থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।

  • প্রকাশ : সোমবার ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৫৮ এএম

কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘাত এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই নির্বাচন হয়েছে থাইল্যান্ডে এবং সেই নির্বাচনে বড় বিজয় পেয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোট। গতকাল এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।


আনুতিন চার্নভিরাকুলের রাজনৈতিক দলের নাম ভূমিজাই থাই পার্টি। থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে মোট আসনসংখ্যা ৪৯২টি। কোনো দল কিংবা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায়, সেক্ষেত্রে সেই দল বা জোটকে কমপক্ষে ২৪৬টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল রোববার জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন। সেই ঘোষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আনুতিনের রাজনৈতিক দল ভূমিজাই থাই পার্টি মোট ১৯৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছে, আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১৬টি আসনে। বাকি ১৮০টি আসনে জয় পেয়েছে রক্ষণশীল পিউ থাই পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল।


অর্থাৎকোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে সরকার গঠন করতে হলে এখন জোট ছাড়া আর কোনো পথ নেই।  তবে যেহেতু ভূমিজাই থাই পার্টি সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছে, তাই জোট সরকার গঠন হলে নিয়ম অনুযায়ী আনুতিনই প্রধানমন্ত্রীর পদে বসবেন।


৫৮ বছর বয়সী আনুতিন থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতা হারানোর পর। নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত।


পায়েতংতার্ন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধামন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে এবং দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পিউ থাই পার্টির নেত্রী। ২০২৪ সালের আগস্টে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন পায়েতংতার্ন। সে সময় তার বয়স ছিল ৩৮ বছর। শপথ গ্রহণের মাত্র এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরপরই ক্ষমতা হারান তিনি।


থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল নয়। গত ২ বছরে তিন জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন। তার ওপর আনুতিন চার্নভিরাকুলের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় গত ডিসেম্বর কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত হয়েছিল থাইল্যান্ডের। টানা কয়েকদিনের এ সংঘাতে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহতও হয়েছেন।


এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে থাইল্যান্ডে এবং তাতে বিজয়ী হয়েছেন আনুতিন চার্নভিরাকুল।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ পিএম

ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলায় বিয়ের আসরে বরকে দেখার পর বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক কনে। কনের দাবি, আগে তাকে যে ছেলের ছবি দেখানো হয়েছিল, আসরে আসা ব্যক্তি তিনি নন। এ ঘটনায় বরযাত্রী ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে আর হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালের বুধবারের (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্থানের ছাতারগড় থেকে বরযাত্রী ফিরোজপুরে এসেছিল। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সাতফেরা শুরুর আগেই কনে আপত্তি জানান।


কনে পরিবারের সদস্যদের জানান, বিয়ের আগে তাকে যে ছেলের ছবি দেখানো হয়েছিল, সেই ব্যক্তি নয়, অন্য একজনকে বর হিসেবে আনা হয়েছে। তার এ অভিযোগের পর দুই পরিবারের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিয়ে স্থগিত হয়ে যায়। তবে কনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বরের পরিবার। 


তাদের দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতির সময় দুই পরিবারের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল এবং কনের পরিবারের কাছে বরের ছবি পাঠানো হয়েছিল।


বরের নানা মহেন্দ্র সিং জানান, বিয়ের মধ্যস্থতাকারী এবং কনের মায়ের কাছেও বরের ছবি পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি পরে পুলিশের কাছেও গড়ায়। বরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।


ফিরোজপুরের গুরু হরসাহাইয়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) তেজিন্দরপাল সিং জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। তদন্তের সময় বর ও কনে উভয় পক্ষের পরিবারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।


পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, পরে দুই পরিবার নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। তবে বিরোধ মিটলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠান আর সম্পন্ন হয়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নৌকাটিতে ৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। দুর্ঘটনার পর এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।


বৃহস্পতিবার বিবিসিকে পুলিশ মুখপাত্র আহমাদ রুফাই জানান, গোরোনিও এলাকার গোরাউয়ের কাছে এখন পর্যন্ত ৪৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।


দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থা ও জরুরি সেবাদানকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন বলে জানান রুফাই।


এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নৌকাটিতে থাকা শিশুরা ধান কাটার কাজে যাওয়া কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে ভ্রমণ করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, একটি স্থানীয় মসজিদের সামনে প্রায় ৫০টি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন তারা। মরদেহগুলোর অনেকগুলো মাদুর ও ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে মোড়ানো ছিল এবং দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।


নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইজেকিয়েল মানজো বিবিসিকে বলেন, গোরাউ অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে সেখানে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।


নাইজেরিয়ায় নৌদুর্ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিধি কার্যকরে ঘাটতিকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।


এর আগে গত মাসে জিগাওয়া রাজ্যে নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিগাওয়া থেকে ইয়োবে যাওয়ার পথে কৃষক ও জেলেদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৬ জন মারা যান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নাইজার নদীতে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।


নৌদুর্ঘটনা কমাতে নিরাপদ নৌকা ও লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ, নৌপথ খনন, ঘাট ও টার্মিনালে জলপথ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং নৌকার চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব উদ্যোগের অনেকগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন বা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।


নাইজেরিয়ার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য নদীপথ গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। অনেক গ্রাম জলপথের কাছাকাছি অবস্থিত, আর দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও সেতুর অভাবে স্থলপথে যাতায়াত কঠিন হওয়ায় মানুষ ও পণ্য পরিবহনে কাঠের নৌকার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম আলাস্কায় একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সিএনএনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রত্যন্ত কেপ নিউেনহাম এলাকার একটি রাডার সাইটের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। 


এফএএর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেসনা ৪৪১ মডেলের বিমানটি আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ থেকে কেপ নিউেনহামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। গন্তব্যটি অ্যাঙ্কোরেজ থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিকিউরিটি এভিয়েশনের পরিচালিত ওই চার্টার ফ্লাইটে দুই পাইলট ও ছয় যাত্রী ছিলেন।


আলাস্কান কমান্ড জানায়, বিমানটি বেসামরিকভাবে চুক্তিবদ্ধ একটি ফ্লাইট ছিল এবং এতে আটজন কর্মী ছিলেন। পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করে, দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই।


কেপ নিউেনহাম বিমানবন্দরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দরটি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি স্থাপনা এবং সেখান থেকে লং রেঞ্জ রাডার সাইটে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। ওই স্থাপনায় কেবল সামরিক ও অনুমোদিত চার্টার ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি রয়েছে।


বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার তদন্ত করবে এফএএ ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। তদন্তের নেতৃত্ব দেবে এনটিএসবি।


দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আলাস্কা এয়ার ন্যাশনাল গার্ড পরিচালিত আলাস্কা রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।


মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট ডেভিস বলেন, ‘এটি আমাদের সামরিক পরিবার এবং আমরা যেসব জনগোষ্ঠীর সেবা করি, তাদের জন্য এক মর্মান্তিক ক্ষতি।’ নিহতরা কঠিন পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবী ছিলেন বলেও জানান তিনি।


নিহতদের স্বজনদের অবহিত করার পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আলাস্কান কমান্ড।


সূত্র: সিএনএন


ইমরান খান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থতার অভিযোগের পর তাকে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।


ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ জানিয়েছে, আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি এখনো পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।


সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চের নির্দেশের পর ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল।


২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর এটি ইমরান খানের জন্য আদালত থেকে পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ইমরান খান অবশ্য এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।


আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কয়েক মাস ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। মঙ্গলবার রাতে তার এক বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।


ইমরান খানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।


এর আগে ইমরান খানের একজন আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।


ইমরান খানের সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার জন্যও তার দলকে সতর্ক করেছে আদালত।


ইমরান খান পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।


২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলা হয়েছে। ইমরান খান এসব মামলাকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।


ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি গত বছরের শেষ দিকে পৃথক একটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।


ইমরানের কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে তার সমর্থকদের বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত।


সূত্র: বিবিসি

বিষয় : ইমরান খান


নাটালি হার্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে গত কয়েক বছরে যাদের সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, তাদের একজন নাটালি হার্প। ৩৫ বছর বয়সী এই সহকারী ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট টাইপ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের এক বক্তব্যের পর নাটালি হার্প আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন। তার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।


কেন আলোচনায় নাটালি হার্প


সম্প্রতি সিনেটর জন অসফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নাটালি হার্পকে নিয়ে রসিকতা করে বক্তব্য দেন। তার দাবি, ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ৩৫ বছর বয়সী সহকারী নাটালি হার্পের সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, যা তাকে বিভ্রান্ত করেছে।


অসফ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজের যে কাজ, তা করতে চান না। বরং তিনি বলরুম তৈরি করতে চান এবং কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া অরক্ষিত উড়ন্ত প্রাসাদে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) নাটালিকে নিয়ে ভ্রমণ করতে চান।’


অসফের এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় হোয়াইট হাউজ। ফলে হার্পের বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় চলে আসে।


ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের পরিচয়ের শুরু যেভাবে


ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা নাটালি হার্প একটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠেন। প্রচলিত রাজনৈতিক পথ অনুসরণ না করেই তার হোয়াইট হাউজে যাত্রা শুরু হয়।


ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি আলোচনায় আসেন নিজের ক্যানসার চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়ে। ট্রাম্পের সমর্থিত ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের মাধ্যমে তিনি পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন হার্প।


২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


এরপর ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে হার্পের পরিচিতি বাড়ে। ২০২০ সালের নির্বাচনি প্রচারেও তিনি ট্রাম্পের একটি উপদেষ্টা বোর্ডে যুক্ত হন।


ওই নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পর হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান।


২০২২ সালে তিনি ট্রাম্পের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে যোগ দেন।


‘হিউম্যান প্রিন্টার’ কেন বলা হয়


হোয়াইট হাউজে নাটালি হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ হলো প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। সাধারণত এই পদে সময়সূচি, যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ দেখভালের দায়িত্ব থাকে।


কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হার্পের ভূমিকা প্রচলিত দায়িত্বের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান।


হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকেরা প্রায়ই তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখতে পান। ওভাল অফিসের বৈঠক থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশে ট্রাম্পের বিভিন্ন সফরেও তাকে দেখা যায়।


হার্পকে অনেক সময় ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বলা হয়। কারণ, তিনি একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে ট্রাম্পের কাছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কপি পৌঁছে দেন।


ট্রাম্প মুদ্রিত কাগজে বিভিন্ন তথ্য পড়তে পছন্দ করেন বলে তার এই দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


কিছু সূত্রের ভাষ্য, ট্রাম্প কোন তথ্য বা আপডেট আগে দেখবেন, সে বিষয়েও হার্পের ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাকে ‘গেটকিপার’ বলেও বর্ণনা করা হয়।


ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভূমিকা


নাটালি হার্প ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও সহায়তা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি বক্তব্য দেখার সময় হার্প তার পাশে বসে ট্রাম্পের ভাষা ও ভঙ্গিতে একটি পোস্ট টাইপ করছেন।


ট্রাম্পের বার্তা তৈরিতে তার এই ঘনিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই হোয়াইট হাউজে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে।


গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের সঙ্গে হার্প


সম্প্রতি নাটালি হার্পকে নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হলো তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের ঘটনা।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ইরানি হামলার হুমকির তথ্য পাওয়ার পর ট্রাম্প তুরস্ক ছাড়ার সময় একটি ছোট দলের সঙ্গে গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করেন। ওই দলের সদস্যদের মধ্যে হার্পও ছিলে।


এই ঘটনাকেই সামনে এনে সিনেটর জন অসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর অবশ্য হোয়াইট হাউজ হার্পের পক্ষ নেয়। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে তাকে ‘বিশ্বস্ত ও মূল্যবান’ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি তথ্য নেই


নাটালি হার্পের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য নেই। তার সম্পর্কে প্রকাশিত বেশিরভাগ তথ্য এসেছে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন, বই এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে।


হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার বোন হোয়াইট হাউজে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আগের কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও চিঠি লিখেছিলেন।


তার ভাইয়ের ভাষ্য, ট্রাম্পের প্রতি হার্পের গভীর আনুগত্যের একটি কারণ হলো তিনি মনে করেন, ট্রাম্প তার জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছিলেন।


সূত্র: বিবিসি


পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১২ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের তিক্ত সম্পর্ক বেশ পুরানো। তিক্ততা ভুলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আর বিরোধে যাবেন না তিনি।আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন- এমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। সরকার নয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া কারাবন্দি এই নেতা। তাঁর ভাষায়, সরকারের সঙ্গে আলোচনা নিরর্থক। তাই তিনি শুধু ‘প্রকৃত কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গেই আলোচনা করবেন। 


‌‘কারাগার থেকে মুক্তি পেলে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনী কিংবা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সংঘাত বা সংঘাতমূলক অবস্থানে যাবেন না’ এমনটা জানিয়েছেন তাঁর দলের শীর্ষ প্রতিনিধি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ও ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফিকার বুখারি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।


বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি জানান, শীর্ষ আদালতের আইনি অগ্রগতির পর দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অতীত ভুলে সমঝোতার পথ বেছে নিতে পারে পিটিআই। ইমরান খানকে ‘মহানুভব’ হিসেবে উল্লেখ করে বুখারি বলেন, ইমরান খান কাল মুক্তি পেলে দেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। এর মানে এই নয়, আপনাকে প্রতিষ্ঠানের বা সামরিক প্রধানের মুখোমুখি হতে হবে। দেশের ভালোর জন্য নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট চেপে রাখতে হয়। 


তাঁর এই বক্তব্যকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইমরানের দলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিতগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান ও সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কমানোর সম্ভাব্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।


এরই মধ্যে ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির অভিযোগের পর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। 


সরকার না সেনাবাহিনী কার সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে


২০২৩ সালের ৯ মে থেকে কারাবন্দী ইমরান খানকে হঠাৎ হাসপাতালে নেওয়ার আদেশে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আইনাঙ্গনের অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হওয়া ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং তার কারাবন্দিত্বকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা কঠোরভাবে দমন করে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ। 


রাজনীতিতে তিন বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর পিটিআইয়ের জন্য এটি রাজনৈতিক পরিসর তৈরির ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশ্লেষক মনে করছেন, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন জল্পনাও শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাতীয় সরকার গঠনের মতো কোনো প্রস্তাব ইমরান খান মেনে নিতে পারেন কিনা- তেমন ইস্যু নিয়েও কথাবার্তা চলছে অনেকের মধ্যে।


২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। পরের বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হলে সমর্থকেরা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। ওই সময় উত্তেজিত হয়ে তাঁর সমর্থকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালায়। ওই হামলার জন্য ইমরানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ইমরানকে ক্ষমা চাইতে বলে সেনাবাহিনী। 


২০২৪ সালের আগস্টে আদিয়ালা কারাগারে বসে ইমরান খান বলেছিলেন, সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমা চাইতে বলেছিল। কয়েকজন সাংবাদিক কারাগারের ভেতর স্থাপিত আদালতে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি জানিয়েছিলেন, ৯ মে তাকে গ্রেপ্তারের দিন সহিংস বিক্ষোভের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সেনাবাহিনী ক্ষমা চাইতে বলেছেন। তিনি ক্ষমা চাইবেন কিনা, জানতে চান সাংবাদিকরা। তাদের প্রশ্নের উত্তরে ইমরান খান বলেন, ক্ষমা চাওয়ার কোনো কারণ নেই।


তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে একজন সার্বক্ষণিক মেজর জেনারেলের নেতৃত্বে রেঞ্জার্সরা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু ৭ মে থেকেই আইএসপিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আহমেদ শরীফ বলেছিলেন, পিটিআইর সঙ্গে যে কোনো সংলাপ হতে পারে যদি দলটি তার ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’র জন্য ক্ষমা চায়। কিন্তু বারবার ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন ইমরান। ওই সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংলাপে বসতেও রাজি ছিলেন না ইমরান।


তবে সম্প্রতি তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এখন সরকার নয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সরকারের সঙ্গে আলোচনা নিরর্থক। তাই তিনি শুধু ‘প্রকৃত কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গেই আলোচনা করবেন। 


ইমরানের সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করে, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের কারণেই তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। ইমরান নিজেও অতীতে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। গত নভেম্বরে তার নামে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি মুনিরকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘স্বৈরাচারী একনায়ক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তখন ইমরান বলেছিলেন, তার সঙ্গে যা-ই করা হোক না কেন, তিনি সামরিক নেতৃত্বের কাছে মাথা নত করবেন না। তবে এখন তার দলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বক্তব্যে ভিন্ন সুর দেখা যাচ্ছে। তাহলে সেনাবাহিনী ও ইমরানের দলের কোনো সমঝোতা হয়েছে?


দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ


এদিক সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ে বলেন, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। আদালত নির্দেশ দেন, ইমরান খানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন।


একই আদেশে দীর্ঘ কয়েক মাস পর তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তার বোন কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।


৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, তিনি দৃষ্টিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তার আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ডান চোখে তার মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান সরকার।


হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে ব্যারিকেড বসানো, সাঁজোয়া যান টহল এবং যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালত পিটিআইকে হাসপাতালের বাইরে সংবাদ সম্মেলন বা সমাবেশ না করারও নির্দেশ দিয়েছে।পাকিস্তান।