ছবি : সংগৃহীত
ইট-পাথরে মোড়ানো পাকা একটি কবর। চারপাশে পরিপাটি পরিবেশ, সঙ্গে পিলার, ছাদ আর ছোট ছোট মিনার। প্রথম দর্শনে এটিকে সাধারণ কোনো ঘর মনে হলেও, এটি মূলত প্রস্তুত করে রাখা একটি কবর। গত পাঁচ বছর ধরে নিজের হাতে তৈরি করা এই কবরের পাশে বসেই জীবনের শেষ দিনগুলোর প্রহর গুনছেন এক বৃদ্ধ।
এমন ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামে। বৃদ্ধের নাম আব্দুর রহিম। প্রতিদিন নিয়ম করে তিনি নিজের এই কবরের যত্ন নেন। ধুলোবালি জমলে নিজ হাতে পরিষ্কার করেন।
শুধু নিজের জন্যই নয়, মৃত্যুর পর স্ত্রী যেন পাশে ঠাঁই পান, সে জন্য স্ত্রীর জন্যও পাশাপাশি আরেকটি কবর খুঁড়ে রেখেছেন তিনি। আত্মীয়স্বজনদের কাছে তার শেষ আকুতি, মৃত্যুর পর যেন দুজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
মৃত্যুর পর সন্তানরা ঠিকঠাক দাফন-কাফন করবেন কি না, এমন শঙ্কা ও মানসিক ভাবনা থেকেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আব্দুর রহিম। এমনকি মৃত্যুর পর যেন কারও ওপর বোঝা হতে না হয়, সে জন্য জীবিত অবস্থাতেই নিজের কুলখানি, চল্লিশা ও দোয়া মাহফিলের মতো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রেখেছেন তিনি।
জীবিত মানুষের এমন আগাম প্রস্তুতি ও ব্যতিক্রমী কাণ্ড দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন আব্দুর রহিমের বাড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিষয়টিকে কৌতূহল ও বিস্ময়ের চোখে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন, জীবনের চরম সত্যকে এত কাছ থেকে মেনে নেওয়ার এমন মানসিকতা সত্যিই বিরল।
পৃথিবীর মায়াজাল ছিন্ন করে একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে পরপারে। তবে মহেশপুরের আব্দুর রহিমের এই প্রস্তুতি শুধুই কি আক্ষেপ ও লোকদেখানো, নাকি মৃত্যুর অবধারিত সত্যকে অতি নিকটে মেনে নেওয়ার এক অদ্ভুত মানসিকতা-তা নিয়ে পুরো এলাকায় আলোচনা ও কৌতূহল এখন তুঙ্গে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি স্কুলের জমির দাতা তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে গিয়ে এসব করেন। বিদ্যালয়টির নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে গেলেও নিয়মিত পাঠদান চলছে। শনিবার হঠাৎ আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান। শিক্ষকদের কার্যালয়েও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন।
২০১৫ সালে পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। এখানে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্থাপনের অনুমতি রয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ করা হয়। দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পাঠদানের অনুমতি পায়।
বর্তমানে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণি চালুর কথা রয়েছে। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
দাতা সদস্য আজাদ আলীর ভাষ্য, সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল। তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা থাকায় তিনি জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি এবং তার ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানকে জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় তিনি ভোকেশনাল শাখায় তার ছেলের এবং কলেজ শাখায় ছেলের বউয়ের চাকরি দাবি করেন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় তিনি ২০২২ সালে মারা যান।
এরপর আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের পর পুত্রবধূকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয়। পরে তিনি তার ছেলের জায়গায় অন্য একটি পদ দাবি করেন এবং কমিটি তাতেও সম্মত হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সেলিম রেজা আরও বলেন, এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলে। গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। এভাবে বিদ্যালয় বন্ধ করা যায় না।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, আজাদ আলী জমি দান করেছেন এবং দলিলের মাধ্যমে জমিটি এখন স্কুলের নামে রয়েছে। এই দলিল শুধু আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব। যতক্ষণ দলিল বহাল আছে, ততক্ষণ বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানো বা গাছ লাগানোর সুযোগ নেই।
ইউএনও বলেন, জমি ফেরত নিতে হলে আদালতের রায় নিতে হবে। বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো এবং তালা খোলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনার দিঘলিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আঞ্চলিক নেতা মোঃ নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম (৪৫) নিহত হয়েছেন।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নাসিম ওই এলাকার মৃত আব্দুর গফুরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার সকালে নাসিম নিজের বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে চা খেয়ে হেঁটে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হলে ওখানে ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি ভ্যানে করে এসে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিতে নাসিম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখান থেকে পুলিশ তিনটি গুলির খোসা, তিনটি তাজা গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন এবং একটি চশমা আলামত হিসেবে উদ্ধার করে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক পর্যালোচনায় নিহত নাসিমের নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক পর্যায়ের কার্যক্রমের সাথে গভীর সম্পৃক্ততা পান এবং পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট, হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অস্ত্র সহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতিমধ্যে এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম
ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানের ভোজের জন্য গরু চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে বাড়িতে যখন মাংস কাটাকাটি চলছিল এবং দুপুরে ভূরিভোজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই চুরির বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হন গরুর মালিক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে এবং জবাই করা গরুর অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পণ্ড হয়ে যায় বউভাতের অনুষ্ঠান।
গতকাল সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের বকশিচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম (৫২) ওই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম মাস্তা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর লক্ষাধিক টাকা মূল্যের একটি কালো রঙের সংকর জাতের গাভি গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন। দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং গোয়ালঘর থেকে গরুটি নিখোঁজ। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। ভোররাতেই তাঁরা গরুটি খুঁজতে বের হন। খুঁজতে খুঁজতে পাশের বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়িতে যান তাঁরা।
সেখানে গিয়ে শহিদুল ইসলাম ও সঙ্গের লোকজন দেখেন, চুরি হওয়া গরুটি জবাই করে মাংস কাটাকাটি চলছে। জবাই করা গরুর মাথা ও চামড়া দেখে মালিক তাঁর গাভিটি শনাক্ত করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গরুর মালিক শহিদুলের ভাতিজা আনারুল ইসলামকে আঘাত করেন। আহত আনারুলকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর গোবিন্দগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুর মাথা, চামড়া, ভুঁড়ি ও পা উদ্ধার করে। একই সঙ্গে গরু চুরির অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার পেশায় কসাই রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহান মিয়ার (২৩) সঙ্গে পাশের রুদ্রনগর গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে হয়। গতকাল রফিকুলের বাড়িতে বউভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ভূরিভোজের জন্য রফিকুল গরুটি চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ।
এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানের জন্য গরু চুরির কথা স্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় গরুর মালিক বাদী হয়ে গতকাল চারজনের নাম উল্লেখ করে চুরির মামলা করেছেন। মামলার পর রফিকুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে আজ রোববার আদালতে পাঠানো হবে। অভিযুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর-জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়কের (ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে) চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে ভয়াবহ ধস ও বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার সিংলাব-পাকুন্দা এলাকার আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটারজুড়ে সড়ক দেবে গিয়ে তৈরি হয়েছে চরম মৃত্যুফাঁদ। রোববার (৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায় এ অবস্থা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) স্থানীয়রা সড়কে প্রথম এই সুবিশাল ফাটল দেখতে পান।
বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রী ও চালকদের তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। দুপুরে খবর পেয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়নে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচঢালাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে।
একাধিক জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে ভেতরের মাটি ও নিম্নমানের সুরকি বেরিয়ে এসে সড়কটি নিচের দিকে দেবে গেছে। ফলে পুরো এলাকা জুড়ে বড় ধরনের ভূমিধসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সড়ক নির্মাণে চরম দুর্নীতি ও রাতে মাটি চুরির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তা বানানোর সময় আমরা চোখের সামনে দেখেছি কী নিম্নমানের কাজ হইছে! এক বছরও গেল না, এর মধ্যেই রাস্তা ফাইট্টা ধইসা পড়ল। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করতাছে, আর ঠিকাদাররা চুরি কইরা আমাগো জীবন ঝুঁকিতে ফালাইতাছে।
সড়কের পাশের স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন একই অভিযোগ তুলে বলেন, রাস্তা বানানোর নাম করে বিদেশি চায়না ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু লোক রাতের আঁধারে সড়কের দু'পাশের মাটি কেটে বিক্রি করে পুকুর বানিয়ে ফেলেছে। কোনো গাইড ওয়াল না করেই তাড়াহুড়ো করে সড়ক নির্মাণ করা হয়। ফলে মাটির চাপে দুই পাশের খাদের কারণে পুরো রাস্তা এখন দেবে গেছে। আর কয়দিন বৃষ্টি হইলে এই পুরা অংশ ধসে পড়বে।
তবে কাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী।
তিনি বলেন, টানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টির কারণে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে পড়ে। তার ওপর সড়ক দিয়ে অনবরত অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নরম মাটি সরে গিয়ে রাস্তা দেবে গেছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রকল্প নির্মাণকারী বেসরকারি অংশীদার 'ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড'-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ডাইভারশন সড়ক তৈরি করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করছেন। যেখানে মাটি সরে গেছে, সেখানে ড্রিল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হবে।
এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ড্রিল করে জোড়াতালির মেরামত নয় অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে মূল কারণ উন্মোচন করতে হবে এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে দুইজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম নিয়ামুল কবীর উৎসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, নোয়াখালী পৌরসভার মধুপুর, দত্তেরহাট, মাইজদী বাজার, আয়কর অফিস এলাকা ও হাপার গোড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইয়াবা সেবন করে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে ঘটনাস্থলেই ফায়েক আদনানকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং আনোয়ার হোসেন সাদ্দামকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনারায়ণপুর এলাকার মুসলিম কলোনির আলী আহাম্মদ মিয়া বাড়ির মৃত মাঈন উদ্দিন সোহেলের ছেলে ফায়েক আদনান (৩০) এবং সোনাপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই এলাকার আব্দুল বারেক মিয়ার বাড়ির মৃত রুহলামিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন সাদ্দাম (৩৫)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক নিমূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুরের বিরল থানার একটি চৌকস দল গাজীপুর জেলা থেকে মোঃ ইমন হোসেন (৪৫) নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দিনাজপুর জেলা পুলিশের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বিরল থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ইমন হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান থানার মামলা নম্বর-২২, তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছিলেন। পুলিশের তথ্যমতে, ওই মামলায় একজনকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মামলার আসামী দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মামলার চার্জ গঠনের পর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে জিআর (সাজা) মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্ট জারী করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমন হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুর জেলার বিরল থানাধীন মহাজনপাড়া (জগতপুর) এলাকায় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারী করা ওয়ারেন্ট দিনাজপুর জেলায় আসে।
এরপর বিরল থানা পুলিশ আসামীর অবস্থান শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায়। পরে শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে গাজীপুর জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ ইমন হোসেন (৪৫), পিতা—মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে বাবুর; সাং—মহাজনপাড়া; থানা—বিরল; জেলা—দিনাজপুর। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আদালতের জারী করা মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্টের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।