নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি বিআরটিসি বাস উদ্বোধন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে সংযোজিত দুটি দ্বিতল বিআরটিসি বাস উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) প্রধান অতিথি হিসেবে বাস দুটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তারা নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে । তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে শুধু শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার কিংবা আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি, নতুন দুটি বাস শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চাপ কিছুটা হলেও কমাতে সহায়ক হবে। শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) নোয়াখালী, এর ম্যানেজার রাজু মোল্লাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।
তবে চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়ার ক্ষেত্রে উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’
এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি। তাদের দাবি-দাওয়া শুনেছি। আমরা তাদের আশ্বস্ত করে বলেছি যে- তাদের দাবিগুলো সরকারকে জানাব। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। পুলিশি পাহারায় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ভেতরে থাকা সবাইকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়।
কোথায় নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত আমরা তাকে আগে হাসপাতালে নিয়ে যাবো।
এর আগে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান ডিসি জাহিদুল ইসলাম ও এসপি মাসুদ আলম। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। ডিসি জাহিদুল ও এসপি মাসুদ আলম শিক্ষার্থীদের জানান, আমরা আপনাদের দাবিগুলো সরকারকে জানাব। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অসুস্থবোধ করছেন। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাবো। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। পুলিশি পাহারায় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ভেতরে থাকা সবাই ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যান।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ায় তিনি নিজ কার্যালয়ে আটকে পড়েন। তালা দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। তবে গতকাল সোমবার ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে যান তিনি।
নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা তার দপ্তরের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যকে কার্যালয় ত্যাগ করতে সময়সীমা বেঁধে দেন।
তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর দুপুর ১২টার দিকে তারা উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন। ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা।
শিক্ষার্থীরা ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ১০-১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদও রয়েছেন। অন্যরা বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
জবিতে গ্রীন ভয়েসের নবীনবরণ
সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, নদীদূষণ রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েসের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সেমিনার কক্ষে ‘শরতের শুভ্র ছোঁয়ায়, নবীনবরণ সবুজের মায়ায়’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটির জবি শাখা।
‘শরতের শুভ্র ছোঁয়ায়, নবীনবরণ সবুজের মায়ায়’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
গ্রীন ভয়েস জবি শাখার সভাপতি নাজনীন আক্তার বৃষ্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মনিরা জাহান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য রাকিবুজ্জামান লিখন ও তাসনীম আরা রিফা।
অনুষ্ঠানে তরুণদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব তুলে ধরে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রাশেদুজ্জামান লিমন বলেন, "পরিবর্তনের সূচনা হোক নিজের ঘর থেকেই। গ্রীন ভয়েস শুধু পরিবেশ নিয়ে কাজ করে না, এটি একটি পরিবেশবাদী যুব আন্দোলন। এখানে কাজের মাধ্যমে তরুণেরা নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অর্জনের সুযোগ পান।"
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংগঠনটির উপদেষ্টা ড. নাজমুন নাহার বলেন, "বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বড় সমস্যা এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য সুশাসনের প্রতিটি স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সচেতন করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্কুলপর্যায়ে প্রামাণ্যচিত্র ও সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরিসহ তরুণদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।"
পরিবেশ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে গ্রীন ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, "দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই চেতনা থেকেই তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। বুড়িগঙ্গাসহ নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।"
এ সময় পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গ্রীন ভয়েস জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শিমুল মোড়ল বলেন, "গ্রীন ভয়েস শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি একটি চিন্তা, একটি দায়িত্ব এবং সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়। আমরা চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশসচেতন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠুক।"
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ গ্রীন ভয়েসের সাবেক ও বর্তমান নেতারা অংশ নেন।
চুয়েটের উপাচার্য ভবন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গতকাল দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ায় তিনি নিজ কার্যালয়ে আটকে পড়েন। আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি ভবন থেকে বের হতে পারেননি। তালা দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের দাবি, নতুন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ফটকের তালা খুলবেন না তাঁরা। এদিকে চুয়েটে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালন করছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। তবে গতকাল ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে যান তিনি।
নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর দপ্তরের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যকে কার্যালয় ত্যাগ করতে সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন। ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ১০-১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদও রয়েছেন। অন্যরা বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমার সঙ্গে চারজন অ্যালামনাই আছেন। একজন আমার বন্ধু, দুজন বড় ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু আমি দপ্তরে এলাম নয়টায়, এর দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়াটা অমানবিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি আমার কাছে নেই। তাদের কোনো বক্তব্য সম্পর্কেও আমি অবগত নই। তারা যদি লিখিত আকারে দাবি দেয়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতাম।’
রাতে ঘুমাতে পারেননি জানিয়ে আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটিই আমরা খেয়েছিলাম। আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা, তাই রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগ চান। তিনি পদত্যাগ করলেই তালা খুলে দেওয়া হবে। আন্দোলনরতদের একজন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান বলেন, ‘তিনি পদত্যাগ করলেই আমরা তালা খুলে দেব। তখন তিনি সসম্মানে যেতে পারবেন।’
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ‘তিনি যে এভাবে আসবেন, আমরা ভাবিনি। আমরা আমাদের অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। উনি তো খুব বলতেন, ওনার সঙ্গে অনেক শিক্ষক আছে, ছাত্র আছে। এখন তাঁরা তাঁকে সাহায্য করুক।’
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান সময়ে উন্নত জীবন আর শিক্ষামানের আশায় অনেকেই দেশের বাইরে যাচ্ছেন পড়াশোনার জন্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কানাডা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ আগ্রহ রয়েছে। এখন অনেক শিক্ষার্থীরা কানাডায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করছে। কানাডায় উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে অন্টারিও গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ (ওজিএস)। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এ বৃত্তিতে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্টারিও প্রদেশের অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য এ বৃত্তি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করছে। অন্টারিও প্রদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এ বৃত্তির মূল লক্ষ্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষাগত উৎকর্ষকে উৎসাহিত করা। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক পরিবেশে গবেষণার দক্ষতা বাড়ানো এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগও রয়েছে এতে।
বৃত্তির আওতায় যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে
অন্টারিও গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপের আওতায় শিক্ষার্থীরা পাবেন—
> পরপর দুই স্টাডি টার্মের জন্য ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার।
>পরপর তিন স্টাডি টার্মের জন্য ১৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার।
> শিক্ষাগত কৃতিত্বের স্বীকৃতি।
> গবেষণায় পূর্ণ মনোযোগ দেয়ার সুযোগ।
> আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ।
> একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইল সমৃদ্ধ করার সুযোগ।
> কানাডায় ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা বাড়ানোর সুযোগ।
>বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিকাশের সুযোগ।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যাবে
অন্টারিও প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—
১. ব্রক ইউনিভার্সিটি
২. কার্লটন ইউনিভার্সিটি
৩. ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফ
৪. লেকহেড ইউনিভার্সিটি
৫. লরেনশিয়ান ইউনিভার্সিটি
৬. ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি
৭. নিপিসিং ইউনিভার্সিটি
৮. ওসিএডি ইউনিভার্সিটি
৯. অন্টারিও টেক ইউনিভার্সিটি
১০. ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া
১১. কুইন্স ইউনিভার্সিটি
১২. টরন্টো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি
১৩. ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো
১৪. ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি
১৫. ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু
১৬. ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
১৭. উইলফ্রিড লরিয়ার ইউনিভার্সিটি
১৮. ইউনিভার্সিটি অব উইন্ডসর
১৯. ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি।
আবেদনের যোগ্যতা
এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে অংশগ্রহণকারী কোনো অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি থাকতে হবে অথবা ভর্তির পরিকল্পনা থাকতে হবে। বৃত্তি চলাকালে পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত থাকাও বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ন্যূনতম জিপিএ এবং অন্যান্য একাডেমিক শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওজিএস-সংক্রান্ত নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে—
> পূরণ করা অনলাইন আবেদনপত্র।
> একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট।
> দুটি সুপারিশপত্র।
> বৈধ পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র।
> জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)।
> মোটিভেশন লেটার বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপত্র।
> স্বাস্থ্য সনদ।
আবেদন করবেন যেভাবে
প্রথমে পছন্দের বিষয় ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ ওয়েবপেজে যেতে হবে। সেখানে বৃত্তির আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনের শেষ সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আবেদনের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি দেখে নেয়া জরুরি।
চুয়েটের উপাচার্য ভবনের গেটে তালা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় এরই মধ্যে ভবনের গেটগুলোতে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য ভবন না ছাড়লে ভবনটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল। তবে তারা যদি বিদ্যুৎ ও পানির মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো বন্ধ না করে, তাহলে ভালো হয়। আমি তাদের সঙ্গে বসতে আগ্রহী।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের অপেক্ষায় আছি। তাঁরা এলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসব।’
এদিকে শহর থেকে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস ক্যাম্পাসে আসার সময় হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর এলাকায় পথরোধ করে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ তারা বাসগুলোকে পুনরায় শহরের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিকেল তিনটায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষক কর্মকর্তা এবং কর্মচারী সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, নতুন উপাচার্যের আগমনে যদি ক্যাম্পাসে কোনো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তার সম্পূর্ণ দায়ভার নবনিযুক্ত উপাচার্যের উপর বর্তাবে। পাশাপাশি তাদের পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি চলমান থাকবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে একটি র্যালি বের করেন তারা। র্যালি শেষে বক্তব্যে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
এর আগে সকালে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ না করলে ভবনের ফটকে তালা এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম উপাচার্য ভবনে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা রয়েছেন। সেখানে সিভিল পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে। দুই তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল আর খাবার নিয়ে উপাচার্য ভবনে ঢুকতে গেলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তৈরি হয় উত্তেজনা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার। পরক্ষণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম বলেন,‘না, সকাল থেকে তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।’ ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই প্রবেশ করেছি।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্বয় বলেন, ‘সরকার যেহেতু স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘যাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি, তার কাজ নিয়ে তো শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। স্যারকে কাজের সুযোগ দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।’
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা চলছে। এর মধ্যেই নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ত্যাগ না করলে ভবনের ফটকে তালা এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার এ ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তারা উপাচার্য ভবনকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করার কথা জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত তিনি উপাচার্য ভবনে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা রয়েছেন। সেখানে সিভিল পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে।
এর আগে সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পৌনে ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতারা ছিলেন।
পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
দুই তিনজন সাবেক শিক্ষার্থী ফুল আর খাবার নিয়ে উপাচার্য ভবনে ঢুকতে গেলে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তৈরি হয় উত্তেজনা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার। পরক্ষণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি। বর্তমানে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছি। তাঁরা আসলে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবো, তাদের সাথে কথা বলব।’
সকাল থেকে কোনো দাপ্তরিক কাজ করছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, সকাল থেকে তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করা হয়নি।’
ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের প্রবেশের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই প্রবেশ করেছি।’
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্বয় বলেন, ‘সরকার যেহেতু স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘যাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি, তার কাজ নিয়ে তো শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। স্যারকে কাজের সুযোগ দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।’
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি প্রবেশ করলেই আমরা তাকে মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা চলছে। এর মধ্যেই নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ সময় তারা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।