ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ হাবিবুল্লাহ’র নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন,“আমি জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নয়, জনতার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জনগণ যদি তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, তবে আমি হবো জনতার এমপি। এই এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এখানকার যোগাযোগ, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্ষমতায় গেলে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন, জামায়াত নেতা হাফেজ সুলতান আহম্মেদ, উপজেলা নায়েবে আমির মাস্টার মনিরুজ্জামান, পৌর আমির মো. রফিকুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
এ সময় অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে বলেন, পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ, প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন, সন্ন্যাসী থেকে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত ভেড়িবাঁধ নির্মাণসহ অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তাকে বিজয়ী করার জন্য বাগেরহাট-৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছেন চারজন। এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত (৩৯), তার আড়াই বছর বয়সী শিশু শর্ণশিষ দত্ত, স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭) ও শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)।
দেবাশিস দত্ত পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে এই আগুন লাগে।
দেবাশিস দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া মডেল থানার মোহিনী মিল এলাকার আরুয়াপাড়ায়। তার বাবার নাম দিলীপ কুমার দত্ত। আকরাম আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস এলাকার বদরুদ্দোজা রোডে।
নিহত আহামেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে। তার বাবার নাম আদম আলী।
এছাড়া ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ান নামে আরেকজনের পরিচয় মিলেছে। তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা।
অপর তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সময় ওই হোটেলে ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের তিন তলায় রাত ২টা ৭ মিনিটে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। আগুন দ্রুত আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হোটেলের কক্ষগুলো ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে হোটেলের বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা। অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর পাশাপাশি একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দলও (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম) উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, হোটেলটিতে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একটি মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীরা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের খুঁজছে।
উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোটেলের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে এই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।
"দুর্ঘটনা দুর্যোগে, সবার পাশে-সবার আগে" স্লোগানে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে অগ্নিকান্ড, উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনসাইড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯ আগষ্ট বুধবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের বাস্তবায়নে এবং জেলা প্রশাসক শরীফা হক এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে উক্ত মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত হোসেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।
জোনায়েদ মিয়া ও তার স্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের খাবারে আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে যাওয়া সেই আলোচিত জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া বিয়ে করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জুনায়েদ মিয়া। এর আগে রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নতুন কনে জান্নাত আক্তার আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। কনের মামা তাজু সরকারের নেয়ামতপুর গ্রামের বাড়িতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ মিয়ার বাড়িও সেখানে।
বিয়ের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ মিয়া লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’
জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
এর আগে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে যান জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে জুনায়েদ নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে প্রথম বিয়ের কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি লিখেন, সোমবার থেকে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ চালানো হচ্ছে। বিয়ের আসরে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ আমার কাছে পূর্ব নির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে এবং বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়। পরে আমাদের সব লাগেজ, যা আমরা কনের জন্য নিয়েছিলাম সেটা ফেরত পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, কনের সঙ্গে আমাকে কোনো রকম যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি এবং সে যাতে যোগাযোগ করতে না পারে, সেভাবেই তার বাবা তাকে শাসিয়েছে। রাতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করতে বললেও আমি তাতে রাজি হইনি। ফলে আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, জবাই করে ফেলার। তারপর তারা রাত থেকে ভুয়া পোস্ট করিয়ে আমার সম্মানহানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এগুলাতে বিচলিত হবেন না, সেই আশা করছি।
তবে বরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কাবিনের টাকা চাওয়ার দাবিকে মিথ্যা বানোয়াট উল্লেখ করে কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। পরে ওই বর অশালীন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করলে কনের বাবা বিয়ে দেননি। অবশেষে বরকে বিয়ে না করেই ফিরতে হয়েছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্ভোধন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র, বই পড়া প্রতিযোগিতা, চারাগাছ বিতরণ, নজরুল বর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাদকবিরোধী সমাবেশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভ‚ইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম. রকিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল সি. বীনা খ্রীস্টিনা কোড়াইয়া। সভায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র ও বই পড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের যুক্তি, জ্ঞান ও পাঠাভ্যাস, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন পরিবেশনায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভ‚ইয়া।
বিকেলে কালীগঞ্জ আরআরএন সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও পৌরসভার লিনিক সদস্যদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক শহীদুল্লাহ্ ইভা, পূর্ণিমা রোজারিও ও দীপা গমেজের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আল-আমিন হালদার, আরিফ হোসেন, সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ফাদার আলবিন গমেজ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া প্রমূখ।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে কালীগঞ্জ কাপাসিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন আকাশ, সমবায় কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সামসুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ্, মো. সোলেমান আলম, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইয়াছিন মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাড়ে ৮টায় উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে তাপস রায় জানান- আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি, বাড়িতে মা ও বাবা থাকেন। আমার মা প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে টিভি দেখছিলেন, বাবা দোকানে চা পান করতে যান। এমন সময় দুষ্কৃতিকারীরা ঘরে ঢুকে আমার মায়ের মাথায় এলোপাথারি পিটাতে থাকে। এ সময় আমার পাশের ঘরের এক জেঠা আমার মায়ের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজনকে সাথে নিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমার মাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বোন শংকরী রানী রায় জানান- পারিবারিক সম্পত্তির জেরে তার ভাসুর সুরেশ চন্দ্র রায়ের সাথে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলে আসছিলো। গত কয়েকদিন আগেও মামলা হয়েছে এসব ঘটনা নিয়ে। আমি আমার স্বামীর বাড়িতে ছিলাম। ফোনে খবর পেয়ে এসে দেখি কে বা কাহারা আমার বোন কে হত্যা করেছে।
এব্যাপারে সুরেশ চন্দ্র রায় বলেন- তাদের সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্ধ আছে। কিছুদিন পূর্বেও তারা আমার উপর হামলা করেছিলো। এঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে৷ তবে গতকালের হত্যার ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে এব্যাপারে আমরা কিছু জানিনা।
বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান- স্থানীয়ভাবে যেটুকু জেনেছি পূর্ব শত্রুতা জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরূপ চলে আসছে।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান- মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কি কারণে এই ঘটনা, বা কারা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। আমাদের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটন সহ দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান আজ এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা দেন।
মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গৃহীত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ওভারস্পিড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএর ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত সংবাদের পর যানবাহনের মালিকগণ তাদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এভাবে বারবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ ঘটলে বিআরটিএ’র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।