ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী বিদেশি নাগরিকদের নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গতকাল সোমবার বলেছেন, যেসব বিদেশি নাগরিক স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসেছিলেন, কিন্তু পরে এখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে ভিসা বাতিল করা হবে। এ লক্ষ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


ঠিক কতটি ভিসা বাতিল করা হবে, তা বিস্তারিত জানায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দুই লাখ বিদেশির ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিল হবে। সে হিসাবে এটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি ও দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এপি আরও জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা সব বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা এ প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।


তবে ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে না। বর্তমানে যাঁদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাঁদের বেশির ভাগের ভিসার মর্যাদা নতুন শ্রেণিতে পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে তাঁরা ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অস্থায়ী ভিসার মর্যাদা হারাবেন।


গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ‘ভিত্তিহীন বা ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে’ ভরে গেছে।


এর আগে চলতি মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা এর ফলে বৈষম্য ও চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ শুধু অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করা হয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ এরই মধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।




ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩১ পিএম

বেলজিয়ামের ক্লেমঁ ভানদেনকার্কহোভের জন্ম ২০০০ সালের আগস্টে। তাঁর মা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন বেলজিয়ান গায়িকা। তাঁর আসল নাম আইরিস ভানদেনকার্কহোভ।১৯৯০-এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোয়ে পরিচয়ের পর তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল প্রিন্স লরাঁর। তবে সেই সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।


ক্লেমঁর বয়স যখন ১৬ বছর, তখন মা তাঁকে জানান, তাঁর বাবা প্রিন্স লরাঁ, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের ছোট ভাই। কথাটি জানার পরও সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্স লরাঁর ছেলে—এই পরিচয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।


চার বছর পর ক্লেমঁ তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর দুজনের সম্মতিতে করা হয় ডিএনএ পরীক্ষা। এবং তাতে প্রমাণ হয়, ক্লেমঁ আদতেই প্রিন্স লরাঁর ছেলে।


এরপর বাবা ও ছেলের মধ্যে শুরু হয় খোলামেলা যোগাযোগ। ক্লেমঁ জানিয়েছেন, তাঁরা খোলামেলা ও আন্তরিক কথাবার্তা বলেছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষায় সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার পরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।


প্রায় ছয় মাস আগে একেবারে নীরবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স লরাঁ তাঁকে নিজের ছেলে হিসেবে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেন। চলতি সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।


এই স্বীকৃতির ফলে ক্লেমঁ এখন প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তাঁর সৎভাই-বোনদের সমান উত্তরাধিকারের অধিকার পাবেন। স্ত্রী প্রিন্সেস ক্লেয়ারের ঘরে লরাঁর আরও তিন সন্তান আছে, তাঁরা হলেন প্রিন্সেস লুইস, প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স আয়মেরিক।


তবে রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ক্লেমঁর ভূমিকা সীমিত। তিনি কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না, তাঁকে কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও পালন করতে হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেলজিয়ামের সিংহাসনের ওপর তাঁর কোনো অধিকার নেই।


বাবার পারিবারিক পদবি ‘সাক্স-কোবুর্গ’ নেওয়ার সুযোগও তাঁর আছে। কিন্তু সেটি নেওয়ার ব্যাপারে এখনো আগ্রহী নন ক্লেমঁ। বরং নিজের মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ‘ভানদেনকার্কহোভ’ নামটিই রাখতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করা তাঁর মায়ের এত দিনের অবদানের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মতো হবে।


মজার বিষয় হলো, বেলজিয়ামের রাজপরিবারে পিতৃত্ব নিয়ে এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। প্রিন্স লরাঁর বাবা, বেলজিয়ামের সাবেক রাজা দ্বিতীয় আলবের্ত, দীর্ঘদিন একটি পিতৃত্বের আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।


শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সূত্রে তাঁর একটি কন্যাসন্তান আছে। সেই সন্তান ডেলফিন বোয়েলও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজকন্যার মর্যাদা পান। বর্তমানে তিনি ডেলফিন দ্য সাক্স-কোবুর্গ নামে পরিচিত।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৬ এএম

