সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ এএম

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন বলেছেন, অতীতের কোন ঘটনা, হিংসা বিদ্বেশ মনে রেখে প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতি করব না। সমস্ত ভেদাবেদ ভূলে গিয়ে এক সাথে মিলে মিশে সুন্দর কালীগঞ্জ গড়ে তুলব। নির্বাচনের পূর্বে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা পূরণ করবো। আমার দায়িত্ব পালনে আমি চুল পরিমানও অবহেলা করবো না। 


তিনি মিডিয়ার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মহান দায়িত্ব আছে। আপনারা কোন ফেক নিউজ, সম্মানহানিকর নিউজ করবেন না। সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন। আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিব। মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। 


শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সোমবাজার ঈদগাঁহ মাঠে তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. সিরাজ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল আহসান মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু ও গাজীপুর জেলা যুব দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।


ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আকন্দ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, ফরিদ আহমেদ মৃধা, সদস্য আব্দুল বাসেদ বাচ্চু, কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সাবেক জিএস সাদেকুর রহমান কমল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম সুমন প্রমূখ।


এ সময় অন্যান্যের মাঝে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লা, বিএনপি নেতা নাজমুল হাই মামুন, একেএম জাকির হোসেন, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান, জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য মো. নয়ন হোসেন ভূইয়া, থানা যুব দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রেজাউল ইসলাম রানা, ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. তারিকুল ইসলাম, মো. তানভীর ইসলাম প্রিন্সসহ সর্বস্তরের প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।


পরিশেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন এমপি’র সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু সহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।




রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে ঘেরাও করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৪ পিএম

‘মব’ করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন। এ মামলায় পুলিশ গভীর রাতে রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।


‎রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা, সরকারি মালামাল লুট ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ গভীর রাতে আব্দুস সালাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে অন্য আসামিদের ধরতেও চেষ্টা করছে পুলিশ।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অপমান, অপদস্ত, লাঞ্ছিত এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে অবৈধভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন। 


এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে এলেও কোনো কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোফাখখারুল ইসলাম।


তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের পরিবেশ তৈরি হয়নি। পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানের সাথে এমন ঘটনার পর থেকে সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


মঙ্গলবার বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অফিসে গিয়ে তাদের লিখে নেওয়া পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেন। পরে তাঁকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। উপাচার্যকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও মারধর করে পদত্যাগ করানো হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিএনপি ও কৃষক দলের ৪০-৫০ নেতাকর্মী মিছিল করে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম। তাঁর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ। দরজায় ধাক্কা দিয়ে তারা উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। উপাচার্যের টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ান আব্দুস সালাম ও হারুনুর রশীদ। এ সময় সাগর নামে এক বিএনপিকর্মী আগে থেকে লেখা পদত্যাগপত্র এনে হারুনুর রশীদের হাতে দেন। হারুন ও সালাম উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।


তখন স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও, আওয়ামী লীগের আস্তানা’ এবং ‘আওয়ামী লীগের ভিসি হুঁশিয়ার, সাবধান’।


পরে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু লোক এর আগেও আমার পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেছিল। বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে ঠিকাদারি কাজ চাইত। তাদের দাবি, আমি যেন জোর করে তাদের কাজ পাইয়ে দিই। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় তারা হঠাৎ আমার অফিসে জোর করে ঢুকে যায়। তারা অভিযোগ করে, তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারকে দিয়েছি। এ সময় তারা আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে লাঞ্ছিত করে। তারা মব সৃষ্টি করে আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের লেখা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেয়।’ 


উপাচার্য আরও বলেন, ‘তারা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে বের করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। জোর করে এভাবে কখনও পদত্যাগ করানো যায় না। কিন্তু অফিসে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তারা আমার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকে অবরুদ্ধ করে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। অফিসের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক, কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’


উপাচার্যের একান্ত সচিব (সেকশন অফিসার অর্থ) নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে স্বাক্ষর করায়। এটা কোনো ইস্তফা নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করেছে।’


এ বিষয়ে জানতে কৃষক দলের রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘তাঁতী দলের মহানগর সভাপতি কাজল, কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, জিয়া মঞ্চের মহানগর সভাপতি কামাল, হারুন এবং আমার নেতৃত্বে ভিসিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এটার বিষয়ে আমাদের নেতা নজরুল হুদা (মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি) সব জানেন। কিছু জানার থাকলে নজরুল হুদার কাছে জানেন।’ 


এ বিষয়ে নজরুল হুদা বলেন, ‘এটা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, ছাত্র-জনতার ব্যানারে স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসী করেছে। এটা ভিসির কারণেই হয়েছে। ভিসি নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে। ঠিকাদারি কাজ নিয়েও ঝামেলা করে। এ নিয়ে মানববন্ধন করেছিল। পরে ভিসি পদত্যাগ করেছে শুনলাম।’


এটি ‘মব’ কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাকে মব বলা ঠিক হবে না। এটা প্রতিবাদ। জনগণ ব্যানার দিয়ে করেছে, এটা ৫ আগস্টের মতো ছোটখাটো আন্দোলন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যানার দিয়ে কিছু করলে মব বলা যাবে না। ৫ আগস্টও এভাবেই হয়েছে।’ 


  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছয়জন প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রায় দেড় মাস ধরে ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে ঘোরানোর পর নতুন করে আরও টাকা দাবি করাই কাল হলো ওই প্রতারকের জন্য। ফাঁদ পেতে বাকি টাকা দেওয়ার অজুহাতে ডেকে এনে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তাকে আটক করা হয়।


মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারীর নাম নার্গিস আক্তার (৩৬)। তিনি স্থানীয় মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়েরবাজার তদন্তকেন্দ্রে এবং বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সন্ধ্যায় তাকে সরাসরি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।


ভুক্তভোগীরা সবাই পাশের নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন—হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে নার্গিস আক্তার তাদের আশ্বাস দেন যে স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিনি দ্রুত সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেবেন। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন দেন ১৮ হাজার টাকা এবং বাকি পাঁচজন দেন ১৬ হাজার টাকা করে—যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ হাজার টাকা। টাকা হস্তান্তরের পর থেকেই ভুক্তভোগীদের প্রায় দেড় মাস ধরে নানা টালবাহানায় ঘোরাতে থাকেন নার্গিস।


ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন জানান, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রভাব খাটিয়ে কার্ড করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন নার্গিস। কিন্তু কার্ড তো মেলেইনি, উল্টো সম্প্রতি নার্গিস আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে তাদের সন্দেহ তীব্র হয়। এরপর বুদ্ধি খাটিয়ে বাকি ৪ হাজার টাকা পরিশোধের কথা বলে মঙ্গলবার নার্গিসকে রায়েরবাজারে ডেকে আনা হয় এবং পৌঁছামাত্র স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, গত সোমবার বিষয়টি তার নজরে আসে। তাদের নাম ভাঙিয়ে নার্গিস সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার ফাঁদ পেতে তাকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয় এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।


ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নার্গিস আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতারণা মামলা দায়েরসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।


নড়িয়া থানায় ওসি ও বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ পিএম

শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’ বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনার পর নড়িয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।


এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সাগর ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আব্দুস সালামকে ছেড়ে দেয়।


স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপন করতে যান ঘড়িষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর।


এ সময় জমির মালিক আবু তালেব বিলবোর্ড স্থাপনে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেখানে যান আবু তালেবের ভাই আব্দুস সালাম।


অভিযোগ উঠেছে, পরে সাগর ও তার অনুসারীরা আব্দুস সালামকে মারধর করেন এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যান। সাগর তার নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়া ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তারের দাবি করেন। পাশাপাশি তার দায়ের করা আগের একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আব্দুস সালামকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।


তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাগর ওসি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে ওই হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


আব্দুস সালাম বলেন, তার বড় ভাইয়ের জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে সাগরের সঙ্গে তার ভাইয়ের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার ভাইকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখান থেকে চলে আসেন। কিছুক্ষণ পর তার বাড়ির সামনে ৮ থেকে ১০ জন লোক গিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে তাকে ‘যুবলীগ’ ট্যাগ দিয়ে থানায় আটকের চেষ্টা করা হয়।


অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অভিযোগটি এসেছিল, সেটি ভেরিফাই করেছি। এটি সাধারণ হাতাহাতির ঘটনা। হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল আব্দুস সালামের ভাইয়ের সঙ্গে। তাই আব্দুস সালামকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি।’


ওসিকে হুমকির বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তারা রাষ্ট্রের জন্য কাজ করেন। কোনো ভুল হলে রাষ্ট্র বিষয়টি দেখবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে সেটিও রাষ্ট্র দেখবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, সাগরের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রশাসনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশ সুপারকে নিয়েও তিনি আপত্তিকর কথা বলেছিলেন। এসব ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সাগর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।


শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, ‘তিনি যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরা যারা সমাজে বাস করি এবং রাজনীতি করি, আমাদের এভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি আগামী দুই দিনের মধ্যে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। তদন্ত করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে বিষয়টি পাঠাব।


  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

প্রায় এক যুগ আগে সিলেট নগরীর বন্দবাজার এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিলো ‘টাইম টাওয়ার’ নামে একটি টাওয়ার। সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগেই নির্মিত হয়েছিল এ টাওয়ার। তবে সম্প্রতি সিটি করপোরেশই রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলেছে সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য নির্মিত টাওয়ার। গত বুধবার রাতে বুলডজার দিয়ে বন্দরবাজার করিমউল্লাহ মার্কেটের সামনে হকার পয়েন্টের এ টাওয়ারটি ভেঙে ফেলে সিলেট সিটি করপোরেশন। হঠাৎ করে কেন এ টাওfয়ারটি ভেঙে ফেলা হলো এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


সিসিক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ১৪২ বছরের পুরোনো আলী আমজদের ঘড়ির আদলে নগরের বন্দরবাজার এলাকার হকার পয়েন্টে ‘টাইম টাওয়ার’ নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে নগরের সৌন্দর্যবর্ধণের জন্য এ টাওয়ার নির্মিত হয়। এর আগে ওই স্থানে পত্রিকার হকাররা বসতেন ও নানা ধরণের ব্যানার-ফেস্টুন সবসময় ঝুলে থাকতো।


সিসিক সূত্র জানায়,, টাওয়ারটির উচ্চতা মাটির ওপরে ২১ ফুট এবং মাটির নিচে ৮ ফুট। সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে এটির নির্মাণ করা হয়। ৪৪ ফুট লম্বা ভূমিতে ত্রিভুজাকৃতির এই টাওয়ারের সম্মুখ, ডান ও বাঁ দিকের অংশে মোট তিনটি ঘড়ি থাকার কথা ছিল। এসব ঘড়িতে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের সময় সংযুক্ত থাকার কথা ছিল। টাওয়ারটির নকশা করেছিলেন মো. এহতেশাম আলী। 


যুক্তরাজ্য তথা লন্ডন ও সৌদি আরবে সিলেট অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী থাকায় স্থানীয় মানুষের সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশের সঙ্গে তিন দেশের সময় নির্দেশকের ব্যবস্থা টাওয়ারে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ এই টাওয়ার ভেঙে ফেলা প্রসঙ্গে সোমবার রাতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


তবে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহাররঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, এই টাওয়ারের জায়গায় নতুন আরেকটি টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। তাই এটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।


এসআই হানিফ মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের আটক করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হানিফ মাহমুদ। এ ঘটনায় শাওন ও সাগর নামে দুই চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গীর সাতাইশ-সখিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের আটক করতে টঙ্গী পশ্চিম থানার একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ শাওন ও সাগরকে আটক করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের আটক করতে গেলে ছিনতাইকারীদের একজন ছুরি দিয়ে এসআই হানিফ মাহমুদের বাঁ পায়ে আঘাত করে।


ছুরিকাঘাতে এসআই হানিফ মাহমুদের পায়ে প্রায় পাঁচ ইঞ্চি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টঙ্গীর গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুর রহমান বলেন, চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের আটক করতে গিয়ে পুলিশের একজন এসআই আহত হয়েছেন। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে ছিনতাইকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। আহত হওয়ার পরও তিনি অভিযান থেকে পিছিয়ে যাননি। এ ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাই, মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০১ এএম

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংরক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যের মাথার অংশে জুতার মালা ঝোলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি অপসারণ করা হয়। তবে কে বা কারা এটি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা রং করা ভাস্কর্যের মাথার অংশে রশি দিয়ে জুতার মালা ঝোলানো হয়েছে। এতে ডান পাশে দুটি এবং বাম পাশে তিনটি জুতা বা স্যান্ডেল দেখা যায়।


জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাঁকে ফোন করে ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর বিষয়টি জানান। পরে ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।


কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা। কোনোভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’


ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, ভাস্কর্যস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভালো স্থপতির মাধ্যমে হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি সঠিক অবয়বে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান কামালুজ্জামান।


ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনেছি। এ ছাড়া বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে কোনো আপডেটও নেই।’


জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’


বাস টার্মিনাল এলাকার চা দোকানি জাবেদ মিয়া বলেন, সকালে দোকান খোলার সময় তিনি হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা দেখতে পান। পরে এক ব্যক্তি এসে সেটি সরিয়ে নেন।


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি হয়তো ওখান থেকে মুছে ফেলার জন্য কেউ পরিকল্পনা নিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সভাপতি শারমিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছবি সংগ্রহের পর তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অবমাননার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’