেইলের ইনবক্স থেকে সরাসরি যাচাই কোড কপি করা যাবে।
নতুন সুবিধাটি জিমেইলের অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপে পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে জিমেইলের অ্যান্ড্রয়েড ২০২৬.০৯.০৭.এক্স এবং আইওএস ৬.০.২৬০৯০৭ সংস্করণে সুবিধাটি যুক্ত করা হয়েছে। ‘কপি কোড’ সুবিধা চালু হলে ইনবক্সে ভেরিফিকেশন কোড–সংবলিত কোনো ই-মেইল এলে তার প্রিভিউ অপশনের পাশে ‘কপি কোড’ নামে একটি নতুন বাটন দেখা যাবে। সেখানে ট্যাপ করলেই ভেরিফিকেশন কোডটি ফোনের ক্লিপবোর্ডে কপি হয়ে যাবে।
এরপর নির্দিষ্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে কোডটি সরাসরি পেস্ট করা যাবে। ফলে যাচাই কোড দেখার জন্য প্রতিবার ই-মেইল খুলে বার্তাটি পড়ার প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ই-মেইলে ওটিপি এলে ব্যবহারকারীকে প্রথমে ই-মেইল খুলে বার্তাটি পড়তে হয়। এরপর কোডটি কপি করে নির্দিষ্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পেস্ট করতে হয়। নতুন সুবিধা চালু হলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত করা যাবে।
অ্যান্ড্রয়েডের গুগল মেসেজেসে আগে থেকেই একই ধরনের সুবিধা রয়েছে। এসএমএসে যাচাই কোড এলে নোটিফিকেশন থেকেই সেটি কপি করা যায়। এবার ই-মেইলে আসা ভেরিফিকেশন কোডের ক্ষেত্রেও জিমেইল একই ধরনের দ্রুত কপি করার সুবিধা দিচ্ছে।