আইফোনের মাসিক কিস্তি (ইএমআই) পরিশোধ করতে না পেরে আর্থিক চাপে যমুনা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেছেন এক নৃত্যশিল্পী। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন এই যুবক।


পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, দিল্লির ওখলা এলাকার বাসিন্দা দীপক কুমার গত কয়েক মাস ধরে আয় কমে যাওয়ায় আইফোনের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এ নিয়ে তার মধ্যে ক্রমেই মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই আর্থিক চাপ থেকেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নেন।


দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ এলাকার ভোলা ঘাটে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। টহলরত পুলিশ সদস্যরা দীপককে যমুনায় ঝাঁপ দিতে দেখে দ্রুত উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন। পরে জল ও কাদার মধ্য থেকে তাকে উদ্ধার করে ডাঙায় তোলা হয়।


দীপক ওখলার বাসিন্দা। পেশায় নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যশিক্ষক। পাশাপাশি বাগানে মালির কাজও করেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। পরে পুলিশ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করে এবং তার স্ত্রী ও শ্যালককে খবর দেয়া হয়। তাদের সঙ্গেই দীপক বাড়ি ফিরে যান।


একই দিনে ভারতের মহারাষ্ট্রেও আইফোনের ইএমআই নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের তিনজন পাহাড় থেকে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে। তবে তদন্তে ওই ঘটনার পেছনে আরো কিছু কারণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বিষয় : ভারত


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

কোনো দেশ পরিচালনা করেন না। নেই নিজস্ব সেনাবাহিনী। এমনকি কোনো সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার ক্ষমতাও নেই। তারপরও জাতিসংঘ মহাসচিবের পদটি বিশ্বমঞ্চে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। 


এ পদে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা একের পর এক যুদ্ধ এড়াতে সহায়তা করেছেন, শান্তিচুক্তি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছেন এবং মানবিক সংকটে বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেবে, সেটির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান মহাসচিব ও পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। পরদিন জাতিসংঘের দশম মহাসচিব হিসেবে নতুন কেউ দায়িত্ব নেবেন।


নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত আটজন প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ। প্রথম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও তিনি দ্বিতীয় দফার ভোটে পিছিয়ে গেছেন। বিপরীতে অবস্থান মজবুত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের এক প্রার্থীর।


পরিষদে প্রথম দফার ভোটটি হয় জুলাই মাসে। গত শুক্রবার দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়েছে। তবে এসব ভোটে এগিয়ে থাকা প্রার্থীই যে মহাসচিব হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলো যেকোনো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন কারও মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া যায় না। 


কারা প্রার্থী হয়েছেন?


পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আছেন পাঁচজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘে নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 


আরেক প্রার্থী কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএডি) প্রধান। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কৃষ্ণসাগর শস্য উদ্যোগের সমঝোতা করাতে ২০২২ সালে তিনি ভূমিকা রাখেন। ৭০ বছর বয়সী গ্রিনস্প্যান ইহুদি পরিবারের সন্তান। হলোকাস্টের সময় তাঁর মা-বাবা কোস্টারিকায় আশ্রয় নেন।


চিলির আগুস্তো পিনোশের শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হওয়া মিশেল বাশেলেত এবার প্রার্থী হয়েছেন। বাশেলেত চিলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট (২০০৬) ছিলেন। পরে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব নেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি চীনের উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন।


৭৪ বছর বয়সী বাশেলেতকে সমর্থন দিয়েছে মেক্সিকো ও ব্রাজিল। তবে নিজ দেশের পক্ষ থেকে তিনি কোনো সমর্থন পাননি। গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কথা বলায় যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর সমালোচনা করেছে।


বাকি প্রার্থীদের মধ্যে আছেন- ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (৬১)। তিনি এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও নিজ দেশের সমর্থন পাননি। একই দেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ইভোনে আ-বাকি। ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। 


এছাড়া, কাতারে রাষ্ট্রদূত থাকার সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন।


এরপর আছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাইরে থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাকি সাল (৬৪)। তিনি সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনে তাঁর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ আছে। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। 


এছাড়া, কফি আনানের সময় আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা ওলারা ওতুনু (৭৫) এবার প্রার্থী হয়েছেন। তিনি উগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 


কোন দেশের প্রার্থীরা এগিয়ে?


শুক্রবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে আছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট। কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের গোপন ভোটে পিছিয়ে গেছেন আগের মাসে এগিয়ে থাকা কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান।


প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়। তৃতীয় স্থানে আছেন, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি। এরপরের অবস্থানে আছেন পর্যায়ক্রমে সেনেগালের মাকি সাল, চিলির মিশেল বেশেলেত, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা ও উগান্ডার ওলারা ওতুনু। 


জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টনের একটি রীতি আছে। সে অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা থেকে কারও মহাসচিব হওয়ার কথা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা ছাড়াও এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের অধিকাংশই এই অঞ্চলের।


নতুন প্রার্থী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে?


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোর্তি সম্প্রতি এএফপিকে বলেন, ‘ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ দেশ নিজেদের অবস্থান জানাতে আরও সময় নিতে পারে। একইসঙ্গে নতুন প্রার্থীরাও এই দৌড়ে যোগ দিতে পারেন।’ 


একই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যে প্রার্থীদের দেখছি, তাদের কাউকে নিয়ে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয়, যদি কেউই এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে আরও কিছু প্রার্থীকে এই দৌড়ে দেখা যেতে পারে।’


কীভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই


নিরাপত্তা পরিষদে এমন আরও অনানুষ্ঠানিক ভোট হওয়ার কথা আছে। সভাপতি দেশ ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিনা লাসেন বলেছেন, পরবর্তী অনানুষ্ঠানিক ভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে পরিষদে আলোচনা চলছে। আর সদস্য দেশ কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত জেনন এনগাই মুকঙ্গো বলেছেন, এখনই ঐকমত্যে পৌঁছানোর সময় আসেনি।


নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হবে। একইসঙ্গে তাঁর বিপক্ষে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো থাকা যাবে না। এই দুই বাধা পার হতে পারলে সেই প্রার্থীর নাম অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে তোলা হয়।


১৯৮০-এর দশকের শুরুতে দুই প্রার্থীকে ভেটো দেওয়া নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ ধরনের অবস্থা যাতে পরবর্তীতে তৈরি না হয় সেজন্য চূড়ান্ত প্রার্থীকে বাছাইয়ের আগে অনানুষ্ঠানিক ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়। স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের সমালোচনা থাকলেও প্রক্রিয়াটি এখনো চালু আছে।


নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য কোনো প্রার্থীর বিপরীতে তিনটি মতামতের যেকোনো একটি দিতে পারে। সেগুলো হলো- সমর্থন, বিরোধিতা অথবা কোনো মত নেই। এই প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ব্যালটের রং একই রকম থাকে। নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটের পর পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের জন্য ব্যালটের রং আলাদা করা হয়। ওই সময় কোনো প্রার্থীর বিপক্ষে ভেটো থাকার বিষয়টি বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে তা জানা যায় না।


উল্লেখ্য, পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। সেগুলো হলো- চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। ১০টি দেশ দুই বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য হয়।


আগের মহাসচিবরা কেমন ছিলেন


জাতিসংঘ সনদে (১৯৪৫) মহাসচিবকে রাজনৈতিক নেতা নয়; বরং সংস্থাটি প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের প্রধান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তিরা এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেসব দেশকে বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।


সংস্থাটির প্রথম মহাসচিব ছিলেন নরওয়ের ত্রিগভে লি। তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কোরীয় যুদ্ধ নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধিতার মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে দায়িত্ব পান সুইডেনের দাগ হ্যামারশোল্ড। কোনো বিষয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকলে তিনি মধ্যস্থতা ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মহাসচিবের কার্যালয়কে কাজে লাগাতেন।


পরবর্তী মহাসচিবরা শান্তিরক্ষায় এই পদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করেন। মিয়ানমারের উ থান্ট (১৯৬১-১৯৭১) কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। অস্ট্রিয়ার কার্ট ভাল্ডহাইম (১৯৭২-১৯৮১) মধ্যপ্রাচ্য, সাইপ্রাস ও নামিবিয়ায় কাজের মাধ্যমে ‘শাটল কূটনীতি’র ধারণা এগিয়ে নেন। 


পেরুর হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েলার (১৯৮২-১৯৯১) ইরান-ইরাক যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতা করেন। মিসরের বুতরোস বুতরোস-ঘালি (১৯৯২-১৯৯৬) স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ঘানার কফি আনান (১৯৯৭-২০০৬) জাতিসংঘের নিজস্ব কাঠামোর ভেতর থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে মহাসচিব হওয়া প্রথম ব্যক্তি। 


দক্ষিণ কোরিয়ার বান কি-মুন (২০০৭-২০১৬) জলবায়ু পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেন। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সময় জাতিসংঘকে অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এসব যুদ্ধে স্থায়ী সদস্যদের ভেটোর কারণে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বারবার আটকে গেছে।


মহাসচিবের কী কী ক্ষমতা আছে


সনদের ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে জাতিসংঘ মহাসচিবের রাজনৈতিক ক্ষমতার কথা বলা আছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে- এমন যেকোনো বিষয়কে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনতে পারেন। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তবে এই ক্ষমতা খুব অল্প কয়েকবার ব্যবহার হয়েছে। 


মহাসচিবের চারটি প্রধান দায়িত্বের মধ্যে আছে- মধ্যস্থতা, নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সতর্ক করা। তিনি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনে মধ্যস্থতা করতে পারেন। পুরো জাতিসংঘের পক্ষে কথা বলার একমাত্র কর্মকর্তা তিনি।


একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রধান। এছাড়া, কোনো বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে, বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মহাসচিব ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক করতে পারেন।


তবে এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩২ পিএম

একটি কোমল পানীয়র বোতল ও কিছু হালকা খাবার হাতে দিয়ে এক বাবা তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলেকে মাউন্ট ফুজির সাড়ে ছয় হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত একটি বেঞ্চে বসিয়ে রেখে চলে যান। সে সময় চারপাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। পড়ছিল ঝিরঝির বৃষ্টিও।


মাউন্ট ফুজি জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত। কেন ওই ব্যক্তি সেখানে নিজের শিশুসন্তানকে একা বসিয়ে রেখে চলে গেলেন, তা খুঁজতে তদন্তে নামে পুলিশ।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির বয়স ৪৮ বছর। তিনি তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজিতে হাইকিংয়ে যান। কিন্তু পর্বতে উঠতে গিয়ে পথে ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন বাবা ছেলেকে ‘সেখানে অপেক্ষা করতে’ বলেন এবং বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ চালিয়ে যান।


পরে ওই পর্বতে অবস্থিত একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা চূড়ার দিকে যাওয়া একটি হাইকিং পথের ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে শিশুটিকে খুঁজে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। একপর্যায়ে শিশুটির বাবাকে পথটির সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। শিশুটিকে যেখানে পাওয়া যায়, সেখান থেকে ওই ব্যক্তির অবস্থানের দূরত্ব ছিল প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ।


স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ছেলেটিকে পাওয়া যায়। পরে ওই বাবা ওপরের স্টেশন থেকে ফিরে এসে ছেলের সঙ্গে মিলিত হন। টানা আট ঘণ্টার অপেক্ষায় ছেলেটি ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়েছিল বলে জানা গেছে।


এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে তিরস্কার করেছেন। জাপান টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা ওই বাবাকে বলেন, এভাবে একটি শিশুকে একা ফেলে রেখে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ জন্য প্রয়োজনে যদি একসঙ্গে পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়, সেটাই করা উচিত ছিল।


নিজের এমন সিদ্ধান্তের জন্য ওই ব্যক্তি ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিবারটি ফুজিনোমিয়া রুটে পর্বতে উঠেছিল। রুটটি পর্বতের পঞ্চম স্টেশন থেকে শুরু হয়েছে। এ স্টেশন পর্যন্ত গণপরিবহনে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে চূড়ায় পৌঁছাতে হাঁটা পথে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ও চূড়া থেকে নিচে নামতে আরও তিন ঘণ্টা লাগে বলে পর্বতারোহণের গাইডরা জানিয়েছেন।


১২ হাজার ৩৮৯ ফুট (৩ হাজার ৭৭৬ মিটার) উচ্চতার মাউন্ট ফুজিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পর্বতারোহণ–সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।


গত জুলাই মাসে ৯৯ বছর বয়সী এক নারী এ পথে ওঠার সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পান। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে হয়।


আর গত বছর, নির্ধারিত পর্বতারোহণ মৌসুমের বাইরে মাউন্ট ফুজিতে ওঠা ২৭ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চার দিনের মধ্যে দুবার উদ্ধার করতে হয়। হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন খুঁজতে তিনি দ্বিতীয়বার পর্বতে যান।


রাজধানী টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজিকে ২০১৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। মাউন্ট তাতে ও মাউন্ট হাকুর সঙ্গে এটি জাপানের ঐতিহ্যবাহী তিন ‘পবিত্র পর্বতের’ একটি।


প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ মাউন্ট ফুজিতে আরোহণ করেন। ভিড় এড়াতে কয়েকটি রুটে প্রতিদিন কতজন উঠতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।


ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ এএম

ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় আবেদন করা শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার  শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।


সভায় অমিত শাহ বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের এ বিষয়ে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


সিএএ-এর অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা সংগ্রাহকদের কর্তৃত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেও তিনি জানান। সব শরণার্থীকে সম্মানের সঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন অমিত শাহ।


এর আগে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তবর্তী আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা সংগ্রাহকদের সিএএ-এর আওতায় বিচারাধীন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছে। আগে এসব আবেদন কেন্দ্রীয় সরকারের শুমারি, গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি) ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হতো।


তৃণমূল কংগ্রেস ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ বিরোধিতার সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, আমরা যখন সিএএ এনেছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নিয়ে উপহাস করতেন। তিনি বলতেন, তার সরকার এটি বাস্তবায়ন হতে দেবে না। মমতাদিদি, আপনি এই আইন কার্যকর করতে রাজি হননি, কিন্তু আপনাকে ও আপনার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। এখন আমাদের এখানে বিজেপি সরকার রয়েছে।


তিনি আরও জানান, চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে রাজ্য থেকে সব অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করবে রাজ্য সরকার।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

ভারতের ওডিশা প্রদেশ উপকূল থেকে ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ২৪ জন ক্রু সদস্য নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এমভি ওশান উইনার নামে ওই কার্গো জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ওডিশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে যাত্রা শুরু করে। শনিবার (২২ আগস্ট) ডুবে যাওয়া জাহাজটি ১৭০০ টন লোহার আকরিজক বহন করছিল বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভির।


জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে চীনের ২০ জন, মিয়ানমারের ৩ জন এবং একজন বাংলাদেশি ছিলেন। এটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল বলে জানা গেছে।


শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ওডিশার শ্রী বিজয়পুরামের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন এমন একটি বার্তা আসে যে, জাহাজটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ওই বার্তায় নৌযানটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তারও অনুরোধ করে।


ঘটনার পরপরই ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও ভারতীয় নৌবাহিনী একটি যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এরইমধ্যে সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় দুটি জাহাজ যোগ দিয়েছে এবং আরও একটি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এরইমধ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের দুইজনকে উদ্ধার করেছে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারীরা।