• প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় এবং দেশটি থেকে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপে উদ্বেগ বেড়েছে ইউক্রেনে। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


জ্বালানির উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে আংশিকভাবে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও করেছেন।জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় মস্কোর জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি মানবে না কিয়েভ। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিচ্ছে।



শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাশিয়ার ওপর আরোপের কথা থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেন ট্রাম্প। জেলেনস্কির মতে, এতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখতে উৎসাহ পাবে।


এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাময়িকভাবে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং রুশ ডিজেল আমদানির বিষয়ে সমঝোতার কথা জানান ট্রাম্প।


এদিকে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ বা সীমিত করা হলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শনাক্ত এবং প্রতিরোধ করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভরতার ঝুঁকিও সামনে এসেছে। ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড সেবায় বিঘ্ন ঘটার পর দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরে সেবাটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়।


তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় কিয়েভ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী তারা।


এদিকে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ফ্রিডের মতে, ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ইউক্রেনের মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জেলেনস্কি ও পুতিন উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখবেন। তার লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো। সূত্র: রয়টার্স




ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তিনি বলেছেন, এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি।


রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, আমরা ট্রাম্পকে বিশ্বাস করতে চাই। তার আশা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। কারণ, এসব সিদ্ধান্ত ইউক্রেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশেরই উপকারে আসবে না।


শুক্রবার কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ছাড় দেন ট্রাম্প। নির্বাহী আদেশে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার মধ্যে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার পর রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ ডিজেল বিশ্ববাজারে ছাড়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।


জেলেনস্কি জানান, কিছু সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ থাকায় রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে আগাম তথ্য পায়নি ইউক্রেন। পরে এই সহযোগিতা আবার চালু হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারশিল্ড ব্যবহারে বিধিনিষেধ এখনো রয়েছে।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ধারণা, স্টারলিংক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন সরকারের বার্তা ভূমিকা রেখেছে। এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্প ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক দুজনই জড়িত থাকতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।


ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, মুখে হাসি রেখে হত্যাকারীর মতো আচরণ করে—এমন কারও চেয়ে স্পষ্ট ও সরাসরি কথা বলেন, এমন অংশীদার থাকা ভালো।


যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার পক্ষ নিলে ইউক্রেনের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসা মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রস্তাবিত আইনটির বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।



জেলেনস্কি জানান, রোববারের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কথা রয়েছে তার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার বিষয়েও আশাবাদী তিনি।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকার কাছে তারা দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে নাজরান অঞ্চলে তাদের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ক্রু নিহত হয়েছেন।


ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটি’র কারণে একটি এএইচ-৬আই গোয়েন্দা হেলিকপ্টার নাজরান অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটির দুই ক্রু নিহত হয়েছেন। হেলিকপ্টারটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।


এদিকে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় হুতি বাহিনী ওই হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।


এর আগে গত মাসে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল হুতিরা।


সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরান এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা বেড়েছে।


গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। তারপর থেকে হুতিরা দেশটির বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।


উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হওয়ার জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ইয়েমেন আরেকটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।


হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, নাজরানের কাছে একটি সৌদি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে হুতিরা। তাঁর দাবি, সীমান্ত এলাকায় হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালানোর সময় হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করা হয়।


সারির এ পোস্টের জবাবে আজ ভোরে আল-মালিকি কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সারিবদ্ধ অবস্থায় থাকা একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনারা দাবি করছেন, এটি ভূপাতিত করেছেন। কিন্তু এটি শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরবে।’


আল-মালিকি পোস্টে আরও দাবি করেন, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশে ধ্বংস করেছেন। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।


এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা ও খামিস মুশাইত শহরে ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। পরে সংস্থাটি জানায়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।


গতকাল আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, জোট বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ অঞ্চল, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।


সৌদি জোটের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, উত্তর ইয়েমেনের সাদায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ওই উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো থেকে সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।


সাম্প্রতিক এসব ঘটনা সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত জুলাই থেকে দুই পক্ষের সংঘাত তীব্র হয়েছে।


২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও আরও কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নেওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট দেশটিতে অভিযান শুরু করে।


হুতিরা এখনো সানা ও ইয়েমেনের আরও কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এদিকে, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। পরদিন বিমানবন্দরে আবার হামলা চালানো হয়। হামলায় আরও ১ জন নিহত হন, আহত ১২ জন।


বিমানবন্দরে হামলার তিন দিন পর ১৩ অক্টোবর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে কেউ হতাহত না হলেও পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত কার্যালয়টির একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। এতে ভবনটির কয়েকটি তলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ে পদদলিত হয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। তাদের মধ্যে ১৭ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান। রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্যের বরাতে এই খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান।


সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু জানান, এই ঘটনায় আহত ২৫ জন হাসপাতালে আছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন শঙ্কামুক্ত হলেও একজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।


তিনি জানান, স্বজনহারা ১৯টি পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি পরিবারের সঙ্গে তিনি সরাসরি দেখা করে আশ্বস্ত করেছেন, সরকার তাদের পাশে আছে এবং সব রকম সহযোগিতা করবে।


মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি একটি করে চাকরি দেবে। এ ছাড়া আহত প্রত্যেকের চিকিৎসার শতভাগ খরচ সরকার বহন করবে এবং পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।


তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যজুড়ে ৫৮ হাজার স্থানে পূজা হচ্ছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সবারই সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।


গতকাল সন্ধ্যার দিকে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের বের হওয়ার গেটের কাঠামোর একটি অংশ ভেঙে পড়লে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং দলের রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজে যান এবং সেখানে চিকিৎসাধীনদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।


এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। এদিকে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজায় ভিড়ের চাপে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় পূজা কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।


পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুজন এবং নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিও রয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান কমে যাওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবারের বিক্ষোভে সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাটে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ পুলিশ সদস্য। আজ রোববার রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার। তবে দেশটির অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি জানিয়েছে, এ সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ।


অধিকাংশ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিলেও কিছু বিক্ষোভকারী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েন। তারা সরকারি ভবন, বিলাসবহুল পণ্যের দোকান ও সুপারমার্কেটে হামলা চালান। পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করা হয়।


সরকারি ভবনে আগুন, দোকানে লুটপাট


ফ্রান্সের লিমোজ শহরে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে সিটি হলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা মরিস বারাত এএফপিকে বলেন, আগুনে ভবনটির ছাদ ধসে নিচের তলাগুলোর ওপর পড়ে। পশ্চিম দিকের অংশ ছাড়া ভবনটির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৪৩ বছরের পুরোনো ভবনটির এ ক্ষতিকে ঐতিহ্যের জন্য বিপর্যয় বলে বর্ণনা করেন তিনি।


মার্সেই শহরেও বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে পড়েন। তারা নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে ভবনের দরজায় আঘাত করেন। পরে ভবনের দেয়ালে নৈরাজ্যবাদের প্রতীক ‘এ’ লিখে দেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। লিয়ঁ শহরে পর্যটন কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়।


রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। কালো পোশাক ও মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও পাথর ছোড়েন। তারা একটি ব্যাংকে হামলা চালান এবং ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানে লুটপাট করেন।


শহরের বিভিন্ন এলাকায় ময়লার পাত্র ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনেও। বুলেভার্দ ম্যাজেন্তা এলাকায় বহু দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। গ্যালারি লাফায়েত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢোকারও চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।


কেন এই বিক্ষোভ


গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের নিম্নআয়ের এলাকার কয়েকটি স্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষক অনুপস্থিতি, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকে এর সূত্রপাত। পরে তা দেশজুড়ে বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।


বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, মজুরি ও পেনশন বাড়ানো এবং জনসেবামূলক খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।


প্যারিসের ১৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী লোলা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দামও অনেক বেশি। ভালো শিক্ষার পরিবেশ ও আরও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


২০১৮ সালে ফ্রান্সে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এবারের বিক্ষোভেও হলুদ রঙের উজ্জ্বল নিরাপত্তা পোশাক পরে অনেকে রাস্তায় নামেন। শনিবারের বিক্ষোভে জনসমাগম ওই আন্দোলনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চেয়েও বেশি ছিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের তুলনায় এবারের সমাগম কম ছিল বলে জানানো হয়েছে।


সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থিদের দায়ী করল সরকার


ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠী ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যারা সহিংসতাকে প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের ভয় পাবে না সরকার। সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে দেওয়া হবে না।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, কিছু সুযোগসন্ধানী অপরাধী বিক্ষোভকে লুটপাটের কাজে ব্যবহার করেছে। তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।


প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।


পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন


বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। পুলিশের অভিযানে আহত হওয়ার ঘটনাগুলোও তদন্তের আওতায় এসেছে।


পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতার অন্তত দুই ডজন অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট নজরদারি সংস্থা।


শনিবারের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি হাত হারিয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ নিশ্চিত করেছেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি পুলিশের ছোড়া একটি স্টান গ্রেনেড তুলতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।


এর আগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত হারানোর ঘটনার পর পুলিশের ব্যবহৃত এক ধরনের স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করা হয়েছিল। তবে শনিবার সেটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানিয়েছেন, শনিবারের সংঘর্ষে ১৫০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের একটি ইউনিয়ন জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের ওপর লাঠি ও ইট দিয়ে হামলা হয়েছে।


ফ্রান্সে আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে এই বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে।


সরকারের ঋণ কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যেও দেশটির সরকারি ঋণ নেওয়ার ব্যয় দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ এএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুণ্যার্থীদের ওপর উঠে গেছে একটি ট্রাক। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।  খবর এনডিটিভির


শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তা দিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের চাপা দেয়। পরে মন্দিরের ফটক ও বাইরের দেয়ালে ধাক্কা লাগে ট্রাকটির।


গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই ট্রাকটি চিননোর দিক থেকে আসছিল। ওই সড়কে ঢাল বেশি হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু ট্রাকটি সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। এ সময় রাস্তার ওপর থাকা পুণ্যার্থীরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন। পরে ট্রাকটি মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়।


ধর্মবীর সিং বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী শীতলা মাতা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। চিননোর দিক থেকে আসা সড়কটিতে খাড়া ঢাল রয়েছে এবং সেখানে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাক সেখানে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে। এতে রাস্তার ওপর থাকা পুণ্যার্থীরা চাপা পড়েন।


তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।


পুলিশ সুপার বলেন, দুর্ঘটনার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভেঙেছে। বাকিরা সামান্য আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহানও দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন পাঠানো হয়। 


প্রকাশ রাজ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৬ পিএম

বাংলাদেশের বা নেপালের মতো গণবিক্ষোভের মাধ্যমে নয়, বরং গণতান্ত্রিক উপায়ে ও ভোটের মাধ্যমেই ভারতের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।


দিল্লিতে তিরাঙ্গা মার্চ কর্মসূচির আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, ভারত কোনো বাংলাদেশ বা নেপাল নয়, কারণ এ দেশের জনগণের হাতে সংবিধান, মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগত সিংয়ের আদর্শের পাশাপাশি ভোটাধিকার রয়েছে।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়নের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে শক্তি প্রয়োগ করছে, যা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। 


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তিরাঙ্গা’ স্লোগানকে স্মরণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের যুবসমাজ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পথে নামলে কেন তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।


সংবিধান প্রদত্ত প্রতিবাদের অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন থামানো যাবে না এবং আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত। কৃষক সংগঠন ও সুশীল সমাজের সহযোগিতায় এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।


সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে