থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। বিবাহের পূর্বে পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক নির্ণয় করা সম্ভব হলে এবং বাহক-বাহক বিয়ে বন্ধ করা গেলে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব। সেজন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে বাহক নির্ণয়ের উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতে পারে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা তৈরীর সূতিকার। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক কর্মসূচির মাধ্যমেই দেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞগণ।
আজ ১৫ ই নভেম্বর রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (RUET) তথা রুয়েটে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকবৃন্দ। স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োটেড (BioTED) বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই থ্যালাসেমিয়া সহ তরুণ প্রজন্মের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে সচেতনতামূলক এবং গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে বায়োটেড (BioTED) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের মাঝে থ্যালাসেমিয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করার লক্ষ্যে বায়োটেড “এওয়ারনেস এন্ড স্ক্রিনিং ক্যাম্পেইন” পরিচালনা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় রুয়েটে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা বিষয়ক অনুষ্ঠান এবং ফ্রি থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং ক্যাম্পেইন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এস এম আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান অতিথি থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরীর এই প্রচেষ্টার ভূয়ষি প্রশংসা করেন। একই সাথে শিক্ষার্থীদের কে সচেতন এবং সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে হলে শিক্ষিত সমাজের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ড. মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, থ্যালাসিমিয়া রোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সচেতনতা এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীদের বাহক নির্ণয়ে সক্ষম হলে পরবর্তীতে সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য কলেজ এবং স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বায়োটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। ধীরে ধীরে সেই কর্মসূচি সামাজিক পর্যায়েও ছড়িয়ে দিতে হবে। থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ করতে হলে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন এবং সামাজিকভাবে এই সমস্যার মোকাবেলা করা সম্ভব হলে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব। সচেতনতাই হচ্ছে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করার প্রথম পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, বংশগত রোগ হওয়ার কারণে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। নিরাময়ের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল যা অধিকাংশ মানুষের সক্ষমতার বাইরে। তাই সচেতনতা এবং প্রতিরোধই একমাত্র পথ।
আমরা যদি বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করি এবং দু’জনই যদি থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার হই, তবে আমাদের সন্তান এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি থাকে। তাই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ঝুঁকি জানা সম্ভব।
এ সময় তিনি সবাইকে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা, থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার হলে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং পরিবার ও সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৫-২০ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্মগ্রহণ করে যার অধিকাংশই পাঁচ বছর বয়সের পূর্বে মারা যায় বলে ধারণা করা হয়। উদ্বেগের বিষয় হলো এসব শিশু জন্মগ্রহণ করার পরে বাবা-মা জানতে পারেন যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক ছিলেন। তাই থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই ব্যাপক ভিত্তিক স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয় বাধ্যতামূলক করা উচিত। যাতে বাহক এবং বাহকের বিয়ের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্মের হার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
ফ্রি থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিংয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যারা বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং এর সুযোগ পেয়েছেন। থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং টেস্ট একটি ব্যয়বহুল পরীক্ষার মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল বা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা ব্যয়বহুল।
কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি বিনামূল্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই সেবা প্রদান করছে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে । রুয়েটে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক সচেতনতা তৈরীর এই উদ্যোগে সহ-আয়োজক ছিল "নীরব" এবং তারা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে।
অনুষ্ঠান শেষে মূল বক্তা ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সারাদেশে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এখনই আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান আজ এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা দেন।
মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।
মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গৃহীত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ওভারস্পিড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএর ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত সংবাদের পর যানবাহনের মালিকগণ তাদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এভাবে বারবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ ঘটলে বিআরটিএ’র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন মজুদ ও বিতরণের দায়ে তিন দোকানিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই অভিযানে প্রায় সাড়ে ৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া রোডের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজাতুল কুবরা ফারিহা। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন মজুদ ও বিতরণের অপরাধে তিনটি দোকানে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। এ সময় আনুমানিক ৫ দশমিক ৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও জেলার আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন শপিং ব্যাগের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, পরিবেশ রক্ষায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বি জি ইউনিয়ন একাডেমির নবগঠিত এডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনিচুর রহমান হেলাল খান, উপজেলা বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক ও এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য আব্দুল কাদের খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নলছিটি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. তৌহিদ আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা, মোল্লারহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার, কুলকাঠি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রফিক মোল্লা, সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাইফুল সরদার, যুবদল নেতা মোঃ ফাইজুল ইসলাম নয়ন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মোঃ তানভীর খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এডহক কমিটির সদস্য সচিব মো. আলী হায়দার, শিক্ষক প্রতিনিধি গোপাল চন্দ্র নট্ট, সহকারী সিনিয়র শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি এ জেড এম মাসুম বিল্লাহ খান স্বপন। সঞ্চালনা করেন যুবদল নেতা মো. জাকির হোসেন লিটন মোল্লা। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, “এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আমার প্রয়াত স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে যা কিছু প্রয়োজন, আমি করব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বিদ্যালয়ে নতুন চারতলা ভবন ও ওয়াশব্লকের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ঝালকাঠি-২ আসনের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথা জানান।
সভায় নবগঠিত এডহক কমিটির সদস্যদের পরিচয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবই নির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে খেলাধুলা, আনন্দ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে বিদ্যালয়ে খেলনা, শিক্ষা উপকরণ এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’-শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার একযোগে কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮০ দিনে যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ‘জিরো আউট অব স্কুল চিলড্রেন’। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির বয়স সীমার কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা বিস্কুট বা এক প্যাকেট দুধ দেওয়ার বিষয়টিকে বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, এর পেছনে ততটাই বিস্তৃত পরিকল্পনা ও গবেষণা রয়েছে। পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সি শিশুদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাইলট কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তদারকি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা মাঠে যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করছেন, সেগুলো আমাদের জানান। কেন্দ্র থেকে বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বাস্তবে আপনারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে এর সমাধান করা যায় এবং কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত আমরা জানতে চাই।
তিনি আরও বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাস্তব সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে এবং কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি-সবগুলো উদ্যোগ একই লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।
এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক, চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চার দিন পর অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) ইউডি মামলা করেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে সোমবার বিকেল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) প্রতিনিধিরা বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
তদন্ত দলে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও ছিলেন।
পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী বলেন, ‘জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার প্রান্তিক ও আলিফ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ধারকারী দল গ্যাসের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ণয় করবে। এরপর দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে কি না, নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি বা কারও গাফিলতি ছিল কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ১৪ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাঁতার প্রতিযোগিতা,হাস ধরা ও পুরষ্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায় শেষ হলো জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬।
মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় গাইবান্ধা সদর মৎস্য খামারে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে গাইবান্ধার মৎস্য চাষী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও হাস ধরার আয়োজন করে জেলা মৎস্য অফিস গাইবান্ধা। পর্যায়ক্রমে খেলা পরিচালনার পরে জেলা মৎস্য অফিসের সম্মেলন কক্ষে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপ্তি ঘটে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গাইবান্ধা জেলা মৎস্য অফিসার আবদুর রাশেদ,সিনিয়র সহকারী পরিচালক এস এম আবুল বাশার,সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মারজান সরকার, খামার ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী, গাইবান্ধা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি শামীম আহমেদ পলাশসহ আরও অনেকে।
এ সময় মৎস্য চাষীরা বলেন, মৎস্য দপ্তরের এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। চাষীদের সব সময় পাশে থেকে কাজ করার জন্য জেলা মৎস্য অফিসার কে ধন্যবাদ জানাই।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস পক্ষ-২০২৬ পালন