সংগৃহীত ছবি
পুরো টুর্নামেন্টে যে দাপটের সঙ্গে খেলে সেমিফাইনালে উঠে এসেছিল ফ্রান্স, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদেরকে তেমনটা দেখা গেলো না। পুরো টুর্নামেন্টের তুলনায় পুরোপুরি নিষ্প্রভ। কিলিয়ান এমবাপেকে ঠিক তার মত দেখা গেলো না। উল্টো সেমিফাইনালে দাপট দেখালো স্পেন। শুরু থেকেই ছন্দে ছিল তারা। আর সেই ছন্দ শেষ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপেদের আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ, অন্যদিকে লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো ও পেদ্রো পোরোদের গতিময় ফুটবলে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ‘লা রোহা’রা।
প্রথমার্ধে খেলার ২১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। দ্বিতীয়ার্ধে, ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে সেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। শুরু থেকেই দু’দলই উচ্চগতির ফুটবল খেললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। নবম মিনিটে দানি ওলমোকে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিও। তবে সেই ফ্রি-কিক থেকে কোনো সুবিধা নিতে পারেনি লা রোহারা।
২০ মিনিটে আসে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। বাম দিক থেকে মার্ক কুকুরেয়ার উঁচু ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা দিন। কিন্তু বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে লামিনে ইয়ামালকে জোরে লাথি মারেন তিনি। কোনো দ্বিধা না করে স্পট কিকের নির্দেশ দেন রেফারি।
২১ মিনিটে পেনাল্টি নিতে এসে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বল জালে জড়িয়ে দেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। মাইক মেনিয়াঁ সঠিক দিক অনুমান করলেও স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের জোরালো শট ঠেকাতে পারেননি। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ১৬ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে এমবাপে প্রায় একা গোলমুখে চলে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পাও কুবারসি ও আয়মেরিক লাপোর্তে সময়মতো ফিরে এসে বিপদ সামাল দেন।
৪২ মিনিটে ফ্রান্স সমতায় ফেরার সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করে। রাবিওর বাড়ানো বল ধরে এমবাপে স্পেনের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে গেলেও গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত বেরিয়ে এসে অসাধারণ দক্ষতায় বল ক্লিয়ার করে দেন।
অন্যদিকে ৩৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। মেনিয়াঁর ভুল পাস থেকে বল পেয়ে দানি ওলমো ব্যাকহিল পাসে ইয়ামালকে সুযোগ করে দেন। ইয়ামালের কাটব্যাক থেকে ফাবিয়ান রুইজ শট নিতে গেলেও শেষ মুহূর্তে দারুণ ব্লক করে দলকে রক্ষা করেন দায়ো উপামেকানো।
প্রথমার্ধে আরেকটি বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। ২৯ মিনিটে পিঠে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্সেনাল ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। তার পরিবর্তে নামেন ম্যাক্সেন্স লাখ্রোয়া।
স্পেনের রক্ষণও ছিল দুর্দান্ত। বিশেষ করে লাপোর্তে ও কুবারসি একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে এমবাপে-ওলিসেদের হতাশ করেন। যোগ করা সময়েও রাবিওর পাল্টা আক্রমণ সাহসী হেডে থামিয়ে দেন লাপোর্তে।
৪৫+৬ মিনিটে প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজান রেফারি। ওইয়ারজাবালের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন। এখন দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে হলে ফ্রান্সকে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে, অন্যদিকে এই লিড ধরে রেখে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য থাকবে লা রোহারা।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও ধারালো হয়ে ওঠে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন রাইটব্যাক পেদ্রো পোরো। মাইক মেনিয়ঁকে পরাস্ত করে স্পেনের ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এই গোলের পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ফ্রান্স।
গোল হজমের পর পরিবর্তনের ঝড় তোলেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় নামানো হয় দেজিরে দুয়েকে। পরে থিও হার্নান্দেজ ও রায়ান শেরকিকেও মাঠে নামানো হয়। তবে কোনো পরিবর্তনই কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি।
৬১ মিনিটে আবারও জালের দেখা পেয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। এরপরও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ৭৯ মিনিটে আলেক্স বায়েনার ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয় স্পেনের।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচেই নিজেদের পরিচিত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স। ৬৭ মিনিটে এমবাপ্পের শট কুকুরেয়ার গায়ে লেগে কর্নার হলে সেটিই ছিল তাদের অন্যতম সেরা সুযোগ। পরে অরেলিয়েন চুয়ামেনির হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই স্পেনের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৮৬ মিনিটে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের ওপর দেরিতে ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখেন এমবাপে।
শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ গড়েও ব্যবধান কমাতে পারেনি ফ্রান্স। ৮৮ মিনিটে ইয়ামালের ফাউলে ফ্রি-কিক পেলেও এমবাপ্পের বাঁকানো শট অনেক উঁচু দিয়ে চলে যায়। ৮৯ মিনিটে ইয়ামাল পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
অতিরিক্ত সময়ের সাত মিনিটেও ম্যাচে ফেরার মতো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ফ্রান্স। বরং ৯০+৪ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে শট নিলেও বল যায় সাইডনেটে।
স্পেনের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে ছিল দুর্দান্ত। লাপোর্তে, কুকুরেয়া ও পোরো মিলে এমবাপে-দেম্বেলেদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখেন। ম্যাচজুড়ে ফ্রান্স একবারও গোলরক্ষক উনাই সিমনকে সত্যিকারের পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
এই জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। অন্যদিকে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে বিদায় নিতে হলো এমবাপেদের ফ্রান্সকে।
ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পথচলায় বড় ভূমিকা রেখে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের পর পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এমনকি সুযোগ পেলে আগের সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে চান।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে যায় ভোজিনিয়ার। চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
ভোজিনিয়ার কাছে খ্যাতির এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে, বর্তমান জীবন ও আগের জীবনের মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগ পেলে তিনি পুরোনোটিই বেছে নেবেন। তার ভাষায়, বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের জীবনই তার কাছে বেশি স্বস্তির ছিল।
বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেটিই রাতারাতি বেড়ে যায় মিলিয়নের ঘরে।
তবে এই খ্যাতির সঙ্গে আসা বাড়তি মনোযোগ তার কাছে মোটেও স্বস্তির নয়। ভোজিনিয়া বলেন, আগের মতো ব্যক্তিগত পরিসর এখন আর নেই। বাইরে বের হলে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই ভক্তরা ছবি ও অটোগ্রাফের জন্য ছুটে আসেন। কেউ কেউ আবার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করতে শুরু করেন।
বিশ্বকাপের আগে যে স্বাভাবিক জীবন ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারিয়ে যাওয়া।
ভোজিনিয়ার পরিবারও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। কেপ ভার্দেতে থাকা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে মাঝেমধ্যে সমর্থকেরা হাজির হয়ে যান। তারা কখনো ভোজিনিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে, আবার কখনো ছবি তুলতে চান। তার বাবা অবশ্য এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ নিয়ে ভোজিনিয়ার আক্ষেপ, তিনি দেশের বাইরে থাকায় বাবা-মায়ের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সেটি তার পরিবারকেই শিখে নিতে হচ্ছে।
সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তান
বৃষ্টির কারণে খেলা ভেস্তে যাওয়ার কারণে ভারত ও পাকিস্তান এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত ফলাফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। শেষ চারে ভারত খেলবে শ্রীলঙ্কা অথবা নেপালের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অথবা মালয়েশিয়ার।
যদি ম্যাচগুলো পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উন্নীত হবে।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্টের জন্য শীর্ষ বাছাই (সিডেড দল) হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং তারা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা ভালো নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইফুন ‘সুরিগে’ জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে এবং এটি আইচি-নাগোয়া গেমসের বাকি অংশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাইফুনের প্রভাবে আইচি এবং মধ্য জাপানের অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
এর আগে ভারতের নারী দল সফলভাবে তাদের টি-টোয়েন্টি স্বর্ণপদক ধরে রেখেছিল, কিন্তু পুরুষদের বিভাগটি আবহাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি বৃষ্টি খেলা পণ্ড করতে থাকে, তবে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাপকাঠি।
হাংঝুতে অনুষ্ঠিত আগের এশিয়ান গেমসেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল; সেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারতকে স্বর্ণপদক এবং আফগানিস্তানকে রৌপ্যপদক দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, যদি বাকি সব ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় তবে ভারত তাদের স্বর্ণপদক ধরে রাখবে কারণ তারাই এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে সকালে অনুষ্ঠেয় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল হংকং, চীন; কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে টস হওয়ার আগেই ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। বিকেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার কথা থাকলেও মাঠ ভেজা থাকায় টসের আগেই সেই ম্যাচটিও বাতিল করা হয়।
সোমবার নিশিনে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারত ও পাকিস্তান ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে- ভারত ১ নম্বর ও পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে- মাঠে না নেমেই দল দুটি সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে। ফলে আফগানিস্তান ও হংকং, চীন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আকস্মিক বন্যার শিকার হয়ে দুই দিন ধরে থাইল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচ।
আটকা পড়া দলের সদস্যরা হলেন রামহিম লিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনাম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি, সামান্তা হোসেন তুসি এবং দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং পুরুষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় ভিন্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকায় সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
জানা গেছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীরাই এই পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে থাই এয়ারওয়েজ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন খেলোয়াড়দেরকে ভিন্ন ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কর্মচাঞ্চল্য শেষে যে বয়সে অধিকাংশ মানুষই অবসরের জীবন উপভোগ করেন, সেই বয়সেও তোশিসুকে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জয়ী হচ্ছেন। ৯০ বছর বয়সী এই জাপানি বডিবিল্ডার সম্প্রতি ‘জাপান মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ৮৫-ঊর্ধ্ব বিভাগে সাতজন প্রতিযোগিকে পরাজিত করে তার ১৯তম জাতীয় শিরোপা জয় করেছেন।
এই জয়ের ঠিক আগের দিনই তিনি ৯০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। হিরোশিমার বাসিন্দা কানাজাওয়া কয়েক দশক ধরে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং সার্জিও অলিভার মতো এই খেলার কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১৯৩৬ সালে জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণকারী কানাজাওয়া শুরুতে সাঁতারের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ১,৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন এবং অলিম্পিকে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পেশীর সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। একপর্যায়ে তিনি বডিবিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তার এই সিদ্ধান্তটি পরিবারের সদস্যরা শুরুতে ভালোভাবে নেননি। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে কানাজাওয়া বলেন, আমার মা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু বাবা ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তিনি মনে করতেন তরুণদের চাকরি-বাকরি বা কাজ করা উচিত। আমি তাদের বলেছিলাম, আমি জাপানের সেরা হতে চাই, তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমার কয়েক বছর সময় লাগবে।
এরপর কানাজাওয়া নিজেকে পুরোপুরি প্রশিক্ষণে নিয়োজিত করেন; কখনও কখনও তিনি দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরচর্চা করতেন। কোনো জটিল বা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার পরিবর্তে তিনি মূলত মায়ের হাতের তৈরি সাধারণ খাবারই খেতেন।
২৪ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ‘মিস্টার জাপান’ শিরোপা জয় করেন এবং বাবা-মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিন বছর পর তিনি আবারও এই শিরোপাটি জিতে নেন। তার এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে নিয়ে যায়। ১৯৬৭ সালে মন্ট্রিলে আয়োজিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় শোয়ার্জনেগার ও অলিভার পাশাপাশি কানাজাওয়াও অংশ নেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এবং অলিভা বিজয়ী হন।
তবে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিং থেকে চিরতরে সরে যাননি। ত্রিশের কোঠার মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নিলেও ৫০ বছর বয়সে আবারও এই খেলায় ফিরে আসেন। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা স্ত্রীকে মনোবল জোগানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেও তিনি প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময়ই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অবসরের পর আমি নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করেছি তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম; তাই আমি তাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে অসাধ্য সাধন করাও সম্ভব।
প্রতিযোগিতায় ফেরার সাত বছর পর কানাজাওয়া একটি ‘মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করেন। ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরও তিনি ছয়টি ‘ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স’ শিরোপা জিতেছেন, যা তার কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কানাজাওয়া তার দীর্ঘ কর্মক্ষম জীবনের বড় কৃতিত্ব দেন তার পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন পদ্ধতিকে। তিনি বলেন, আগে আমি দিনে ছয়বার প্রোটিন শেক পান করতাম, কিন্তু এখন তা কমিয়ে তিনবারে এনেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এত বেশি তরল খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে তিনি হিরোশিমায় অবস্থিত নিজের জিমে সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি তিনি শরীরকে সেরে ওঠার (রিকভারি) জন্য পর্যাপ্ত সময় দেন এবং রাতে প্রায় সাত ঘণ্টা করে ঘুমান। তিনি বলেন, ভারোত্তোলনের ব্যায়ামের ধকল কাটিয়ে উঠতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই ব্যায়ামের প্রতিটি সেটের মাঝে আমি যথাযথ বিশ্রাম নিই।
ছবি : সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে শুরুতে হোঁচট খেলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পর এবার ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। আজ শনিবার জাপানের কাওয়াসাকি জুকো স্টেডিয়ামে পুল ‘এ’-র ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ।
১১তম মিনিটে আমিরুল ইসলামের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। ৩১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আমিরুল। পাঁচ মিনিট পর রাসেল মাহমুদ জিমির গোলে ব্যবধান ৩-০ হয়। শেষ কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে একটি গোল শোধ করে ইন্দোনেশিয়া।
তবে আওউলিয়া আল আরদের সেই গোল কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়। প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হারের পর শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। চার ম্যাচে দুই জয় নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ সোমবার, প্রতিপক্ষ ভারত। তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে ভারত।
গ্রুপের পরের ধাপে যেতে বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ বলে কথা! আর্জেন্টিনায় উন্মাদনা তো তুঙ্গেই থাকবে। সেই উন্মাদনা এতটাই যে বিক্রি শুরুর পরপরই ক্রাশ করে টিকিট কেনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কম সময়ে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো।
ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির টিকিট বিক্রি শুরু হয় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায়। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিল ‘ডেপোরটিক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিক্রি শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়েন লাখো সমর্থক। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারেনি সাইটটি।
অনেকের সামনে ভেসে ওঠে, টিকিট কিনতে তাঁদের আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় নানা অভিযোগ। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এত দীর্ঘ ভার্চ্যুয়াল লাইন পেরিয়ে টিকিট পাওয়া কঠিন হবে!
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’-ও টিকিট কেনার এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। ভার্চ্যুয়াল কিউতে ঢোকার ৭০ মিনিট পরও তাদের সামনে একই বার্তা ছিল। সেখানে জানানো হচ্ছিল, টিকিট কেনার সুযোগ পেতে আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৮৫ হাজার। তবে সব আসনের টিকিট বিক্রির জন্য ছাড়া হয়নি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) স্পনসর ও সহযোগীদের জন্যও টিকিট বরাদ্দ রাখে। ফলে সাধারণ সমর্থকদের জন্য টিকিটের সংখ্যা ছিল আরও কম।
‘ওলে’ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে এক সমর্থক এক্সে স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। তিনি ভার্চ্যুয়াল লাইন পেরিয়ে টিকিট কেনার সুযোগ পেয়েছিলেন। তখনো শুধু ওপরের সারির কিছু আসন বাকি ছিল। সেসব টিকিটের দাম ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার পেসো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬ হাজার টাকা।
এর মাত্র ১৩ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে, আরেক ব্যবহারকারী জানান, সব টিকিট শেষ। তখনো অনেক সমর্থক ওয়েবসাইটে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার বার্তা দেখছিলেন।