নোয়াখালীর সেনবাগে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নূর জামান (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর নবীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দেবিসিংহপুর গ্রামের সুলতান বাপের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় রোববার সকালে নিজ বাড়িতে গরুর জন্য ঘাস কাটার কাজ করছিলে নূর জামান। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতস্পৃষ্টে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ না থানায় মরদেহ ময়না তদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ তাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনার নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, নেশা করতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক দুজন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে রংপুর কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের। আটক দুজন হলো, মুগ্ধ দাস (২৫) ও সিদ্ধার্থ দাস (২৮)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে নেশা করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। বিষয়টি টের পেয়ে গণপতি ছাদে গিয়ে তাদের নেশা করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দুজন শিক্ষকের ঘরে ঢুকে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। পরে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চলে যায়।
ওসি নাজমুল কাদের বলেন, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে রংপুর নগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় পরিবারের চার সদস্য বসবাস করতেন। প্রথম ও তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ চলছিল।
পুলিশ ওই বাড়িতে ঢুকে প্রথমে একটি শোবার ঘরের খাটের ফাঁকে আয়ুশের মরদেহ দেখতে পায়। তার গলায় কাপড় পেঁচানো ছিল। এরপর তৃতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে প্রীতিলতা ও তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাদের দুজনের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল। তৃতীয় তলার ছাদে পাওয়া যায় গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ। তাঁর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শ্বাসরোধ করে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মুখ কিছুটা ঝলসানো অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাদের মুখে রাসায়নিক জাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেন, হত্যাকারীরা ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে চারজনকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২৬ মিনিটে বড় বোন প্রীতিলতা ও ভাগনি আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। প্রায় ৯ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড কথা বলার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রীতিলতার মুঠোফোন থেকে তার কাছে একটি কল আসে। ঘুমিয়ে থাকায় তিনি কলটি ধরতে পারেননি।
এরপর শুক্রবার বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাননি পূজা। বিকেলের পর সব কটি ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে তার সন্দেহ হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি নগরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসা থেকে বোনের বাড়িতে যান।
বাড়ির মূল ফটকে তালা দেখে তিনি কলিং বেল চাপেন। ভেতর থেকে কেউ সাড়া না দেওয়ায় পাশের ভবনের দিক দিয়ে জানালার কাছে যান। থাই গ্লাসের লক ভেঙে ভেতরে আলো ফেললে একটি ঘরের জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ভবনের তিনটি কক্ষের আলমারি ও ড্রয়ার খোলা ছিল। কাপড়চোপড়, খেলনা ও অন্যান্য জিনিসপত্র মেঝে ও বিছানায় ছড়ানো ছিল। তবে কোনো আলমারি বা ড্রয়ার ভাঙা হয়নি। চাবি দিয়েই সেগুলো খোলা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু চাবির গোছাও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘরে থাকা টেলিভিশন, ল্যাপটপ ও মুঠোফোন নেয়নি দুর্বৃত্তরা। আলমারি ও ড্রয়ারে টাকা বা গয়না ছিল কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
নিহত আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর করেছিলেন। তার ভাই আয়ুশ চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে’ সিলেটের বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিশ্বনাথ উপজেলার ১৬২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে উপজেলার অলংকারী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ইরন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ৯২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও আরও ৬০/৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে,মামলা দায়েরের পর পরই শুক্রবার দিবাগত রাতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামীলীগের ১নং ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুমকে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুল কাইয়ুম পৌর শহরের অলংকারী গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদকে প্রধান অভিযুক্ত করে দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকদ্দছ আলী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজ মিয়া, সদস্য কবির আহমদ কুব্বার, এনামুল হক এনাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মুহিবুর রহমান সুইট, বিশ্বনাথ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিক হাসান, ফজর আলী, বারাম উদ্দিন, বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক আব্দুল জলিল জালাল, যুগ্ম আহবায়ক আলতাব হোসেন, সদস্য শংকর দাস শংকু,খাজাঞ্চী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর নূর, সাধারণ সম্পাদক শংকর চন্দ্র ধর, অলংকারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরা মিয়া, রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার শেখ ফজর রহমান, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পার্থ সারর্থী দাশ পাপ্পু সহ ৯২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ও আরও ৬০/৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট রাতে উপজেলার রামপাশা এলাকায় অভিযুক্তরা রাস্তার ওপরে গাড়ির টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ম্লোগান দেয় এবং এলাকায় আতংকের সৃষ্টি করে। মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন, সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র, ত্রাস সৃষ্টি, দেশের উন্নয়নে ব্যাঘাত, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাশকতার পরিকল্পনা’সহ বিভিন্ন বিষয়ের অভিযোগ এনে বাদী মামলাটি দায়ের করেছেন মর্মে থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা দায়ের ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেপ্তারের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল কাইয়ুমকে (শনিবার) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাটোরের লালপুরে দীর্ঘ ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় অতিথি না করায় বেআইনিভাবে মাইকিং করে ভুয়া ‘১৪৪ ধারা’ জারির অভিযোগ উঠেছে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মারুফ আলীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গ্রামজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ ইসলাম সৃজন এর যৌথ নির্দেশে সংগঠনটির দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এই ফুটবল টুর্নামেন্টটি প্রায় দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্যোগে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে। টুর্নামেন্টের আয়োজন থেকে শুরু করে খেলোয়াড়-সবই স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিজস্ব। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই গ্রামের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন; এখানে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো ব্যক্তিকেই অতিথি করার রীতি নেই। কিন্তু লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মারুফ আলী দাবি জানিয়ে আসছিলেন- ফাইনাল খেলায় লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি করতে হবে। পাশাপাশি নিজেকে বিশেষ অতিথি করার দাবি তোলেন তিনি। আয়োজকরা ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে তার দাবি প্রত্যাখ্যান করলে, তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বেআইনিভাবে এলাকায় মাইকিং করিয়ে '১৪৪ ধারা' জারির ভুয়া ঘোষণা দেন। এর ফলে সাধারণ গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ঐতিহ্যবাহী ফাইনাল খেলাটি পণ্ড হয়ে যায়।
এদিকে, এই ঘটনার পর আজ রোববার (২৩ আগস্ট, ২০২৬) নাটোর জেলা ছাত্রদল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মারুফ আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, নাটোর জেলা শাখার অধীনস্থ লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন মো. মারুফ আলীর বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৩ আগষ্ট ২০২৬ হতে ২৪ আগষ্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আলাইপুরস্থ নাটোর জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের বারইচতল গ্রামের অটো রাইস মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন বারইচতল গ্রামের হোসেন মাস্টার বাড়ির মো. তহিদুল ইসলাম খোকনের ছেলে সাকিবুল হাসান (১৭), আলাউদ্দিন হাজী বাড়ির কফিল শিপনের ছেলে মো. নাদিম (১৭) এবং মো. হোসেনের ছেলে মো. সাহের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নাদিম, সাকিব ও সাহের মোটরসাইকেলে করে বাংলা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর বাংলা বাজার এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত সোমবার একই উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবীবুর রহমান বলেন, দুজনের শরীরে সামান্য লেগেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শোভাযাত্রা। পরে এটি ভালুকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজু, এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল।
এছাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আসাদুল্লাহ চৌধুরী ধ্রুব, সদস্য সচিব তোজাম্মেল হক বকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক জজ, সজিব তালুকদার, শামসুল হুদা, মাসুদ রানা ও সদস্য ইব্রাহিম খলিলসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল বাশার মন্ডল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন, সহদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা, ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াদ পাঠান ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবুসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে ভালুকা শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ছবি : সংগৃহীত
জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে ইসরাত জাহান (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকা থাকা তার দুই শিশুসন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। শিশু দুজন জানালা দিয়ে বাইরে থাকা লোকজনের কাছে পানি চাইলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহম্মেদ পলাতক রয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং সংলগ্ন বাবুল মিয়ার ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসরাত জাহান জেলা শহরের পাথালিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী কাউসার আহম্মেদ শাওনের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলায়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ওই ফ্ল্যাটের মূল দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা। এ সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকা দুই শিশু জানালা দিয়ে বাইরে থাকা লোকজনের কাছে পানি চাইছিল। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাইরে থেকে লাগানো তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। এ সময় একটি কক্ষ থেকে দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, দুই শিশু গতকাল থেকে ওই কক্ষে আটকা ছিল।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী পলাতক রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পর জানা যাবে।