ফিন অ্যালেন
জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন তখন দুই রান, সেঞ্চুরির জন্য ফিন অ্যালেনের দরকার ছক্কা। মুকেশ কুমারের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে খেললেন অ্যালেন। বল উড়ে যেতে দেখেই উচ্ছ্বাসে হাত উঁচিয়ে ধরলেন উইকেটে তার সঙ্গী ক্যামেরন গ্রিন। ছক্কা হতেই ডাগআউটে লাফিয়ে উঠলেন রিঙ্কু সিং। অন্য ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরাও তখন হাততালিতে মুখর। গ্রিন হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন অ্যালেনকে। তখন পর্যন্ত নির্লিপ্ত অ্যালেন এবার হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন।
এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা শেষ হয়ে যায় অনেক আগেই। অ্যালেনের সেঞ্চুরি হয় কি না, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ ছিল বেশি। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁতে পারলেন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান। তার বিস্ফোরক ইনিংসে বিশাল জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
দিল্লি ক্যাপিটালসকে শুক্রবার ৮ উইকেটে হারায় তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ১৪৩ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা ২৮ বল বাকি থাকতে।
১০ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ অ্যালেন।
আইপিএলে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি, আর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম। এর তিনটিই করলেন তিনি এই বছরে। গত জানুয়ারিতে বিগ ব্যাশে ৫৩ বলে ১০১ ও মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অ্যালেন।
নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করলেন অ্যালেন। আইপিএলে শতক করা দেশটির দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এর আগে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ২০০৮ সালে উদ্বোধনী আসরের প্রথম ম্যাচে কলকাতার হয়ে ও ২০১৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এই স্বাদ পেয়েছিলেন।
ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে কলকাতার ব্যাটসম্যানদের চতুর্থ সেঞ্চুরি এটি। ম্যাককালামের দীর্ঘ সময় পর ২০২৩ আসরে ভেঙ্কাটেশ আইয়ার ও পরের বছর সুনিল নারাইন করেছিলেন শতক।
তবে আগের তিন জনের কেউ অ্যালেনের (৪৭) চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি। ভেঙ্কাটেশ ও নারাইনের লেগেছিল ৪৯ বল, ম্যাককালামের ৫৩।
অ্যালেন তাণ্ডব চালান মূলত দিল্লির স্পিনারদের ওপর। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে যেখানে তিনি ১৬ বলে করেন ২৭ রান, সেখানে স্পিনের বিপক্ষে ৩১ বলে ৭৩!
এবারের আসরে নিজের আগের ছয় ম্যাচের সবকটিতেই পাওয়ার প্লের মধ্যে আউট হয়েছিলেন অ্যালেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল প্রথম ম্যাচের ৩৭, তিনটিতে যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
এবার দিল্লির আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে ‘ইম্প্যাক্ট বদলি’ হিসেবে দলের ইনিংস শুরু করতে নেমে তিনি পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দেন ১৭ বলে ২০ রান করে। এরপরই শুরু হয় তার তাণ্ডব। লেগ স্পিনার ভিপরাজ নিগামকে মারেন পরপর চার ও ছক্কা। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভের ওভারেও একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান তিনি।
ওই ওভারে একটি সুযোগও দিয়েছিলেন অ্যালেন, কিন্তু কঠিন ছিল বেশ, বল মুঠোয় জমাতে পারেননি ফিল্ডার ট্রিস্টান স্টাবস।
কলকাতার জয়ের জন্য যখন দরকার ৪৮ বলে ৩৯ রান, অ্যালেনও তখন সেঞ্চুরি থেকে ৩৯ রান দূরে। পরের ওভারে নিগামকে টানা তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। কুলদিপকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পৌঁছে যান নব্বইয়ের ঘরে।
১৬তম ওভারের প্রথম বলে গ্রিন এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন অ্যালেনকে। পরের বলে ৯৪ থেকে ছক্কা মেরে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান ২৭ বছর বয়সী ওপেনার।
আইপিএলে এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের সঙ্গে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ কখনও পাননি অ্যালেন। এবার কলকাতার হয়ে অভিষেক হয় তার। আগের ম্যাচগুলোতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারলেও এবার তিনিই জয়ের নায়ক।
ছবি : সংগৃহীত
‘নতুন যুগ।’
ক্যাপশনটি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একটি ফেসবুক পোস্টের। মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর পর করা সেই পোস্টের ছবিতে নিকো পাজ। লিওনেল মেসির কি তা দেখে একটু খারাপ লেগেছে? এত দিন এসব পোস্টে দেখা যেত মেসিকে। কিংবদন্তি আকাশি-সাদায় শেষ টেনে দেওয়ায় বলিভিয়ার বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নতুন যুগের দ্বার খুলল আর্জেন্টিনা। অন্যভাবে বললে, সেই দ্বার খুলেছেন এমন কেউ, যাঁকে আর্জেন্টাইনরা ভেবে রেখেছেন মেসির উত্তরসূরি হিসেবে। নিকো পাজ!
