উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ না করলে ভবনের ফটকে তালা এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তারা উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এই প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত তিনি উপাচার্য ভবনে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা রয়েছেন। সেখানে সিভিল পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে।  


এর আগে সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পৌনে ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন।


পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।


দুই তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল আর খাবার নিয়ে উপাচার্য ভবনে ঢুকতে গেলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তৈরি হয় উত্তেজনা।  এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার। পরক্ষণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 


নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি। বর্তমানে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছি। তাঁরা আসলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবো, তাদের সাথে কথা বলব।’ 


সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, সকাল থেকে তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।’ 


ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই প্রবেশ করেছি।’


ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্বয় বলেন, ‘সরকার যেহেতু স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি।’

চুয়েটে উপাচার্য ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘যাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি, তার কাজ নিয়ে তো শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। স্যারকে কাজের সুযোগ দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।’


চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’


উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা চলছে। এর মধ্যেই নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। 


২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।



বিষয় :




গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩০ পিএম

একটি সংসারে নতুন অতিথির আগমনের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার দিনগুলোতেই নেমে এলো নির্মম পরিণতি। গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে সীমা রানী দাস (২৫) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে তার স্বামী। হত্যার পর অভিযুক্ত নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 


রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের বড়চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী উদ্ভব দাসকে আটক করেছে পুলিশ। 


স্থানীয়রা জানান, রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বিষয়টি জানাজানি হয়। বাড়ির ভেতর সীমা রানী দাসের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছাপ দেখে সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা।


ওই এলাকার জহিরুল হক বলেন,পারিবারিক বিষয় নিয়ে সীমা ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তবে সেই বিরোধের পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর উদ্ভব দাস নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সীমা রানী দাসের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।


তিনি বলেন,  নিহতের শরীর, মাথা ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৬ পিএম

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি ১৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।  




জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ১৫ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১১ জন, সেনবাগ থানায় চারজন, চরজব্বর থানায় আটজন, সোনাইমুড়ী থানায় চারজন, চাটখিল থানায় চারজন, হাতিয়া থানায় ৫১ জন এবং কবিরহাট থানায় ১২ জন রয়েছেন। হাতিয়া থানায় আটক ৫১ জনের মধ্যে একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি ৫০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে জেলা পুলিশ।


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৫ পিএম

ঈশ্বরগঞ্জ থানায় যোগদানের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।


গত ৮ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন। যোগদানের পর সেপ্টেম্বর মাসে থানা পুলিশের সামগ্রিক কার্যক্রম মূল্যায়নে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান এবং জনবান্ধব পুলিশিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তাঁকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।


সোমবার (১২ অক্টোবর) ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। সভায় সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে জেলার থানাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম ও কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করা হয়।


সম্মাননা গ্রহণের পর ওসি মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন বলেন, “এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, এটি ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের আস্থা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”


তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়াকে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ স্বীকৃতি অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে থানা পুলিশের সদস্যদের আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।






ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

২০০ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও মোটরসাইকেল জব্দ


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৬ পিএম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০ গ্রাম হেরোইনসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ধোবাউড়া উপজেলার ঘিলাগড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে মো. একরামুল ইসলাম (৩৮) এবং উত্তর রাণীপুর গ্রামের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৪০)।


জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন ও ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ মাহবুবুল হকের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত ৯ অক্টোবর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ধোবাউড়া থানার দক্ষিণ মাইজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন।


অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ২০০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা, ১০ গ্রাম কথিত হেরোইন, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।


ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়েরের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের মাধ্যমে এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলে প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৬ পিএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া (৪০) ও শাশুড়ি করফুলের নেছাকে (৫৮) আটক করেছে পুলিশ।


সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তুষ্ট লাল। এর আগে রোববার রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত কামাল সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের ছেলে। তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী মসজিদ বাড়ির আমির হোসেনের মেয়ে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুয়া খেলায় আসক্তি নিয়ে কামালের সঙ্গে তানিয়ার পারিবারিক কলহ ছিল। এর জেরে পাঁচ-ছয় বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও কামাল তার সাবেক স্ত্রীকে কাজে যাওয়া-আসার পথে বিরক্ত করতেন। কিছুদিন আগে কামাল সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে আসেন। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে জায়গা দেননি। এরপর থেকে তার মেয়েকে দেখতে তিনি শ্বশুর বাড়ির পাশের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে মাথার নিচে ইট দিয়ে ঘুমাতেন।


পুলিশ জানায়, গত শনিবার ওই মাদ্রাসার মাঠে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামাল ইট দিয়ে তার সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে মারধর করে আহত করেন। এ ঘটনার জেরে পরদিন রোববার ঢাকা থেকে আসেন কামালের শ্যালক আকাশ (২০)। এরপর রোববার রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত কামালকে তার স্ত্রী তানিয়া, শাশুড়ি করফুলের নেছা ও শ্যালক আকাশ কামালের পেটের বাম পাশে, পিঠে, মাথায়, হাতে ও বাম উরুতে ছরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে গণঅনশন

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪২ পিএম

এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল ও শ্রমিক কর্মচারীদের চাকরির নিশ্চয়তাসহ মৌলিক দাবি পূরণের লক্ষ্যে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। দাবি পূরণ না হলে এখান থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই  গণঅনশন শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। 


অনশন চলার সময় ‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেব না’, ‘গো ব্যাক গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড ডিপি ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।


চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘গোপন এই চুক্তি বাতিল করতে অনেকদিন ধরেই আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু আমাদের দাবি না মেনে জোর করে চুক্তি করেছে সরকার। এটি বাতিল করতে হবে।’ 


আরেক আন্দোলনকারী নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘গণঅনশনে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবে। কাজ বন্ধ রেখে বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরাও অংশ নিচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি পালন করবো। দাবি পূরণ না হলে এখান থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’


আন্দোলনকারীরা জানান, ৮ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই তারা বিক্ষোভ মিছিল করে সরকারকে আলোচনার জন‍্য দুই দিনের সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গণঅনশন করছি।


৮ অক্টোবর আগারগাঁওয়ের ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তি সই হয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এইচ ই ইসা কারিম এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান চুক্তিতে সই করেন। 


এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬ মাসের মধ্যে এনসিটি পুরোপুরি বুঝে নিয়ে অপারেশনাল কাজ শুরু করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।