বিশ্বকাপ ২০২৬

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ এএম

বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে তরুণ ফুটবলাররা মুহূর্তের মধ্যে বৈশ্বিক তারকায় পরিণত হন। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বছরের বিশ্বকাপে এমন পাঁচজন খেলোয়াড় আছেন, যাঁরা পরবর্তী সময়ে বড় ফুটবল সুপারস্টার হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। 


কারা সেই সম্ভাব্য পাঁচ তারকা-


নিকো পাজ (আর্জেন্টিনা) ২১ বছর




নিকো পাজ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড় পাবোলো পাজের ছেলে। যদিও তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্পেনে, তবু তিনি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাজ রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমির একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়। 


পরে ইতালির ক্লাব কোমোতে যোগ দিয়ে সাবেক স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের অধীনে খেলেন এবং সেখানে খুব দ্রুত উন্নতি করেন।


এতটাই যে ২১ বছর বয়সী এই তরুণের পারফরম্যান্স দেখে তাঁকে আবার দলে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে রিয়াল। দুর্দান্ত টেকনিক, দূর থেকে গোল করার ক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার কারণে ইউরোপের ক্লাবগুলোও তাঁর দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। 


আর বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে মেসির বয়স ও ফিটনেস বিবেচনায় তাঁকে কম সময় মাঠে রাখার পথে হাঁটতে পারেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নায়ক হয়ে ওঠার সুযোগ আছে নিকো পাজের।


দেজিরে দুয়ে (ফ্রান্স) ২০ বছর




দেজিরে দুয়ে ফ্রান্সের ২০ বছরের তরুণ, যাঁর প্রতিভা নিয়েও প্রশ্ন নেই। এরই মধ্যে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রমাণ করেছেন নিজের সামর্থ্য। গত বছর পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ইন্টার মিলানকে বড় ব্যবধানে হারানোর পথে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরাও হয়েছেন। 


তবে বিশ্বকাপই হবে দুয়ের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে বড় আসরে খেলার প্রথম অভিজ্ঞতা। ফ্রান্সের একাদশে জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য সহজ হবে না। কারণ, আক্রমণভাগে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, পিএসজির ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবং দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসের মতো তারকারা।


এর মধ্যেও দুয়ে নিজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে কোচ দিদিয়ের দেশমকে মনে করিয়ে দিয়েছেন নিজের যোগ্যতার কথা। মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে করেছেন জোড়া গোলও।


নিকো ও’রাইলি (ইংল্যান্ড) ২১ বছর




২১ বছর বয়সী ও’রাইলি এরই মধ্যে পেপ গার্দিওলার আস্থাভাজন হয়ে ম্যানচেস্টার সিটির নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। মার্চে লিগ কাপ ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে সিটির জয়ে বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার (লেফটব্যাক) হিসেবে খেলেও দুই গোল করেছেন। 


তবে মজার বিষয় হলো, ও’রাইলি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন গোল স্কোরিং মিডফিল্ডার হিসেবে।


গার্দিওলা ও’রাইলির উচ্চতা, গতি ও কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠা এক ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত করেছেন। তা করেই হয়তো ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলেরও একটি বড় সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। 


কারণ, ইংল্যান্ড দল ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে উঠলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রকৃত লেফটব্যাকের অভাবে ভুগেছিল। লুক শর ফিটনেস সমস্যার কারণে সেই জায়গা বেশ দুর্বল ছিল। ও’রাইলি সেই অভাব দারুণভাবে মেটাতে সক্ষম।


ও’রাইলিকে নিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘কী দারুণ খেলোয়াড়! সে অসাধারণ উন্নতি করেছে। অনেক ম্যাচ খেলেছে, আর সে এটা প্রাপ্যও।’


এনদ্রিক (ব্রাজিল) ১৯ বছর




অল্প বয়সেই আলোচনায় এসেছেন এনদ্রিক। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পালমেইরাসের মূল দলে অভিষেক। এরপর ১৮ বছর হওয়ার আগেই তাঁকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। 


তবে মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না। কারণ, দলে আগে থেকেই ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বড় তারকা। ফলে এনদ্রিক কিছুটা আড়ালে পড়ে যান। পরে ফ্রান্সের ক্লাব লিওঁতে ধারে গিয়ে আবার নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। ফিরে এসেছে তাঁর গোল করার ধারাও।


আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নজর কাড়তে খুব একটা সময় নেননি। দুই বছর আগে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ডটি কেড়ে নিয়েছেন রোনালদোর কাছ থেকে। এনদ্রিকের ছোটখাটো কিন্তু শক্তিশালী শারীরিক গঠন দেখে অনেকেই তাঁকে ব্রাজিল কিংবদন্তি রোমারিওর সঙ্গে তুলনা করেন। 


এখন তাঁর লক্ষ্য হতেই পারে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে রোমারিও যেভাবে ৫ গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন, তেমন কিছু করে দেখানো।


পেদ্রি (স্পেন) ২৩ বছর




পেদ্রি অনেকের চোখেই জাভি হার্নান্দেজের যোগ্য উত্তরসূরি। ক্লাব ও জাতীয় দল-দুই জায়গাতেই নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন এই তরুণ। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, ছোট ছোট নিখুঁত পাস এবং বল ধরে রেখে আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতার কারণে হয়ে উঠেছেন স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা।


পেদ্রি প্রথম লাইমলাইটে আসেন উয়েফা ইউরো ২০২০-এ, যখন বয়স ছিল মাত্র ১৮। দুই বছর আগে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। তবে চোটের কারণে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলতে পারেননি।


ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে পেদ্রি আগে বেশ চোটের সমস্যায় ভুগতেন। তবে কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন। গত দুই মৌসুমে টানা লা লিগা শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। 



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫১ পিএম

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন রেফারি ফার্নান্দো ভেখার। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর শেষ বাঁশি বাজিয়ে মেসির কাছে এগিয়ে যান তিনি। এরপর আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতে তুলে দেন হলুদ ও লাল কার্ডের একটি সেট।


অবশ্য এগুলো কোনো শাস্তির কার্ড ছিল না। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের অপরাধের জন্য যে হলুদ ও লাল কার্ড ব্যবহার করা হয়, বিদায়ী ম্যাচের স্মারক হিসেবে সেই কার্ড দুটির একটি বিশেষ সেটই মেসিকে উপহার দেন ভেখার। মেসিও সেগুলো স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে রেখে দেন।


ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরো মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আলো ছিল মেসিকে ঘিরে। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে এমন উপহার দিয়ে তার বিদায়কে আরও বিশেষ করে তুললেন ম্যাচের রেফারি। বিদায়ী ম্যাচটিও মেসি রাঙিয়েছেন নিজের পারফরম্যান্সে। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই সরাসরি অবদান ছিল তার। প্রথমে নিকোলাস ওতামেন্দির গোলের জোগান দেন কর্নার থেকে। এরপর নিকো পাজকে দিয়ে করান দ্বিতীয় গোল। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেও গোল করেন তিনি।


ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে মেসির নামের পাশে থাকল ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। বিদায়ী ম্যাচের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১২৬।


শুধু হলুদ-লাল কার্ডের সেটই নয়, ম্যাচে ব্যবহৃত বলটিও মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী ম্যাচের স্মারক হিসেবে বল, বিশেষ কার্ডসহ একাধিক উপহারে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ রাতটি আরও স্মরণীয় হয়ে থাকল আর্জেন্টাইন মহাতারকার।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩২ এএম

আরেকটি রাত, আরেকটি ম্যাচ-কিন্তু এবার গল্পটা অন্যরকম। যে পায়ে যুগের পর যুগ ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন লিওনেল মেসি, সেই পা আজ শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্পর্শ করছে মনুমেন্টালের ঘাস। আলবিসেলেস্তে জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছেন মহাতারকা।


