বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ এএম

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের ১২ দিন আগে রিও ডি জেনিরোতে পানামার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। জ্যামপ্যাক্ট মারাকানায় ৬-২ গোলে পানামাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস, ক্যাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো। এই বড় জয়ের রাতে প্রথমার্ধে কিছুটা অস্বস্তিও ছিল। 


তবে বিরতির পর ১০ পরিবর্তনে চেনা ছন্দে ধরা দেয় ব্রাজিল। ছয় গোলের চারটিই এসেছে তখন। দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে একটি প্রশ্নও উঠেছে, ব্রাজিলের সেরা একাদশের চেয়ে রিজার্ভ বেঞ্চ কী বেশি কার্যকর! প্রায় ৯ মাস পর জাতীয় দলের ম্যাচ দেখতে মারাকানায় গত রোববার সন্ধ্যায় জড়ো হয়েছিলেন ৭২ হাজার ব্রাজিল সমর্থক। দুয়ারে বিশ্বকাপ বলে একটা অন্য রকম উৎসবের আবহ ছিল ভক্তদের মধ্যে। এমন পরিবেশে খেলা শুরুর দেড় মিনিটের মধ্যেই গোল করে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে ১৪তম মিনিটে পানামা সমতা ফেরায়। যদিও গোলটিতে ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। 


একটি ফ্রি কিক দেয়ালে দাঁড়ানো ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পাল্টে ব্রাজিলের জালে চলে যায়। তবে প্রথমার্ধের শেষের দিকে ভিনিসিয়ুসের দারুণ ক্রসে হেড করে ক্যাসেমিরো পানামার জালে পাঠালে ২-১ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় সেলেকাওরা। তবে প্রথমার্ধে সেরা খেলোয়াড়দের নিয়েও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ব্রাজিল। পুঁচকে পানামার বিপক্ষে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলা তো দূরের বিষয়, বল পজেশনেও পিছিয়ে ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধে ৫২ শতাংশ বলের দখল ছিল পানামার। ব্রাজিলকে তখন কাউন্টার¬ অ্যাটাকনির্ভর ফুটবল খেলতে দেখা যায়। তখন দুই মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসকে চাপের মধ্যে থাকতে দেখা গেছে। নিচ থেকে তারা আক্রমণ গড়ে তুলতেই পারছিল না। 



প্রথমার্ধে আক্রমণে ওঠার সময় ৪-২-৪ ও রক্ষণে নামার সময় ৪-৪-২ ফরমেশনে দলকে খেলান আনচেলত্তি। তখন বাঁ প্রান্তে ভিনি বেশ জায়গা নিয়ে খেললেও মধ্যে সেন্টার ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় থাকা ম্যাথিউস কুনহা ও  তাঁর পেছনে থাকা রাফিনহা ততটা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না। ৯ নম্বর পজিশনে কুনহা একেবারেই মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। প্রতিপক্ষের বক্স থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছিলেন তিনি, ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি চোখেই পড়ছিল না। তাঁর পেছনে থাকা রাফিনহা ও রাইট উইংয়ে লুইজ হেনরিককেও তখন ছন্দহীন লাগছিল। 


এর পরও ব্রাজিল যে লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করতে পেরেছিল, সেটাই তাদের ভাগ্য! দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনকে বদল করেন আনচেলত্তি। এমনকি গোলকিপারও পরিবর্তন করেন। একমাত্র সেন্টার ব্যাক লিও পেরেরা ছাড়া সবাইকে বদলে ফেলেন। বেঞ্চে আর কেউ থাকলে হয়তো তাঁকেও বদলাতেন। সে সঙ্গে ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজান। এতে কাজ হয়। ব্রাজিলের বদলি খেলোয়াড়রা পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো শুরু করেন। পানামা তখন তাদের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়। মাঝমাঠে ফ্যাবিনহোর সঙ্গে লুকাস পাকেতা ও দানিলোর দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ব্রাজিল। বিশেষ করে পাকেতার সৃষ্টিশীলতা নজর কেড়েছে। রাইট উইংয়ে রায়ানও দারুণ কার্যকর। 


দুরন্ত গতিতে আক্রমণে ওঠার পাশাপাশি রক্ষণেও ভূমিকা রাখতে পারেন ১৯ বছরের এ তরুণ। লুইজ হেনরিকের উপযুক্ত বিকল্প সে। দানিলো সান্তোসও দারুণ ফর্মে আছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলায় এ ম্যাচে ছিলেন দুই তারকা সেন্টার ব্যাক মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহাস। তারা ফিরলে নিশ্চিতভাবে রক্ষণের শক্তি বাড়বে। সে সঙ্গে দলে ভারসাম্য আনার জন্য হয়তো একজন স্ট্রাইকার কমিয়ে মিডফিল্ডার বাড়াতে পারেন কোচ আনচেলত্তি। এই ম্যাচের আগে ও পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানায়। 


পুরোপুরি ফিট না থাকায় তিনি যে এই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারবেন না, সেটি আগেই জানা ছিল। ম্যাচ শেষে রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে ফুটবলারদের। সোমবার বিকেলে পুরো দল একত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন হাঙ্গেরিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলা মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহাস ও মার্তেনেল্লিরা।






ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

নেফতচির বিপক্ষে জয়ের পর আল নাসরের সমর্থকদের চমকে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই পর্তুগিজ অধিনায়ক এমন একটি কাজ করেছেন, যা সবার নজর কেড়েছে। হুথিদের আক্রমণে যখন সৌদি আরব বিপর্যস্ত, তখন দেশটির প্রতি নিজের ভালোবাসাটা তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। 


সোমবার সন্ধ্যায় এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের দ্বিতীয় রাউন্ডে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতেছে। ৪২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এর আগে অ্যাঞ্জেলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে নেফতচির ডিফেন্ডার বুয়ান সিগের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।


ম্যাচ শুরুর আগেই এই লড়াই নিয়ে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রিয়াদে ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স একটি নিরাপত্তা সতর্কতা দেয়। তাই খেলা শুরু হতে দেরি হয়। রিয়াদের একাধিক জায়গা সম্প্রতি ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।


খেলা যখন বন্ধ ছিল, ক্যামেরায় তখন রোনালদোকে দেখা যায়। তিনি আল নাসরের জার্সিতে থাকা সৌদি পতাকায় চুমু খাচ্ছিলেন। সৌদি আরবে খেলতে আসার পর থেকে এই দেশের প্রতি তার যে কৃতজ্ঞতা, দৃশ্যটি তা-ই বোঝায়। ম্যাচ শেষে তিনি আরেকভাবে নিজের এই অবস্থান তুলে ধরেন।


উদযাপনের মাঝখানে রোনালদো সমর্থকদের কাছে একটি স্কার্ফ চান। সেই স্কার্ফে ছিল সৌদি পতাকা। তিনি সেটি কাঁধে জড়িয়ে নেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে এই কাজ তার উদযাপনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। 


আল নাসরের পরের ম্যাচ ১৬ অক্টোবর। সৌদি প্রো লিগে তারা আল আহলির মুখোমুখি হবে।


লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার চার দিন পরই ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ফেরার ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন জোড়া গোলে। তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও করলেন দুই গোল। দুই তারকার নৈপুণ্যে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ডিসি ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। একই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের জয়খরাও কাটিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।


ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মায়ামি। মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। ৩৯ মিনিটে মেসির শট প্রতিহত হলে ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।


বিরতির পর গোলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি। ৪৭ মিনিটে সুয়ারেজের বাড়ানো বল এক স্পর্শে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ৬০ মিনিটে আসে তার দ্বিতীয় গোল। রদ্রিগো ডি পলের পাস পেয়ে ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলরক্ষক সিন জনসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মায়ামির।


এই জোড়া গোলে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩, যা লিগে সর্বোচ্চ। গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুবার এমভিপি হওয়া মেসি এবারও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে।


মায়ামির জন্য জয়টি ছিল বিশেষ স্বস্তির। আগের পাঁচ ম্যাচে চারটি ড্র ও একটি হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল দলটি। গত ২৯ আগস্ট সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে হারানোর পর এটিই তাদের প্রথম জয়।


হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৬ পিএম

পুরনো বলে তেমন কিছু হচ্ছিল না, ৮০ ওভারের পর নতুন বল নিতেই জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ দেখালেন বেশি ঝাঁজ। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন তিনি। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করে দেন হাসান। পরের বলে কাইস আহমেদ ক্রিজে এসে আউটসাইড এজে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেই ক্যাচ গ্লাভসে জমান লিটন দাস। পরের বলেই জিয়াউর রহমানকেও পরাস্ত করেছিলেন। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে দেখা যায় এলবিডব্লিউ হয়েছেন জিয়া।


আগের দিনে আফগানিস্তানের প্রতিরোধে হতাশা বাড়ছিল বাংলাদেশের। তবে তৃতীয় দিনে নেমে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম নিজেদের কব্জায় নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন বল নিতেই শুরুতে সাফল্য আনেন ইবাদত হোসেন। ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ইকরাম আখিলকে বোল্ড করে দেন তিনি।


এক পাশে রহমত শাহ টিকে থাকলেও টেল খুলে যাওয়ায় হাসান হয়ে ওঠেন বিপজ্জনক। এক ওভারেই তিন উইকেট নিয়ে ধস নামান তিনি। ৪ উইকেটে ২১৯ থেকে ১ রানের ভেতর আরও ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।


আবুধাবি টেস্টে এখন তাই বড় লিড নেওয়ার পথে বাংলাদেশ।


হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আফগানিস্তানের হাতেই। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই তাদের ইনিংস গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের তোপে ২১১ থেকে ২৪০ রানেই অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের সুবাদে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে শান্তর দল।


আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানার পথ দেখান এবাদত। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইকরাম আলিখিল। ১০৩ বলে ৩২ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এতে রহমত শাহর সঙ্গে তার ৮০ রানের জুটি ভাঙে। 


এরপরই শুরু হয় হাসান মাহমুদের দাপট। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের শেষ তিন বলে ইসমত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে ফিরিয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ইসমতকে বোল্ড করার পর কাইসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হাসান। হ্যাটট্রিক বলে জিয়াউরের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন তিনি। আম্পায়ার সাড়া না দিলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর রিভিউয়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।


বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন হাসান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন। হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।


টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি হাসানের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এর আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তাসকিন আহমেদ টেস্টে ৫০ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।


আফগানিস্তানের হয়ে অধিনায়ক রহমত শাহ সর্বোচ্চ ১০৯ রান করেন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া রহমত বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক পেয়েছেন। তবে তার সেঞ্চুরিও দলকে বড় লিড এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানেই থামে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।


এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে শক্ত অবস্থানে থাকলেও পরে ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি। তানজিদ হাসান তামিমের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ ও লিটন দাসের ৫৩ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ ৮ উইকেটে মাত্র ১২৫ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সালিম সাফি নেন ৪ উইকেট, ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি।


বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫২ এএম

লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। আন্তর্জাতিক বিরতির পর মাঠে ফিরেই গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। ঘরের মাঠ কাম্প নউয়ে শনিবার লিগ ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা।


অ্যান্থনি গর্ডন শুরুতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ান গাব্রিয়েল জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন জুল কুন্দে। প্রথম আট ম্যাচের সবকটি জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।


নিজেদের ইতিহাসে লা লিগায় সবচেয়ে ভালো শুরুর নজির স্পর্শ করল বার্সেলোনা। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে জেরার্দো মার্তিনোর কোচিংয়েও লিগে প্রথম আট ম্যাচে জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। ফ্লিকের দল এই আট ম্যাচে গোল করল মোট ৩৪টি।



হালকা চোটে সতর্কতার অংশ হিসেবে বাইরে থাকা অধিনায়ক রাফিনিয়াকে ছাড়া খেলতে নেমে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে শট নেন গর্ডন, বল এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।


বার্সেলোনার হয়ে এই ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম গোল এটি। এবারের লা লিগায় তার অ্যাসিস্ট আছে চারটি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সবশেষ চার ম্যাচের সবকটিতে গোল করলেন তিনি। বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে বারবার গেতাফের রক্ষণে হানা দিতে থাকে বার্সেলোনা। 


৩০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে তারা। সফরকারী ডিফেন্ডার রোমেরো ডি-বক্সের সীমানায় ড্রিবল করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে বল হারিয়ে ফেলেন; আর সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ নৈপুণ্যে জোরাল শটে জালে পাঠান জেসুস।


বার্সেলোনার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের গোল হলো তিনটি। আর্সেনাল ছেড়ে এই মৌসুমে কাম্প নউয়ে পাড়ি জমান তিনি। ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পান জেসুস। কিন্তু জেরার্দ মার্তিনের ক্রসে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। চার মিনিট পর দানি ওলমোর নিচু শট ফিরিয়ে দেন গেতাফে গোলরক্ষক।


৭৩তম মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান কুন্দে। ডান দিক থেকে লামিন ইয়ামালের ক্রসে কাছ থেকে পা ছুঁয়ে বল জালে পাঠান এই ফরাসি ডিফেন্ডার। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে অল্পের জন্য গোল পাননি ইয়ামাল। বক্সের বাইরে থেকে বিশ্বকাপজয়ী তারকার বাঁ পায়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে দিয়ে যায়।


নেইমার ও লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৫ পিএম

বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উদ্‌যাপনের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করে বিতর্কে পড়েছেন নেইমার। ২০১৫ সালে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তার সেই উদ্‌যাপনের ভিডিওতে তিনজনকে মদ্যপ অবস্থায় নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেইমারের এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নেইমারের নেটফ্লিক্স প্রামাণ্যচিত্র ‘নেইমার: দ্য পারফেক্ট ক্যাওস’-এ পুরোনো ভিডিও দেখার সময় ফুটেজটি সামনে আসে।


নিজের ফোনে সংরক্ষিত ভিডিও ঘাঁটতে ঘাঁটতেই সেই মুহূর্তটি আবার দেখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সবাই বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি।বিশেষ করে মেসি সাধারণত পার্টি কিংবা অনুপযুক্ত আচরণসংক্রান্ত বিতর্কে জড়ান না বলে তার এমন ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করাকে অনেকে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করছেন না।

সমালোচকদের মতে, ভিডিওটি সে সময় প্রকাশ্যে এলে তিন ফুটবলারকেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।


উদ্‌যাপনের সময় তাদের এমন অবস্থার কারণে বার্সেলোনার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত বলে মনে করেন কেউ কেউ। অবশ্য ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেক সমর্থকের মতে, একটি বড় শিরোপা জয়ের পর ফুটবলারদের উদ্‌যাপনের দৃশ্যকে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, তিনজনই হয়তো একটু বেশি মদ্যপান করেছিলেন, কিন্তু তাতে তারা এমন কিছু করেননি যা নিয়ে এত সমালোচনার প্রয়োজন আছে।


তবে ভিডিওটির সমালোচকদের কাছে মূল প্রশ্ন মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজের উদ্‌যাপনের ধরন নয়। বরং তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি। সেই কারণেই পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।