সংগৃহীত ছবি
৮৭ হাজারের বেশি দর্শকে ঠাসা গ্যালারি। স্টেডিয়াম নয়, আদতে এটি মেক্সিকোর দুর্গ। সেখানেই মঞ্চস্থ হলো ধ্রুপদি এক বিশ্বকাপ লড়াইয়ের। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, পাঁচ গোল, দুই পেনাল্টি, এক লাল কার্ডসহ ঘটনাবহুল ম্যাচে শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই হলো হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত গ্যালারির গর্জন থামিয়ে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দারুণ জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারাল ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক এই আসতেকা স্টেডিয়ামে ৯০ ম্যাচে মেক্সিকোর মাত্র তৃতীয় হার এটি।
ম্যাচের প্রথম ৩৫ মিনিটে মেক্সিকোর দাপট বেশি থাকলেও পরের দুই মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে জুড বেলিংহ্যাম এগিয়ে দেন ইংলিশদের। একটু পরই হুলিয়ান কিনোনেসের গোলে ব্যবধান কমায় মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টিতে গোল করেন হ্যারি কেইন, পেনাল্টিতেই একটি ফিরিয়ে দেন রাউল হিমেনেস।
৫৪তম মিনিটে সরাসরি লল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ান্সা। নির্ধারিত সময় ও যোগ করা সময় মিলিয়ে বাকি ৪৮ মিনিটে ১০ জন নিয়ে খেলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টমাস টুখেলের দল। শেষ সময়ে প্রবল চাপের মুখেও দারুণ মানসিক শক্তির ছাপ রাখে ইংলিশরা।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে মেক্সিকো সিটিতে ম্যাচটি শুরু হয় এক ঘণ্টা দেরিতে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লুইস রোমোকে বাজে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ডেক্লান রাইস। এরপর অনুমিতভাবেই অবিরাম চাপ তৈরি করতে থাকে মেক্সিকো। ইংলিশরা যখনই বল পায়, তখনই গ্যালারি থেকে ভেসে আসে দুয়োর সুর, মাঠেও তাদের কোণঠাসা করে ফেলেন মেক্সিকানরা।
পঞ্চদশ মিনিটে গোলের সুবাস পেয়েও হারায় মেক্সিকো। রবের্তো আভারাদোর দুর্দান্ত ক্রসে প্রায় শুয়ে পড়ে চোখধাঁধানো এক হেড করেন হিমেনেস। কিন্তু ততটাই দর্শনীয়ভাবে ঝাঁপিয়ে এক হাতে বল বাইরে পাঠান ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।
সেখান থেকে পরপর দুটি কর্নার পায় মেক্সিকো। তবে তাদের চাপ সামলে গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। গোলে প্রথম শট নেয় তারা ২৬তম মিনিটে। বাঁদিক দিয়ে দারুণভাবে ঢুকে শট নেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে মেক্সিকোর গোলকিপার রাউল রাহনেল ধরে ফেলেন সহজেই।
পরের মিনিট দশেক খেলা ছিল একটু নিস্তরঙ্গ। এরপর হুট করেই যেন ফুটে ওঠে টগবগ করে।
৩৭তম মিনিটে গুলির বেগের পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলকিপার পিকফোর্ড বল ধরে দ্রুত বাড়ান রাইসের দিকে। তিনি চোখের পলকে বল নিয়ে ওপরে ওঠে বক্সের কাছে দেন সাকার দিকে। সেখানে হেসুস গাইয়ার্দোকে এড়িয়ে বক্সের মাঝামাঝি চমৎকার ক্রস করেন সাকা। ছুটে এসে নিচু হয়ে নিখুঁত ডাইভিং হেডে বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার এই মাঠে পিছিয়ে পড়ে মেক্সিকো। এবারের বিশ্বকাপেও প্রথমবার বল ঢোকে তাদের জালে।
পরের মিনিটেই মাঝমাঠে হিলবার্তো মোরার কাছ থেকে বল কেড়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে ইংলিশরা। বেলিংহ্যাম বল ধরে এগিয়ে হ্যারি কেইনের কাছে দেন। বক্সের ডান পাশ থেকে কেইন আবার বাড়ান মাঝে। জটলার মধ্যে স্লাইড করে বলে পা ছুঁইয়ে দ্বিতীয়াবার উল্লাসে মেতে ওঠেন বেলিংহ্যাম।
হতভম্ব মেক্সিকো দ্রুতই জেগে উঠে জবাব দেয়।
৪২তম মিনিটে প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে আভারাদোর ফ্রি কিকে বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে এজ্রি কন্সার পায়ে লেগে বল আসে একটু পেছনে। সেখানে ফাঁকায় অপেক্ষায় ছিলেন কিনোনেস। ঠাণ্ডা মাথায় ভলিতে পিকপোর্ডকে পরাস্ত করেন এই ফরোয়ার্ড।
গ্যালারি উত্তাল হয়ে ওঠে সেই গোলে। যোগ করা সময়ে তিন দফা গোলের সম্ভাবনা জায়গায় তারা। হিমেনসের বাম পায়ের শট সামান্য একটুর জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে তার হেড দারুণ রিফ্লেক্সে ফিস্ট করে ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন পিকফোর্ড।
একটু পর কর্নার থেকে জটলা পেরিয়ে গোলের একদম মুখে বল পেয়ে যান সেসার মন্তেস। তিনি বল জালে পাঠানোর মুহূর্তে অবিশ্বাস্যভাবে আচমকা পা বাড়িয়ে বল বাইরে পাঠান বেলিংহ্যাম।
গোল করার চেয়েও কোনো অংশে কম ছিল না সেই গোল রক্ষা করা। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম সম্ভাবনা জাগায় ইংল্যান্ড। ৪৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিকো ও’রাইলির গড়ানো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। একটু পর ইংল্যান্ডের সেই বড় ধাক্কা।
গাইয়ার্দোকে অযথাই বাজে ট্যাকল করেন কুয়ান্সা। রেফারি শুরুতে তা খেয়াল করেননি। সেই ফাউলের সূত্রে দুই দলের ডাগআউটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একটু পর ভিএআর দেখে কুয়ান্সাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
তবে তাতে টালমাটাল না হয়ে লড়ে যায় ইংলিশরা। মিনিট চারেক পরই মেলে পেনাল্টি। দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে পড়া গর্ডনকে থামাতে গিয়ে ফেলে দেন গোলকিপার রাহনেল। পরে কেইনের পেনাল্টি শটে ঠিক দিকে ডাইভ দিলেও ঠেকাতে পারেননি মেক্সিকোর গোলকিপার। বুলেট গতির নিখুঁত শট আশ্রয় নেয় জালে।
চলতি মৌসুমে ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে কেইনের ৭৩তম গোল সেটি।
ছয় মিনিট পর কেইনের ফাউলেই ভিএআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। বুদ্ধিদীপ্ত শটে ব্যবধান কমান হিমেনেস।
গ্যালারির তুমুল হুল্লোড়ের সঙ্গে মাঠেও উত্তেজনা ছড়ায়। হলুদ কার্ড দেখেন ও’রাইলি ও হোর্হে সানচেজ।
দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের পর জেড স্পেন্স ও ডান বার্নকে নামিয়ে রক্ষণে মনোযোগী হয় ইংল্যান্ড। মেক্সিকো চেষ্টা করে যেতে থাকে। ৮১তম মিনিটে ফাঁকায় থেকেও হেড ঠিকমতো নিতে পারেনি আলভারেস। সান্তিয়াগো হিমেনেসের ভলি চলে যায় বাইরে দিয়ে। ৮৮তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আলভারো ফিদালগোর শট সহজেই ধরে নেন পিকফোর্ড।
৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ১১ মিনিট। খেলা চলে ১২ মিনিটের বেশি। আক্রমণের পর আক্রমণ করে মেক্সিকো। কিন্তু তাদের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় ইংলিশদের রক্ষণ দেয়ালে।
এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকোতে শেষ ম্যাচ ছিল এটিই। সেই ম্যাচে ঘরের দলের বিদায়ে দেশজুড়ে উন্মাদনাও যাবে থেমে। ম্যাচের পর চোখের জল ঝরিয়ে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ফুটবলাররা।
ইংলিশদের উল্লাসও ছিল অনুমিতই। কোয়ার্টার-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে বিদায় করে দেওয়া নরওয়ে।
ছবি : সংগৃহীত
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দারুণ একক নৈপুণ্যে গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছেন মাইকেল অলিসে। তার ৮৮ মিনিটের গোলেই বেলজিয়ামকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ফ্রান্স।
জিনেদিন জিদানের অধীনে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে শুক্রবার তুরস্কের বিপক্ষে জেতা ম্যাচের একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিল ফ্রান্স। তবে ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে শেষ পর্যন্ত বেঞ্চের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাদের।
৮৮ মিনিটে নিজের অর্ধে কাঁধ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার অলিসে। এরপর দুর্দান্ত গতিতে সামনে এগিয়ে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
তার এই অসাধারণ একক প্রচেষ্টাতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটিতে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল।
তবে স্কোয়াডে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তাকে দলে রাখা হয়নি। ফলে আক্রমণভাগে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন দেজিরে দুয়ে। পাঁচবার গোলের চেষ্টা করেও জালের দেখা পাননি তিনি। এর মধ্যে একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অভিষেক হওয়া লুকাস দা কুনহাও একটি শটে পোস্টে বল লাগান।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের দুই উইঙ্গার মিকা গডটস ও দোদি লুকেবাকিও ফ্রান্সের রক্ষণে বেশ চাপ তৈরি করেছিলেন। তবে অভিজ্ঞতাহীন ফরাসি রক্ষণভাগের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেননি তারা।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ১’-এর শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। আগামী শুক্রবার ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। একই দিনে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ তুরস্ক।
ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পথচলায় বড় ভূমিকা রেখে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের পর পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এমনকি সুযোগ পেলে আগের সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে চান।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে যায় ভোজিনিয়ার। চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
ভোজিনিয়ার কাছে খ্যাতির এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে, বর্তমান জীবন ও আগের জীবনের মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগ পেলে তিনি পুরোনোটিই বেছে নেবেন। তার ভাষায়, বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের জীবনই তার কাছে বেশি স্বস্তির ছিল।
বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেটিই রাতারাতি বেড়ে যায় মিলিয়নের ঘরে।
তবে এই খ্যাতির সঙ্গে আসা বাড়তি মনোযোগ তার কাছে মোটেও স্বস্তির নয়। ভোজিনিয়া বলেন, আগের মতো ব্যক্তিগত পরিসর এখন আর নেই। বাইরে বের হলে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই ভক্তরা ছবি ও অটোগ্রাফের জন্য ছুটে আসেন। কেউ কেউ আবার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করতে শুরু করেন।
বিশ্বকাপের আগে যে স্বাভাবিক জীবন ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারিয়ে যাওয়া।
ভোজিনিয়ার পরিবারও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। কেপ ভার্দেতে থাকা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে মাঝেমধ্যে সমর্থকেরা হাজির হয়ে যান। তারা কখনো ভোজিনিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে, আবার কখনো ছবি তুলতে চান। তার বাবা অবশ্য এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ নিয়ে ভোজিনিয়ার আক্ষেপ, তিনি দেশের বাইরে থাকায় বাবা-মায়ের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সেটি তার পরিবারকেই শিখে নিতে হচ্ছে।
সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তান
বৃষ্টির কারণে খেলা ভেস্তে যাওয়ার কারণে ভারত ও পাকিস্তান এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত ফলাফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। শেষ চারে ভারত খেলবে শ্রীলঙ্কা অথবা নেপালের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অথবা মালয়েশিয়ার।
যদি ম্যাচগুলো পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উন্নীত হবে।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্টের জন্য শীর্ষ বাছাই (সিডেড দল) হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং তারা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা ভালো নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইফুন ‘সুরিগে’ জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে এবং এটি আইচি-নাগোয়া গেমসের বাকি অংশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাইফুনের প্রভাবে আইচি এবং মধ্য জাপানের অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
এর আগে ভারতের নারী দল সফলভাবে তাদের টি-টোয়েন্টি স্বর্ণপদক ধরে রেখেছিল, কিন্তু পুরুষদের বিভাগটি আবহাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি বৃষ্টি খেলা পণ্ড করতে থাকে, তবে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাপকাঠি।
হাংঝুতে অনুষ্ঠিত আগের এশিয়ান গেমসেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল; সেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারতকে স্বর্ণপদক এবং আফগানিস্তানকে রৌপ্যপদক দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, যদি বাকি সব ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় তবে ভারত তাদের স্বর্ণপদক ধরে রাখবে কারণ তারাই এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে সকালে অনুষ্ঠেয় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল হংকং, চীন; কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে টস হওয়ার আগেই ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। বিকেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার কথা থাকলেও মাঠ ভেজা থাকায় টসের আগেই সেই ম্যাচটিও বাতিল করা হয়।
সোমবার নিশিনে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারত ও পাকিস্তান ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে- ভারত ১ নম্বর ও পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে- মাঠে না নেমেই দল দুটি সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে। ফলে আফগানিস্তান ও হংকং, চীন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আকস্মিক বন্যার শিকার হয়ে দুই দিন ধরে থাইল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচ।
আটকা পড়া দলের সদস্যরা হলেন রামহিম লিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনাম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি, সামান্তা হোসেন তুসি এবং দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং পুরুষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় ভিন্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকায় সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
জানা গেছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীরাই এই পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে থাই এয়ারওয়েজ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন খেলোয়াড়দেরকে ভিন্ন ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কর্মচাঞ্চল্য শেষে যে বয়সে অধিকাংশ মানুষই অবসরের জীবন উপভোগ করেন, সেই বয়সেও তোশিসুকে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জয়ী হচ্ছেন। ৯০ বছর বয়সী এই জাপানি বডিবিল্ডার সম্প্রতি ‘জাপান মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ৮৫-ঊর্ধ্ব বিভাগে সাতজন প্রতিযোগিকে পরাজিত করে তার ১৯তম জাতীয় শিরোপা জয় করেছেন।
এই জয়ের ঠিক আগের দিনই তিনি ৯০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। হিরোশিমার বাসিন্দা কানাজাওয়া কয়েক দশক ধরে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং সার্জিও অলিভার মতো এই খেলার কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১৯৩৬ সালে জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণকারী কানাজাওয়া শুরুতে সাঁতারের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ১,৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন এবং অলিম্পিকে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পেশীর সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। একপর্যায়ে তিনি বডিবিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তার এই সিদ্ধান্তটি পরিবারের সদস্যরা শুরুতে ভালোভাবে নেননি। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে কানাজাওয়া বলেন, আমার মা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু বাবা ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তিনি মনে করতেন তরুণদের চাকরি-বাকরি বা কাজ করা উচিত। আমি তাদের বলেছিলাম, আমি জাপানের সেরা হতে চাই, তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমার কয়েক বছর সময় লাগবে।
এরপর কানাজাওয়া নিজেকে পুরোপুরি প্রশিক্ষণে নিয়োজিত করেন; কখনও কখনও তিনি দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরচর্চা করতেন। কোনো জটিল বা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার পরিবর্তে তিনি মূলত মায়ের হাতের তৈরি সাধারণ খাবারই খেতেন।
২৪ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ‘মিস্টার জাপান’ শিরোপা জয় করেন এবং বাবা-মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিন বছর পর তিনি আবারও এই শিরোপাটি জিতে নেন। তার এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে নিয়ে যায়। ১৯৬৭ সালে মন্ট্রিলে আয়োজিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় শোয়ার্জনেগার ও অলিভার পাশাপাশি কানাজাওয়াও অংশ নেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এবং অলিভা বিজয়ী হন।
তবে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিং থেকে চিরতরে সরে যাননি। ত্রিশের কোঠার মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নিলেও ৫০ বছর বয়সে আবারও এই খেলায় ফিরে আসেন। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা স্ত্রীকে মনোবল জোগানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেও তিনি প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময়ই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অবসরের পর আমি নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করেছি তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম; তাই আমি তাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে অসাধ্য সাধন করাও সম্ভব।
প্রতিযোগিতায় ফেরার সাত বছর পর কানাজাওয়া একটি ‘মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করেন। ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরও তিনি ছয়টি ‘ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স’ শিরোপা জিতেছেন, যা তার কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কানাজাওয়া তার দীর্ঘ কর্মক্ষম জীবনের বড় কৃতিত্ব দেন তার পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন পদ্ধতিকে। তিনি বলেন, আগে আমি দিনে ছয়বার প্রোটিন শেক পান করতাম, কিন্তু এখন তা কমিয়ে তিনবারে এনেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এত বেশি তরল খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে তিনি হিরোশিমায় অবস্থিত নিজের জিমে সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি তিনি শরীরকে সেরে ওঠার (রিকভারি) জন্য পর্যাপ্ত সময় দেন এবং রাতে প্রায় সাত ঘণ্টা করে ঘুমান। তিনি বলেন, ভারোত্তোলনের ব্যায়ামের ধকল কাটিয়ে উঠতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই ব্যায়ামের প্রতিটি সেটের মাঝে আমি যথাযথ বিশ্রাম নিই।
ছবি : সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে শুরুতে হোঁচট খেলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পর এবার ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। আজ শনিবার জাপানের কাওয়াসাকি জুকো স্টেডিয়ামে পুল ‘এ’-র ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ।
১১তম মিনিটে আমিরুল ইসলামের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। ৩১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আমিরুল। পাঁচ মিনিট পর রাসেল মাহমুদ জিমির গোলে ব্যবধান ৩-০ হয়। শেষ কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে একটি গোল শোধ করে ইন্দোনেশিয়া।
তবে আওউলিয়া আল আরদের সেই গোল কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়। প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হারের পর শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। চার ম্যাচে দুই জয় নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ সোমবার, প্রতিপক্ষ ভারত। তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে ভারত।
গ্রুপের পরের ধাপে যেতে বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।