ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৯ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় অবরোধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় অবিলম্বে সব হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা হয়। 


এ সময় শিক্ষার্থীদের মহাসড়কে অবস্থান করে নানামুখী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।


এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে তার প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।


অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে। 


শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের লাশ কোটবাড়ী গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।


এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।


অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় শনিবারও আকুতি জানিয়েছিলেন, সেই সন্তানই আজ ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। আর কয়েক ঘণ্টা পর প্রিয় ক্যাম্পাস ও গন্ধমতির মাটিতে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় অপ্রতিমকে। 



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ (ডিএস) ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমের ওপর ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০৪ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অফিসের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। 


তিনি বলেন, কারিকুলাম পরিমার্জন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য বিএনকিউএফের গাইডলাইন অনুসরণ করে কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। কারিকুলামে নতুন কিছু সংযোজন করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে।


তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডটার্ম পরীক্ষা চালুর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় কারিকুলাম পরিমার্জনের বিভিন্ন দিক নিয়েও পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করেন।


ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের প্রধান ড. মোঃ হাসান হাওলাদারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন। রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ নুরুজ্জামান হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক তাসনুভা ইয়াসমিন।


কর্মশালায় ডিসিপ্লিনের পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন দিক পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসাইন। তাঁর উপস্থাপনার ভিত্তিতে পাঠ্যক্রমের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


পরে রিসোর্স পারসনরা পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে মতামত দেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাই ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।


অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক ও প্রভাষক আব্দুল ইলাহ্ আল-মাহ্দী। কর্মশালায় সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রধান, আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালক, ডিএস ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পর সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরার একটি মাতৃত্বকালীন (মেন্টারনিটি) সেবা ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। তদন্তে ইউনিটটিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত। তিনি জানান, হাসপাতালের সম্প্রতি চালু হওয়া ‘অল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট নেই। এ ছাড়া দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।


ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, এসব অসংগতির কারণে ইউনিটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় চালুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্দেশনা অমান্য করা হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন নবজাতকের স্বজনেরা।


স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অস্ত্রোপচার না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য ঘটনার দুই দিন আগে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


নবজাতকের স্বজনরা জনান, আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুর ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ ছিল। এ কারণে তাঁরা শুরু থেকেই চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর অনুরোধ জানান। তবে চিকিৎসকেরা মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। স্বজনদের অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


তারা জানান, প্রসবের একপর্যায়ে নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে যায়। এ সময় টানাটানিতে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হলেও ততক্ষণে নবজাতকটি মারা যায় বলে স্বজনদের দাবি। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নাজমা বেগমের স্বজনেরা। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটির তদন্তে মাউন্ট এডোরার মাতৃত্বকালীন সেবা ইউনিটে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়ার পর রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

মতিউর রহমান মিল্টনের নেতৃত্বে

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা।


বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।


মিছিলটি উপজেলার মেঘার মাঠ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন যুবদলের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।


মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।


বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।


তাঁরা বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তাঁরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৩ পিএম


পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক ও মিডিয়া উইং কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের  সাথে কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব সদস্যদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে ক্লাবের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি  মো : আসলাম সিকদারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বন্দরের ফার্স্ট ক্লাস মেরিনার মো. রাজিব হোসেন।


এ সময় বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসকে রঞ্জন, সিনিয়র সাংবাদিক এইচ এম আকবর, রাসেল মোল্লা, মোয়াজ্জেম হোসেন, রেহান উদ্দিন রেহান, আরিফ সিকদার, তাজুল ইসলাম আজাদ, এসএম আলমগীর হোসেন, ইমন আল আহসান, নয়ন অভীরাম গাইন নয়নসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা। 


মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার মাধ্যমে পায়রা বন্দর আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় পায়রা বন্দর দেশের আলো ছড়াবে। সভায় পায়রা বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অতিথিদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন প্রেসক্লাবের সকল সদস্যরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৯ পিএম

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।


একই রাতে পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ এবং ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।


বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কিশোরীগঞ্জ বিওপির টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী পঁচাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তির মাদক সেবনের প্রস্তুতির তথ্য পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।


একপর্যায়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ লাইচু (২৭), মোঃ সাখাওয়াত (২৮), মোঃ ওমর ফারুক (৩৫), মোঃ মাজেদুর রহমান (৩২) ও মোঃ জাফরুল ইসলাম (২৩)। তাদের সবার বাড়ী দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।


পরে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশী করে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা মালামালসহ আটক পাঁচজনকে বিরল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই রাতে ৪২ বিজিবির অধীনস্থ এনায়েতপুর, চাপসার ও চান্দেরহাট বিওপির সদস্যরা পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে দিনাজপুর জেলার বিরল এবং ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ ও ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।


বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা। এসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া এবং এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে। তাই সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান আপসহীন।


 অপরাধের ধরন ও কৌশল বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অভিযান আরও কার্যকর করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

দেলদুয়ারে দুপাশে পাকা সড়ক, মাঝখানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের কান্না!


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০১ পিএম

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘পরেশ সাধুর দহ’র ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার নান্দুরিয়া চকবাজার ও পাথরাইলের টেঘুরি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই দহটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো হওয়ায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। উপজেলার গাদতলা-টেগুরি সড়কের আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত পরেশ সাধুর দহ’র দুপাশেই রয়েছে চমৎকার পাকা সড়ক। কিন্তু মাঝখানে দহের ওপর কোনো সেতু না থাকায় এই পাকা সড়ক দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুপাশের পাকা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। যানবাহন না চলায় সড়কটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।




স্থানীয়রা জানায়, এই অঞ্চলে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেতুর অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে বা জেলা সদরে নিয়ে যেতে পারেন না। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


এছাড়া এলাকায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভুক্তভোগীদের প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।


এলাকাবাসীর বড় অভিযোগ, বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে হলে বিকল্প সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও পরিবহন খরচও বাড়ছে কয়েক গুণ। অথচ পরেশ সাধুর দহের ওপর মাত্র একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলা সদরের দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় দুই-ই এক ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে আসত। বাঁচত মানুষের শ্রম, সময় ও অর্থ।


নান্দুরিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন আগে গাদতলা-টেগুরি সড়কটি পাকা করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু পরেশ সাধুর দহে কোনো সেতু না থাকায় এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। একান্ত প্রয়োজনে আমাদের মতো কিছু মানুষ শুধু পায়ে হেঁটে এই রাস্তায় চলাচল করে। পণ্য আনা-নেওয়া বা জরুরি যাতায়াতের কোনো সুযোগ এখানে নেই। এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে আমরা দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি। 


জাঙ্গালিয়া গ্রামের সাগর মিয়া, মুকুল হোসেন, আবেদ আলী সহ অনেকেই জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে এই জায়গায় সেতু নির্মাণের বড় বড় গালভরা আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে কাজের কাজ কিছুই হয় না- সবাই সব ভুলে যান। তাদেরকে অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। তাদের এই কষ্ট ও কান্না দেখার মতো যেন কেউ নেই। এসব এলাকার অবহেলিত জনগণের ভোগান্তি লাঘবে আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়, তারা অবিলম্বে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ ও সেতু নির্মাণ দেখতে চান।




তিন ইউনিয়নের হাজারো ভুক্তভোগী মানুষের এখন একটাই দাবি- জনস্বার্থে, এলাকার অর্থনৈতিক স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরেশ সাধুর দহের ওপর আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। 


এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী জানান, তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছেন এবং এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওইস্থানে সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন।


তবে এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং একটি সেতু অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ সব খবর