ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী বিদেশি নাগরিকদের নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গতকাল সোমবার বলেছেন, যেসব বিদেশি নাগরিক স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসেছিলেন, কিন্তু পরে এখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে ভিসা বাতিল করা হবে। এ লক্ষ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


ঠিক কতটি ভিসা বাতিল করা হবে, তা বিস্তারিত জানায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দুই লাখ বিদেশির ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিল হবে। সে হিসাবে এটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি ও দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এপি আরও জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা সব বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা এ প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।


তবে ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে না। বর্তমানে যাঁদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাঁদের বেশির ভাগের ভিসার মর্যাদা নতুন শ্রেণিতে পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে তাঁরা ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অস্থায়ী ভিসার মর্যাদা হারাবেন।


গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ‘ভিত্তিহীন বা ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে’ ভরে গেছে।


এর আগে চলতি মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা এর ফলে বৈষম্য ও চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ শুধু অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করা হয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ এরই মধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।




ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ এএম

কেন্দ্রস্থল ভিলিউচিনস্কের ১২৩ কিলোমিটার দূরে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাতকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।


স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কম্পনে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কামচাতকার ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে।


যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১০ এএম

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 


সরকারের একটি সূত্র জানায়, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।


ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ জানান, নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন।


হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি ও সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে সরকার।


হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া কাসিম সারী দাবি করেছেন, এডেনে সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।


সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে-এমন স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জানান তিনি।


২০১৪ সালে ইয়েমেনের সরকারের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটি কার্যত বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানা‌নো হয়, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলন কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করে কক্ষ ত্যাগ করেন।


আজারবাইজানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সিআইসিএ-এর এই সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। এখানে এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি স্কুলের  ছাদ ধসের ঘটনায় ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।


রেসকিউ ১১২২-এর আঞ্চলিক পরিচালক আরিফ খাত্তাক জানিয়েছেন, স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তার তথ্যমতে, একজন নারী শিক্ষকসহ মোট ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


এক বার্তায় তিনি বলেন, "ভবনটি ধসে পড়ার পর প্রাথমিকভাবে ১৬টি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে এবং শেষ পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন।"


তিনি আরও বলেন, "প্রথমে আমাদের জানানো হয়েছিল যে ভবনটি ধসে পড়েছে। কিন্তু এখানে পৌঁছানোর পর আমরা জানতে পারি, এটি তিনতলা একটি ভবন ছিল। এই তিনতলা ভবনটি ছিল অস্থায়ী কাঠামোর... গুরুতর আহত হয়েছেন ৪৫ জন। তাদের প্রদেশের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।" আরিফ খট্টক জানান, এই উদ্ধার অভিযানে ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, ১৮টি অ্যাম্বুলেন্স এবং তিনটি ভারী যান অংশ নেয়।


এদিকে, স্থানীয় লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেশিরভাগ শিশুই মাথায় আঘাত পেয়েছে। অনেক অভিভাবক হাসপাতালে এসে জড়ো হয়েছেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তা চেয়েছে।


মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের বয়স ছয় থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলআরএইচে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পেশোয়ারের কর্তৃপক্ষ দুপুরের দিকে জানিয়েছে যে স্কুল ভবন ধসে পড়ার পর উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। তবে সেখানে এখনো ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে।


পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলটির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিলাল আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে আরো জানিয়েছেন, স্কুলটি একটি দোতলা ভবনে অবস্থিত। ভবনটিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে তৈরি ছাদের বদলে প্রিফ্যাব্রিকেটেড ছাদ ছিল বলে মনে হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ দেখে ধারণা করা যায়, ওপরের একটি কক্ষের ছাদের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ার পর সেটিই নিচতলায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের ওপর গিয়ে পড়ে।


স্কুলটির সামনে মানুষের ভিড় 


এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, "এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।" প্রেসিডেন্ট নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট "আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন"। এছাড়া তিনি ঘটনার কারণ নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।


পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন।


সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা


ঘটনাস্থলে থাকা এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, স্কুলটি শহরের এমন একটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত, যেখানে একবারে মাত্র একটি গাড়ি চলাচল করতে পারে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাতে এবং আহতদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শী সোহাইল বলেন, "আমার বোন আমাকে ফোন করে বলেছিল, 'ভাই, তাড়াতাড়ি আসো'। স্কুলের ছোট ছোট শিশুরা ছাদের নিচে চাপা পড়েছিল। আমি এবং এলাকার লোকজন দ্রুত কোদাল দিয়ে তাদের বের করার চেষ্টা করি।" উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং স্কুলটি বা সেখারকার কারো সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।


এর আগে পেশোয়ারের উদ্ধার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেন, "আজ সকালে ৮টা ৪৮ মিনিটে নিয়ন্ত্রণকক্ষে খবর আসে যে স্কুলটির ছাদ ধসে পড়েছে। আমরা সেখানে পৌঁছে দেখি, ভবনটির একটি ছাদ আরেকটি ছাদের ওপর ধসে পড়েছে। ওই শ্রেণিকক্ষের শিশুরা এর নিচে চাপা পড়ে।"


ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কিংবা টানা আলোচনা-কোনোটিই চায় না ইরান। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।


তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সুসংহত করতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।


গালিবাফ বলেন, ‘যখনই আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করব, তখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও সেই বিজয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে।’


ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, ‘এর অর্থ অন্তহীন যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা নয়। আমরা শত্রুকে ক্লান্ত করে তুলতে লড়াই করি, যাতে তারা আমাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।’


এদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ কোনো বস্তু আঘাত হানে। অন্য জাহাজটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে ডুবে যায় বলে জানা গেছে। ওই অঞ্চলে অব্যাহত হামলার কারণে জাহাজ চলাচলের গতি কমে এসেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


যদিও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে আবারও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং ইরান তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা হারিয়েছে।


অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের প্রথম সারির নেতারা চলে গেছেন। তারা দ্বিতীয় সারির নেতাদের বেছে নিয়েছিল। তাদেরও অনেকে চলে গেছেন। এরপর তৃতীয় সারির নেতাদের বেছে নেয়া হয়েছে। তাদের অর্ধেকও চলে গেছেন। তারা আমাকে আর কাউকে হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিল। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ এএম

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মার্চেন্ট নেভির কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি ও স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১২৬টি শুনানি ও ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করেন জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র। এর দুই সপ্তাহ আগে দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। খবর এনডিটিভির।


মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রা নগরে নিজেদের বাড়িতে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসকান ও সাহিল। প্রথমে খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে অচেতন করেন তার স্ত্রী। পরে সাহিল বাড়িতে পৌঁছালে দুজন মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।


হত্যার পর বাথরুমে সৌরভের মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর দেহের খণ্ডিত অংশগুলো একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে তাতে বালি, পানি ও সিমেন্টের মিশ্রণ ঢেলে দেওয়া হয়। মরদেহের অস্তিত্ব গোপন করতেই এভাবে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেন তারা। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ড্রামটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।ঘটনার পর মুসকান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। এদিকে, সৌরভ বেঁচে আছেন এবং ব্যবসায়িক কাজে বাইরে রয়েছেন—এমন ধারণা তৈরি করতে স্বামীর ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের বার্তা পাঠাতেন মুসকান।


তবে স্বজনদের সন্দেহ হলে ১৭ মার্চ তারা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সৌরভের বাড়িতে যান। এ সময় সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের বলে, ‘বাবা ড্রামের ভেতর।’ পরে পুলিশ ড্রামটি কেটে সেখান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এর দুই দিন পর মুসকান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভৌত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। স্থানীয় দোকানিরা সাক্ষ্য দেন, অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে নীল ড্রাম, সিমেন্ট, বালি ও মাংস কাটার ছুরি কিনেছিলেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও টাওয়ারের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে অপরাধের সময় ঘটনাস্থলে সাহিলের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।


রায় ঘোষণার আগে মুসকানের বাবা-মা আদালতকে জানান, সৌরভ ভালো মানুষ ছিলেন এবং অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাদের আপত্তি নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে মুসকানের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি।