গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩০ পিএম

একটি সংসারে নতুন অতিথির আগমনের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার দিনগুলোতেই নেমে এলো নির্মম পরিণতি। গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে সীমা রানী দাস (২৫) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে তার স্বামী। হত্যার পর অভিযুক্ত নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 


রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের বড়চালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী উদ্ভব দাসকে আটক করেছে পুলিশ। 


স্থানীয়রা জানান, রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বিষয়টি জানাজানি হয়। বাড়ির ভেতর সীমা রানী দাসের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছাপ দেখে সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা।


ওই এলাকার জহিরুল হক বলেন,পারিবারিক বিষয় নিয়ে সীমা ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তবে সেই বিরোধের পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর উদ্ভব দাস নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সীমা রানী দাসের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।


তিনি বলেন,  নিহতের শরীর, মাথা ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৮ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল, চলাচলের এজমালি রাস্তা কেটে পরিবার অবরুদ্ধ করার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আইন উদ্দিন (৫৮)।


আজ সোমবার ​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রীপুর থানাধীন তেলিহাটি মৌজার (জেএল-১০) আরএস ৪৩৪ নং খতিয়ানের ৬২০৪, ৬২০৫ ও ৬২০৬ নং দাগের সম্পত্তি তাদের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত। উক্ত জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী হুমায়ুন রশিদ, জসিম উদ্দিন, নুরুল আমিন, জহিরুল ও আল-আমীনসহ তাদের সহযোগীরা বেআইনিভাবে সীমানা প্রাচীর বিনষ্ট করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। একই সাথে তাদের বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র এজমালি রাস্তাটি কেটে আরসিসি পিলার বসিয়ে পরিবারটিকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।


​ভুক্তভোগী আইন উদ্দিন আরও জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিবাদীরা উক্ত জমিতে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণে বাধা দিলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ফলে পরিবার নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।


​এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি বেআইনি দখল বন্ধ, পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।


সাগর হোসেন ও তার মা মুন্নি খাতুন

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৪ পিএম

অবশেষে বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুনের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সাগর হোসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও আদালতের উদ্যোগে মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নিজের ভুল স্বীকার করে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন সাগর। রোববার ‘বৃদ্ধ মা চান একসঙ্গে থাকতে, ছেলে নারাজ’ শিরোনামে সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি প্রশাসন ও আদালতের নজরে আসে।


সোমবার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে মা ও ছেলের মধ্যকার বিরোধের সমাধান হয়। এ সময় সাগর হোসেন ও তার মা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। পরে মাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন সাগর। এ সময় সাগরের মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে সংবাদটি আদালতের নজরে এলে স্বপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ নেন আদালত। রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওসি নিজের গাড়িতে করে তাদের পাবনা আদালতে নিয়ে যান। সাঁথিয়া থানার আমলি আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর তাদের মধ্যকার বিরোধের সমাধান করা হয়।


আদালতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হন সাগর। মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আর এমন আচরণ করবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।


সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশের সদস্য।


এর আগে গত ৮ অক্টোবর মা ও ছেলের মধ্যে দায়িত্ব পালন ও ভরণপোষণ নিয়ে একটি পারিবারিক মামলার শুনানি হয় সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এ সময় ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য বুঝিয়ে দেন। তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে রাজি হননি তিনি। 


একপর্যায়ে ইউএনওকে সাগর বলেন, মাকে সঙ্গে রাখলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। মাকে সঙ্গে রাখতে পারবেন না জানিয়ে মাসে কত টাকা দেবেন, তা নির্ধারণ করে দিতে বলেন। এ ঘটনায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।


ছেলের কাছে ফিরতে পেরে খুশি মুন্নি খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ভুল বুঝে আমাকে অনেক কথা বলেছে। এখন সে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, ছেলেকে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। ছেলের সব ভুল আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। দেশবাসীও আমার ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন। এখন আমি ছেলের বাড়িতে ফিরে এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই। মা হিসেবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’


সাগর হোসেন বলেন, ‘মা ইউএনও স্যারের কাছে ভরণপোষণের জন্য অভিযোগ করায় আগে আবেগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে অনেক কথা বলেছিলাম। স্যারের কথা না শুনে মাকে টাকা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সঙ্গে রাখতে চাইনি। মাকে সঙ্গে দিলে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। ওসি স্যার আমাকে গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি অনুতপ্ত। এখন থেকে মাকে নিজের কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করব। আমি আমার মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই।’


সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে মা ও ছেলেকে গাড়িতে করে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাদের বক্তব্য শুনে বিরোধের সমাধান করে দেন। পরে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।


সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, তার ও আদালতের উদ্যোগে মা ও ছেলের বিরোধের সমাধান হয়েছে। সাগর নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন থেকে তারা একসঙ্গে থাকবেন এবং সাগর মায়ের ভরণপোষণ করবেন বলে আশাবাদী তিনি। মানবিক এই উদ্যোগে ভূমিকা রাখতে পেরে ভালো লাগছে উল্লেখ করে ইউএনও এ বিষয়ে আদালত ও সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।


বরখাস্তকৃত শুভ চন্দ্র বর্মন

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর ঘুষ নেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীর নাম শুভ চন্দ্র বর্মন। তিনি ওই ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।


অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন’ শিরোনামে সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়। এতে অফিস সহায়ক শুভ চন্দ্র বর্মনকে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যায়।


আদেশে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়কের সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। সরকারি দায়িত্বে থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুর্নীতির শামিল।


এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী  দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একই বিধিমালা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ ১১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।


এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার লক্ষ্যে অভিযোগ বিবরণী প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝাটিকা অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতার জন্য ভূমি অফিসগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৬ পিএম

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি ১৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।  




জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ১৫ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১১ জন, সেনবাগ থানায় চারজন, চরজব্বর থানায় আটজন, সোনাইমুড়ী থানায় চারজন, চাটখিল থানায় চারজন, হাতিয়া থানায় ৫১ জন এবং কবিরহাট থানায় ১২ জন রয়েছেন। হাতিয়া থানায় আটক ৫১ জনের মধ্যে একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি ৫০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে জেলা পুলিশ।


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৫ পিএম

ঈশ্বরগঞ্জ থানায় যোগদানের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।


গত ৮ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন। যোগদানের পর সেপ্টেম্বর মাসে থানা পুলিশের সামগ্রিক কার্যক্রম মূল্যায়নে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান এবং জনবান্ধব পুলিশিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তাঁকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।


সোমবার (১২ অক্টোবর) ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। সভায় সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে জেলার থানাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম ও কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করা হয়।


সম্মাননা গ্রহণের পর ওসি মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন বলেন, “এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, এটি ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের আস্থা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”


তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়াকে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ স্বীকৃতি অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে থানা পুলিশের সদস্যদের আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।






ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

২০০ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও মোটরসাইকেল জব্দ


  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৬ পিএম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০ গ্রাম হেরোইনসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ধোবাউড়া উপজেলার ঘিলাগড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে মো. একরামুল ইসলাম (৩৮) এবং উত্তর রাণীপুর গ্রামের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৪০)।


জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন ও ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ মাহবুবুল হকের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত ৯ অক্টোবর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ধোবাউড়া থানার দক্ষিণ মাইজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন।


অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ২০০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা, ১০ গ্রাম কথিত হেরোইন, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।


ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়েরের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের মাধ্যমে এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলে প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।