ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৪ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত চার সাংবাদিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


গুরুতর আহত সাংবাদিকেরা হলেন- দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।


হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন।


যেভাবে হামলা


প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে এসেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।


খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। পরে তাদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।


একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। এতে জাহিদুলের মাথা ফেটে যায়।


এ সময় সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান তারা। 


ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে বিরোধ


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত।


আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।


শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।


ছাত্রদলের ওই অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।’


এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘বিষয়টি আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৮ পিএম

রাজধানীর সদরঘাটে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে কর্মীদের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর বিরোধের পর ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ২০ হাজার টাকায় মীমাংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন এক পোস্টে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মীমাংসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুললেও অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলিমূল ইসলাম অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন। 


সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। 


প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও লোক প্রশাসন বিভাগের আলিমুল, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের সাইন আহমেদ পবন; ইতিহাস বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮তম ব্যাচের নাইম; শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৮তম ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮তম ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী ছিলেন বলে জানা গেছে। 


একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের একজন লঞ্চের এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে জবির আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। 


অভিযুক্তদের বেশিরভাগ জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। 


ঘটনার সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। 


প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের এক কর্মী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি। 


ওই কর্মী আরও বলেন, ঘটনার পর তারা লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়ে বসেন। সেখানে আবারও কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে টাকা দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। 


প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, আর্থিক লেনদেনের সঠিক পরিমাণ তিনি বলতে পারবেন না। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি। 


লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে বসেছিলেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। 


এদিকে ঘটনার সময় মীমাংসার নামে চাঁদাবাজির কথা শুনে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম এবং পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিব সঙ্গে ছাত্রদলকর্মীরা বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের জোর করে বের করে দেয়। সাংবাদিকরা কীভাবে বিষয়টির মীমাংসা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 


তবে এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নিজ কর্মীদের সাফাই গেয়ে উল্টো সাংবাদিকদের উপর দায় দিয়ে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঐ পোস্টে তিনি দাবি করেন, লঞ্চের কর্মীরা জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ নিজেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। 


শামছুল আরেফিন আরও দাবি করেন, নির্যাতিত জবিয়ানদের পক্ষ না নিয়ে কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে আপস-মীমাংসার টাকা নিতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য, এটি জবিয়ানদের আবেগ ও অনুভূতির পরিপন্থী। 


তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে শামছুলের ওই বক্তব্যের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আলিমূল ইসলামের বক্তব্যের ভিন্নতা পাওয়া গেছে। 


ঘটনায় অভিযুক্ত জবির ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী আলিমূল ইসলাম বলেন, তাদের বন্ধু সৈকতের সঙ্গে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের ঝামেলা হলে সৈকতের ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে লঞ্চের লোকজনের সঙ্গে সৈকত একটি কক্ষে ঢুকে গেলে ভেতর থেকে উচ্চস্বরে চিৎকার শুনতে পান বলে দাবি করেন তিনি। 


অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে আলিমূল বলেন, কর্তৃপক্ষের সাথে হাতাহাতির সময় সৈকতের মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার কারনে ক্ষতিপূরণ চাইলে পরে তারা এর জন্য তারা তাকে কিছু টাকা দিয়েছিল। 


ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের বহিষ্কৃত কর্মী শের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনার সময় ভেতরে ছিলেন এবং বিস্তারিত কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছোট ভাই সৈকতের সাথে লন্সের স্টাফদের ঝামেলা লাগছিলো। আমরা গিয়ে সমাধান করে দিয়েছি। টাকার বিষয়ে সৈকতের কাছে শুনেন।’’ 


অর্থাৎ, সদস্যসচিবের পোস্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মীমাংসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও তার নিজ সংগঠনের অভিযুক্ত কর্মীর বক্তব্যে ঘটনার পর অর্থ দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। 


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 


জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে তার দায় ছাত্রদল নেবে না। তবে ছাত্রদলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সাহিদ সুলতান, সিফাত মাহমুদ, সুস্মিতা দাস, তাসনীম তাবাসসুম প্রভা (বাঁ থেকে)

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ এএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের (এগ্রিরোভার্স) নতুন ক্রু কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের জন্য চারটি দলের রোভার ও গার্ল ইন রোভারদের নিয়ে ৩২ সদস্যের এ কাউন্সিল গঠন করা হয়।


সোমবার সংগঠনটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।


নতুন কাউন্সিলে রোভার সাহিদ সুলতান সবুজ (৩৯তম দল), রোভার সিফাত মাহমুদ (৩৫তম দল), গার্ল ইন রোভার সুস্মিতা দাস (৯৯তম দল) ও গার্ল ইন রোভার তাসনীম তাবাসসুম প্রভা (৯৯তম ‘খ’ দল) সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি নবীনদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে শেকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে।


১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ শুরু থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেবার মানসিকতা তৈরি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


ঢাকা জেলা রোভারের আওতাভুক্ত এ ইউনিটের পাঁচজন সদস্য এ পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৫ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নয় সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মার্কেটিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অজয় পালকে আহ্বায়ক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জয় সাহাকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।


আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির’-এর জন্য গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত মন্দির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নয় সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠিত হলে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।


কমিটিতে বাংলা বিভাগের ১৭তম ব্যাচের সুমন কুমার দাসকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ১৬তম ব্যাচের প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার, সংগীত বিভাগের ১৭তম ব্যাচের অনন্ত বিশ্বাস, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৮তম ব্যাচের গৌরব দাস, ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের অবন্তি রায়, অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের অতসী দাস এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের বিশাল কুমার সাহা।


কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়ে জয় সাহা বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের সদস্য সচিব হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই দায়িত্ব আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্বের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখতে আমি নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”


তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সকলের অংশগ্রহণের একটি মিলনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।”


