শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।
শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’
আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’
"দুর্ঘটনা দুর্যোগে, সবার পাশে-সবার আগে" স্লোগানে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে অগ্নিকান্ড, উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনসাইড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯ আগষ্ট বুধবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের বাস্তবায়নে এবং জেলা প্রশাসক শরীফা হক এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে উক্ত মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত হোসেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।
জোনায়েদ মিয়া ও তার স্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের খাবারে আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে যাওয়া সেই আলোচিত জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া বিয়ে করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জুনায়েদ মিয়া। এর আগে রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নতুন কনে জান্নাত আক্তার আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। কনের মামা তাজু সরকারের নেয়ামতপুর গ্রামের বাড়িতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ মিয়ার বাড়িও সেখানে।
বিয়ের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ মিয়া লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’
জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
এর আগে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে যান জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে জুনায়েদ নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে প্রথম বিয়ের কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি লিখেন, সোমবার থেকে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ চালানো হচ্ছে। বিয়ের আসরে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ আমার কাছে পূর্ব নির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে এবং বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়। পরে আমাদের সব লাগেজ, যা আমরা কনের জন্য নিয়েছিলাম সেটা ফেরত পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, কনের সঙ্গে আমাকে কোনো রকম যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি এবং সে যাতে যোগাযোগ করতে না পারে, সেভাবেই তার বাবা তাকে শাসিয়েছে। রাতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করতে বললেও আমি তাতে রাজি হইনি। ফলে আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, জবাই করে ফেলার। তারপর তারা রাত থেকে ভুয়া পোস্ট করিয়ে আমার সম্মানহানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এগুলাতে বিচলিত হবেন না, সেই আশা করছি।
তবে বরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কাবিনের টাকা চাওয়ার দাবিকে মিথ্যা বানোয়াট উল্লেখ করে কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। পরে ওই বর অশালীন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করলে কনের বাবা বিয়ে দেননি। অবশেষে বরকে বিয়ে না করেই ফিরতে হয়েছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্ভোধন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র, বই পড়া প্রতিযোগিতা, চারাগাছ বিতরণ, নজরুল বর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাদকবিরোধী সমাবেশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভ‚ইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম. রকিবুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল সি. বীনা খ্রীস্টিনা কোড়াইয়া। সভায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র ও বই পড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের যুক্তি, জ্ঞান ও পাঠাভ্যাস, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন পরিবেশনায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভ‚ইয়া।
বিকেলে কালীগঞ্জ আরআরএন সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও পৌরসভার লিনিক সদস্যদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক শহীদুল্লাহ্ ইভা, পূর্ণিমা রোজারিও ও দীপা গমেজের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আল-আমিন হালদার, আরিফ হোসেন, সেন্ট মেরীস গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ফাদার আলবিন গমেজ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া প্রমূখ।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে কালীগঞ্জ কাপাসিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন আকাশ, সমবায় কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সামসুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ্, মো. সোলেমান আলম, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইয়াছিন মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাড়ে ৮টায় উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে তাপস রায় জানান- আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি, বাড়িতে মা ও বাবা থাকেন। আমার মা প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে টিভি দেখছিলেন, বাবা দোকানে চা পান করতে যান। এমন সময় দুষ্কৃতিকারীরা ঘরে ঢুকে আমার মায়ের মাথায় এলোপাথারি পিটাতে থাকে। এ সময় আমার পাশের ঘরের এক জেঠা আমার মায়ের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজনকে সাথে নিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমার মাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বোন শংকরী রানী রায় জানান- পারিবারিক সম্পত্তির জেরে তার ভাসুর সুরেশ চন্দ্র রায়ের সাথে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলে আসছিলো। গত কয়েকদিন আগেও মামলা হয়েছে এসব ঘটনা নিয়ে। আমি আমার স্বামীর বাড়িতে ছিলাম। ফোনে খবর পেয়ে এসে দেখি কে বা কাহারা আমার বোন কে হত্যা করেছে।
এব্যাপারে সুরেশ চন্দ্র রায় বলেন- তাদের সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্ধ আছে। কিছুদিন পূর্বেও তারা আমার উপর হামলা করেছিলো। এঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে৷ তবে গতকালের হত্যার ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে এব্যাপারে আমরা কিছু জানিনা।
বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান- স্থানীয়ভাবে যেটুকু জেনেছি পূর্ব শত্রুতা জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরূপ চলে আসছে।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান- মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কি কারণে এই ঘটনা, বা কারা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। আমাদের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটন সহ দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান আজ এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা দেন।
মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গৃহীত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ওভারস্পিড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএর ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত সংবাদের পর যানবাহনের মালিকগণ তাদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এভাবে বারবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ ঘটলে বিআরটিএ’র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন মজুদ ও বিতরণের দায়ে তিন দোকানিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই অভিযানে প্রায় সাড়ে ৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া রোডের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজাতুল কুবরা ফারিহা। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন মজুদ ও বিতরণের অপরাধে তিনটি দোকানে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। এ সময় আনুমানিক ৫ দশমিক ৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও জেলার আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন শপিং ব্যাগের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, পরিবেশ রক্ষায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।