জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান
সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসবে নিয়োগ পেয়েছেন মু. রেজা হাসান। আজ রোববার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসলাঈল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদলি ও পদায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিসিএস ২৯ ব্যাচের কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বর্তমানে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করছেন। একই প্রজ্ঞাপনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজ রোজী আকতারকে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সিলেটের হযরত শাহজালালের মাজারের ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রথা ও সংস্কার ভেঙে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের প্রেক্ষিতে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সময় গত ২১ জুন মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে সরিয়ে দেয় সরকার। সারওয়ার আলম এরপর ২২ জুন দায়িত্ব হস্তান্তর করে সিলেট ছাড়েন। সারওয়ার আলমকে সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে। এখন পর্যন্ত তাকে কোনো সরকারি দায়িত্ব দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সারওয়ার আলমের বিদায়ের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এই শূন্য পদে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করেন পিংকি সাহা।
বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়। ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা, সমালোচনা চলাকালেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক পর্যায়ে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স
'আর দু'একদিন এভাবে বালুক্ষয় হলে সমুদ্র সৈকতর পুলিশ বক্সটি সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে আশেপাশের অংশ সমুদ্রে চলে গেছে। সমুদ্র উত্তাল হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি, কখন শেষ অংশটুকুও ধসে পড়ে। আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, উপজেলার মাসিক মিটিংসহ বিভিন্ন দপ্তরে মেরামত ও সংরক্ষনের বিষয়ে কথা বলেছে কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় পুলিশ বক্সের ভিতরে থাকা সকল মালামাল অফিসে নিয়ে গেছে। কোনোমতে এখন সামনের অংশে বসে দায়িত্ব পালন করছে। রোদ, বর্ষা উপেক্ষা করে হ্যান্ড মাইক নিয়ে পর্যটকদের সেবা দিচ্ছে, এভাবেই গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন ট্যুরিষ্ট পুলিশ, কুয়াকাটা জোন ইনচার্জ নাজমুল আহসান।
গত কয়েকদিনের টানা জোয়ার ও উত্তাল ঢেউয়ে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানি আগের তুলনায় অনেক ভেতরে উঠে আসায় সৈকতের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ভাঙনও বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পর্যটন অবকাঠামো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিরো পয়েন্টের অস্থায়ী পুলিশ বক্সটির নিচের মাটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে ধসে গেছে। ফলে শুধু পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তাই নয়, পর্যটকদের চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সগির মিয়া বলেন, জোয়ারের সময় ঢেউ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ভেতরে চলে আসছে। কয়েক মাস আগেও যেসব স্থানে পর্যটকেরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেন, সেখানে এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। মসজিদ, মন্দির ও পুলিশ বক্সের কাছাকাছি পর্যন্ত পানি চলে আসায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটন অবকাঠামোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
কুয়াকাটা ভ্রমণে আসা পর্যটক হাসান মাসুদ বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে সৈকতের ভাঙনের দৃশ্য দেখে হতাশ হয়েছি।
কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। কুয়াকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ধর্মীয় এলাকায় স্থায়ী উপকূল সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এসোসিয়েশন সভাপতি মোঃ মোতালেব শরীফ বলেন, গত এক দশকে কুয়াকাটাকে ঘিরে শত শত কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সিসহ বিভিন্ন পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সৈকতের ভাঙন ও পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়লে পুরো পর্যটনশিল্প ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত বড় পরিসরের উপকূল সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, কুয়াকাটায় কাজ করতে গিয়ে অনেক ঝামেলা হয়, ইমার্জেন্সি কাজ করতে গেলে সাধারণ মানুষ বস্তায় দেয়া বালু নিয়ে প্রশ্ন করে। আমরা সাপ্লাই বস্তা দেয়ার চেষ্টা করছি। যাতে টুরিস্ট পুলিশ বক্স কে রক্ষা করা যায়, আপাতত দুই একদিনের মধ্যে সেই কাজটা আমরা করবো।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে একটি স্পন্সর কোম্পানির সাথে কথা হয়েছে, যেটা বিলীন হচ্ছে তার পাশে আর একটি তৈরী করে দেবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, একটি গাছ শুধু আমাদের ফলই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুমলিয়া ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন জাতের ১ হাজার ৭ শত চারা গাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ সব বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) সকালে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. খাইরুল আহসান মিন্টু, বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক।
বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাসকা দেলোয়ার ও আলিফা ইসলাম স্বর্ণার যৌথ সঞ্চালনায় চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র মিত্র। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমূখ।
তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, সবুজায়ন ও সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. খাইরুল আহসান মিন্টু বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। তারই অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম এর নির্দেশনায় আজ তুমলিয়া ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ১ হাজার ৭ শত চারা বিতরণে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজন। পরিবেশ রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ছড়িয়ে দিতে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
এ সময় স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৯ আগষ্ট) সকালে উপজেলার জামালপুর কলেজ মাঠে জামালপুর কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি হাজী মো. জাহাঙ্গীর কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ. কে. এম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম কামরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু।
কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক নাজমুন নাহার এর যৌথ সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আলম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. হারুন অর রশিদ দেওয়ান, বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীন প্রমূখ।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসেন মো. সামসুল আলম এর সার্বিক সহযোগীতায় অনুষ্ঠানে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য ক্রেস্ট প্রদান করে তাদের সংবর্ধনা ও অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হয়।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং পুরস্কার গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতুর ওপর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পঞ্চগড় পৌর যুবলীগের সভাপতি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাসনাত মো. হামিদুর রহমান (৩৮) এবং তার ছোট ভাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান শিশির (২৮)। তারা পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মোকলেছুর রহমানের ছেলে।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে বোচাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল হক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় দুই ভাইয়ের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালায়। পরে তাদের কাছ থেকে ৩০টি কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি ইয়াবার ওজন শূন্য দশমিক ১ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা মাদকের ওজন ৩ গ্রাম। প্রতি পিস ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩০০ টাকা হিসেবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সিজার মূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় বোচাগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন এসআই সুমন কুমার সরকার।
পুলিশের দাবি, ইয়াবাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন দুই ভাই। বোচাগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। পরে মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোকলেছুর রহমান জানান, হাসনাত ও শিশির গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানার পর তাদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে থাকা একাধিক মামলার তথ্য বেতার বার্তার মাধ্যমে বোচাগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ওই মামলাগুলোতে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে পঞ্চগড়ে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করা হয়। (২০ ই আগষ্ট)বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ এলাকায় এ কর্মসূচী পালন করা হয়।
“পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়” এই স্লোগানে নিরাপদ সড়ক চাই ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে অংশ নেন, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. জাহিদ ইকবাল, সহ সভাপতি মাসুদ আহম্মেদ সুবর্ণ, সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল বর্মন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহার রাজা, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমানা আক্তার লিসাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় সংগঠনটের পক্ষ থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপন করা হয়। এ জাতীয় সচেতনতামূলক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে পালন করা হবে বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নাটোরের লালপুরে সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যুতে করা মামলা তুলে নিতে বাদী ও তাঁর পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী মা।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া কারিগরপাড়া গ্রামের মোঃ মোকারেবুর রহমান বাদশার ১১ বছরের শিশু সন্তান মোঃ আইয়ান আহমেদ আদিব গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যায়। ঐ দিনই লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে সন্তানের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকায় মা মোছাঃ আবিদা খাতুন বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে তাঁর ভাসুর ও জা’ সহ মোট ৫ জনকে বিবাদী করা হয়।
জিডিতে বাদী অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগষ্ট ২০২৬ রাত ১২টার দিকে বিবাদীরা বাদীর বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাদী ও তাঁর স্বামী গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে এবং মামলা তুলবেন না বলে জানালে অভিযুক্তরা তাঁদেরকে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুযোগ পেলেই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে লালপুর থানায় লিখিত আবেদন জানান ভুক্তভোগী আবিদা খাতুন।
এবিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জিডির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।