বিদায়ের সেই মুহূর্তের আগে মেসিকে বিশেষ সম্মানে স্মরণ করল দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেট। আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ক্লাবটির সম্মানসূচক সদস্যপদের কার্ড।


বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে রিভার প্লেটের সভাপতি স্টেফানো ডি কার্লো নিজ হাতে মেসির হাতে তুলে দেন সম্মানসূচক সদস্যপদ কার্ড। সঙ্গে ছিল একটি স্মারক ক্রেস্ট এবং মেসির নাম খোদাই করা ক্লাবটির ঐতিহ্যবাহী ‘মানতো সাগ্রাদো’-পবিত্র জার্সি।


বিশ্ব ফুটবলে তার অসামান্য অবদান ও একের পর এক ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এই বিশেষ সম্মান জানায় রিভার প্লেট।


সর্বশেষ সব খবর

ম্যাচ শেষে বিদায়ী বক্তব্যে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ এএম

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ বছরের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের শেষ মুহুর্তে নিজের আবেগ আর সামলাতে পারলেন না কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের লগ্নে মাইক্রোফোন হাতে লিওনেল মেসির বক্তব্য হৃদয় ছুয়েছে ভক্তদের। 


বিদায়ী ম‍্যাচে মেসি বলেন, আমি শপথ করে বলছি, সারাজীবন এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই।’


পরক্ষণেই বলেছেন, ‘কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন ছিল। আমরা আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছেও গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা আমাদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা শারীরিক ও মানসিক, দুই দিক থেকেই আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আমরা কোনোমতে টিকে ছিলাম।’


তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার ভেতর দিয়ে আবেগের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিতভাবেই এমন অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছি যা আমি বলতে চেয়েছিলাম, কারণ এটা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক মুহূর্ত। সবার আগে যার কথা আমার মনে আসছে, তিনি হলেন আমার বাবা। এখানে খেলতে না পারাটা আমি খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত। আমি কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।


আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসা জাতিয়ে বলেন, ‘এই জার্সিকে ধন্যবাদ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে, এমনকি সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোতেও আমি কখনও লড়াই করা থামাইনি। সামনে এগিয়ে যাওয়া বন্ধ করিনি, আমার যা কিছু ছিল তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি এবং সবসময় এখানে থাকতে চেয়েছি। এখানে আর আসা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে না খেলতে পারাটা আমাকে অনেক বেশি কষ্ট দেবে। যদি আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি আমার সারা জীবন এখানে খেলে যেতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব‍্যাপার।


তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ আমি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কথা বলছি, কারণ আমি স্রেফ চাই না যে এই মুহূর্তটি শেষ হয়ে যাক। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার আমার অবসর নেওয়ার সময় চলে এসেছে। গত বিশ্বকাপে আমরা যা কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা আমাদের থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমরা আমাদের শেষ শক্তিটুকু নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলাম কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, ঠিক যেভাবে আমরা সবসময় করে এসেছি। আমরা আবারও জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম এবং আমাদের নিয়ে যা কিছু বলা হয়েছিল, আসলে তেমন অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের অনেক শক্তি ক্ষয় করেছিল, কারণ আমরা সেখানে আমাদের একেবারে সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলাম।


মেসি বলেন, ‘২০২২ সালে, আমাদের কেবল আমার নিজের স্বপ্নই নয়, বরং পুরো একটি দেশের স্বপ্ন পূরণ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল- আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর আমরা তা করে দেখিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি, কোপা আমেরিকা জিতেছি, ফিনালিস্সিমা জিতেছি… এই জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এর সবকিছুর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। তবে এই যাত্রাটা কেবল ২০২২ বা এই শেষ বিশ্বকাপকে নিয়ে নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক আগে থেকে অসংখ্য সতীর্থ এই জার্সির জন্য আমার পাশাপাশি লড়াই করেছে। তাদের প্রত্যেকে আর্জেন্টিনার জন্য কতটা লড়াই করেছে এবং নিজেদের কতটা উজাড় করে দিয়েছে, তা নিয়ে কখনো কোনো সন্দেহ করিনি ‘


