ভোটার আইডি কার্ড
বর্তমান সময়ের অনেকেই আছেন যারা নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি।
তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জরুরি হয়ে পড়ে। ফলে বিপাকে পড়তে হয়। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে এনআইডি তোলার দরকার হয়।
জরুরি সময় কার্যালয়ে যাওয়া ছাড়া বাসা-বাড়িতে বসেই এনআইডি কার্ডের কপি ডাউনলোড করার সুযোগ রয়েছে। নতুন ভোটাররা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবার মাধ্যমে সহজেই তাদের এনআইডির ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। আর সেই কপি দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম নিবন্ধন, চাকরির আবেদন, বিদ্যুৎ বিল, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন অতীব জরুরি কাজ সম্পন্ন করা যাবে।
যেসব নথি আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে:
অনলাইনের মাধ্যমে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য কয়েকটি নথি ও তথ্য আগে থেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন-
১. ভোটার নিবন্ধনের সময় দেয়া ফরম নম্বর (NIDFN) বা ১৭ সংখ্যার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর,
২. জন্মতারিখ,
৩. একটি সচল ফোন নম্বর,
৪. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য,
৫. ফেস ভেরিফিকেশনের জন্য অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন ডিভাইস,
৬. এনআইডি ওয়ালেট (NID Wallet) অ্যাপ।
এনআইডি কার্ড অনলাইনে ডাউনলোড করার উপায়:
এ জন্য প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবার ওয়েবসাইটে যেতে হবে। তারপর রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করুন। এবার কাছে থাকা ফরম নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ লিখে ক্যাপচা পূরণ করুন। পরবর্তী ধাপে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য নির্বাচন করুন।
এখন সঙ্গে থাকা সচল ফোন নম্বরে একটি ওটিপি বা এককালীন পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে। ওটিপি সাবমিট করে ফোন নম্বর যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করুন। তারপর স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড দেখা যাবে। এবার ফোনে এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ খুলে ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী মুখের ছবি মিলিয়ে ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে নিন।
এবার ফেস ভেরিফিকেশন সফলভাবে সম্পন্ন হলে একটি পাসওয়ার্ড সেট করে নিন। তারপর ওই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এনআইডি পোর্টালে লগইন করুন। তারপর নিজের প্রোফাইলে প্রবেশ করুন। সেখানে ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করলে জাতীয় পরিচয়পত্রের পিডিএফ কপি ডাউনলোড হবে। এটি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সফট কপি বা প্রিন্ট করে সংরক্ষণে রাখুন।
ডাউনলোড করতে সমস্যা হলে করণীয়:
কখনো কখনো নতুন ভোটারদের তথ্য সার্ভারে হালনাগাদ হতে সময়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে এনআইডি সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোড করা নাও যেতে পারে। তাই কয়েকদিন পর পুনরায় চেষ্টা করুন।
এছাড়া ফেস ভেরিফিকেশন যদি বারবার ব্যর্থ হয়, তাহলে অবস্থান বা জায়গা পরিবর্তন করে যথেষ্ট আলোযুক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে আবার চেষ্টা করেন। ফোনের ক্যামেরা পরিস্কার কি না, সেটি নিশ্চিত হতে হবে। ফোনে ওটিপি না এলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফের চেষ্টা করুন। এরপরও যদি কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করুন।
যা জানা প্রয়োজন:
অনলাইনে এনআইডি ডাউনলোডের সুবিধা মূলত নতুন ভোটারদের জন্য বেশি কার্যকর। কিন্তু আগে থেকেই যাদের এনআইডি রয়েছে, তারাও নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট থাকলে প্রয়োজনে অনলাইনে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারেন। কার্ড হারিয়ে গেলে বা কোনো তথ্য সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
বর্ষাকালে বাইরে ঝুম বৃষ্টি নামলেই অনেক সময় হঠাৎ ধীর হয়ে যায় ওয়াই-ফাই। ভিডিও বাফারিং, ওয়েবসাইট খুলতে দেরি কিংবা অনলাইন মিটিংয়ে বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সবসময় বৃষ্টিই যে সরাসরি ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমিয়ে দেয়, তা নয়। দুর্বল সিগন্যাল, রাউটারের অবস্থান, বিদ্যুতের ওঠানামা কিংবা ইন্টারনেট সেবাদাতার নেটওয়ার্কে সমস্যা থেকেও এমনটা হতে পারে। বৃষ্টির দিনে ওয়াই-ফাই ধীর হলে কয়েকটি সহজ উপায়ে সমস্যা কিছুটা কমানো সম্ভব।
রাউটার রিস্টার্ট করুন
ইন্টারনেট ধীর মনে হলে প্রথমেই রাউটারটি বন্ধ করে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট অপেক্ষা করে আবার চালু করুন। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ চালু থাকার কারণে রাউটারের ক্যাশ বা সংযোগে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। রিস্টার্ট করলে নতুন করে নেটওয়ার্ক সংযোগ তৈরি হতে পারে।
রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করুন
রাউটার যদি দেয়ালের আড়ালে, আলমারির ভেতরে বা মেঝেতে রাখা থাকে, তাহলে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। রাউটারটি ঘরের তুলনামূলক মাঝামাঝি এবং খোলা জায়গায় রাখুন। রাউটারের আশপাশে ধাতব জিনিস, বড় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোটা দেয়াল থাকলেও সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
৫ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন
আধুনিক রাউটারে সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে। রাউটারের কাছাকাছি থাকলে ৫ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে তুলনামূলক দ্রুত গতি পাওয়া যায় এবং আশপাশের অনেক ডিভাইসের হস্তক্ষেপও কম হতে পারে। তবে দূরত্ব বেশি হলে ২.৪ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্ক অনেক ক্ষেত্রে ভালো কভারেজ দিতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস বিচ্ছিন্ন করুন
একই সময়ে অনেক ফোন, স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিভাইস ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত থাকলে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়। তাই বৃষ্টির দিনে জরুরি কাজ করার সময় অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বড় ডাউনলোড বা সফটওয়্যার আপডেটও বন্ধ রাখতে পারেন।
রাউটারের পাওয়ার সংযোগ পরীক্ষা করুন
বৃষ্টির সময় বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করলে রাউটারেও সমস্যা হতে পারে। রাউটার বারবার রিস্টার্ট হলে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পাওয়ার অ্যাডাপ্টার ও সকেট পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে ভালো মানের সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইন্টারনেট সেবাদাতার সমস্যা কি না দেখুন
সবকিছু ঠিক থাকার পরও গতি কম থাকলে সমস্যাটি আপনার রাউটারে নাও হতে পারে। ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ের কারণে ইন্টারনেট সেবাদাতার লাইন, ফাইবার নেটওয়ার্ক বা স্থানীয় অবকাঠামোয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সংযোগ ব্যবহার করা অন্যদেরও যদি একই সমস্যা হয়, তাহলে আইএসপির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করাই ভালো।
তবে মনে রাখবেন, সাধারণ বৃষ্টি সরাসরি ওয়াই-ফাই সিগন্যালকে সবসময় দুর্বল করে না। বরং বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ সমস্যা, নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ক্ষতি বা আইএসপির সংযোগে বিঘ্ন যুক্ত হলে ইন্টারনেট ধীর হতে পারে। তাই কারণটি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলেই বৃষ্টির দিনেও ইন্টারনেটের গতি অনেকটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
লোডশেডিং এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বড় ভোগান্তির কারণ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ ছাড়া শুধু ঘরের আলো, ফ্যান বা ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা হয় তা নয়, সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তৈরি হয় স্মার্টফোনের চার্জ নিয়ে।
জরুরি যোগাযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ফোন সচল রাখা প্রয়োজন। তাই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সময় কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে স্মার্টফোনের ব্যাটারি অনেকটা সময় ধরে রাখা সম্ভব।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ডিসপ্লে। লোডশেডিংয়ের সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উজ্জ্বলতা ব্যবহার না করাই ভালো। ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন এবং সম্ভব হলে ‘অটো ব্রাইটনেস’ চালু করুন। একই সঙ্গে স্ক্রিনের ‘স্ক্রিন টাইমআউট’ কমিয়ে দিলে ফোন অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় জ্বলে থাকবে না।
ব্যাটারি সেভিং মোড চালু করুন
চার্জ দ্রুত কমে আসতে থাকলে ফোনের ‘ব্যাটারি সেভার’ বা ‘পাওয়ার সেভিং মোড’ চালু করুন। এই ফিচার ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা কিছু অ্যাপের কার্যক্রম, প্রসেসরের গতি ও অন্যান্য ব্যাটারি খরচ কমিয়ে দেয়। ফলে কম চার্জে ফোন তুলনামূলক বেশি সময় ব্যবহার করা যায়।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখুন
ফোনের অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা সিঙ্ক, লোকেশন বা নোটিফিকেশনের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। লোডশেডিংয়ের সময় যেসব অ্যাপ প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করুন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও স্ট্রিমিং ও গেমিং অ্যাপ বেশি ব্যাটারি খরচ করতে পারে।
মোবাইল ডাটা ও ৫জি ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় স্মার্টফোনকে বারবার নেটওয়ার্ক খুঁজতে হয়। এতে ব্যাটারি দ্রুত কমে যেতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে মোবাইল ডাটা, ৫জি, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও লোকেশন বন্ধ রাখুন। তবে জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু রাখাই স্বাভাবিক।
ভিডিও দেখা ও গেম খেলা এড়িয়ে চলুন
লোডশেডিংয়ের সময় বিনোদনের জন্য ফোনে ভিডিও দেখা বা গেম খেলার প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু এসব কাজ ডিসপ্লে, প্রসেসর ও ইন্টারনেট তিনটিই বেশি ব্যবহার করে। ফলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। চার্জ কম থাকলে বিনোদনের বদলে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের জন্য ফোন সংরক্ষণ করাই ভালো।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
বারবার নোটিফিকেশন এলে ফোনের স্ক্রিন জ্বলে ওঠে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন কাজ সক্রিয় হয়। তাই যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশন জরুরি নয়, সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে সামান্য হলেও ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।
চার্জ দেওয়ার সুযোগ পেলেই কিছুটা চার্জ করে নিন
লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ আসার পর ফোনের চার্জ একেবারে শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে সুযোগমতো চার্জ করে নিন। সম্ভব হলে পাওয়ার ব্যাংকও প্রস্তুত রাখুন। তবে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের আগে সেটিতেও পর্যাপ্ত চার্জ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ফোন অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না
অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং চার্জ দ্রুত কমতে পারে। লোডশেডিংয়ের সময় ফোন চার্জে দিয়ে ভারী গেম খেলা, দীর্ঘক্ষণ ভিডিও দেখা বা রোদে ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হয়ে গেলে সেটিকে ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
মহাকাশে ধান চাষে সফল
কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মহাকাশের কক্ষপথে ধান চাষ করে সফল হয়েছেন চীনের নভোচারীরা। দেশটির নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে পৃথিবীর ওপর খাদ্যের নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে মানববসতি স্থাপনের গবেষণায় এই অর্জনকে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৪ মে উৎক্ষেপণ করা শেনঝৌ-২৩ মিশনের মাধ্যমে ধানের বীজ তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যার পর নভোচারী জু ইয়াংঝু, ঝাং ঝিয়ুয়ান এবং লাই কা-ইং প্রথম ধাপের ধানের নমুনা সংগ্রহ বা ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকাশ করা ভিডিওতে নভোচারীদের ধান সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য তা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।
এর আগে ২০২২ সালে তিয়ানগং স্টেশনে ১২০ দিনে সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করে ধান উৎপাদনে সফল হয়েছিল চীন। সে সময় উৎপাদিত ৫৯টি স্পেস সিড পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
তবে নতুন এই গবেষণায় মহাকাশে পরপর দুই প্রজন্মের ধান চাষ করার উপায় খুঁজছেন নভোচারীরা। মহাকাশের পরিবেশে ধানের একাধিক প্রজন্ম বড় হলে সেগুলো প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না, তা জানতে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও করছেন তাঁরা।
ছবি : সংগৃহীত
মহাজাগতিক বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মুখোমুখি হবে পৃথিবী। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় আসায় চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো মুহূর্তের জন্য বদলে যাবে গাঢ় অন্ধকারে। মহাজাগতিক এ দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন এবং পর্তুগালের ছোট একটি অংশ থেকে। এ ছাড়া ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকা ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন স্থান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথ উত্তর আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপের দিকে বিস্তৃত হয়েছে।
স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাসের দৃশ্য দেখা যাবে। ফলে সেখানে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সূর্যাস্তের এক বিরল দৃশ্যও উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মানুষের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যে অনেকে গ্রহণের পথের কাছাকাছি এলাকায় জড়ো হয়েছেন। তবে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে মেঘলা আকাশ বা বৃষ্টি হলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পূর্ণগ্রাসের মুহূর্তটি সরাসরি দেখার সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ থেকে এ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণটি শুরু হবে। স্থায়ীত্বকাল হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
নাসার তথ্যমতে, পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব স্থানভেদে ভিন্ন হবে। গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি এলাকায় এটি দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণগ্রাসও আড়াই মিনিটের কম থাকবে।
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। চাঁদের ছায়ার যে অংশে সূর্যের পুরো মুখ ঢেকে যায়, সেখান থেকেই দেখা যায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকায় দেখা গিয়েছিল সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এবার দুই বছর পর আবারও পৃথিবীর মানুষ এমন বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইউটিউব
অনলাইনে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম এখন ইউটিউব। ভিডিও দেখার পাশাপাশি ইউটিউবে নিজস্ব চ্যানেল খুলে আয়ত্ত করছেন অনেকে। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেল জনপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণে নিয়মিত ভালো মানের ভিডিও প্রকাশ করলেও অনেকের দর্শকসংখ্যা (ভিউ) বেশি হয় না।
তবে বেশ কিছু বিষয় মেনে চললে ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত জনপ্রিয় করা যায়। ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত জনপ্রিয় করার আট কৌশল জেনে নেওয়া যাক।
১. আকর্ষণীয় থাম্বনেইল তৈরি
ভিডিওর থাম্বনেইল দর্শকের কাছে প্রথম আকর্ষণ তৈরি করে। তাই স্পষ্ট ও রঙিন ছবি ব্যবহার করে সঙ্গে গাঢ় অক্ষরে লেখা টেক্সট যুক্ত করতে হবে। এতে ভিডিওর প্রতি দর্শকের কৌতূহল বাড়বে।
২. শুরুর ১০ সেকেন্ডে দর্শক ধরে রাখা
ভিডিও শুরুর প্রথম কয়েক সেকেন্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই আকর্ষণীয় বা চমকপ্রদ কোনো বিষয় তুলে ধরতে পারলে দর্শক ভিডিও দেখতে আগ্রহী হন। একটি ভিডিওর দৈর্ঘ্যের ওপর হুক নির্ভর করে। এ ছাড়া দর্শক ভিডিও দেখে চলে যাওয়ার আগে যেন চ্যানেলটির গ্রাহক (সাবস্ক্রাইবার) হন, সে জন্য ভিডিওর শুরুতে, মাঝখানে ও শেষে গ্রাহক হওয়ার আহ্বান জানাতে হবে।
৩. দর্শকের মতামত চাওয়া
ভিডিওর মধ্যে প্রশ্ন রেখে বা মতামত জানতে চেয়ে দর্শককে কমেন্ট সেকশনে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে ভিডিওর কনটেন্ট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও বাড়বে।
৪. পোল বা কার্ডের মতো ইন্টারঅ্যাকটিভ কৌশল ব্যবহার
ভিডিওর বিষয়ে পোল ও কার্ড যুক্ত করলে দর্শক সরাসরি অংশ নিতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ চ্যানেলের এনগেজমেন্ট বাড়াতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৫. নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ
ইউটিউব চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা বাড়াতে অবশ্যই নিয়মিতভাবে ভিডিও প্রকাশ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ভিডিও প্রকাশ করলে দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়। ধারাবাহিকভাবে ভিডিও প্রকাশের ফলে নিয়মিত দর্শক বৃদ্ধির পাশাপাশি চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
৬. প্রতিক্রিয়ার উত্তর দেওয়া
দর্শকের মন্তব্য ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া চ্যানেলের প্রতি আস্থা তৈরি করে। এতে নির্মাতা ও দর্শকের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এর ফলে অনিয়মিত দর্শকেরাও চ্যানেলে গ্রাহক হয়ে থাকেন।
৭. ভিডিও প্লেলিস্টে সাজানো
ভিডিওগুলো প্লেলিস্টে সাজিয়ে রাখলে দর্শক একটির পর একটি ভিডিও দেখতে আগ্রহী হন। এর ফলে ভিডিও দেখার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ইউটিউবও সার্চ ফলাফলে আপনার চ্যানেলকে দ্রুত সামনে নিয়ে যাবে।
৮. ভিডিওর শেষে ‘কল টু অ্যাকশন’ রাখা
প্রতিটি ভিডিওর শেষে দর্শককে লাইক, সাবস্ক্রিপশন ও শেয়ার করার আহ্বান জানাতে হবে। এতে দ্রুত দর্শকসংখ্যা ও এনগেজমেন্ট বাড়বে। এ ছাড়া চ্যানেলকে এগিয়ে রাখতে ভিডিওর শিরোনাম ও বর্ণনায় দর্শকদের বেশি খোঁজ করা শব্দ বা কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করতে হবে।
সূত্র: টেকলুসিভ
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। স্বাধীন হয়েছে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে। কিন্তু দিনদিন দুর্নীতি বেড়েই চলছে। তাই প্রশাসনে দুর্নীতি রোধে জিপিএস ও জিও-ফিক্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি।
দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, বরং আইনের শাসন, সুশাসন, জনআস্থা এবং সরকারি সেবার মানকে দুর্বল করে দেয়। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি। সেই বিবেচনায় সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও অধিদপ্তরে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) এবং জিও-ফিক্সিং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জিও-ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে কোনো প্রকল্প, কর্মকর্তা, যানবাহন বা সরকারি কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান এবং সময়ভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর ফলে মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ, সেতু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সরকারি কাজ বাস্তবে কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে তা সহজেই যাচাই করা যায়। প্রকল্পের ছবি, ভিডিও ও অগ্রগতি যদি জিও-ট্যাগসহ সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে ভুয়া প্রতিবেদন বা কাগজে-কলমে কাজ দেখানোর সুযোগ অনেকাংশে কমে যাবে।
সরকারি যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা হলে যানবাহনের অপব্যবহার, জ্বালানি অপচয় এবং অননুমোদিত ব্যবহার কমানো সম্ভব। একইভাবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা গেলে জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ আরও কার্যকর সেবা পাবে।
তবে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না; এর সঙ্গে শক্তিশালী আইন, তথ্যের নিরাপত্তা, স্বচ্ছ নীতিমালা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার যেন নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জিপিএস ও জিও-ফিক্সিং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও অধিদপ্তরে পরিকল্পিতভাবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তাই যত দ্রুত সম্ভব জিপিএস ও জিও ফিক্সিং প্রযুক্তি প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, দফতর, অধিদপ্তর, সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে বসানো দরকার।