চোখধাঁধানো একটি গোল, তারপর সেট পিস থেকে গোল করানো। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মেসি যা করে এসেছেন আরকি! পাজ সেই দায়িত্বই পালন করলেন আর্জেন্টিনার ৪-০ গোলে জয়ের এই ম্যাচে। ১০ নম্বর জার্সি তাঁর গায়ে ছিল না। তবে ২৮ মিনিটে গোলটি দেখে মেসির ইচ্ছা হতে পারে ওই জার্সিটা এখনই তাঁর গায়ে তুলে দিতে!
এজেকুয়েল পালাসিওসের রক্ষণচেরা পাসটাও ছিল মেসির মতোই। খুবই সরু ফাঁকা জায়গা ধরে থ্রু পাস। পাজ দৌড়ে সেই পাস ধরে বলিভিয়া গোলকিপার গিয়ের্মো ভিসকারার মাথার পাশ দিয়ে যে চিপটি করলেন, সেটা অবিকল মেসির মতোই। যেন মেসির অনুপস্থিতিতে নতুন যুগেরই হাতবদল হলো একই সুরে, একই ছন্দে!
লাওতারো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও ফ্লাকো লোপেজ সেই সুর-ছন্দকে আরও সুন্দর করে তুলেছেন গোল করে। কোচ লিওনেল স্কালোনির যুগে আর্জেন্টিনা কখনো টানা দুই ম্যাচ হারেনি। গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিার এই প্রথম ম্যাচে জয়টা তাই অবধারিতই ছিল। মেসি জাতীয় দলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে সেটাই এল খানিকটা বিরহ-মধুর সুরে, স্বাদে।
প্রশ্ন উঠেছিল, মেসির অনুপস্থিতিতে স্কালোনির খেলানোর কৌশল কী হবে? ৪-৪-২ ফর্মেশনে আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজকে রেখে উত্তরটা ভালোই দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। ১৮ মিনিটে মার্তিনেজের গোলটিও স্কালোনির এই আস্থার প্রতিদান। আর এই গোলের উৎসেও কারও কারও হয়তো মেসিকে মনে পড়েছে, মন পুড়েছে। কিংবদন্তির চিরচেনা সেই থ্রু পাসের মতোই অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারের পাসটি ধরেন মার্তিনেজ। লাতিন ছন্দে একবার ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে তাঁর নেওয়া শটটি জাত স্ট্রাইকারদের গোল।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেছিলেন, মেসির অনুপস্থিতে আর্জেন্টিনার খেলার মৌলিক ধারাগুলো পাল্টাবে না। সেই ছোট ছোট পাস এবং ছদ্ধবদ্ধভাবে সদলবলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকতে দেখা গেল আর্জেন্টিনাকে। কন্ডাক্টরের ভূমিকায় ছিলেন পাজ। সেট পিস নেওয়ার দায়িত্বও ছিল তাঁর। বোঝা গেল, এখন ১৮ নম্বর জার্সি পরলে কী হবে, সামনে ১০ আসছে! ৫৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে সেট পিসে বল একদম রোমেরোর মাথার ওপর ফেলে সেই দাবিও আরও জোরালো করলেন কোমো প্লে-মেকার। রোমেরোকে শুধু দূরের পোস্টে হেডে গোলের আনুষ্ঠানিকতাটুকু মারতে হলো।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭৭তম লাতিন দলটির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বাকি ছিল শুধু বেঞ্চের গোল পাওয়া। কাছ থেকে করা শটে ৮৬ মিনিটে সেটাও এনে দেন মাথায় আঘাত পাওয়া মার্তিনেজের বদলি নামা ফ্লাকো লোপেজ। বলিভিয়া ততক্ষণেও আর্জেন্টিনার পোস্টে একটি শটও রাখতে পারেনি। পারেনি পুরো ম্যাচেও। উল্টো ১৮টি শটের মধ্যে মাত্র ৬টি কীভাবে বলিভিয়ার পোস্টে থাকল, খেলোয়াড়দের কাছে সেই ব্যাখ্যা চাইতে পারেন স্কালোনি। বল দখলে রাখার হারও (৬৯%) নিশ্চয়ই আরেকটু বেশি প্রত্যাশিত ছিল?
কর্দোবা থেকে দূরে কোথাও বসে মেসি হয়তো ভাবতে পারেন, তিনি থাকলে কী আকাশি-সাদা রংটা আরেকটু বেশি উজ্জ্বল লাগত? সে সুযোগ আর একবারই পাবেন কিংবদন্তি।
এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার ভোরে তাদের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো, এরপর আগামী বুধবার শেষ প্রতিপক্ষ বেনিন। এই শেষ ম্যাচ হবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিরও শেষ ম্যাচ। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ঘরের ছেলেকে বিদায় জানাবেন আর্জেন্টাইনরা। আর আজ কর্দোবায় যে স্টেডিয়ামে খেলা হলো, সেখানে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ঘরের দর্শকদের সামনে অভিষেক হয়েছিল স্কালোনির। এমন লগ্নে কোচও কি মিস করেছেন তাঁর প্রিয় শিষ্যকে? সে তো বটেই।
স্কালোনি হয়তো থাকবেন নতুন মেয়াদে। তাই মেসিকে মিস করাটা সইয়ে নিতে হবে। অবশ্য এখন মানিয়ে নিতে হবে অনেক কিছুতেই। যেমন ধরুন, রদ্রিগো দি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মধ্যে কেউ না থাকায় এই ম্যাচে একটি বিষয় দেখা যায়নি। ২০২১ কোপা আমেরিকা থেকে দুজনই আর্জেন্টিনার ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে ক্যান্ডি চিবোনাটা ‘রিচুয়াল’-এ পরিণত করেছিলেন। তাঁদের কেউ ছিলেন না।
হ্যাঁ, নতুন বিশ্বকাপচক্র সামনে রেখে রুপান্তর শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনা দলে। যেখানে থাকবেন না মেসি, জায়গাটা নেবেন হয়তো তিনজন মিলে, পাজ-আলভারেজ-মার্তিনেজ!
আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের পর এই প্রথম মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে এরই মধ্যে অনেক কিছু বদলে গেছে লাতিন জায়ান্টদের। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি অবসর নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই লিসান্দ্রো পারেদেস, অবসর নিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি।
তাদের জায়গায় কাদের খেলাবেন, সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে মেসি থাকলেও আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষেই কেবল খেলবেন তিনি। সেটি তাঁর বিদায়ী ম্যাচও। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় শুরু হতে যাওয়া বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তরুণদের সুযোগ দিতে পারেন কোচ স্কালোনি।
দুদিনের বিরতি শেষে গত সোমবার বিকেল থেকে আবার অনুশীলন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা দল। এজিজায় ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলন শুরুর আগে স্কালোনি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়েই লম্বা আলোচনা সারেন। বলিভিয়ার বিপক্ষে একাদশ কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো ধারণা দেননি আর্জেন্টিনার কোচ। তবে অনুশীলন দেখে কিছুটা আঁচ পাওয়া গেছে একাদশ কেমন হবে।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নিশ্চিত; রক্ষণে কুতি রোমেরা ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা যেতে পারে অগাস্তিন গিয়াই ও ফাকুন্দো মেদিনাকে। চার মিডফিল্ডার এজিকুয়েল প্যালাসিওস, ম্যাক এলিস্টার, ভ্যালেন্তিনো বারকো ও নিকোলাস পাজ। দুই স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।
জোড়া গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল
আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জয়ের দিন দ্বিতীয় মিনিটেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। এবার ক্রোয়েশিয়াকে পেয়েও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করলেন। এই ম্যাচে অবশ্য আরও প্রাণবন্ত ইয়ামাল। তার জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়াট বাহিনী ৪-১ গোলে উড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সেভিয়ার রামন সানচেজ পিসহুয়ান স্টেডিয়ামে লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে জয় তুলে নেয় স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারানো স্পেন মঙ্গলবার শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিক অফ বাঁশির পর মাত্র ৭০ সেকেন্ডেই দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। এতে অবশ্য অন্যদের কৃতিত্বও কম নয়। মার্ক কুকুরেয়া ও আলেক্স বায়েনার সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণে বল যায় বক্সের কাছাকাছি থাকা ফেরমিন লোপেসের দিকে। তবে নিজে বল না নিয়ে ছেড়ে দেন ইয়ামালের জন্য। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায় ২৮ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে ইভান পেরিসিচের নিখুঁত ক্রসে স্পেনের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে উঠে হেডে গোল করেন ডিওন দ্রেনা বেল্লো।
তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি। মাত্র ৩ মিনিট পরেই ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে গোল করে স্পেনকে আবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মার্ক পিউবিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ৬৩ মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে বেশ কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। আন্তর্জাতিক বিরতিতে স্পেনের হয়ে দুই ম্যাচে তার গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান দাঁড়াল চারটি। ৬৮ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারির দর্শকদের দাঁড়িয়ে দেওয়া সংবর্ধনা পান এই তরুণ বার্সা তারকা।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে মাঠে নামেন ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি লুকা মদরিচ। তবে তিনি নেমেও ব্যবধান কমাতে পারেননি। উল্টো ৮৯ মিনিটে স্কোরলাইন ৪-১ করে ফেলেন উইলিয়ামস। রদ্রি, পেদ্রি ও মিকেল মেরিনোর সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের সামনে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান উইলিয়ামস। মজার বিষয়, এই গোলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চার স্প্যানিশই মাঠে নেমেছেন বদলি হিসেবে।
টানা দুই জয়ে নেশনস লিগের দারুণ সূচনা করা স্পেন তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ৩ অক্টোবর চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে। একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
এর আগে, ১৯ জুলাই স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটা জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, এরপর দেশে ফিরে ট্রফি নিয়ে উদ্যাপন হয়েছিল বটে, তবে সেটি ছিল রাজপথে, গ্যালারির সামনে নয়।
২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার পর চ্যাম্পিয়ন স্পেন ঘরের মাঠে প্রথম খেলতে নেমেছে আজ। সেভিয়ায় ম্যাচ শুরুর আগে তাই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরে দর্শকদের দেখিয়েছেন অধিনায়ক রদ্রি।
এরপর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের যে ম্যাচটি রদ্রিরা খেললেন, তাতেও মিশে থাকল বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বার্তাই।
কোহলি নিজেও ফ্লিক শট ভালো খেলেন
ওয়ানডেতে বিরাট কোহলির ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর (৫৫)। এখন ছুটছেন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে।
এরপরও ‘আলটিমেট’ ওয়ানডে ব্যাটসম্যান বানাতে গিয়ে কোহলি নিজেকে রাখেননি। সাতজন কিংবদন্তিকে বেছে নেন কোহলি।
গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলিকে বলা হয়েছিল, শট ধরে ধরে তাঁর ‘আলটিমেট ওয়ানডে ব্যাটসম্যান’ বেছে নিতে। কোহলি তাতে রাখেননি নিজেকে, রাখেননি মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও!
শুরুটা হলো স্ট্রেট ড্রাইভ দিয়ে। এখানে কোহলির একটুও দ্বিধা ছিল না। থাকার কথাও নয়। এই শটের জন্য কোহলি বেছে নেন শচীন টেন্ডুলকারকে।
এরপর কাভার ড্রাইভ। এই শটের সঙ্গে কোহলির নিজের নামটাও অনেকের মুখে উঠে আসে। ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁর কাভার ড্রাইভ মায়াঞ্জন মেখেছে অনেকের চোখে। কিন্তু কোহলি কাভার ড্রাইভে বেছে নিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাকে। সাঙ্গাকারার কাভার ড্রাইভও ছিল একই সঙ্গে টেকনিক্যালি নিখুঁত এবং দেখতে দারুণ।
এরপর ফ্লিক শট। এই শটেও কিন্তু অনেকেরই প্রিয় কোহলি। কবজির মোচড়ে কোহলি এই শট দারুণ খেলেন। ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনও এই শটকে নিজের ‘ট্রেডমার্ক’-এ পরিণত করেছিলেন।
কিন্তু কোহলির পছন্দ আরেক কিংবদন্তি- রাহুল দ্রাবিড়। কাট শটের জন্য কোহলি বেছে নিয়েছেন বীরেন্দর শেবাগকে। এতে খুব একটা অবাক হওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের সাবেক ওপেনারের ব্যাটিংয়ে স্কয়ার কাট ছিল নিয়মিত বাউন্ডারি মারার অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
এরপর সুইপ। কোহলি এই শটে পছন্দের খেলোয়াড় বেছে নিতে খানিকটা সময় নেন। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেনের নামটা বললেন। ছক্কার জন্য অবশ্য কোহলির পছন্দ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই বলে দিলেন- ক্রিস গেইল। একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড ছিল গেইলের। ৫৫৩টি ছক্কা মেরেছেন। পরে রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন রোহিত শর্মা। তাঁর ছক্কা এখন ৬৬৫টি।
গেইলের ছক্কার প্রতি কোহলির আলাদা টান থাকার কারণও আছে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গেইলের সঙ্গে খেলেছেন কোহলি। খুব কাছ থেকে দেখেছেন গেইলের ব্যাটিং।
সর্বশেষে ছিল রানিং বিটুইন দ্য উইকেট। এখানেই এল সবচেয়ে বড় চমক। এই বিভাগে ভারতের কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নয়, কোহলি বেছে নিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আরেক সাবেক বেঙ্গালুরু সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে কোহলির বন্ধুত্ব অনেক দিনের। একসঙ্গে উইকেটে থাকলে কী করতে পারেন, আইপিএলে বারবার সেটা দেখিয়েছেন।
তবে ধোনির সঙ্গে উইকেটে সময় কাটাতে পছন্দ করেন কোহলি। তিনি নিজেই এ কথা বলেছিলেন। তবে দুজনের মধ্যে হয়তো অন্য প্রান্তে ডি ভিলিয়ার্স থাকলেও বেশি স্বচ্ছন্দে থাকেন কোহলি।
ছবি : সংগৃহীত
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দারুণ একক নৈপুণ্যে গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছেন মাইকেল অলিসে। তার ৮৮ মিনিটের গোলেই বেলজিয়ামকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ফ্রান্স।
জিনেদিন জিদানের অধীনে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে শুক্রবার তুরস্কের বিপক্ষে জেতা ম্যাচের একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিল ফ্রান্স। তবে ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে শেষ পর্যন্ত বেঞ্চের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাদের।
৮৮ মিনিটে নিজের অর্ধে কাঁধ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার অলিসে। এরপর দুর্দান্ত গতিতে সামনে এগিয়ে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
তার এই অসাধারণ একক প্রচেষ্টাতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটিতে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল।
তবে স্কোয়াডে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তাকে দলে রাখা হয়নি। ফলে আক্রমণভাগে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন দেজিরে দুয়ে। পাঁচবার গোলের চেষ্টা করেও জালের দেখা পাননি তিনি। এর মধ্যে একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অভিষেক হওয়া লুকাস দা কুনহাও একটি শটে পোস্টে বল লাগান।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের দুই উইঙ্গার মিকা গডটস ও দোদি লুকেবাকিও ফ্রান্সের রক্ষণে বেশ চাপ তৈরি করেছিলেন। তবে অভিজ্ঞতাহীন ফরাসি রক্ষণভাগের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেননি তারা।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ১’-এর শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। আগামী শুক্রবার ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। একই দিনে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ তুরস্ক।
ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পথচলায় বড় ভূমিকা রেখে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের পর পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এমনকি সুযোগ পেলে আগের সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে চান।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে যায় ভোজিনিয়ার। চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
ভোজিনিয়ার কাছে খ্যাতির এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে, বর্তমান জীবন ও আগের জীবনের মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগ পেলে তিনি পুরোনোটিই বেছে নেবেন। তার ভাষায়, বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের জীবনই তার কাছে বেশি স্বস্তির ছিল।
বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেটিই রাতারাতি বেড়ে যায় মিলিয়নের ঘরে।
তবে এই খ্যাতির সঙ্গে আসা বাড়তি মনোযোগ তার কাছে মোটেও স্বস্তির নয়। ভোজিনিয়া বলেন, আগের মতো ব্যক্তিগত পরিসর এখন আর নেই। বাইরে বের হলে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই ভক্তরা ছবি ও অটোগ্রাফের জন্য ছুটে আসেন। কেউ কেউ আবার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করতে শুরু করেন।
বিশ্বকাপের আগে যে স্বাভাবিক জীবন ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারিয়ে যাওয়া।
ভোজিনিয়ার পরিবারও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। কেপ ভার্দেতে থাকা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে মাঝেমধ্যে সমর্থকেরা হাজির হয়ে যান। তারা কখনো ভোজিনিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে, আবার কখনো ছবি তুলতে চান। তার বাবা অবশ্য এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ নিয়ে ভোজিনিয়ার আক্ষেপ, তিনি দেশের বাইরে থাকায় বাবা-মায়ের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সেটি তার পরিবারকেই শিখে নিতে হচ্ছে।