কমিটি গঠনের বিষয়ে আহ্বায়ক অজয় পাল বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মন্দিরের কার্যক্রমে সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদল কর্তৃক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা।


আজ ​​সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে এই প্রতিবাদ জানান তারা। ক্যাম্পাসের কর্তব্যরত তিন সাংবাদিক সংগঠন- ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি- যৌথভাবে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।


​এসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. সাকিব আসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম সহ তিন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


অবস্থান কর্মসূচিতে তাঁদের চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে প্লে-কার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। এসময় ​‘ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া যায়, সত্য নয়; কালো হাত ভেঙে দাও, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা দাও; সাংবাদিকদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করুন, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা স্বীকার করুন; সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন; Press freedom is our right, we will fight; প্রক্টর স্যার অসহায়, পুলিশ লেজ গুটিয়ে পালায়, সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র চালায়’ ইত্যাদি প্রতিবাদী লেখা সম্বলিত প্লে-কার্ড দেখা যায়।


সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, বাক স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত করায় আমরা কোনো বক্তব্য দেয়নি। মুখে কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং সকল ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর

আনসার সদস্যের সাহসী ভূমিকায় অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার ১৪ বছরের মাদরাসাছাত্র

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৬ পিএম

নোয়াখালীর সোনাপুরে অপহরণকারীদের কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে আসা ইব্রাহিম খলিল ফুয়াদ (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে সোনাপুর এলাকায় শিশুটিকে দেখতে পেয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


ইব্রাহিম খলিল লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিপাড়া খান বাড়ির বাসিন্দা সুমন খান ও খালেদা আক্তারের ছেলে। সে খোদাওয়ান্দপুর মুহাম্মাদিয়া (স.) মাদরাসার শিক্ষার্থী।


ইব্রাহিমের ভাষ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মাদরাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসার পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তিন ব্যক্তি তাকে ‘বাবু, এদিকে আসো’ বলে ডাক দেন। পরে তাঁরা তাকে ৫০ টাকা দিয়ে বলেন, টাকা না নিলে তাঁরা মন খারাপ করবেন। ছোট হওয়ায় ইব্রাহিম তাঁদের দেওয়া টাকা নেয়। এরপর তাঁরা তাকে একটি কাগজ দিয়ে সেখানে লেখা ঠিকানাটি কোথায়, তা জানতে চান। এর কিছুক্ষণ পর তার মাথা ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সিএনজিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইব্রাহিম জানায়, রাত ৯টা থেকে ১০টার দিকে তার জ্ঞান ফেরে। তখন সে নিজেকে একটি কক্ষে প্লাস্টিকের চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় কক্ষে রাইফেল, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখতে পায় বলে জানায় সে। এসব দেখে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইব্রাহিম।


প্রথমবার সুযোগ পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা তাকে ধরে আবার বেঁধে রাখে। পরে দ্বিতীয়বারও পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সে। এরপর অপহরণকারীরা কক্ষের চাবি কোথায় রাখে, তা খেয়াল করতে থাকে ইব্রাহিম।

ভোররাতে সুযোগ বুঝে তৃতীয়বারের মতো কক্ষ থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় সে। এ সময় অপহরণকারীরা তাকে পেছন থেকে ধাওয়া করলে একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে ইব্রাহিম। কিছুক্ষণ পর গাড়ির শব্দ শুনে সে ধারণা করে, রাস্তা কাছেই। পরে অপহরণকারীরা সেখান থেকে চলে গেলে সে দৌড়ে রাস্তার দিকে চলে আসে।

একপর্যায়ে সোনাপুর রয়েল হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় নোবিপ্রবির আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর রিকশার সামনে গিয়ে পড়ে ইব্রাহিম। তখনও সে ভয়ে কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।


আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘আজ ভোর ৫টা ১০ মিনিটে আমি সোনাপুরে বাস থেকে নামি। এরপর রিকশায় করে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হই। রিকশাটি সোনাপুর রয়েল হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছালে দেখি, একটি ছেলে একটি গলি থেকে আমার রিকশার সামনে এসে পড়ে। তখন কয়েকজন তাকে ধরার জন্য পেছন থেকে তাড়া করছিল।’


তিনি বলেন, ‘ছেলেটির অবস্থা দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে তাকে রিকশায় করে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি। সেখানে তার কাছ থেকে বাবার মোবাইল নম্বর নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।’

ইব্রাহিমের খালাতো বোনের স্বামী মারুফ বলেন, ‘সকালে আমার শাশুড়ি ফোন করে জানান, ইব্রাহিমকে গতকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে জানতে পারি, ইব্রাহিম একজন আনসার সদস্যের কাছে আছে। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাকে আনতে আসি।’


অপহরণের ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মারুফ বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে যেতে চাননি। এ কারণে এখন পর্যন্ত কোনো জিডি বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

পরিবারের দাবি, ইব্রাহিমকে অপহরণ করে নোয়াখালীর সোনাপুরের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে কারা তাকে অপহরণ করেছে, কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে, অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে আসা শিশুটিকে দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধার এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় আনসার সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৭ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মিঠুন বৈরাগী গুরুতর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি জানতে পেরে চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।


রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে মিঠুনকে দেখতে যান হিমেল। এ সময় তিনি মিঠুনের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মিঠুন বৈরাগী। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। ডেঙ্গুর কারণে তার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে বর্তমানে ৮ হাজারে নেমে এসেছে। এরই মধ্যে তাকে দুই দফা প্লাটিলেট দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে জানা গেছে।


মিঠুনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ান জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।


হিমেল বলেন, ‘মিঠুনের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ আমি বহন করব। সে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যাওয়া পর্যন্ত আমি তার পাশে আছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদ-আপদে সব সময় পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ পাশে থাকব।’


এদিকে মিঠুনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর