ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি ইরানি দ্বীপ দখলের জন্য সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন মেরিন সেনা ও ছত্রীসেনারা (প্যারাট্রুপার) সেখানে একটি মরণফাঁদে পড়তে পারেন। কারণ, তাঁদের রসদ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে অরক্ষিত আর কৌশলগত লক্ষ্যগুলোও অস্পষ্ট। মিডল ইস্ট আইকে এমনটাই বলেছেন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।


ওই এলাকায় মার্কিন সামরিক অভিযানটি শুরু হবে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রাডার ব্যবস্থা অচল (জ্যাম) করার মধ্য দিয়ে। আর এর পরপরই চালানো হবে ব্যাপক বোমা হামলা।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ সেথ ক্রুমরিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে প্রস্তুতিমূলক এবং বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বর্তমানে গ্লোবাল গার্ডিয়ান নামের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্রুমরিক। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পর ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে ‘প্রস্তুতিমূলক’ হামলা চালানো হবে।


যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। তবে তিনটি দ্বীপের ওপর বেশি নজর থাকবে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে খারগ দ্বীপ। কুয়েতের উল্টো দিকে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে এমন সব স্থাপনা রয়েছে, যেখান থেকে ইরান তাদের মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে।


আবু মুসা এবং এর কাছাকাছি আরও দুটি ছোট দ্বীপ উপসাগরীয় অঞ্চলের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে ইরানের সাবেক শাহ এগুলো দখল করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত এই দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে।


অন্য একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে কেশম দ্বীপ। এটি দখল করা সবচেয়ে কঠিন হবে। কারণ, এটি আয়তনে সবচেয়ে বড় এবং এখানে ইরানের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে রাখা হয়।


প্রায় দেড় লাখ ইরানি এই দ্বীপে বসবাস করেন। দ্বীপটি বন্দর আব্বাস থেকে খুব সামান্য দূরত্বে অবস্থিত। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কেশম এবং এর পাশের দ্বীপ লারাকের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।


আকাশপথে আগ্রাসনের আশঙ্কা বেশি


বিশ্লেষকেরা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ যুদ্ধের আলোচনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মেরিন সেনাদের সমুদ্র থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওকিনাওয়া এবং আইও জিমা দ্বীপের দিকে উঠে আসার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকায় মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর প্রথম অংশটি সম্ভবত আকাশপথেই আসবে।


ডেভিস বলেন, ‘ইউএসএস বক্সার বা ইউএসএস ত্রিপোলিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই আমি দেখছি না।’ তিনি মূলত দুটি উভচর যুদ্ধজাহাজের কথা বুঝিয়েছেন, যেগুলোতে করে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনাকে এই অঞ্চলে আনা হচ্ছে। এই জাহাজগুলো ছোট আকারের ল্যান্ডিং ক্রাফট (উপকূলে সেনা ও রসদ পৌঁছানোর নৌযান) ও হোভারক্রাফট (উভচর যান) বহনে সক্ষম।


ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এখানে কেবল একটিই বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, আর তা হলো আকাশপথ।’

মার্কিন সেনাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ভি-২২ অস্প্রে টিল্ট-রোটর বিমান, চিনুক এবং ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার বলেছেন, স্থলসেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তবে এর মধ্যেও ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী একটি বাহিনী পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন।


প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনার সমন্বয়ে গঠিত দুটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের আরও ৩ হাজার ছত্রীসেনাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ইউএস নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের শিক্ষক কালেভ সেপ বলেন, মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীকে সম্ভবত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটির ওপর নির্ভর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলে, তারা (মার্কিন বাহিনী) এটি করতে পারবে না।’


এর আগে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে সমর্থন দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। আমিরাত প্রকাশ্যে এমন যেকোনো যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। সৌদি আরব জনসমক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক হলেও, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।


‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’র সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, হেলিকপ্টারে করে আসা মার্কিন সেনারা কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং এমনকি হালকা অস্ত্র ও আরপিজি (কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র) হামলার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।


ডেভিস বলেন, ‘আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনা নামানো হবে। তবে ইরানও মানচিত্র পড়তে জানে, তাই তারা এর জন্য প্রস্তুত থাকবে।’


‘ফকল্যান্ড আক্রমণের চেয়েও কঠিন’


মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি থাকা কোনো দ্বীপ দখল করার জন্য পশ্চিমা কোনো আক্রমণকারী বাহিনীর শেষ চেষ্টা ছিল ১৯৮২ সালে। ওই সময় ব্রিটেন আর্জেন্টিনার কাছ থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ পুনরায় দখল করে নেয়। সেই সময় উভচর অবতরণের (দ্বীপের তীরে ওঠার) সময় আর্জেন্টিনার বিমানবাহিনী ব্রিটিশ জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানের কাছে এখনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকে ফকল্যান্ডের দূরত্বের তুলনায় ইরানের দ্বীপগুলো দেশটির মূল ভূখণ্ডের অনেক বেশি কাছাকাছি। এর ফলে এমনকি প্রথাগত কামানের সাহায্যেও মূল ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপগুলো রক্ষা করা অনেক সহজ।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘ব্রিটিশদের জন্য ফকল্যান্ড জয় যতটা কঠিন ছিল, পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং ড্রোন যুদ্ধের উন্নতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি এখন আরও বেশি কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘খুব কম বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে ইরান মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণ ঠেকাতে পারবে। কিন্তু একবার মার্কিন মেরিন সেনারা বা ছত্রীসেনারা সেখানে পৌঁছে গেলে, তারা প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়বে। খারগ এবং বিশেষ করে কেশম দ্বীপের ভূপ্রকৃতি ইরানি সেনাদের লুকিয়ে থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে।’


‘মোজাইক ডিফেন্স’ প্রয়োগ করবে ইরান


ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) স্থলযুদ্ধবিষয়ক সিনিয়র ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট বলেন, ইরান তাদের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা খণ্ড খণ্ড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর আরও বেশি জোর দেবে।


২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সাদ্দাম হোসেনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সাজানো (টপ টু ডাউন) সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করেছিল, তা দেখার পরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামো বা ‘ডিসেন্ট্রালাইজড কমান্ড স্ট্রাকচার’ প্রবর্তন করে।


চলমান যুদ্ধজুড়ে এই ‘মোজাইক ডিফেন্স’ ব্যবস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। আইআরজিসির ৩১টি পৃথক কমান্ড রয়েছে—প্রতিটি প্রদেশের জন্য একটি করে। সেখানকার কর্মকর্তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা রয়েছে। এমনকি আইআরজিসিকে আরও ছোট ছোট শাখায় বিভক্ত করা সম্ভব।


স্টুয়ার্ট বলেন, ‘তারা গেরিলাযুদ্ধের ওপরই বেশি নির্ভর করবে। আমেরিকানদের এমন কোনো সুযোগ দেবে না, যাতে তাদের খোলা ময়দানে টেনে এনে উন্মুক্ত লড়াইয়ে জড়াতে পারে।’


তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে বিমান হামলার পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থল থেকে ইরানের ওপর অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন মাটিতে থাকা মেরিন সেনা এবং ছত্রীসেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বা কৌশলে নতুন করে পরিবর্তন আনতে হবে।


আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আমরা এমন এক বিমান ও নৌবাহিনীর কথা বলছি, যারা কয়েক সপ্তাহ ধরে অত্যন্ত তীব্রগতিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখন মাটিতে থাকা সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাদের শক্তিতে টান পড়বে।’


‘আ ব্রিজ টু ফার’


স্টুয়ার্ট বলেন, একবার মার্কিন সেনারা উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিলে, তাদের জন্য নিয়মিত খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং গোলাবারুদ সরবরাহের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সেখানে রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি এবং এমনকি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও মোতায়েন করতে চাইবে। একই সঙ্গে আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য পুনরায় জাহাজে বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘একবার সেনারা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের রসদ সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসবে। এটি একটি বড় সমস্যা। এই সেনাদের টিকে থাকার জন্য নিয়মিত খাদ্য, জ্বালানি, গোলাবারুদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে।’


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের হিসাব অনুযায়ী, লড়াইয়ে থাকা প্রতি একজন সেনার বিপরীতে নয়জন সহায়ক কর্মীর প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আবার জলসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপথের সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী অন্তর্ভুক্ত নয়।’ বলে রাখা ভালো, সেনাদের সহায়তার জন্য যুদ্ধজাহাজ ছাড়াও পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটির একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে।


কিন্তু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার মুখে বেশ অরক্ষিতই প্রমাণিত হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কিং ফাহাদ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। অন্যদিকে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি অনুযায়ী দেখা গেছে যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি ইতিমধ্যে ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।


নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই অঞ্চলে থাকা ১৩টি ঘাঁটির অধিকাংশ ইরানি হামলায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই।


মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য মেরিন সেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন হলো ‘অগ্রগামী’ বা মূল আক্রমণকারী শক্তি। সাধারণত একটি বড় আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণের জন্য উপকূলে প্রাথমিক অবস্থা তৈরি করতে এদের ব্যবহার করা হয়। তবে এই ধরনের বাহিনীকে যখন তাদের সক্ষমতার অতিরিক্ত বিস্তৃত করা হয়, তখন তার পরিণতি কী হতে পারে—ইতিহাসে এমন অনেক সতর্কতামূলক উদাহরণ রয়েছে।


‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এই বাহিনীগুলো নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে অত্যন্ত দক্ষ, কারণ তারা খুব দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু যে মুহূর্তে তারা এক জায়গায় স্থির হয়ে যায়, তখনই তারা শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তখন তাদের সুরক্ষা এবং নিয়মিত রসদ সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘এটি হবে অনেকটা শুটিং গ্যালারির (মরণফাঁদ) মতো।’


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘অপারেশন মার্কেট গার্ডেন’-এর ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট। ওই অভিযানে ছত্রীসেনারা মূলত নেদারল্যান্ডসে নাৎসি জার্মানির প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।


স্টুয়ার্ট বলেন, ‘“আ ব্রিজ টু ফার” হলো আকাশপথে মোতায়েন করা এমন এক বাহিনীর ধ্রুপদি উদাহরণ, যারা কোথাও অবস্থান নিতে পারলেও তা ধরে রাখতে পারে না। পারস্য উপসাগরেও এমনটি ঘটতে পারে। কারণ, সেখানে তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আওতার মধ্যে থাকবে।’ তিনি এখানে ১৯৭৭ সালের শন কনারি এবং মাইকেল কেইন অভিনীত সিনেমার কথা উল্লেখ করেছেন, যা ওই সামরিক বিপর্যয়কে সামনে এনেছিল।


আক্রমণাত্মক অবস্থানে ইরান


ইরানও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে পারে। চলতি সপ্তাহে একজন ইরানি নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, তেহরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চল দখলের জন্য প্রস্তুত। বিশ্লেষকেরা এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও তাঁরা বলেছেন, অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।


লন্ডনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস বলেন, ‘হুতিরা এখনো এই সংঘাতে প্রবেশ করেনি (অবশ্য শনিবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এই সংঘাতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা)। আমার ধারণা, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত আরও বাড়লে তাদের কাজে লাগানোর জন্য অপেক্ষা করছে। আর স্থল আক্রমণ হবে তেমনই একটি বড় উসকানি।’


বাবেল মান্দেব প্রণালি বর্তমানে সৌদি আরবের লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। হুতিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ ক্রুমরিক বলেন, ইরানও পারস্য উপসাগরজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি খারগ দ্বীপ দখল করতে যায়, তবে ইরান নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে।


ক্রুমরিক বলেন, ইরানের অধিকাংশ দ্বীপ দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা লাভ হবে না, তবে খারগ দ্বীপ দখল করার পেছনে ‘প্রধানত অর্থনৈতিক কারণ’ থাকতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ আরও বলেন, ‘এটি দখল ইরানি শাসনব্যবস্থাকে এক কঠিন সমস্যার মুখে ফেলে দেবে। যেমন আপনি কি আপনার দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের ওপর অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং কামানের গোলা নিক্ষেপ করবেন। যেখানে কিছু মার্কিন সেনা বা ছত্রীসেনা মারা যেতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে আপনার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডও পঙ্গু হয়ে যাবে?’


তেল রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে এই দ্বীপটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে চায়, তবে তারা স্বেচ্ছায় এমনটি করতে পারে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, একই সময়ে কেশম বা আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো দখল করলে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে খুব একটা কাজে আসবে না। তিনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো থেকে যে সুবিধা পাওয়া যায়, তার বাইরে এই দ্বীপগুলো তেমন নতুন কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে না।’




কানাডার পতাকা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৯ পিএম

কানাডায় শরণার্থী বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার অনলাইন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে দেশটির সরকার। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (আইআরসিসি) পোর্টালে নতুন আবেদনপ্রক্রিয়া চালু হবে। এতে অসম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগে দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।


কানাডার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আগে বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে চাইলে ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে (কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় সময়) আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া হলে নতুন পদ্ধতির কারণে অতিরিক্ত তথ্য দিতে হবে না, যদি না আইআরসিসি আলাদাভাবে তা চায়।


যারা আইআরসিসির অনলাইন পোর্টালে শরণার্থী আবেদনের কাজ শুরু করেছেন, কিন্তু ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে তা জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের নতুন পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে আবেদনকারীদের নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগের দেওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।


অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা আবেদন জমা দেবেন, তাদের শুধু নতুন পদ্ধতি চালুর কারণে আবার আবেদন করতে হবে না। তবে প্রয়োজন হলে ইমিগ্রেশন বিভাগ অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারবে।


কানাডার সীমান্তে দেশটির বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) মাধ্যমে আবেদন শুরু করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। তারা আবেদনটি আইআরসিসির পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দিলে নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।


আর যাদের সীমান্তে আবেদন শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আবেদন যুক্ত করা হয়নি, তাদের আগে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষিত না-ও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজের ও পরিবারের তথ্য আবার দিতে হবে।


কানাডার শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ রাজকীয় সম্মতি পাওয়ার পর আইনে পরিণত হয়। আইনটির লক্ষ্য শরণার্থী আবেদনপ্রক্রিয়া আধুনিক করা, যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম পরিবর্তন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা।


নতুন অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


কানাডার অভিবাসন বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন পদ্ধতি চালুর ফলে অসম্পূর্ণ আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হলেও আগে থেকে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে-যদি আবেদনটি আইআরসিসির পোর্টালে শুরু করা হয়ে থাকে।


সূত্র: ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে এবং এরই জেরে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের সতর্কতার মধ্যেই বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটল।


সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে। আর এর জেরেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি অজ্ঞাতনামা সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।


অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটির দক্ষিণ অংশে এসব বিস্ফোরণ ঘটে।


তবে বিস্ফোরণের সংখ্যা, কোন কোন ট্যাংকার এতে জড়িত, হতাহতের সম্ভাব্য সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। ইরান এরই মধ্যে তেহরানের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশ ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।


স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো সময়ই হামলা চালানো হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।


আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।


কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই এখন দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় চারজনের একজন ট্রাম্পের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ই মার্কিন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ এএম

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো নতুন সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। খবর আল জাজিরার।


ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, আমরা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করছি।


ট্রাম্প জানান, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।


পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যেকোনো সময়েই আমরা ইরানে কোনো হামলা চালাব না।


এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রস্তাবের শর্তগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরান তাদের সুনির্দিষ্ট জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


এই নির্দেশনায় হামলা চালানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচির উল্লেখ ছিল না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। 


তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এবং সম্ভবত ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই এ হামলা চালানো হতে পারে।


আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।


পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।


হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।


ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে- সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।


সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।


একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।


দ্বিতীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই, তবে আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’


পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ কথা না হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।


এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা’ নিয়ে কথা বলেছেন।


প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে আলাপ হয়।


যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।


ইরানে যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে করবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এতে অংশ নেবে।


দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশ ও আতঙ্কে রয়েছে, যার ফলে তারা আগে হামলা চালিয়ে বসতে পারে।


ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানিরা ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে। তারা তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।


যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দেশটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কিংবা কেবল টান টান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যেতে পারে।


জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে অধিকাংশ কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাজ্য বলেছে, ভবনটি ‘বন্ধ করা হবে না’ এবং এটি ‘যুক্তরাজ্যের মিশন’ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।


ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা চাইনি, পরিস্থিতি এ পর্যায়ে গড়াক।’


গিডিয়ন সার আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের ২০ জন কূটনীতিক ও কনসাল জেনারেল ইসরায়েল ছাড়বেন। তবে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স ভবনটিতে থেকে যেতে পারে। তাদের কার্যক্রমের পরিধি হবে ‘খুবই সীমিত’।


এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, নিরাপত্তার কারণে কিছু কর্মীকে ‘সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘মিশনটি ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’


গত মাসে ইসরায়েল বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।


সে সময় ইসরায়েল সরকার বলেছিল, যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তারা কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেবে।


আজ বৃহস্পতিবার ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসরায়েলকে ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি বন্ধ না করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের এসব বসতি অবৈধ।


১৮৩৮ সালে জেরুজালেমে প্রথম ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক দেখভাল করা হতো।


তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাস থেকে এটি আলাদা। তেল আবিবের ওই দূতাবাসই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধান কূটনৈতিক কেন্দ্র।


ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেওয়া যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে দেশটি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন করা হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিডিয়ন সার লেখেন, ‘জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট আজ থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে। সে অনুযায়ী, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’


যদিও আজ সকালেও কনস্যুলেটের বাইরে ব্রিটিশ পতাকা দেখা গেছে। এমন কি, কয়েকজন কর্মীকে ভেতরে ঢুকতেও দেখা গেছে।


সার বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কনসাল জেনারেল ও ২০ জন কূটনীতিক তাঁদের দায়িত্ব শেষ করে ইসরায়েল ছাড়বেন।


তবে সার স্বীকার করেন, ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের সম্পত্তি। তিনি বলেন, ‘ভবনটিতে খুবই সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাত্র সাতজন কূটনীতিকের একটি টাস্কফোর্সকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।’


ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। তবে এ বছর পুরস্কারটি পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


আগামীকাল শুক্রবার চলতি বছরের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নোবেল কমিটি। 


পুরস্কারটি পাবেন কি না- এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে। আমার মতো মানুষদের পুরস্কার না দেওয়ার একটা সুনাম তাদের আছে।’


গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তাঁর পাওয়া উচিত। বুধবার ওভাল অফিসে বলেন, ‘এখনই সময়।’ এ সময় গতবারের পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থেকে পরোক্ষভাবে সম্মান পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।


ভেনেজুয়েলার নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে তাঁর শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে দেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার কথা বলে তিনি এ পদক ট্রাম্পকে দেন।


ট্রাম্পের দাবি কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করছেন, সেগুলোর কয়েকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। এসব অঞ্চলের কয়েকটিতে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত।


এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।


এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক।