কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সীগাল পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে বিশালদেহী এক ‘প্লাস্টিক দানব’। ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বানানো হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’। পরিত্যক্ত সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি বিশাল এই ভাস্কর্য যেন বিশ্বের ওপর প্লাস্টিকের হিংস্র থাবার প্রতীক।
বুধবার সন্ধ্যায় সৈকতের সুগন্ধা সীগাল পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত এই ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিল্পী আবীর কর্মকার বলেন, চারুকলার একদল শিল্পী প্রায় ৬ টন প্লাস্টিক দিয়ে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন।
তাদের দাবি- এটাই ওসান-প্লাস্টিক দিয়ে বানানো বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ‘প্লাস্টিক মনস্টার’।
সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়াড়ির উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বহু টন প্লাস্টিক বর্জ্যে গড়া বিশাল ভাস্কর্যটি। মাঝখানে যেন দু’ভাগ হয়ে যাওয়া পৃথিবী, যার বুক চিরে বেরিয়ে আসছে প্লাস্টিক।
আয়োজকেরা বলছেন, মানবজাতি যে প্লাস্টিক দূষণের চাপে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে-এ ভাস্কর্য তারই রূপক।
ভাস্কর্যটি দেখতে বুধবার সন্ধ্যায় উপচে পড় ভীড় দেখা যায় সৈকতে। পর্যটকদের কেউ প্রথম দেখায় ভয় পেলেও কাছে গেলে বোঝা যায়, এই ভাস্কর্য নয়- বরং প্রকৃত দানব হলো মানুষের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক, যা প্রতিনিয়ত আঘাত করছে প্রকৃতি, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যকে।
বিদ্যানন্দের দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক বলেন, “পর্যটকরা এখানে এসে শুধু ছবি তুলবেন না, প্লাস্টিকের ক্ষতি সম্পর্কে জানবেন। পুরো মৌসুম জুড়ে পথনাটক, সংগীতানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলবে।”
পর্যটকদের মতে, এই দানব দেখে প্লাস্টিকের ভয়ংকর পরিণতি বোঝা যায় সহজেই।
পর্যটকরা বলেন, মানুষ সচেতন না হলে এই অদৃশ্য দানবই একদিন পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করবে।
সৈকত থেকেই ৮০ টন প্লাস্টিক সংগ্রহ
বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্লাস্টিকবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সারাদেশ থেকে তারা ইতোমধ্যে ৫০০ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছেন।
কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফ সৈকতে চলমান অভিযানে গত চার মাসে সংগৃহীত হয়েছে আরও ৮০ টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য। তার একটি অংশ দিয়েই তৈরি হয়েছে এই দানব ভাস্কর্য।
ভাস্কর্য তৈরিতে প্লাস্টিক ছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ, পেরেক ও অ্যাডহেসিভসহ অন্যান্য উপকরণ।
ভাস্কর্য নির্মাণে সৃষ্টিশীল সহযোগিতা দিয়েছে পপ-ফাইভ অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড।
বিদ্যানন্দের উদ্যোগে গত ৩ আগস্ট ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’ ও ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ মার্কেট’ থেকে এতদিনে বহু প্লাস্টিক সংগ্রহ হয়েছে।
প্লাস্টিকের বিনিময়ে চাল–ডাল–তেলসহ নিত্যপণ্য এবং পর্যটকদের জন্য উপহারও দেওয়া হয়। এতে মানুষ ইতিবাচকভাবে বর্জ্য জমা দিতে উৎসাহিত হয়েছে বলেই জানায় সংগঠনটি।
প্লাস্টিক দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে
২০২২ সালে প্রথমবার কক্সবাজারে প্লাস্টিক দানব প্রদর্শন করে জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ। এবার সেই দানব ফিরেছে আরও ভয়ংকর রূপ নিয়ে ফলে প্রতীকী বার্তাটি স্পষ্ট- ‘প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা কমেনি; বরং আরও বাড়ছে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, “সমুদ্রসৈকতকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষায় বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ও টেকসই। ভাস্কর্য ও প্রদর্শনী পর্যটকদের সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
৫০০ মেট্রিক টন বর্জ্য রিসাইকেল
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্বেচ্ছাশ্রমে প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের কাজ চলছে অনেক দিন ধরেই। আমরা সারাদেশে ৫০০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছি। এতে যেমন সরকারি ব্যয় কমছে, তেমনি মানুষও বুঝতে পারছে—বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা যায়।
তিনি আরও জানান, আগামী ছয় মাস কক্সবাজারে প্লাস্টিক দূষণ রোধে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাবে বিদ্যানন্দ।
‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক ভাস্কর্য’ দাবি
ভাস্কর্যটি নির্মাণে যুক্ত শিল্পীরা দাবি করছেন—এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক ভাস্কর্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ভাস্কর আবীর কর্মকার বলেন, ছয় মেট্রিক টন ওশান প্লাস্টিক দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাঠ, পেরেক, গামসহ কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে কাঠামো স্থিতিশীল রাখতে।
তিনি বলেন, নোংরা প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করে শিল্পে রূপ দেওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এই ভাস্কর্য সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক দূষণের বাস্তব ক্ষতি বুঝতে সহায়তা করবে।
বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক বলেন, গত চার মাসে উপকূলের বিভিন্ন অংশ থেকে যে প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে, তা বাছাই ও পরিশোধন করে ভাস্কর্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি জানান, পুরো পর্যটন মৌসুমে ভাস্কর্যটির পাশে থাকবে পথনাটক, সংগীতানুষ্ঠানসহ প্লাস্টিকবিরোধী বিভিন্ন আয়োজন। পর্যটকদের চোখের সামনে বার্তাটা স্পষ্ট করে দিতে চাই—আপনি একটি প্লাস্টিক ফেললে ক্ষতি শুধু সমুদ্রের নয়, আপনার ভবিষ্যতেরও।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভাস্কর্য
উদ্বোধনের পর থেকেই সীগাল পয়েন্টে উৎসুক মানুষের ভিড় বেড়েছে। অনেকে মোবাইলে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন।স্থানীয়রা বলছেন, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরির এমন সৃজনশীল উদ্যোগ কক্সবাজারে এবারই প্রথম।
পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিকের ভয়াবহতা প্রচারণা বা লিফলেট নয়—এ ধরনের বাস্তব ও দৃশ্যমান শিল্পই সবচেয়ে দ্রুত মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনে। বাংলাদেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে পরিবেশ রক্ষায় ‘প্লাস্টিক দানব’ এখন হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নীলফামারীর ডিমলা থানায় ছাদের পলেস্তারা ধসে এক এএসআই আহত হয়েছেন। এ সময় একটি কম্পিউটারও ভেঙে গেছে। ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা ধসে তার শরীর ও টেবিলের ওপর পড়ে। এতে তিনি কাঁধে আঘাত পান।
পরে তাকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এএসআই মসলিম উদ্দিন বলেন, “ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে। এতে আমার কাঁধে আঘাত লাগে। এ সময় থানার কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটারও ভেঙে যায়।”
ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, “বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে কক্ষটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অভ্যন্তরীণ বোরো ২০২৬ মৌসুমে গাইবান্ধার ৭ উপজেলার ১১ টি এলএসডিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩ শত ৯৬ মে.টন। যেখানে সরাসরি গোডাউনে এসে ধান দিতে পেরে হাসি ফুটেছে গাইবান্ধার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের মুখে।
জানা যায়, বোরো মৌসুম ২০২৬ এ ধান সংগ্রহের জন্য কৃষকদের Apps এর মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন/আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গাইবান্ধা জেলা জুড়ে ব্যাপক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। যাতে করে প্রকৃত কৃষকরা নিজের বা পরিবারের মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আবেদন বা নিবন্ধন করতে পারেন। যেখানে খাদ্য গোডাউনে ধান কখন, কীভাবে দিতে হবে তার স্পষ্ট সুনির্দিষ্ট ধারণা পান প্রান্তিক কৃষকরা।
গাইবান্ধা সদর, বোনারপাড়া, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর, নলডাঙ্গা, বামনডাঙ্গা, সুন্দরগঞ্জ, মহিমাগঞ্জ, গোলাপবাগ, কামদিয়া, পলাশবাড়ীসহ মোট ১১ টি এলএসডিতে নির্বাচিত কৃষকদের কাছে থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে কৃষক প্রতি ৩ টন করে ধান ক্রয় সম্পন্ন করেছে। ধান সংগ্রহে কৃষকদের নিজেদের ব্যাংক হিসাবে তাঁদের ন্যায্য মূল পরিশোধ করে খাদ্য বিভাগ। এতে করে হয়রানি ছাড়াই সুষ্ঠু পরিবেশে গুদামে ধান দিয়ে কৃষকরা অনেক আনন্দিত।
ধানের বিষয়ে কথা হয় বোনারপাড়া ইউনিয়নের কৃষক লাজু মিয়ার সাথে তিনি জানান, একজন কৃষক হিসেবে গুদামে ধান দিয়ে ন্যায্য মূল্য পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। তবে গুদামে ধান দেয়ার পরিবেশ খুবই ভালো ছিলো। গুদামে কর্তব্যরত সকলের সহযোগিতাও পেয়েছি অনেক।
গাইবান্ধা সদর এলএসডি'র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম শাহিদ হাসান জানান, প্রকৃত কৃষকদের কাছে থেকে ধান নিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। অনেক কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তারা ফসল ফলান। তাঁরা আমাদের দেশ ও দশের গর্ব। যতটুকু পেরেছি তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রওশানুল কাওছার জানান, আমার উপজেলায় খাদ্য গোডাউনে সঠিকভাবে ধান সংগ্রহ করার লক্ষ্যে এলএসডি গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভালোভাবে নির্দেশনা দেয়া আছে। কৃষকদের ধান কৃষকরা যেন সম্মানের সাথে দিতে পারেন। পাশাপাশি আমিও মাঝে মাঝে পরিদর্শন করেছি।
ধান সংগ্রহ নিয়ে গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু জানান, গাইবান্ধায় ১১ টি এলএসডি গোডাউনে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে থেকে মোট ১৪ হাজার ৩ শত ৯৬ মে.টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। যেখানে কৃষকরা আনন্দের সাথে গোডাউনে এসে স্ব শরীরে উপস্থিত থেকে ধান দিয়ে নিজেদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ নেয়। আমাদের সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া আছে, কৃষকরা আমাদের দেশের সম্পদ তাদের সম্মানের যেন ঘাটতি না হয়।
জেলা জুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গোডাউনে ধান দিয়েছে গাইবান্ধার কৃষকরা। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণেই কৃষকেরা এমন পরিবেশ পেয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পাশাপাশি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ধান দিতে পেরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কৃষকসহ স্থানীয় সচেতনমহল।
বানিজ্য, শিল্প বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেট অঞ্চলে অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষি কাজে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কৃষির উন্নয়ন করতে হবে।
তিনি আজ শনিবার সিলেট নগরির একটি বেসরকারি রেষ্টুরেন্টে "আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বিগত বছরে বাস্তবায়ন মূল্যায়ন'' বিষয়ক জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় প্রধান অতিখির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক ডক্টর মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে রাখেন প্রকল্প পরিচালক রফিক উদ্দিন। এতে মূল প্রবন্দ পাঠ করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর শহিদুল ইসলাম। পবিত্র কোরান ও গিতা পাঠের মাধ্যেমে ও মনিটরিং অফিসার আক্রাম হোসেনের পরিচালনায় শুরু হওয়া কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষক আব্দুল আহাদ, সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শামীম আহমদ, শামীমূল হক, রাশেদুজ্জামান, রায়হান পারভেজ রনি। এতে প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা, রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, কৃষক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মন্ত্রী আরো বলেন, সিলেটে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষকরা তিন ফসলা জমির পরিমান বাড়াতে পারবে। তাই কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা করে তার ব্যবস্থা করবো। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ণ প্রকল্প এর আয়োজন করে। কর্মশালা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান দেশের চলমান গ্যাস সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি আরো বলেছেন, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি বাস্তবতা। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন মিল ও কারখানা গ্যাসের সংকটে ভুগছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি ‘উত্তরাধিকার সূত্রে’ পাওয়া সংকট। তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে কাজ করছে। স্থায়ীভাবে সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য অবকাঠামো তৈরি করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো তৈরি করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেটা দিতে হবে। এই অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।’
তবে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনার সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মালয়েশিয়ার ছোট আকারের জাহাজগুলো বর্তমানে অন্যত্র কাজে নিয়োজিত। ফলে সেখান থেকে দ্রুত গ্যাস আনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও সাময়িকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা যায় কিনা, সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আপৎকালীন কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নিতে হবে।
সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রতি মানবিক ও সেবামূলক মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও সেবা নিতে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা ও বৈষম্য দূর করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অতি দ্রুত পঞ্চগড়ের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহেরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফি, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় ভোজের ঘোষণা দিয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘১৫ আগস্ট আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের যে প্রাণপ্রিয় গরুটা আনতে পারছি, তার নাম দেওয়া হয়েছে বাকশাল। এই বাকশালটাকে আমরা কোরবানি করে উদ্যাপন করব। এটাকে জুলাই জিয়াফতও বলতে পারেন, জুলাইয়ের আপ্যায়ন। আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ থাকবে।’
পরে গতকাল গভীর রাতে গরু জবাইয়ের পর একটি পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার লেখেন, ‘১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম। আমি মেজর সালাউদ্দিন আম্মার বলছি। লীগের...।’
‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিবন্ধন ফি হিসেবে ১৫ টাকা নিয়ে নেওয়া (গুগল ফরমে আবেদনের ভিত্তিতে) হয়েছে। ৭৫০ জন শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। ৬৫০ জনের জন্য গরু ভোজ ও বাকিদের জন্য অন্য খাবার রাখা হয়েছে।
শুরুতে ফেসবুকে রাকসুর পক্ষ থেকে এ জিয়াফতের আয়োজন করা হয়েছে বলে প্রচার চালানো হয়। পরে জানা যায়, এটি রাকসুর কোনো আয়োজন নয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকে ফেসবুকে সমালোচনা করেছেন।
নিশা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘অথচ হলের খাবারের মান আগের মতোই আছে। ইন্টারনেটের বেহাল দশা। আবাসিক সমস্যার নেই কোনো সমাধান। এই হলো আমাদের ৩৫ বছর পর পাওয়া রাকসুর কর্মকাণ্ড।’
সালাউদ্দিন আম্মারের এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দেলোয়ার হোসাইন নামের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন, ‘...তোর সমস্ত কাজকর্ম জুলাইয়ের আন্দোলন পর্যন্ত ঠিক ছিল। তার পর থেকে ব্যবহৃত হচ্ছিস।’
বেলা দেড়টার পর রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অপেক্ষা করছেন। রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ঘাসের ওপর কিছু ত্রিপল বিছানো হচ্ছে। জোহরের নামাজ শেষে বেলা পৌনে দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেন। ২টা ১০ মিনিটে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার আনতে দেখা যায়।
কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে বসার জায়গার সম্মুখে একটা ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সেখানে লেখা আছে, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে জুলাইয়ের জিয়াফত।’ ব্যানারের ওপরের এক পাশে লেখা—‘মুজিববাদ, মুর্দাবাদ’, অন্য পাশে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।
তবে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নারী শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। রাকসু ভবন থেকে তাঁদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে সালাউদ্দিন আম্মার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হননি। পরে আমাদের এক ভাই এটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।’
গরুর নাম বাকশাল রাখার কারণ জানিয়ে আম্মার বলেন, ‘আজ বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। সে জন্য গরুর নাম বাকশাল রাখা হয়েছে।’
ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখরুদ্দীন আহমেদ বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, উসমান গনি মল্লিক মাখন ও সাখাওয়াত হোসেন পাঠান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবুসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।