মহাতারকা এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার সব সতীর্থর সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারা এবং ফুটবলের বাইরে আমাদের জীবনের এত বড় একটি অংশ এক সঙ্গে কাটাতে পারাটা ছিল একটি সৌভাগ‍্য ও সম্মানের। প্রতিবার যখন আমরা মাঠে পা রেখেছি, আমি জানতাম আমরা যে কোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। কারণ, আমার পাশে এমন সব যোদ্ধা ছিল যারা মাঠে তাদের সবটুকু দিতে প্রস্তুত ছিল। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো লুফে নিতে হলে আপনার একটি শক্তিশালী দলের প্রয়োজন। আর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতেই আপনি সত্যিই আবিষ্কার করতে পারবেন যে, আপনার দলটি কেমন। এটাই অন্যতম বড় কারণ, যার জন্য আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা করতে পেরেছিলাম। বিশেষ করে এই দলকে ধন্যবাদ। তারা আমাকে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। তারা আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। আমি জনগণকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর্জেন্টিনার অনেক শহরে খেলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে এবং আমি যেখানেই গিয়েছি, অবিশ্বাস্য রকমের ভালোবাসা পেয়েছি ‘


লড়াকু এই ফুটবলার আরও বলেন, এই এত বছর ধরে, পৃথিবীর যেখানেই আমরা খেলি, স্টেডিয়ামগুলো সবসময় আর্জেন্টাইনদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল। ম্যাচ যেমনই হোক কিংবা দূরত্ব যতই হোক না কেন, মানুষ সেখানে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা জানি সেটা কতটা কঠিন। পৃথিবীর যেখানেই আমরা গিয়েছি, মনে হয়েছে আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি, কারণ আমরা সবসময় আপনাদের সমর্থন অনুভব করতে পেরেছি। এই সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। কঠিন মুহূর্ত আসবে, আর সেই মুহূর্তগুলোতেই দলকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমর্থন করতে হবে। আপনাদের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দলের প্রয়োজন, কারণ সবসময় এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায় এবং আমরা তাদের সেই আত্মতৃপ্তির সুযোগ দিতে পারি না। এখানে, এই স্টেডিয়ামে, আমি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের একটি দিন পার করেছি–বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঘরের মাঠে খেলা আমাদের প্রথম ম্যাচটি। সেটি ছিল খুব সুন্দর। আর আজকের দিনটি হয়ত সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি, কারণ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমি আপনাদের সবাইকে খুব মিস করব, কিন্তু আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। আমি এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবাইকে সমর্থন করে যাব।

সর্বশেষ সব খবর

ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় তিন সন্তানের সঙ্গে মেসি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ এএম

২০০৫ সালের আগেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু। সেই থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছর ধরে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, অসংখ্য রাতকে রাঙিয়েছেন। সেই জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে আবেগ সামলাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। কিংবদন্তি এ ফুটবলারের চোখের কোণে দেখা গেল জল। বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার গল্পের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার আগ মুহূর্তে আবেগ লুকাতে পারেননি এই মহাতারকা। 


ম্যাচের আগে থেকে শুরু করে মাঠের ভেতরেও বারবার ফুটে উঠেছে তার আবেগ, কখনো চোখের জলে, কখনো তৃপ্তির হাসিতে। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীতের সময়। সতীর্থ ও কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো মেসির চোখেও তখন জল। আবেগ সামলানোর চেষ্টা করলেও চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী। মাথা উঁচু করে সামনে তাকিয়ে ছিলেন তিনি, পাশে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পতাকা। 


তবে চোখের জল সামলে সেই বিশেষ মুহূর্তটাকে উপভোগও করেছেন তিনি। গ্যালারিজুড়ে তার জন্য তৈরি হওয়া উৎসবের আবহ দেখে কয়েক সেকেন্ড থমকে ছিলেন মেসি। এরপর ঠোঁটে ফুটে ওঠে ছোট্ট, তৃপ্তির এক হাসি। স্টেডিয়ামের পথে দলের বাসে বসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভালোবাসার ঢল দেখে বাসের ভেতরেই কেঁদে ফেলেন তিনি। আবেগ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চোখের পানি থামেনি। বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে শুধু উষ্ণ এক হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।


শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে ওয়ার্ম-আপ করতে মাঠে প্রবেশের সময় দুই হাত তুলে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন গ্যালারির দিকে অভিবাদন জানান মেসি। আর সেটুকুতেই যেন বিস্ফোরিত হয় মনুমেন্তাল। মুহূর্তেই গর্জে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। এরপর যখন ঘোষক একে একে আর্জেন্টিনার একাদশের নাম ঘোষণা করছিলেন, তখন মেসির নাম আসতেই একসঙ্গে গর্জে ওঠে হাজারো কণ্ঠ। শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সি গায়ে, শেষবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এভাবে, 'শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সিতে, আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।'


ম্যাচ শুরুর পরও থামেনি বিদায়ের আবেগ। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে হঠাৎ যেন ফুটবল ম্যাচের কথা ভুলে গেলেন মাঠের ২২ খেলোয়াড়। আগে থেকেই মেসির শেষ ম্যাচ উপভোগ করার কথা জানিয়েছিলেন বেনিনের ফুটবলাররা। তাই অপ্রত্যাশিত সেই বিরতিতে কয়েকজন বেনিন খেলোয়াড় এগিয়ে এসে মেসিকে শুভেচ্ছা জানান। আর গ্যালারিতে তখন অন্য দৃশ্য, পুরো মনুমেন্তাল দাঁড়িয়ে, করতালিতে শেষবারের মতো নিজেদের অধিনায়ককে অভিবাদন জানাচ্ছে।


বিদায়ী ম‍্যাচের জন‍্য অনুশীলন কমপ্লেক্স থেকে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি। রাস্তায় নেমে আসেন ভক্তরা। সে সময়ও মেসির চোখে দেখা যায় জল। বিশেষ জার্সি পরে সতীর্থদের সঙ্গে ওয়ার্মআপ করেন মেসি। দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি। গ‍্যালারিতে ছিলেন তার পরিবারের সদস‍্যরা।


বিদায়ী ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি।’


জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির এই বিদায় শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়; এটি একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষও। যে জার্সিতে তিনি দেখেছেন হতাশা, কান্না ও ব্যর্থতা, সেই জার্সিতেই পেয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গৌরব। ২১ বছরের এই যাত্রায় আর্জেন্টিনার হয়ে অসংখ্য স্মৃতি উপহার দিয়েছেন তিনি। তার কথায় যেন সেই দীর্ঘ পথচলারই প্রতিধ্বনি। 

সর্বশেষ সব খবর

লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২০ এএম

শেষবারের মতো জাতীয় সংগীত। শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সি। শেষবারের মতো মনুমেন্টালের হাজারো কণ্ঠে নিজের নাম শুনলেন লিওনেল মেসি। চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে মাঠের দিকে তাকালেন, যেন নিজের দুই দশকের গল্পটাকে একবারে চোখের সামনে দেখতে চাইলেন। তারপর বল পায়ে নেমে যা করলেন, সেটিও ছিল মেসিসুলভ। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় দিয়ে শেষ হলো জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২১ বছরের পথচলা। 


বিদায়ী ম্যাচে নিজে একটি গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি হয়ে থাকল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ গোল। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা যখন তাকে ঘিরে ধরলেন, তখন বুঝে নেওয়া গেল, সত্যিই শেষ হয়ে গেল একটি যুগ।


ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টাল যেন রূপ নিয়েছিল উৎসবের মঞ্চে। এজেইজা থেকে স্টেডিয়ামে আসার পথে রাস্তার দুই পাশে সমর্থকদের ঢল। বাসের ভেতর থেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন।


স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় সঙ্গে ছিলেন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। মাঠে ওয়ার্ম-আপে এসে দুই হাত তুলে গ্যালারির প্রতিটি অংশকে অভিবাদন জানাতেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। এরপর ঘোষকের কণ্ঠে শেষবারের মতো শোনা গেল, ‘আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।’


জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। মেসির চোখে জল, একই দৃশ্য দেখা গেল কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখেও। যে জার্সিতে ২১ বছর ধরে একটি জাতির স্বপ্ন বহন করেছেন, সেই জার্সিতে দাঁড়িয়ে শেষবার জাতীয় সংগীত গাইলেন তিনি।


বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। ৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন বেনিন গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকও রুখে দেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাস থেকে পাওয়া সুযোগে মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।


এর মধ্যেই আসে রাতের সবচেয়ে প্রতীকী মুহূর্ত। ম্যাচের ১০ মিনিটে রেফারি খেলা থামিয়ে দেন মেসিকে সম্মান জানাতে। ৮৫ হাজার দর্শক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যান। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, এমনকি বেনিনের খেলোয়াড়েরাও যোগ দেন করতালিতে। এক মিনিট ধরে শুধু মেসির জন্যই থেমে থাকে খেলা।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলে ভলিতে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির মতো এই ম্যাচটিও ছিল ওতামেন্দির বিদায়ী ম্যাচ। গোলের কিছুক্ষণ পর তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে।


এরপর আবারও মেসির পাস থেকে গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঘুরে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান নিকো পাজ। তার নিখুঁত শটে বেনিনের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। বিদায়ী ম্যাচে এ নিয়ে দুটি গোলে সরাসরি অ্যাসিস্ট করলেন মেসি।


এরপর ৬৮ মিনিটে বেনিন বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে ৭১ মিনিটে গোল করেন মেসি। তার শটে ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি বেনিন গোলরক্ষক। জাতীয় দলের হয়ে এটি মেসির ১২৬তম গোল।


শেষ দিকে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে তার বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়েও একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি, তবে সেটি জালে জড়ায়নি।


শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরেন। বেনিনের খেলোয়াড়েরাও তাকে শুভেচ্ছা জানান। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাতে এসেছে ব্যর্থতা, কান্না, সমালোচনা, ফাইনালে হার। এসেছে কোপা আমেরিকার শিরোপা, ফাইনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ। যে ট্রফির জন্য আর্জেন্টিনার মানুষ ৩৬ বছর অপেক্ষা করেছিল, সেটিও এনে দিয়েছেন তিনি। আজ সেই গল্পের শেষ। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৬৮ অ্যাসিস্ট।

সর্বশেষ সব খবর

মেসির বিদায় ম্যাচ আজ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা শেষে ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। বেনিনের বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই তিনি জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন।


আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় বুয়েন্স আয়ার্সের ৮৫ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। সময়ের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের ম্যাচটি দেখতে হবে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৫টায়। 


২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অনেক সতীর্থই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও, মেসির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন তারা।


যেভাবে দেখবেন মেসির বিদায়ী ম্যাচ (লাইভ সম্প্রচার)


বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেলে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার না হলেও, কিছু বিকল্প মাধ্যমে দর্শকরা খেলাটি উপভোগ করতে পারবেন। ভারতীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভে (ZEE5) সাবস্ক্রিপশন থাকলে ম্যাচটি দেখা যাবে, কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্ল্যাটফর্মেই সম্প্রচার নিশ্চিত করা হয়েছে।


এ ছাড়া অঞ্চলভেদে বেইন স্পোর্টস এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে ম্যাচটির কাভারেজ থাকতে পারে। বাংলাদেশি দর্শকরা স্পোর্জিফাই অ্যাপের মাধ্যমেও ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারবেন। 


পাশাপাশি, কিছু দর্শক ভিপিএন ব্যবহার করেও বিভিন্ন দেশের স্ট্রিমিং সেবা থেকে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন।


১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রেখেছিলেন মেসি। ২১ বছরের সেই অবিশ্বাস্য যাত্রার ইতি টেনে বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক আবেগময় ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর